১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, মঙ্গলবার
Choose Language:

সর্বশেষ
চলতি বিষয়াবলি
তুরাগ নদের নাব্য সংকট: হুমকির মুখে দুটি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন; খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে ড্রেজিং
৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, মঙ্গলবার,
তুরাগ নদের আশুলিয়া থেকে কড্ডা ব্রিজ পর্যন্ত নাব্য না থাকায় নৌপরিবহন ব্যবস্থা কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। আর এতে প্রায় অচল হয়ে পড়েছে নদের দুই পারে গড়ে ওঠা শিল্পপ্রতিষ্ঠানসহ দুটি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দ্র্র“ত এ নদের খনন কাজ শেষ না হলে সরকারের মাস্টারপ্লানের বিদ্যুৎ প্রকল্পগুলো ভেস্তে যাবে। পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তুরাগ নদের নাব্য না থাকলে এর বিরূপ প্রভাব পড়বে বুড়িগঙ্গা নদীর ওপর।
 
 
বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর এলাকাভিত্তিক বিদ্যুতের চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে সম্ভাব্য গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোয় বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেয়। দ্রুত শিল্পায়নের নগর হিসেবে গড়ে ওঠা গাজীপুর ও আশপাশের এলাকায় তুরাগ নদের পাশে কয়েকটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা নেয় সরকার। এরই মধ্যে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড ও পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (রুরাল পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড-আরপিসিএল) যৌথ মালিকানায় সেখানে একটি ১৫০ মেগাওয়াট এবং আরেকটি ৫২ মেগাওয়াটের দুটি তেলভিত্তিক (এইচএফও) বিদ্যুৎ কেন্দ্র গড়ে উঠে। এ দুটি কেন্দ্র থেকে এরই মধ্যে জাতীয় ও পল্লী বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হয়েছে। পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (আরইবি) সহযোগী কোম্পানি রুরাল পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো. আবদুর সবুর যুগান্তরকে বলেন, তুরাগ নদের নাব্য না থাকায় এ দুটি কেন্দ্রের জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি তেল সরবরাহ করা যাচ্ছে না। বছরের ৬ মাস নদীপথে তেলের জাহাজ আটকে যায়। এ সময় বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য জ্বালানি তেল আনা-নেয়ায় ভয়াবহ আকার ধারণ করে। তিনি বলেন, বর্তমানে প্রতিদিন দুটি কেন্দ্রের জন্য ৮০০ টনের বেশি জ্বালানি তেল লাগে। কারণ কেন্দ্র দুটিতে পূর্ণ গতিতে বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। বাধ্য হয়ে তাদের চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় সড়কপথে জ্বালানি তেল আনতে হচ্ছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট ড্রেজিং কোম্পানি ও পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানিয়েও কোনো ফল পাচ্ছেন না বলে জানান তিনি। তার মতে, গাজীপুর ও আশপাশের শিল্পাঞ্চলের বিদ্যুৎ সরবরাহ এ দুটি কেন্দ্রের ওপর নির্ভরশীল। কোনো কারণে একদিন তেল সরবরাহে বিঘœ ঘটলে পুরো শিল্পাঞ্চলে বিদ্যুৎ বিপর্যয় নেমে আসবে।
 
জানা গেছে, জ্বালানি তেল পরিবহনের জন্য নদীপথকে নাব্য ও পানির প্রবাহ নিশ্চিত করতে বিদ্যুৎ বিভাগের অনুরোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড ২০১১ সালে আশুলিয়া থেকে কড্ডা অংশে তুরাগ নদের প্রায় ১৬ কিলোমিটার অংশ খননের পরিকল্পনা নেয়। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে অগ্রাধিকার প্রকল্পের আওতায় বুড়িগঙ্গা নদী পুনরুদ্ধার ও দূষণমুক্ত করার জন্য যমুনা নদীর সংযোগস্থল থেকে ঢাকার কাছে বুড়িগঙ্গা নদী পর্যন্ত ১৩৫ কিলোমিটার খনন করে পানির প্রবাহ বাড়ানোর প্রকল্প গ্রহণ করে পানি উন্নয়ন বোর্ড। জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতেও (একনেক) প্রকল্পটি গুরুত্বের সঙ্গে পাস হয়। প্রকল্প অনুযায়ী আশুলিয়া অংশ থেকেই বুড়িগঙ্গা নদী তুরাগ নামে যমুনা নদী পর্যন্ত সংযুক্ত।
 
এ প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড ২০১৪ সাল থেকে নিজস্ব একটি ড্রেজারের মাধ্যমে খনন কাজ শুরু করে। কিন্তু সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, পুরো খনন কাজটি চলছে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে। প্রতিদিন ২-৩ ঘণ্টার বেশি কাজ হয় না। এ অবস্থায় গত তিন বছরেও তেমন কোনো অগ্রগতি হয়নি ড্রেজিংয়ে। এতে গত ডিসেন্বরের মাঝামাঝি থেকে নদীপথে ভারি মালামাল বহনকারী পরিবহন প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। স্থানীয় বাসিন্দা, শিল্পোদ্যোক্তারা জানান, আশুলিয়া ব্রিজ থেকে কড্ডা ব্রিজ পর্যন্ত মাত্র ১৬ কিলোমিটার কয়েকটি স্থানে যেমন আশুলিয়া, তৈয়বপুর ও ব্রিজ সংলগ্ন মাঝিপাড়ায় পানির গভীরতা ৪ থেকে ৫ ফুট। এ পানিতে ছোট ছোট নৌকা পর্যন্ত আটকে যায়। স্টিমার ও ছোট ছোট জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে আছে। পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড আরইবির একজন কর্মকর্তা বলেন, ড্রেজিং কাজ সম্পন্ন করতে না পারায় জ্বালানি তেলের জাহাজ আটকে গিয়ে বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর উৎপাদন বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। বাধ্য হয়ে বিকল্প সড়কপথে জ্বালানি তেল আনা-নেয়া করতে হচ্ছে। এতে সময় ও উৎপাদন ব্যয় বেড়ে গেছে কেন্দ্রগুলোর। পাশাপাশি সড়কপথে জ্বালানি তেল আনা-নেয়া খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। এতে যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশংকা থাকে। অপরদিকে স্থানীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মালিকদের অভিযোগ, নদের নাব্য না থাকায় তাদের উৎপাদিত পণ্য আনা-নেয়ায়ও সমস্যা হচ্ছে। সরেজমিন তুরাগ নদ এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বর্তমানে পানি উন্নয়ন বোর্ড একটি ড্রেজার এসডি বুড়িগঙ্গা দিয়ে আশুলিয়া ব্রিজের কাছে ড্রেজিংয়ের কাজ করছে। এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের এক সাইট ইঞ্জিনিয়ার জানান, আশুলিয়া থেকে কড্ডা ব্রিজ পর্যন্ত ১৬ কিলোমিটার এলাকা একটি মাত্র ড্রেজার দিয়ে খনন কাজ অল্প সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করা সম্ভব নয়। এছাড়া তুরাগের তলদেশের মাটি খুবই শক্ত। তুরাগের তলদেশের বেশিরভাগ শক্ত এঁটেল মাটি। এছাড়া গাছ, ইটের টুকরা, পলিথিনসহ বিভিন্ন আবর্জনা থাকার কারণে ড্রেজিং কাজের অসুবিধা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, তারপরও সরকার ও স্থানীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মালিকদের স্বার্থে পানি উন্নয়ন বোর্ড ড্রেজিং অব্যাহত রেখেছে। স্থানীয়দের বক্তব্য প্রথম পর্বে অন্তত আশুলিয়া ব্রিজ থেকে কড্ডা পর্যন্ত ১৬ কিলোমিটার নদী দ্রুততম সময়ের মধ্যে ড্রেজিং জরুরি। আর এটি করতে হলে এ মুহূর্তে ৩-৪টি ড্রেজার লাগাতে হবে সরকারকে। এতে খুবই অল্প সময়ে নদীর নাব্য ফিরে আসবে। নদীপথের প্রবাহ ঠিক থাকলে সাধারণ মানুষ ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারাও উপকৃত হবেন। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, এ নদকে ঘিরে আরও দুটি নতুন বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ প্রক্রিয়াধীন আছে। সে কেন্দ্রগুলোও দ্রুত এগোতে পারবে
http://www.jugantor.com/last-page/2017/02/07/99035/%E0%A6%B9%E0%A7%81%E0%A6%AE%E0%A6%95%E0%A6%BF%E0%A6%B0-%E0%A6%AE%E0%A7%81%E0%A6%96%E0%A7%87-%E0%A6%A6%E0%A7%81%E0%A6%9F%E0%A6%BF-%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A7%81%E0%A7%8E-%E0%A6%95%E0%A7%87%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%89%E0%A7%8E%E0%A6%AA%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A6%A8