১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, সোমবার
Choose Language:

সর্বশেষ
চলতি বিষয়াবলি
উন্নয়ন অন্বেষণের মূল্যায়ন: মুদ্রানীতিতে বিনিয়োগ বাড়বে না
৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, রবিবার,
দেশে বিনিয়োগ পরিস্থিতি দীর্ঘদিন ধরে স্থবির হয়ে আছে। এ অবস্থায় ঋণ বিতরণের গুণগত মান না বাড়িয়ে মুদ্রানীতি ঘোষণায় বিনিয়োগ বাড়বে না। বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান উন্নয়ন অন্বেষণের এক মূল্যায়ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামীতেও বিনিয়োগ না বাড়লে দেশের বেকার সমস্যা আরও প্রকট হতে পারে। এ ছাড়া বর্তমানে মূল্যস্ফীতি স্থিতিশীল রয়েছে। কিন্তু দীর্ঘ মেয়াদে তা বৃদ্ধির আশংকা রয়েছে। মূল্যায়ন প্রতিবেদনটি শনিবার প্রকাশ করা হয়।
প্রসঙ্গত গত ২৯ জানুয়ারি ৬ মাসের জন্য মুদ্রানীতি ঘোষণা করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এবারের নীতিতে বেসরকারি খাতে ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১৬ দশমিক ৫ শতাংশ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, এ মুদ্রানীতি বাস্তবায়িত হলে দেশে বিনিয়োগ বাড়বে। উন্নয়ন অন্বেষণ বলেছে, গুণগতমান বাড়ানো ছাড়াই ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা বাড়ানো হয়েছে। আর এতে বিনিয়োগ বাড়ানোর উদ্যোগ ব্যর্থ হবে। যা মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনকে ব্যাহত করতে পারে।
অর্থনীতিতে কর্মদক্ষতা বাড়াতে রাজস্ব ও মুদ্রানীতির মধ্যে আরও সমন্বয়ের সুপারিশ করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেসরকারি বিনিয়োগে স্থবিরতা অব্যাহত রয়েছে। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে বেসরকারি বিনিয়োগ ছিল জিডিপির ২২ দশমিক ৭ শতাংশ। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে তা কমে ২১ দশমিক ৭৮ শতাংশে নেমে আসে। অন্যদিকে ২০১৪-১৫ অর্থবছরে সরকারি বিনিয়োগ ছিল জিডিপির ৬ দশমিক ৮২ শতাংশ। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে তা বেড়ে ৭ দশমিক ৬ শতাংশে উন্নীত হয়। এর অর্থ হল- সরকারি বিনিয়োগ বাড়লেও বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়াতে তা সহায়ক হচ্ছে না। সহজভাবে বললে, সরকারি বিনিয়োগের তেমন কোনো সুফল নেই অর্থনীতিতে।
এ সংক্রান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিনিয়োগে পুঁজির ক্ষেত্রেও সমস্যা রয়েছে। ব্যাংকিং খাতে মোট ঋণের তুলনায় খেলাপি ঋণ বাড়ছে। গত জুন পর্যন্ত খেলাপি ঋণ ছিল ১০ দশমিক ০৬ শতাংশ। সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তা বেড়ে ১০ দশমিক ৩৪ শতাংশে উন্নীত হয়। এ ছাড়া দিন দিন সরকারি মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর আর্থিক ব্যবস্থাপনা খারাপ হচ্ছে। চলতি ২০১৬-১৭ অর্থবছরে সরকারি ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি পূরণে বাজেট থেকে ২ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এ ঘাটতি হয়েছে কয়েকটি কারণে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- ব্যাংকিং কার্যক্রমে সরকারের নজরদারির অভাব, বিভিন্ন ব্যাংকে ঋণ কেলেংকারি ও জালিয়াতি বৃদ্ধি এবং ব্যবস্থাপনায় অদক্ষতা। এরপর জনগণের করের টাকায় ওই ঘাটতি পূরণ করা হচ্ছে। যা যৌক্তিক নয়।
সংস্থাটি আরও বলছে, বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি কমছে। চলতি অর্থবছরের জুনে বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি ছিল ১৬ দশমিক ৮ শতাংশ। আগস্টে তা কমে ১৬ দশমিক ২ শতাংশে নেমে আসে। সেপ্টেম্বরে তা আরও কমে ১৫ দশমিক ৩ শতাংশ এবং নভেম্বরে তা ১৫ শতাংশে নেমে আসে। আর এ ধারাবাহিকতা বিবেচনা করে উন্নয়ন অন্বেষণ আশংকা করছে, ঘোষিত মুদ্রানীতিতে ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা ১৬ দশমিক ৫ শতাংশ ধরা হলেও তা অর্জন করা যাবে না। এতে বিনিয়োগের স্থবিরতাকে তীব্র করবে। এ ছাড়া বিনিয়োগ ঘাটতির কারণে কর্মসংস্থানও কমছে। ২০০০-১০ সাল পর্যন্ত ১০ বছরে বেকার মানুষের সংখ্যা প্রতিবছর গড়ে ৫ দশমিক ২৯ শতাংশ হারে বেড়েছে। ২০০০ সালের ১৭ লাখ থেকে বেড়ে ২০১০ সালে এ সংখ্যা ২৬ লাখে উন্নীত হয়। অন্যদিকে ১ কোটি ৬০ লাখ মানুষ দিনমজুর হিসেবে কাজ করছে। যাদের চাকরির কোনো নিরাপত্তা নেই। আর যুবশক্তির হিসাব করলে বর্তমানে দেশের মোট যুব শ্রমশক্তির ৯ দশমিক ১ শতাংশই বেকার।
http://www.jugantor.com/first-page/2017/02/05/98564/%E0%A6%AE%E0%A7%81%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A7%80%E0%A6%A4%E0%A6%BF%E0%A6%A4%E0%A7%87-%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A7%9F%E0%A7%8B%E0%A6%97-%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A7%9C%E0%A6%AC%E0%A7%87-%E0%A6%A8%E0%A6%BE