২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, শনিবার
Choose Language:

সর্বশেষ
চলতি বিষয়াবলি
সড়ক নিরাপত্তা উপেক্ষিত: চালকের বেপরোয়া গতি প্রাণ ঝরাচ্ছে
১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, সোমবার,
দেশে ৫৩ শতাংশ সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানোর জন্য। আর চালকদের বেপরোয়া মনোভাবের কারণে দুর্ঘটনা ঘটে ৩৭ শতাংশ। পরিবেশ-পরিস্থিতিসহ অন্য কারণে দুর্ঘটনার পরিমাণ ১০ শতাংশ।
এই তথ্য বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের সড়ক দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের (এআরআই)। দুর্ঘটনার কারণ-সংক্রান্ত পুলিশের প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে এআরআই এই চিত্র পেয়েছে। ১৯৯৮ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত ঘটে যাওয়া সড়ক দুর্ঘটনার বিশ্লেষণ রয়েছে এআরআইয়ের। প্রতিষ্ঠানটি নিজেও বড় দুর্ঘটনাগুলো তদন্ত করে থাকে। তাদের গবেষণা বলছে, সড়ক দুর্ঘটনার ৪৩ শতাংশই ঘটছে জাতীয় মহাসড়কগুলোতে।
গত শুক্রবার রাতে ফরিদপুরে ও গতকাল রোববার নরসিংদীতে ঘটে যাওয়া দুটি বড় সড়ক দুর্ঘটনার পেছনেও অতিরিক্ত গতি ও চালকের বেপরোয়া মনোভাবকে প্রাথমিক কারণ মনে করছেন এআরআইয়ের পরিচালক অধ্যাপক মোয়াজ্জেম হোসেন। এই দুটি দুর্ঘটনায় ২৬ জনের প্রাণ গেছে। আর গত দুদিনে সারা দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন ৫০ জন।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) হিসাবে, ২০১৫ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেছে ২ হাজার ৩৯৪ জনের। আর যাত্রী কল্যাণ সমিতির হিসাবে এই সংখ্যা ৮ হাজার। বিআরটিএ ২০১৬ সালের পুরো হিসাব এখনো করেনি।
বেপরোয়া গতিই সড়ক দুর্ঘটনার বড় কারণ হিসেবে মেনে নিয়ে ২০১৫ সালের অক্টোবরে জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিলের এক বৈঠকে গতি নিয়ন্ত্রণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের নেতৃত্বাধীন এই কাউন্সিল সড়ক নিরাপত্তার সর্বোচ্চ ফোরাম। এতে মালিক-শ্রমিক প্রতিনিধি ছাড়াও সরকারের বিভিন্ন সংস্থা ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি রয়েছেন। কাউন্সিল মহাসড়কে বাসের সর্বোচ্চ গতিসীমা ৮০ কিলোমিটার নির্ধারণ করে দিয়েছিল। কিন্তু তা আর বাস্তবায়ন করা যায়নি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব এম এ এন সিদ্দিক প্রথম আলোকে বলেন, এখন অতিরিক্ত গতিই দুর্ঘটনা বেশি ঘটাচ্ছে। মালিক-শ্রমিকদের লোভের কারণে গতি বাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। এটা বন্ধে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু কার্যকর ফল পাওয়া যাচ্ছে না। তিনি বলেন, তারপরও ভবিষ্যতে তাঁদের দিক থেকে সর্বাত্মক চেষ্টা থাকবে।
সড়ক নিরাপত্তায় বাড়তি অর্থায়নের বিষয়ে সচিব বলেন, ঢাকা-রংপুর ও ঢাকা-মাওয়া মহাসড়ক চার লেন করার প্রকল্পে কম গতির যানবাহনের জন্য আলাদা লেন করা হচ্ছে। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কেও একই ব্যবস্থা করা হবে। বাঁক সোজা করার প্রকল্পও চলমান। পুলিশকে স্পিডগান ও চালক লাইসেন্স পরীক্ষার যন্ত্র দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে বিশেষ ক্যামেরাসহ আরও যন্ত্রপাতি দরকার হলে সেটাও দেওয়া হবে।
এ প্রসঙ্গে এআরআইয়ের পরিচালক মোয়াজ্জেম হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে তিনটি বিষয় নিশ্চিত করতে হবে। এগুলোকে থ্রি-ই বলা হয়। অর্থাৎ ইঞ্জিনিয়ারিং বা প্রকৌশলগত নিরাপত্তা, এডুকেশন বা শিক্ষা এবং এনফোর্সমেন্ট বা আইনের প্রয়োগ। বাংলাদেশে আইনের প্রয়োগ ও শিক্ষার জায়গাটা প্রায় শূন্যই বলা চলে। প্রকৌশলগত ত্রুটিও রয়েছে। তিনি আরও বলেন, মহাসড়কে দেখা গেছে, বেশির ভাগ বাস ৮০ কিলোমিটার গতির ওপরে চলে। প্রতি এক মিনিট পরপর একটি যানবাহন ওপরটিকে পাশ কাটিয়ে (ওভারটেক) যাওয়ার চেষ্টা করে। এ অবস্থায় গতি নিয়ন্ত্রণ ছাড়া দুর্ঘটনা কমানো যাবে না।
বিআরটিএ সারা দেশে ১০২টি চালক প্রশিক্ষণ স্কুলের নিবন্ধন দিয়েছে। লাইসেন্স পেতে যে প্রশিক্ষণের দরকার, তা এসব স্কুল থেকে পাওয়ার কথা। তবে বিআরটিএ সূত্র বলছে, এসব স্কুলের বেশির ভাগেরই হদিস নেই। কারণ, লাইসেন্স পাওয়া যায় দালাল ধরে। এ ছাড়া ১৯৯০ সালের পর থেকে প্রায় ১ লাখ ৯০ হাজার পেশাদার চালকের লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে শ্রমিক ইউনিয়নের তালিকা ধরে। সঠিকভাবে তাঁদের যোগ্যতার পরীক্ষাও নেওয়া হয়নি।
বর্তমানে সারা দেশে চালকের লাইসেন্স আছে ১৭ লাখ। আর যানবাহনের সংখ্যা ২৭ লাখের বেশি। যানবাহনের চেয়ে লাইসেন্স কম ১০ লাখ। আর যাঁরা লাইসেন্স পেয়ে গেছেন তাঁদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও নেই বললে চলে। বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাক, নিরাপদ সড়ক চাই ও বিআরটিএসহ কিছু সংস্থা স্বল্পপরিসরে প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে।
পরিকল্পনা কাগজে-কলমেই
সড়ক দুর্ঘটনা রোধে ১৯৯৭ সাল থেকে সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয় তিন বছর মেয়াদি কর্মপরিকল্পনা করে আসছে। এর মধ্যে সাতটি পরিকল্পনা হয়েছে। সর্বশেষ পরিকল্পনায় ২০২৪ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনা ৫০ শতাংশ কমিয়ে আনার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থা সড়ক দুর্ঘটনার যে হিসাব প্রকাশ করছে, তাতে এর কোনো প্রতিফলন দেখা যায়নি।
সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ২০০৮ সালে তিন বছর মেয়াদি পঞ্চম পরিকল্পনার নাম দেওয়া হয় জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা কৌশলগত কর্মপরিকল্পনা বা ন্যাশনাল রোড সেফটি স্ট্র্যাটেজিক অ্যাকশন প্ল্যান। ওই পরিকল্পনায় বলা হয়েছিল, ২০১৬ সালের মধ্যে ১২-২০ শতাংশ সড়ক দুর্ঘটনা কমানো হবে। ২০১১ সালে পুনরায় যে তিন বছর মেয়াদি কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হয়, তা ছিল আগেরটারই অনুলিপি। এবার ২০১২ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনা ১৫-২০ শতাংশ কমানোর লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়। সর্বশেষ ২০১৪ সালে করা কর্মপরিকল্পনাটিও আগেরটার মতোই।
সর্বশেষ কর্মপরিকল্পনায় সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে নয়টি পদক্ষেপ চিহ্নিত করা হয়েছে, যা আগেরগুলোতেও ছিল। এগুলো হচ্ছে সড়ক নিরাপত্তায় পরিকল্পনা প্রণয়ন, সড়ক দুর্ঘটনা-সংক্রান্ত তথ্যভান্ডার গড়ে তোলা, সড়ক নিরাপত্তা প্রকৌশল পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন, ব্যবস্থাপনা ও সমন্বয়, সড়ক ও পরিবহন আইন আধুনিকায়ন, ট্রাফিক-ব্যবস্থা শক্তিশালী করা, চালকের প্রশিক্ষণ ও পরীক্ষাকেন্দ্রের সংখ্যা বৃদ্ধি, যানবাহনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, পাঠ্যপুস্তকে সড়ক নিরাপত্তা বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা ও জনসাধারণের মধ্যে সচেতনতা-সংক্রান্ত প্রচার জোরদার এবং সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহত ব্যক্তিদের জন্য মহাসড়কের পাশে জরুরি চিকিৎসাকেন্দ্র স্থাপন।
২০১১ সালে চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব তারেক মাসুদ ও সাংবাদিক মিশুক মুনীর দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানোর পর সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে নয় সদস্যের একটি সড়ক নিরাপত্তা উপকমিটি গঠন করে। কমিটি ৫২টি সুপারিশ করে। এর বেশির ভাগ ছিল আইন প্রয়োগ, সচেতনতা সৃষ্টি, চালকের প্রশিক্ষণ ও তথ্যভান্ডার গড়ে তোলা। এর বাইরে মহাসড়কে ক্যামেরা ও পুলিশের তল্লাশিচৌকি বসানো এবং সড়ক খাতের আইন যুগোপযোগী করার সুপারিশ করে কমিটি।
এ বিষয়ে যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, ১৪৪টি বাঁক সোজা করা ছাড়া আর কোনো কাজ হয়নি। পাঠ্যপুস্তকে সড়ক নিরাপত্তার বিষয়টি অন্তর্ভুক্তির প্রক্রিয়া চলছে। আর বিআরটিএ কিছু প্রচারপত্র ও পোস্টার প্রচার করছে, যার মধ্যে কোনো সুনির্দিষ্ট বার্তা নেই। চালকদের কিছু প্রশিক্ষণের কার্যক্রমও রয়েছে, যা আনুষ্ঠানিকতা ছাড়া কিছুই না।
প্রায় একই কথা বললেন নিরাপদ সড়ক চাই-এর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন। তিনি বলেন, বাস্তবতা হচ্ছে সড়কে প্রাণ যাওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে না। সরকারের নানা বিভাগ, একেকজন একেক দিকে। সড়কের শৃঙ্খলা, দুর্ঘটনার তথ্য সংগ্রহ, ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন ও প্রশিক্ষণ পরিচালনার জন্য উচ্চপর্যায়ের আলাদা একটা বিভাগ করতে হবে। তা না হলে কেউ দায়িত্ব নেবে না।
সড়ক নিরাপত্তায় বরাদ্দ নেই
অধ্যাপক আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বাধীন সড়ক নিরাপত্তা উপকমিটি সড়ক খাতে ভবিষ্যতে নেওয়া প্রকল্পের খরচের ১ থেকে ৫ শতাংশ সড়ক নিরাপত্তা তহবিল হিসেবে বরাদ্দের সুপারিশ করেছিল।
জাতিসংঘ ২০১১ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে এক দশকে সারা বিশ্বে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি অর্ধেক কমিয়ে আনার ঘোষণা দেয়। বাংলাদেশ এই ঘোষণাপত্রে সই করে। জাতিসংঘ এর সদস্যদেশগুলোকে ভবিষ্যৎ সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের ব্যয়ের ১ থেকে ১০ শতাংশ সড়ক নিরাপত্তার কাজে ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছিল। সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (সওজ) দেশের মহাসড়কসহ গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও সেতু নির্মাণ এবং রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে রয়েছে। সংস্থাটির অধীনে বর্তমানে ১৩০টি প্রকল্প চলমান আছে। এসব প্রকল্পের পেছনে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে সরাসরি সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে মহাসড়কের ১৪৪টি স্থানে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক সম্প্রসারণ ও উন্নয়নের একটি প্রকল্প রয়েছে। ১৬৫ কোটি টাকার একটি প্রকল্প শেষ পর্যায়ে।
অন্যদিকে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্র জানায়, সংস্থাটি প্রতিবছর গড়ে ৭ হাজার কোটি টাকার বেশি সড়ক ও সেতু নির্মাণ এবং রক্ষণাবেক্ষণে ব্যয় করে। কিন্তু নামমাত্র বরাদ্দ নিয়ে সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতনতা তৈরি ও প্রশিক্ষণের কিছু কর্মসূচি ছাড়া তাদের বড় কোনো উদ্যোগ নেই। বিআরটিএ কিছু সচেতনতা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালায়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে অধ্যাপক মোয়াজ্জেম হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, নিরাপত্তার জন্য যত টাকা খরচ করা হবে, মানুষের জীবন তত বাঁচবে। বাংলাদেশে এখন বছরে গড়ে ৮ হাজার মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারায়। ৩০টি বোয়িং-৭৭৭ উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হলে যে সংখ্যক মানুষের প্রাণহানি হতে পারে, তার সমান সড়কপথে মরছে। আকাশে মানুষের কম প্রাণহানির কারণ হচ্ছে, উড়োজাহাজে নিরাপত্তার জন্য বিপুল বিনিয়োগ করা হয়। সড়কে তা হয় না।
মোয়াজ্জেম হোসেন আরও জানান, এআরআই মহাসড়কে গতি নিয়ন্ত্রণ ও দুর্ঘটনা রোধে ক্যামেরা ও তল্লাশিচৌকি বসানোর একটি প্রস্তাব তৈরি করছে। এতে সওজ, বিআরটিএ, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসকেও যুক্ত করা হয়েছে। তারা ১-২ কিলোমিটার পরপর একধরনের বিশেষ ক্যামেরা বসানোর প্রস্তাব করবে। ক্যামেরা থেকে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে যাতে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া যায়, এ জন্য প্রতি ৪০ কিলোমিটার পরপর প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতিসহ পুলিশের একটি তল্লাশিচৌকির প্রস্তাব রয়েছে। এর বাইরে ফায়ার সার্ভিসের একটি চৌকি বসাতে হবে, যাতে দুর্ঘটনায় পতিত যান সরানো ও আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার এবং চিকিৎসার দ্রুত ব্যবস্থা করা যায়।
http://www.prothom-alo.com/bangladesh/article/1080303/%E0%A6%9A%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A6%95%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%AC%E0%A7%87%E0%A6%AA%E0%A6%B0%E0%A7%87%E0%A6%BE%E0%A7%9F%E0%A6%BE-%E0%A6%97%E0%A6%A4%E0%A6%BF-%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%A3-%E0%A6%9D%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%9A%E0%A7%8D%E0%A6%9B%E0%A7%87