১৪ অক্টোবর ২০১৯, সোমবার
Choose Language:

সর্বশেষ
চলতি বিষয়াবলি
ব্যবহার হয়নি ৫৫ শতাংশ অর্থ : মেয়াদ আছে ৪ মাস: আশ্রয়ণ-২ প্রকল্প
১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, শনিবার,
ভূমিহীন ও দুর্দশাগ্রস্ত মানুষের আবাসনসুবিধা ও কর্মসংস্থানের জন্য নেয়া আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) ৫৪ দশমিক ৮০ শতাংশ অর্থই অব্যয়িত রয়েছে। অথচ প্রকল্পের মেয়াদ আছে আর মাত্র চার মাস। চলতি বছরের জুনে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হবে। প্রকল্প পরিচালক পরিকল্পনা কমিশনের কাছে এ অর্থবছরের জন্য অতিরিক্ত বরাদ্দের জন্য দাবি জানিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ভূমিহীনদের পুনর্বাসনের জন্য নেয়া আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় দুই হাজার ২০৪ কোটি ১৯ লাখ টাকা। এ পর্যন্ত এই প্রকল্পের মাধ্যমে ৯৯৬ কোটি ৩৬ লাখ টাকা ব্যয়ে ৩৭ হাজার ৫৯০টি পরিবারকে পুনর্বাসন করা হয়েছে। শুরুতে এটি এক হাজার ১৬৯ কোটি ১৭ লাখ টাকা প্রাক্কলতি ব্যয়ে জুলাই ২০১০ থেকে জুন ২০১৪ মেয়াদে বাস্তবায়নের জন্য একনেকে অনুমোদন দেয়া হয়। এরপর বাড়িয়ে এর মেয়াদ ২০১৭ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়। আর ব্যয় বৃদ্ধি পেয়ে দুই হাজার ২০৪ কোটি ১৯ লাখ টাকা করা হয়। চলতি অর্থবছর যে বরাদ্দ আছে তার থেকে আরো বেশি বরাদ্দের জন্য দাবি জানিয়ে চিঠি দিয়েছেন প্রকল্প পরিচালক। 
তার চিঠির তথ্যানুযায়ী, প্রকল্পটি চলতি ২০১৭ সালের জুনে শেষ হবে। অথচ প্রকল্পের আরএডিপিতে প্রায় এক হাজার ২০৭ কোটি ৮৩ লাখ টাকা অব্যয়িত আছে। প্রকল্পের শেষ ২০১৬-১৭ অর্থবছরে মাত্র ৮০ কোটি টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত সবার জন্য বাসস্থান কর্মসূচির আওতায় ২০১৯ সালের মধ্যে আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের মাধ্যমে দুই লাখ ১০ হাজার ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে পুনর্বাসনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এর মধ্যে এক লাখ ৭০ হাজার পরিবারকে নিজ জমিতে গৃহ নির্মাণ করে দেয়া হবে এবং ৪০ হাজার ভূমিহীন পরিবারকে ব্যারাকে পুনর্বাসন করা হবে। 
প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ৮২টি এবং ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ৫১টিসহ মোট ১৩৩টি প্রকল্প গ্রামের মাটির কাজ বর্তমানে চলমান, যা এ বছরেই সমাপ্ত হবে। আর ওইসব প্রকল্প ব্যারাক নির্মাণের জন্য অর্থ বরাদ্দ প্রদান করতে হবে।
প্রকল্প গ্রামগুলোয় বিদ্যুৎ সংযোগ স্থাপনের জন্য ২০ কোটি টাকা প্রয়োজন। মেরামতসহ অন্যান্য কাজের জন্য আরো বাড়তি টাকা দরকার। 
প্রকল্প পরিচালক বলেছেন, চলতি অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য আরএডিপিতে অতিরিক্ত ১৯৮ কোটি ৫০ লাখ টাকা বরাদ্দ প্রদানের জন্য পরিকল্পনা কমিশনের কাছে অনুরোধ জানিয়ে চিঠি দেয়া হয়েছে। চাহিদার মধ্যে ১০ হাজার গৃহহীনকে নিজ জমিতে গৃহ নির্মাণ বাবদ এক শ’ কোটি টাকা, সাড়ে চার হাজার ভূমিহীনকে ব্যারাকে পুনর্বাসনে এক হাজার ব্যারাক নির্মাণে ৮২ কোটি টাকা, খুরুশকুল বিশেষ আশ্রয়ণ প্রকল্প বাবদ ৪৫ কোটি টাকা ও বিদ্যুতায়নের জন্য ২০ কোটি টাকা দরকার। যার মধ্যে কমিশন থেকে অতিরিক্ত মাত্র ৬৩ কোটি ৩৭ লাখ টাকা এসেছে। বর্তমানে ৫৮টি প্রকল্প গ্রামের মাটির কাজ আগামী মে মাসের মধ্যে সমাপ্ত হবে, যাতে সাড়ে চার হাজার পরিবারকে পুনর্বাসন করা যাবে।
জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ৫০ হাজার পরিবারকে নিজ জমিতে ঘর করে দেয়া হবে। ২০ হাজার পরিবারকে ব্যারাকে পুনর্বাসন করা হবে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে এক লাখ ১০ হাজার গৃহহীনকে ঘর দেয়া হবে। আর ২০ হাজার পরিবারকে ব্যারাকে পুনর্বাসন করা হবে। ফলে আগামী অর্থবছর এ খাতে পর্যাপ্ত পরিমাণে টাকার প্রয়োজন হবে।
http://www.dailynayadiganta.com/detail/news/194800