১৭ নভেম্বর ২০১৯, রবিবার
Choose Language:

সর্বশেষ
চলতি বিষয়াবলি
বৈদেশিক মুদ্রা আয় চ্যালেঞ্জের মুখে
৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, বৃহস্পতিবার,
বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের প্রায় প্রতিটি খাতই ঋণাত্মক হয়ে যাচ্ছে। বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ বাড়ানোর অন্যতম মাধ্যম রেমিট্যান্সপ্রবাহ অব্যাহতভাবে কমে যাচ্ছে। কমে যাচ্ছে রফতানি আয়। পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রায় বিনিয়োগও কমছে। সেই সাথে বাড়ছে বেসরকারি পর্যায়ে ঋণ পরিশোধ ব্যয়। সব মিলেই বৈদেশিক মুদ্রা আয়ে অনেকটা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে যাচ্ছে দেশ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান থেকে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে (জুলাই-জানুয়ারি) প্রায় সোয়া ১৫ শতাংশ। গত অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে রেমিট্যান্স এসেছিল ৭৩৩ কোটি ডলার, যা চলতি অর্থবছরের একই সময়ে কমে নেমেছে ৬২২ কোটি ডলারে। অর্থাৎ সাত মাসে রেমিট্যান্স কম এসেছে ১১১ কোটি ডলার, যা স্থানীয় মুদ্রায় প্রায় ৯ হাজার কোটি টাকা। প্রায় প্রতি মাসেই এ রেমিট্যান্সপ্রবাহ কমে যাচ্ছে। আর এ রেমিট্যান্সপ্রবাহ কমে যাওয়ার জন্য মোটা দাগে হুন্ডি তৎপরতা বেড়ে যাওয়াকে দায়ী করা হচ্ছে। এ হুন্ডি প্রতিরোধে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে নানা উদ্যোগ নেয়া হলেও তা বন্ধ হচ্ছে না। বরং দিন দিন এ তৎপরতা বেড়ে যাচ্ছে। এ কারণে রেমিট্যান্সপ্রবাহ বাড়ানোর কোনো সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না বলে মনে করছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্টরা।
অন্য দিকে বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ বাড়ানোর উল্লেখযোগ্য খাত হচ্ছে পণ্য রফতানি খাত। এ পণ্য রফতানিও কমে যাচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ডিসেম্বরে রফতানি আয় কমেছে ৩ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ। রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্য মতে, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত রফতানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৪ দশমিক ১৭ শতাংশ কম হয়েছে। রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্যানুযায়ী, চলতি ২০১৬-১৭ অর্থবছরে রফতানি আয়ের ল্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে তিন হাজার ৭০০ কোটি ডলার। গত জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত অর্জিত হয়েছে এক হাজার ৩৬৯ কোটি ডলার। ওই সময় ল্যমাত্রা ছিল এক হাজার ৪২৮ কোটি ডলার। ল্যমাত্রার চেয়ে রফতানি আয়ে ঘাটতি হয়েছে ৪ দশমিক ১৭ শতাংশ। আলোচ্য সময়ে ৭০টি পণ্যের মধ্যে ৪০টিরই আয় কমে গেছে। আবার যেসব খাত ইতিবাচক ধারায় রয়েছে ওই সব খাতেও সামনে আয় কমে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। জানা গেছে, চলতি অর্থবছরের নভেম্বর পর্যন্ত আয় কমেছে রফতানির বড় খাত তৈরী পোশাকে ৫ দশমিক ১১ শতাংশ, কৃষি পণ্যে ৬ দশমিক ০৯ শতাংশ, রাবার জাতীয় পণ্যে ৩৫ শতাংশ, কাঠজাতীয় পণ্যে ৩৪ শতাংশ, মুদ্রণসামগ্রীতে ১৫ শতাংশ, স্পেশালাইজড টেক্সটাইলে ১২ শতাংশ, হোম টেক্সটাইলে ৭ শতাংশ, টুপিতে ৬৭ শতাংশ, ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্যে ২৪ শতাংশ ও জাহাজশিল্পে ৫৩ শতাংশ। সব মিলে রফতানি আয় সামনে খুব একটা বৃদ্ধির সম্ভাবনা নেই বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিভিন্ন মুদ্রার বিপরীতে ডলারের মান যেভাবে কমেছে, সেভাবে টাকার মান কমেনি। ফলে পণ্যের দাম বেড়েছে। এতে ক্রেতারা বাংলাদেশ থেকে পণ্য কিনতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। সব খাতে বন্ড সুবিধা না পাওয়ার কারণে কাঁচামালের বিপরীতে শুল্ক দিতে হচ্ছে। এতেও পণ্যের দাম বেড়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশকে দেয়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জিএসপি সুবিধা পুনরুদ্ধার করতে না পারায় বহির্বিশ্বে নেতিবাচক প্রচার হচ্ছে। এ ছাড়া দেশের ভেতরে অবকাঠামোগত দুর্বলতায় উৎপাদন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এতেও পণ্যের খরচ বেড়ে যাচ্ছে। এসব কারণে রফতানি আয় কমছে। 
এ দিকে বৈদেশিক বিনিয়োগও কমে যাচ্ছে। বিপরীতে বাড়ছে বেসরকারি পর্যায়ে বৈদেশিক ঋণের দায় পরিশোধ। বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সস্তায় দেশের ব্যাংকিং খাত থেকে অর্থ মিললেও একসময় ব্যবসায়ীদের বিদেশ থেকে ঋণ আনার অনুমোদন দেয়া হয়। আর এ অনুমোদন পেয়ে দেদারচ্ছে আসে বৈদেশিক মুদ্রার ঋণ। বলা হয় এসব ঋণের সুদ কম। অর্থাৎ ৪ থেকে ৫ শতাংশের মধ্যে এ ঋণ সংগ্রহ করেন ব্যবসায়ীরা। কিন্তু ওই সব ঋণ পরিশোধের চাপ ইতোমধ্যে বেড়ে গেছে। 
বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, এক দিকে বৈদেশিক মুদ্রার আয়ের পথ সঙ্কুচিত হয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি চাপ বাড়ছে ঋণ পরিশোধের। পরিস্থিতি উন্নতি না হলে অনেকটা চাপের মুখে পড়তে যাচ্ছে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ।
http://www.dailynayadiganta.com/detail/news/194302