২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, শনিবার
Choose Language:

সর্বশেষ
চলতি বিষয়াবলি
হকার উচ্ছেদ হলেও অবৈধ পার্কিং বহাল
৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, বুধবার,
রাজধানীর ব্যস্ততম বাণিজ্যিক এলাকা মতিঝিলের রাস্তায় অবৈধ কার পার্কিং :নাসিম সিকদার
বাংলামোটর লিঙ্ক রোড। বাংলামোটর মোড় হয়ে রাস্তাটি বাঁ দিকে হাতিরপুল এবং ডান দিকে কাঁঠালবাগানের দিকে গেছে। রাস্তার দু’পাশে শতাধিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। অথচ ওইসব ভবনের কোনো নিজস্ব পার্কিং নেই। রাস্তার দু’ধারে শ’খানেক গাড়ি; পিকআপ ভ্যান, মিনি ট্রাক ও রিকশাভ্যান। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মালামাল লোড-আনলোড হচ্ছে। বাংলামোটর লিঙ্ক রোডের এই দৃশ্য নিত্যদিনের। গাড়িগুলো রেখে রাত-দিন রাস্তা আটকে রাখা হয়। ফুটপাথ থেকে হকার উচ্ছেদ চললেও রাস্তা দখল করে পার্কিং অব্যাহত রয়েছে।
এই চিত্র রাজধানীর শতাধিক স্পটের। মতিঝিল, দিলকুশা, বায়তুল মোকাররম, জিপিও, স্টেডিয়াম, নর্থসাউথ রোডের বিশাল অংশ, ইংলিশ রোড, সদরঘাট, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের রাস্তা, বাংলাবাজার, হাতিরপুল, মিরপুর রোডের বেশ কিছু এলাকায় অবৈধ পার্কিং এখন নিত্যদিনের চিত্র। কোনো কোনো এলাকায় স্থানীয় প্রভাবশালী ও মাস্তানেরা পার্কিং বসিয়ে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। কোনো কোনো এলাকায় কিছু পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধেও অভিযোগ রয়েছে অবৈধ পার্কিং থেকে অর্থ হাতানোর। বাংলামোটর লিঙ্ক রোডে পার্কিং করা এক গাড়ির ড্রাইভার জানান, ‘এখানকার ব্যবসায়ীদের সাথে পুলিশের যোগাযোগ রয়েছে, যে কারণে গাড়ি রাখলে পুলিশ কোনো ঝামেলা করে না।’ বাংলামোটর এলাকার মোটর পার্টস ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দিন বলেন, তারা রাস্তার ওপর বসেই যানবাহন মেরামত করেন। আগে থেকেই পুলিশ প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করেন, যাতে পুলিশ কোনো সমস্যা না করে। বাংলামোটর থেকে মগবাজার যাওয়ার রাস্তায় এ রকম অর্ধশত দোকান রয়েছে, যারা রাস্তার ওপর বসে গাড়ি মেরামত করছে।
মতিঝিলের প্রায় সব ভবনের সামনেই সারিবদ্ধ গাড়ি পার্কিং করা। এখানে গাড়ি পার্ক করতে গেলে কোথাও কোথাও ১০-২০ টাকা হারে অর্থ দিতে হয়। চেম্বার ভবনের সামনে প্রতিটি গাড়ি থেকে ১০ টাকা নেয়া হচ্ছে পার্কিং বাবদ। যিনি এই পার্কিং বাবদ টাকা উঠাচ্ছেন তিনি বলেন, তাকে একজন নিয়োগ দিয়েছেন। পার্কিং করা গাড়ি থেকে টাকা উঠিয়ে তার সবই ওই লোকটিকে দিতে হয়। সেখান থেকে তাকে ২০০ টাকা দেয়া হয়। ওই লোকের নাম বলতে পারেননি তিনি। তবে স্থানীয় সূত্র জানায়, ওই লোকটি স্থানীয় লাইনম্যান। এরাই রাস্তার ওপর হকার বসিয়ে এর আগে চাঁদা আদায় করতেন। কোনো কোনো এলাকায় ফুটপাথ থেকে হকার উচ্ছেদ হয়ে যাওয়ায় এখন ওই লাইনম্যানদের নতুন ধান্ধা শুরু হয়েছে পার্কিং দিয়ে।
নর্থসাউথ রোড ও ইংলিশ রোডে দিনের বেলায় ট্রাকে মালামাল ওঠানো-নামানো হয়। স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীরা বলেন, গুলিস্তান থেকে শুরু করে সদরঘাট পর্যন্ত রাস্তার দু’পাশে যেসব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে, তারা পাইকারি মালামাল বিক্রি করে। এসব প্রতিষ্ঠান থেকে মালামাল নেয়ার জন্য দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে গাড়ি আসে। এসব গাড়ি দোকানের সামনেই অবস্থান করে মালামাল ওঠায়। দীর্ঘ দিন ধরেই এ অবস্থা চলে আসছে। সদরঘাট এলাকার রাস্তাঘাটগুলোতে এমনভাবে গাড়ি পার্কিং করা হয়, যেখানে সাধারণ যানবাহন ও পথচারীদের যাতায়াতের কোনো রাস্তাই থাকে না। ভুক্তভোগীরা বলেন, এলাকার প্রতিটি মার্কেটের সাথে পুলিশের মাসোয়ারা চুক্তি রয়েছে। যে কারণে রাস্তায় এলোমেলো যানবাহন রেখে দিলেও পুলিশ তাদের কিছুই বলে না। দিনের বেলায় রাজধানীতে ট্রাক প্রবেশ নিষিদ্ধ থাকলেও এই এলাকায় ট্রাক দেখা যায়। ট্রাকগুলো বাবুবাজারের ব্রিজ পার হয়ে অথবা বেড়িবাঁধ দিয়ে এসে বাদামতলী, বাবুবাজার, পাটুয়াটুলি ও শ্যামবাজার এলাকায় প্রবেশ করে। 
রাজধানীর তেজগাঁও ও মোহাম্মদপুরে দেখা যায় রাস্তার ওপর শত শত ট্রাক পার্কিং করা। পার্কিংয়ের বৈধতা না থাকলেও এসব স্থানে রাস্তার ওপর ট্রাক রেখে দেন মালিক ও চালকেরা। তাদের সাথেও পুলিশ প্রশাসনের যোগসাজশ রয়েছে বলে অভিযোগ আছে। যে কারণে তারা নির্বিঘেœ রাস্তার ওপর পার্কিং করতে পারছে। 
মতিঝিল এলাকার এক পথচারী মোশাররফ বলেন, হকার উচ্ছেদ হওয়ার পরে একটু স্বাচ্ছন্দ্যে রাস্তায় চলাচল করা যাচ্ছে। কিন্তু অবৈধ পার্কিং তো উচ্ছেদ হচ্ছে না। হকার নেতা এম এ কাশেম বলেন, হকার যেভাবে উচ্ছেদ করা হয়েছে তেমনি অবৈধ পার্কিংও উচ্ছেদ করা উচিত। না হলে যানজট কমবে না।
রাজধানীতে অবৈধ পার্কিংয়ের বিষয়ে জানার জন্য ট্রাফিক বিভাগের একাধিক কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। এ ব্যাপারে ট্রাফিক বিভাগের জয়েন্ট কমিশনারের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করে তাকে পাওয়া যায়নি।
http://www.dailynayadiganta.com/detail/news/194119