২০ নভেম্বর ২০১৯, বুধবার
Choose Language:

সর্বশেষ
চলতি বিষয়াবলি
প্রত্যাশা যেন ভেঙে না যায়: দেখা অদেখা
৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, সোমবার,
|| সালাহউদ্দিন বাবর ||
০৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৭,সোমবার, ০০:০০
 
রাজনৈতিক অঙ্গনসহ সব মহলে নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠন নিয়ে এখন আলোচনা চলছে। এ নিয়ে জনমনে ব্যাপক কৌতূহলও সৃষ্টি হয়েছে। এবার এ বিষয়ে যে আগ্রহ জনমনে সৃৃষ্টি হয়েছে, তা এর আগে আর লক্ষ করা যায়নি। সংবিধান অনুসারে, প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শক্রমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কমিশন গঠন করবেন। নির্বাচন কমিশনের প্রধান কে হবেন আর সদস্যই বা কারা হচ্ছেন, তা জানার আগ্রহ ব্যাপক। নির্বাচন কমিশন গঠনের ক্ষেত্রে এবারই প্রথম নানা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি গঠনের কার্যক্রম এখন শেষপর্যায়ে রয়েছে। এক মাসের বেশি সময় আগে কমিশন গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়। প্রথমে ডিসেম্বর মাসের ১৮ তারিখে রাষ্ট্রপতি এ জন্য প্রধান বিরোধী দল বিএনপির সাথে সংলাপ শুরু করেন। এটা শুরু হয়েছিল নির্বাচন কমিশন গঠন করতে একটি সার্চ (অনুসন্ধান) কমিটি গঠন করার লক্ষ্যে। রাষ্ট্রপতি বিএনপি ও আওয়ামী লীগসহ মোট ৩১টি দলের সাথে এ জন্য সংলাপে মিলিত হন। রাষ্ট্রপতি রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে সার্চ কমিটি গঠন করতে এর সদস্যদের নামের তালিকা চান। ২৬টি দল রাষ্ট্রপতির আহ্বানে সাড়া দিয়ে নামের তালিকা জমা দেয়। তালিকা পাওয়ার পর রাষ্ট্রপতি ছয় সদস্যের সার্চ কমিটি গঠন করেন। এর পর কমিটি তাদের কার্যক্রম শুরু করে। সার্চ কমিটি ইসি গঠনের জন্য একটি নামের তালিকা তৈরি করতে রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে নাম দেয়ার আহ্বান জানায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে রাজনৈতিক দলগুলোর কাছ থেকে সার্চ কমিটির জন্য ১২৫ জনের নাম পাওয়া যায়। এই তালিকা থেকে সার্চ কমিটি ২০ জনকে বাছাই করে। তবে কমিটি সূত্র বলেছে, এর বাইরেও কিছু নাম তারা রাষ্ট্রপতির কাছে জমা দেবেন।
ইসি গঠনের লক্ষ্যে সার্চ কমিটি দুই দফায় দেশের ১৬ জন বিশিষ্ট নাগরিকের সাথেও আলোচনা করেছে। এই আলোচনায় বিশিষ্ট নাগরিকেরা সার্চ কমিটিকে সংবিধান অনুসারে আইন প্রণয়নসহ প্রকৃত নিরপেক্ষ, সৎ, যোগ্য ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের নিয়ে ইসি গঠন করতে সুপারিশ করেছে। দলপন্থী কথিত নিরপেক্ষরা যাতে কোনোভাবেই এখানে স্থান না পান, তা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। এবার ইসি গঠনে যে পদ্ধতি অনুসরণ করা হচ্ছে, তাতে রাষ্ট্রপতি ও সার্চ কমিটি জনগণের শ্রদ্ধা কুড়িয়েছেন। এ পর্যন্ত সব কিছু যথাযথ পথে ও স্বচ্ছতার মধ্য দিয়েই অগ্রসর হচ্ছে। আগামীতে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে শক্তিশালী যোগ্য ইসি গঠিত হবেÑ জনগণের মধ্যে এই আশাবাদ সৃষ্টি হয়েছে। সর্বত্র সৃষ্টি হয়েছে একটি আস্থার পরিবেশ। সার্চ কমিটিকে মনে রাখতে হবে, এ অবস্থানটি যাতে ভেঙে না যায়। 
ইসি গঠনে বিশিষ্ট নাগরিকেরা যে পরামর্শ দিয়েছেন তার একটি হলোÑ এ জন্য স্থায়ী একটি বিধান তৈরি করা। অতীতে বারবার লক্ষ করা গেছে, ইসি গঠিত হয়েছে ক্ষমতাসীনদের নিজস্ব পছন্দের ভিত্তিতে। আর তাতে ইসি গঠন করা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। আর তাদের অধীনে অনুষ্ঠিত নির্বাচন নিয়ে তো বহু অভিযোগ ছিলই। বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদের সরকার ছিল নির্দলীয়। তিনি বিচারপতি মোহাম্মদ আবদুর রউফকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ দিয়েছিলেন। তার অধীনে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হয়েছিল। প্রতি পাঁচ বছর পর ইসি গঠনের জন্য যেন নতুন করে আলাপ-আলোচনাসহ নানা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে না হয়, তার জন্য সংবিধানে ইসি গঠনের যে স্থায়ী বিধান রচনার কথা রয়েছে, তা প্রণয়ন ও অনুসরণ করা দরকার। স্বাধীনতার ৪৫ বছরে দেশে বহু নির্বাচন হয়েছে। কিন্তু ইসি গঠনে কোনো বিধান প্রণীত হয়নি। অথচ স্থায়ী বিধান রচনার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই বিধান যাতে বিতর্কের মধ্যে না পড়ে। দেশের সব রাজনৈতিক দলের পরামর্শ ও সম্মতির মাধ্যমেই তা গঠিত হতে হবে। একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে ইসি গঠন করা নিয়ে যাতে কারো মনে কোনো দ্বন্দ্ব-অভিযোগ না থাকে, সে দিকে দৃষ্টি রাখতে হবে।
এর আগে এই নিবন্ধে একাধিকবার উল্লেখ করা হয়েছে, ইসি গঠন এবং আগামী সংসদ নির্বাচন নিয়ে এই আশাবাদ সৃষ্টি হয়েছে যে, তা অবাধ ও নিরপেক্ষ হবে। এ ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর একটি অঙ্গীকার পাওয়া গেছে। প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘আগামী সব নির্বাচন সুষ্ঠু হবে। জনগণ তাদের ইচ্ছামতো ভোট দিয়ে প্রতিনিধি নির্বাচিত করবে। তারা যাকে চাইবে তাকে ভোট দেবে। তাদের ভোটের অধিকার নিয়ে আর কেউ ছিনিমিনি খেলতে পারবে না।’ ৩০ জানুয়ারি রাতে শেখ হাসিনা গণভবনে ক্ষমতাসীন দলের কার্যনির্বাহী সংসদ ও উপদেষ্টা পরিষদের যৌথসভায় এ কথা বলেন। তিনি বলেছেন, আমাদের নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু নিরপেক্ষ হয়। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে। জনগণ ভোট দিয়েছে, ফলাফল পেয়েছে।’ আওয়ামী লীগের প্রতিপক্ষ ও সমালোচকেরা অবশ্য প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যে আস্থা রাখতে চাইছেন না। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের আগে অনুষ্ঠিত অন্যান্য নির্বাচনের কথা এ ক্ষেত্রে উদাহরণ হিসেবে তারা উল্লেখ করছেন। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত জেলা পরিষদ নির্বাচনসহ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের যেসব নির্বাচন বর্তমান ক্ষমতাসীন দলের অধীনে হয়েছে, তার একটিও অবাধ ও সুষ্ঠু হয়নি। তাই আগামী দিনের জন্য কি এই বক্তব্যের ওপর আস্থা রাখা যায়? তবে নিরপেক্ষ পর্যবেক্ষকেরা একটা ভিন্ন ব্যাখ্যা দিচ্ছেন। তাদের অভিমত হচ্ছে, এটা ঠিক যে, নাসিক নির্বাচনের আগে যত নির্বাচন সরকার করেছে, তার একটিও গ্রহণযোগ্য হয়নি। কিন্তু সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি ও মূল্যায়নে পরিবর্তন এসেছে বলে মনে হয়। তারা দুটো বিষয়ে ভেবেছে : উন্নয়ন এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা। উন্নয়ন করলে জনগণের দৃষ্টিতে আসা যায় আর রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকলে উন্নয়নের পরিবেশ সৃষ্টি হয় এবং বজায় থাকে। নাসিক নির্বাচনে যে ফল তারা পেয়েছেন এর অন্যতম কারণ উন্নয়ন। তারা মনে করেন, উন্নয়নের স্বীকৃতি এসেছে নারায়ণগঞ্জে। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন না হলে দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বিঘিœত হবে। তাতে উন্নয়নের ধারা ব্যাহত হতে পারে।
নির্বাচনে সরকারের ভূমিকা নিয়ে এখন তেমন আলোচনা হয় না। অবশ্য বিএনপি রাষ্ট্রপতির সাথে সংলাপে এ বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছে। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) নির্বাচনের পর বিষয়টি আলোচনায় আসে। নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে বিগত দিনে যত নির্বাচন হয়েছে তা অপেক্ষাকৃত অবাধ ও নিরপেক্ষ হয়েছে। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচন হয়েছে। এবারসহ অতীতে সব দলীয় সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনগুলো ত্রুটিমুক্ত ছিল না। নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে রাষ্ট্রপতি যে সংলাপের আয়োজন করেছিলেন, সেই সংলাপে বিএনপির পক্ষ থেকে নির্বাচনকালীন সরকারের ব্যবস্থা রাখার সুপারিশ করা হয়েছে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ অবশ্য ক্ষমতাসীন সরকারের অধীনেই নির্বাচন অনুষ্ঠানের সুপারিশ করেছে। তবে সে সরকার শুধু দৈনন্দিন রুটিন কাজ করবে মর্মে সুপারিশ করা হয়েছে। এখানে একটি বিষয় উল্লেখ করা যেতে পারে। আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে এই দফায় যত নির্বাচন হয়েছে, কোনোটিই ত্রুটিমুক্ত হয়নি।
নাসিক নির্বাচনে ফিরে আসতে চাই। এ নির্বাচনের প্রচারকাজ চালানোর সময় বিভিন্ন পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনের গোচরে আনা হয়েছিল যে, নির্বাচনী বিধিবিধানগুলো লঙ্ঘন করা হচ্ছে। কমিশন এ অভিযোগগুলো আমলে নেয়নি এবং কোনো প্রতিবিধানও করেনি। নির্বাচনে কমিশনের ভিন্ন কোনো ভূমিকাও লক্ষ করা যায়নি। অথচ দাবি ছিল কমিশন সক্রিয় থেকে পূর্বাপর প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। সংবিধান নির্বাচন কমিশনকে এই দায়িত্ব এবং এ জন্য প্রয়োজনীয় সহায়, সাহস ও শক্তি দিয়েছে। কিন্তু কমিশন তার কিছুই ব্যবহার করেনি। নির্বাচনে সরকারের কোনো রকম ভূমিকা রাখার সুযোগ নেই। কিন্তু নাসিক ছাড়া অন্যান্য নির্বাচনে সরকার এবং সরকারি দলের নেতাকর্মীরা ব্যাপক অনিয়ম, কারচুপি, ভোটকেন্দ্র দখলসহ যাবতীয় অনিয়মের আশ্রয় নিয়েছেন। কিন্তু নাসিক নির্বাচনে সরকার বা সরকারি দল কোনো নেতিবাচক ভূমিকা পালন না করায় এ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হয়েছে। এতে প্রমাণ হয়েছে, নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হওয়ার ক্ষেত্রে সরকারের ভূমিকা একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার। নির্বাচনে সরকারের কোনো সম্পৃক্ততা না থাকা উচিত নয় কেবল সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা নেয়া ছাড়া; তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে যা লক্ষ করা গেছে। অন্তত কিছুকালের জন্য হলেও এমন একটা ব্যবস্থা থাকা উচিত, যাতে নির্বাচনে সরকারের নির্লিপ্ত থাকা একটা ঐতিহ্যে পরিণত হয়। বিষয়টি রাজনৈতিক মহল, সরকারবিষয়ক বিশেষজ্ঞ, সংবিধান ও নির্বাচন সম্পর্কিত বিশেষজ্ঞদের ভেবে দেখা উচিত।
আগেই উল্লেøখ করা হয়েছে, এবার নির্বাচনী কার্যক্রম তথা ইসি গঠন নিয়ে সার্চ কমিটির বিরুদ্ধে এখনো কোনো অভিযোগ আসেনি। তারা স্বচ্ছতার সাথে নির্ধারিত কাজ করে যাচ্ছেন। তাদের এই ভূমিকা সবপর্যায়ে প্রশংসা পেয়েছে। এখন অপেক্ষায় থাকতে হবে, ইসি গঠনে সার্চ কমিটি কী করে। সংলাপ, সার্চ কমিটিÑ সব কিছুর মূলে রয়েছে দেশে সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য যে প্রতিষ্ঠানটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, সেই ইসি গঠন যথাযথ হওয়া। সার্চ কমিটির সুপারিশে যে ইসি গঠিত হবে, তা যদি যোগ্য, সক্ষম ও শক্তিশালী হয়; তবেই সার্চ কমিটির সাফল্য ষোলোআনা পূর্ণ হবে। এমন একটি ইসিই চায় জনগণ। ইসি গঠনে যে নামের তালিকা সার্চ কমিটি রাষ্ট্রপতির কাছে পেশ করবে, তা যদি গোপন রাখা হয় সে ক্ষেত্রে সরকার সেখান থেকে কিছু নামের সংযোজন করে আর কিছু নাম বাদ দেয়, তবে তা কখনোই জনগণ জানবে না। তাই যে নামগুলো সার্চ কমিটি রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠাবে, জনগণের সম্পত্তি হিসেবে সেগুলো প্রকাশ করাই সঙ্গত। স্বচ্ছতা ও মানুষের আস্থার জন্য এটা প্রয়োজনীয়। তা ছাড়া আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সার্চ কমিটিকে যেসব নামের তালিকা দিয়েছে তা তারা প্রকাশ করেছেন।
রাষ্ট্রপতি একাধিকবার উল্লেখ করেছেন, রাজনৈতিক দল যদি পরস্পর বিভিন্ন জাতীয় ইস্যুতে বৈঠক করে, তবে তাদের পারস্পরিক সম্পর্ক ও সমঝোতা বৃদ্ধি পাবে এবং সমস্যার সমাধান বেরিয়ে আসবে। ইসি গঠন নিয়ে এবার যে সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে তাতে মনে হয়, হয়তো এবার সমস্যার সমাধান তথা ইসি গঠনের ক্ষেত্রে ঐকমত্য সৃষ্টি হবে। বিতর্কের বাইরে থেকে যদি জাতীয় প্রতিষ্ঠানটি গঠন করা সম্ভব হয়, তবে তা জাতির ইতিহাসে একটা নজির সৃষ্টি করবে। এ ধরনের ইস্যুতে দেশের প্রধান নির্বাহী তথা প্রধানমন্ত্রীর ভূমিকা সবচেয়ে বেশি। বস্তুত তার অভিপ্রায়ই এ ক্ষেত্রে প্রধান বিষয়। তিনি এ ব্যাপারে রাষ্ট্রপতিকে যে পরামর্শ দেবেন, রাষ্ট্রপতি তার বাইরে যেতে পারবেন না। তবে সাম্প্রতিককালে নির্বাচন নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর মনোভাব তার বক্তব্যে প্রকাশ পেয়েছে। তাতে আশাবাদী হওয়ার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। দেশের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় তিনি দীর্ঘ সময় অতিবাহিত করেছেন। স্বাভাবিকভাবেই জাতির কাছে স্মরণীয় হয়ে থাকার জন্য তিনি কিছু কাজ করবেন। একটি ইসি গঠন করার মাধ্যমেও মহৎ কাজের উদাহরণ সৃষ্টি করতে পারেন।
সম্প্রতি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিভিন্ন দেশের গণতান্ত্রিক অবস্থা সম্পর্কে পর্যবেক্ষণ প্রকাশ করা হয়েছে। সে তালিকায় বাংলাদেশের নাম একেবারে শেষ দিকে রয়েছে। ইদানীং বাংলাদেশের বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা হচ্ছে। এর বেশির ভাগ বিষয়েই হতাশাজনক চিত্র লক্ষ করা যায়। তবে সম্প্রতি একটি খবর বাংলাদেশের জনগণকে খুশি করতে পারে। আর তা হচ্ছেÑ বাংলাদেশ দুর্নীতির ক্ষেত্রে কিছুটা এগিয়েছে। অর্থাৎ এখানে দুর্নীতি কমেছে। দুর্নীতি উন্নয়নের অন্তরায়। বাংলাদেশের উন্নয়নের পথে যে সমস্যাগুলো রয়েছে, তার মধ্যে দুর্নীতি একটি প্রধান বিষয়। আমাদের আজকের আলোচনার মূল বিষয় দুর্নীতি নয়, গণতন্ত্র। গণতন্ত্র অর্থ মানুষের অবাধ ভোটাধিকার। কিন্তু সে দিক থেকে আমরা অনেক পিছিয়ে আছি। দেশে সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচন হয়েছিল ২০১৪ সালের জানুয়ারি মাসে। সে নির্বাচন নিয়ে কিঞ্চিৎ আলোচনা করা যেতে পারে।
দশম জাতীয় সংসদের নির্বাচন হয়েছিল ২০১৪ সালের জানুয়ারি মাসে। বহুল আলোচিত এবং বহু বিতর্কিত সেই নির্বাচনের তৃতীয় বর্ষ শেষ হয়েছে গত মাসে। ভোটারবিহীন ও কার্যত একদলীয় সেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল বিদায়ের দ্বারে উপনীত নির্বাচন কমিশনের অধীনে। সেই নির্বাচন গ্রহণযোগ্যতা পায়নি। দশম সংসদের নির্বাচন নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার প্রেক্ষাপটে সরকারি মহল থেকে সে সময় এমন আভাস দেয়া হয়েছিল যে, অতি অল্প সময়ের মধ্যে সবার গ্রহণযোগ্য একটি নির্বাচন দেয়া হবে। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষিত হয়নি। এ নিয়ে সে সময় ব্যাপক আলোচনাও হয়েছে। কিন্তু কিছুকাল পরে ক্ষমতাসীনেরা অতীতের আভাস-ইঙ্গিত ভুলে গিয়ে বলে দিয়েছেন, এই সংসদের মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত অর্থাৎ ২০১৯ সালের আগে কোনো সংসদ নির্বাচন হবে না। সরকারের এই বক্তব্য অনেককে আহত করলেও এর কোনো প্রতিকার হয়নি। বর্তমানে বিদায়ী নির্বাচন কমিশনকে অনেক কথা শুনতে হয়েছে। এ ছাড়াও ওই কমিশনের অধীনে অনুষ্ঠিত কোনো নির্বাচনই ত্রুটিমুক্ত ছিল না। গণতন্ত্রের এই হাল পরিবর্তনের জন্য এখন একটি ইসি গঠনের প্রক্রিয়া চলছে। আমরা আশা করব, পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটবে।
http://www.dailynayadiganta.com/detail/news/193429