২৩ নভেম্বর ২০১৯, শনিবার
Choose Language:

সর্বশেষ
চলতি বিষয়াবলি
মানের বিচারে আপনাদের চেয়েও নিম্নে: সুশাসন
১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, মঙ্গলবার,
|| ইকতেদার আহমেদ ||
 
সার্চ কমিটির মাধ্যমে গঠিত একাদশ নির্বাচন কমিশন এবং দ্বাদশ নির্বাচন কমিশনের মধ্যে কাঠামোগত দিক থেকে কোনো পার্থক্য নেই। আগেকার কমিশনে পাঁচ সদস্যের তিনজন প্রশাসন ক্যাডারের এবং বাকি দুইজনের একজন অধস্তন বিচার বিভাগের ও অবশিষ্টজন সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। নবগঠিত নির্বাচন কমিশনেও দেখা যায় গঠনপ্রক্রিয়া অনুরূপ। বর্তমান নির্বাচন কমিশনটি গঠনের পূর্বক্ষণে বিদায়ী কমিশনের প্রধান সংবাদকর্মীদের সাথে মতবিনিময়কালে বলেন, আগত কমিশন আমাদের মতোই হবে। বিদায়ী প্রধান নির্বাচন কমিশনারের মুখ থেকে বক্তব্যটি শোনার পর দেশবাসী ব্যথিত ও মর্মাহত হয়েছিল। এর পেছনে যে কারণ, তা হলোÑ বাংলাদেশ অভ্যুদয়-পরবর্তী ১১টি নির্বাচন কমিশনের মধ্যে বিদায়ী কমিশন সবচেয়ে বেশি বিতর্কিত ও সমালোচিত ছিল। অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানে চরমভাবে ব্যর্থ হওয়ায় এ কমিশনের ওপর দেশের সাধারণ জনমানুষের কখনো আস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়নি। এ ধরনের কমিশনের প্রধানের মুখ থেকে পরবর্তী কমিশন তাদের মতো হবেÑ এমন বক্তব্য সাধারণ জনমানুষের জন্য স্বস্তিকর নয়।
বর্তমান নির্বাচন কমিশন গঠনের পর দেখা গেল, সার্চ কমিটি কর্তৃক রাষ্ট্রপতির বরাবর সুপারিশকৃত ১০টি নামের মধ্যে পাঁচজন প্রশাসন ক্যাডারের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, একজন অধস্তন বিচার বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, একজন সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, একজন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক, একজন সামরিক বাহিনীর অধীনস্থ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত এবং অপর একজন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকও একই সাথে সুশীলসমাজের প্রতিনিধি।
বর্তমান সার্চ কমিটি গঠনের পর এর পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনের কাছে নিবন্ধিত ৩১টি দলের কাছ থেকে পাঁচটি করে নাম চাওয়া হলে ২৬টি দলের পক্ষ থেকে ১২৮টি নাম দেয়া হয়। তা ছাড়া সার্চ কমিটি প্রথমবারের মতো দুই দফায় দেশের ১৬ জন বিশিষ্ট ব্যক্তির সাথে মতবিনিময় করেছে। বিশিষ্ট ব্যক্তিরা সার্চ কমিটির সাথে মতবিনিময়কালে অপরাপর পেশার ব্যক্তিদের পাশাপাশি শিক্ষকসমাজ ও সুশীলসমাজ থেকে একজন করে যেন নির্বাচন কমিশনে অন্তর্ভুক্ত হন, সে বিষয়টির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। দেশের বিশিষ্টজনদের এ প্রস্তাব বিবেচনায় নিয়ে সার্চ কমিটির সুপারিশের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের দু’জন শিক্ষক এবং সুশীলসমাজের একজন প্রতিনিধি স্থান পেয়েছিলেন। কিন্তু কমিশন ঘোষণার পর দেখা গেল এদের কারোরই স্থান হয়নি।
সার্চ কমিটিকে প্রতিটি পদের বিপরীতে দু’টি নাম প্রস্তাব করার জন্য বলা হয়েছিল। তবে সার্চ কমিটি কর্তৃক সুপারিশকৃত নামগুলো পর্যালোচনায় দেখা যায়, প্রতিটি পদের জন্য পেশাভিত্তিক দু’টি করে নাম প্রস্তাব করা হয়নি। বর্তমান নির্বাচন কমিশন আগেকার কমিশনের মতো তিনটি পেশার কর্মকর্তা সমন্বয়ে গঠিত হলেও দু’টি পেশার ক্ষেত্রে দেখা গেছে, সার্চ কমিটি কর্তৃক একটি করে নাম সুপারিশ করা হয়েছে। এ দু’টি পেশাভুক্ত কর্মকর্তাদের একজন অধস্তন বিচার বিভাগের এবং অপরজন সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। এ দু’টি পেশার ক্ষেত্রে একটি করে নাম সুপারিশ করার কারণে গঠনপ্রক্রিয়ার বিষয় বিবেচনায় নেয়া হলে যেটি দৃশ্যমান তা হলো, নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের জন্য এ দু’টি পেশা থেকে নিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো বিকল্প নাম সুযোগ ছিল না। আর এ ধরনের সুযোগ না থাকলে এ ধারণা অমূলক যে, এ দু’টি নামের অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি পূর্বপরিকল্পনাপ্রসূত কি?
দেশের বড় দুটি দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি তাদের তালিকায় কী কী নাম প্রস্তাব করেছিল, দল দু’টি তা প্রকাশ করা থেকে বিরত থাকে। এ বিষয়ে সার্চ কমিটিকে সাচিবিক সহায়তাদানকারী মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে সংবাদকর্মীরা প্রশ্ন করলে তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেন যে, এটি তার কাছে প্রদত্ত রাজনৈতিক দলগুলোর আমানত এবং তিনি এর খেয়ানত করতে পারেন না। কিন্তু নিয়োগ-পরবর্তী মন্ত্রিপরিষদ সচিব ব্যক্ত করেনÑ কমিশনার হিসেবে নিয়োগ পাওয়া কবিতা খানম ও মাহবুব তালুকদার যথাক্রমে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত। প্রধান দু’টি রাজনৈতিক দল যখন অদ্যাবধি তাদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত নামগুলো প্রকাশ করেনি তখন মন্ত্রিপরিষদ সচিবের পক্ষ থেকে এ দু’টি নামের ব্যাপারে প্রদত্ত বক্তব্য নানাবিধ প্রশ্নের জন্ম দেয়। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত যে ১০টি নাম প্রকাশ পায়, সে ১০টি নামের মধ্যে মন্ত্রিপরিষদ সচিব কর্তৃক উল্লিখিত আওয়ামী লীগ ও বিএনপির তালিকার এ দু’টি নাম ছিল না।
বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম থেকে জানা যায়, বর্তমান কমিশনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে নিয়োগ পাওয়া কে এম নুরুল হুদাকে জনতার মঞ্চের সাথে সম্পৃক্ততা থাকায় যুগ্মসচিব পদ থেকে বাধ্যতামূলক অবসর প্রদান করে বিএনপি সরকার। অতঃপর আওয়ামী লীগ ক্ষমতাসীন হলে তাকে ভূতাপেক্ষ অতিরিক্ত সচিব ও সচিব পদে পদোন্নতি দেয়া হয়। এতে দেখা যায়, তিনি কখনো অতিরিক্ত সচিব ও সচিব পদে কর্মরত ছিলেন না। প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদটি নিরপেক্ষ পদ এবং শপথগ্রহণ করাকালে অন্যান্য বিষয়ের পাশাপাশি তাকে বলতে হয়, তিনি তার সরকারি কার্য ও সরকারি সিদ্ধান্তকে ব্যক্তিগত স্বার্থের দ্বারা প্রভাবিত হতে দিবেন না।’ তিনি ব্যক্তিগতভাবে বিএনপি সরকারের সিদ্ধান্ত দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তিনি রক্তমাংসের গড়া মানুষ হলে দলটির প্রতি তার অনুরাগ বা বিরাগ থাকা স্বাভাবিক। এ বিষয়টি বিবেচনায় নিলে তার পক্ষে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করা কতখানি সম্ভব, সে প্রশ্নটি এসে যায়। 
সার্চ কমিটির কাছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও দেশের বিশিষ্টজনদের প্রত্যাশা ছিল, তাদের সুপারিশে যেন দলীয় সুবিধাভোগী বা দলীয় মতাদর্শী বা দুর্নীতিগ্রস্ত বা বিতর্কিত কোনো ব্যক্তির স্থান না হয়। বিভিন্ন সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যে প্রকাশ, প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তি অবসর-পরবর্তী দলীয় সুবিধাভোগী হিসেবে সরকারের দু’টি লাভজনক পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। আগেকার কমিশনকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল মেরুদণ্ডহীন, অযোগ্য ও অথর্ব আখ্যা দিয়েছিল। এ কমিশন যে এ তিনটি বিশেষণ থেকে উতরে উঠতে পারবে, দেশের সচেতন নাগরিকেরা এ বিষয়ে আশ্বস্ত হতে পারছে না।
বর্তমান নির্বাচন কমিশনে প্রশাসন ক্যাডারের যে দু’জন কর্মকর্তা কমিশনার হিসেবে রয়েছেন তাদের একজন অতিরিক্ত সচিব হিসেবে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের মতো ৭৩ ব্যাচের এবং অপরজন ৮২ ব্যাচের অবসরপ্রাপ্ত সচিব। এ দুইজন যেহেতু অতিরিক্ত সচিব ও সচিব পদে একাধিক মন্ত্রণালয়ে দীর্ঘ দিন কাজ করেছেন তা বিবেচনায় নেয়া হলে দেখা যায়, তারা উভয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের চেয়ে উচ্চতর যোগ্যতাসম্পন্ন। এমতাবস্থায় প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পক্ষে সঠিকভাবে কমিশনের নেতৃত্ব প্রদান সম্ভব কি না এটি চিন্তার বিষয়। 
সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দল প্রদত্ত তালিকায় অন্তর্ভুক্ত নাম বিবেচনায় নিলে দেখা যায়, সার্চ কমিটির সুপারিশে অন্তর্ভুক্ত ১০টি নাম এবং কমিশনে নিয়োগ পাওয়া পাঁচটি নামে চেয়ে সার্বিক বিবেচনায় অধিকতর যোগ্য একাধিক ব্যক্তির নামও ছিল। 
সাংবিধানিকভাবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনাররা একই রূপ ক্ষমতা ভোগ করেন। এ ক্ষমতা প্রয়োগের ক্ষেত্রে তারা সবাই স্বাধীন। প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে অপরাপর কমিশনারের চেয়ে যে অতিরিক্ত মর্যাদা দেয়া হয়েছে তা হলো, তিনি কমিশনের সভায় সভাপতিত্ব করেন। তা ছাড়া একটি বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে একক ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। আর সেটি হলো কোনো দৈব দুর্বিপাকে শূন্য হওয়া পরবর্তী কোনো উপনির্বাচন অনুষ্ঠান সম্পন্ন করা না গেলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে ওই নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারেন। দৈব-দুর্বিপাকজনিত কারণে উপনির্বাচনের সময় বৃদ্ধি করা-বিষয়ক প্রধান নির্বাচন কমিশনারের একক ক্ষমতাসংক্রান্ত বিধানটি সংবিধানের দ্বাদশ সংশোধনীর মাধ্যমে কার্যকর করা হয়। যদিও এটি একটি উপনির্বাচনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, কিন্তু বিধানটি সংবিধানে সন্নিবেশন-পরবর্তী পঞ্চম সংসদ থেকে আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি ও জামায়াতে ইসলামী একযোগে পদত্যাগের ফলে প্রায় দেড় শতাধিক আসন শূন্য হলে, একাধিক আসন শূন্য হওয়াজনিত কারণের উদ্ভব ঘটলেও প্রধান নির্বাচন কমিশনার উপনির্বাচন অনুষ্ঠানের সময় দৈব-দুর্বিপাকজনিত কারণ দেখিয়ে সময় বৃদ্ধি করেন। যা হোক, সে সময়ে এ বিষয়টি নিয়ে সরকারি বা বিরোধী দল থেকে কোনো ধরনের আপত্তি উত্থাপিত হয়নি। 
বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশনের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায় বর্তমান কমিশনসহ ১২টি কমিশনের মধ্যে নবম কমিশনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ছাড়া সর্বাধিক পাঁচজন কমিশনার ছিল। একাদশ ও দ্বাদশ নির্বাচন কমিশন ব্যতীত অন্যান্য কমিশনে কমিশনারের সংখ্যা এক থেকে তিনজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীÑ পূর্ববর্তী কমিশনের ক্ষেত্রে কমিশনারের সংখ্যাবিষয়ক কোনো বিধান ছিল না। পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে বলা হয়, একজন প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যূন চারজন কমিশনারের সমন্বয়ে নির্বাচন কমিশন গঠিত হবে। এ বিধানটি সন্নিবেশ করার পর একাদশ ও দ্বাদশ নির্বাচন কমিশন চারজন কমিশনার সমন্বয়ে গঠন করা হয়। 
প্রথম নির্বাচন কমিশন থেকে একাদশ নির্বাচন কমিশন অবধি কমিশনগুলোয় যারা প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন, নির্বাচন কমিশন সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে কোনো প্রধান নির্বাচন কমিশনারই নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে কমিশনারদের পক্ষ থেকে কখনো কোনো বিরোধিতার সম্মুখীন হননি। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মতে, দলীয় সরকারগুলো নির্বাচন কমিশন গঠনের সময় কমিশনার হিসেবে এমন কোনো ব্যক্তিকে কখনো বিবেচনায় নেয় না যিনি প্রধান নির্বাচন কমিশনারের চেয়ে অধিক ব্যক্তিত্ব ও যোগ্যতাসম্পন্ন। কর্মরত প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন অস্থায়ী সরকার কর্তৃক গঠিত পঞ্চম নির্বাচন কমিশনের ক্ষেত্রে দেখা গেছে, একজন নির্বাচন কমিশনার হাইকোর্ট বিভাগের বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের চেয়ে জ্যেষ্ঠ হওয়া সত্ত্বেও তার কনিষ্ঠকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার করায় তিনি কমিশনারের পদ থেকে পদত্যাগ করেছিলেন। ফলে ওই কমিশন দুই সদস্যবিশিষ্ট ছিল এবং ওই কমিশনে কমিশনার হিসেবে যিনি দায়িত্ব পালন করেছিলেন, তিনি সার্বিক বিবেচনায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার অপেক্ষা অধিক ব্যক্তিত্ব ও যোগ্যতাসম্পন্ন ছিলেন। নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় গঠিত সপ্তম নির্বাচন কমিশন এবং সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় গঠিত দশম নির্বাচন কমিশনে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাচন কমিশনারদ্বয় প্রকৃত অর্থেই উভয় কমিশনের কমিশনারদের চেয়ে অধিক ব্যক্তিত্ব ও যোগ্যতাসম্পন্ন ছিলেন। উভয় কমিশনে কমিশনারদ্বয় মার্জিত ও ব্যক্তিত্বসম্পন্ন ছিলেন এবং তারা সবসময় কমিশন পরিচালনায় প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে বিশ্বস্ততা ও আন্তরিকতার সাথে সহযোগিতা করেছিলেন। দলীয় সরকারের অধীন গঠিত অষ্টম নির্বাচন কমিশনকে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার আগমনের পর বিদায় নিতে হয়নি। এ কমিশনটিতেও দেখা গেছে, প্রধান নির্বাচন কমিশনারের যোগ্যতা ও ব্যক্তিত্ব অপরাপর কমিশনারের চেয়ে উচ্চতর ছিল। এ কমিশনে তিনজন কমিশনার কর্মরত ছিলেন এবং কমিশনটি নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠানের কারণে এটি প্রভাবমুক্তভাবে সুষ্ঠু নির্বাচন পরিচালনায় সমর্থ হয়েছিল। 
একাদশ নির্বাচন কমিশন দলীয় সরকার কর্তৃক গঠিত হয়েছিল এবং দলীয় সরকারের অধীন এটি দশম সংসদ নির্বাচন পরিচালনা করেছে। একাদশ নির্বাচন কমিশনের মতো ষষ্ঠ নির্বাচন কমিশনও দলীয় সরকার কর্তৃক গঠিত হয়েছিল। ওই নির্বাচন কমিশন দলীয় সরকারের অধীনে ষষ্ঠ সংসদ নির্বাচন পরিচালনা করেছিল। ১৯৯০-পরবর্তী বাংলাদেশের নির্বাচনী ইতিহাসে দলীয় সরকারের অধীনে গঠিত ষষ্ঠ ও একাদশ নির্বাচন কমিশনের অধীনে ষষ্ঠ ও দশম সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। উভয় নির্বাচন এক দিকে অনিয়ম, অস্বচ্ছতা ও কলুষতায় পরিপূর্ণ ছিলÑ অপর দিকে একতরফা ছিল। ষষ্ঠ নির্বাচনের পর সরকার ও নির্বাচন কমিশন উভয়ে বিদায় নিলেও দশম সংসদ নির্বাচনের পর নির্বাচন কমিশন ও সরকারকে বিদায় নিতে হয়নি। 
একাদশ ও দ্বাদশ নির্বাচন কমিশন গঠনের সময় যদিও দৃশ্যপটে সার্চ কমিটিকে নিয়ে আসা হয়েছে; কিন্তু উভয় কমিশন গঠনের ক্ষেত্রে সার্চ কমিটি কোন কোন যোগ্যতাকে মানদণ্ড ধরে সুপারিশে নামগুলো অন্তর্ভুক্ত করেছেন, সে বিষয়ে তারা জাতিকে কোনো স্পষ্ট তথ্য দেননি। একাদশ নির্বাচন কমিশন গঠন-পরবর্তী এটির কার্যক্রমের ব্যাপারে পর্যালোচনায় দেশবাসী যতটুকু না হতাশ হয়েছিল, দ্বাদশ নির্বাচন কমিশন গঠন-পরবর্তী কার্যক্রমের ব্যাপারে পর্যবেক্ষণ ব্যতিরেকেই দেশবাসীর হতাশার মাত্রা আরো অধিক। 
বর্তমান কমিশনে নিয়োগ পাওয়া পাঁচজনের সাথে আগেকার কমিশনের পাঁচজনকে তুলনায় নেয়া হলে দেখা যায়, আগেকার কমিশনের প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং প্রশাসন ক্যাডারের অন্তত একজন কমিশনার বর্তমান কমিশনের একই ক্যাডারভুক্ত কর্মকর্তাদের চেয়ে অধিক যোগ্যতাসম্পন্ন। 
আগেকার কমিশনের অধস্তন বিচার বিভাগের কর্মকর্তাকেও বর্তমান কমিশনের অধস্তন বিচার বিভাগের কর্মকর্তা থেকে অধিক যোগ্য বলেই প্রতীয়মান হয়। উপরি উক্ত বিষয়গুলো সার্বিকভাবে পর্যালোচনায় নিলে প্রতীয়মান হয়, আগেকার কমিশনের প্রধানের কথিত মতের বিপরীতে, বর্তমান নির্বাচন কমিশন মানের বিচারে তাদের চেয়ে নি¤েœ। 
লেখক : সাবেক জজ, সংবিধান ও
রাজনীতি বিশ্লেষক
E-mail : iktederahmed@yahoo.com
http://www.dailynayadiganta.com/detail/news/195591