১৭ নভেম্বর ২০১৯, রবিবার
Choose Language:

সর্বশেষ
চলতি বিষয়াবলি
এখনও লোকসানে অনেক মার্চেন্ট ব্যাংক: ২০১০ সালের ধসের প্রভাব
৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, রবিবার,
গত নভেম্বর ও ডিসেম্বরে নতুন করে গতি ফেরায় মুনাফার স্বপ্ন দেখছেন শেয়ারবাজার-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও নানা শ্রেণির বিনিয়োগকারী। তবে শেয়ারবাজার ধসের দীর্ঘ ছয় বছর পর এখন লোকসান কতটা কমানো যাবে, সে হিসাব নিয়ে দুশ্চিন্তার অন্ত নেই বাজারের অন্যতম প্রধান স্টেকহোল্ডার গ্রুপ মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোর।
 
অথচ কার্যক্রমে থাকা ৫৪ মার্চেন্ট ব্যাংকের সম্মিলিত মূলধন সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকা এবং সম্পদ মূল্য সাড়ে ১০ হাজার কোটি টাকারও বেশি। তার পরও ২০১৫ সালে সম্মিলিতভাবে ১০৫ কোটি টাকারও বেশি লোকসান দিয়েছে এসব প্রতিষ্ঠান। নিরীক্ষা শেষ না হওয়ায় এখনও ২০১৬ সালের লাভ-লোকসানের চূড়ান্ত হিসাব পাওয়া যায়নি। তবে এবারও লোকসান হবে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মকর্তারাও বলছেন, মূলধনের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংকে জমা রাখলেও বছরে অন্তত ৩০০ কোটি টাকার বেশি সুদ আয় হতো।
 
বিশালাকার মূলধন থাকা সত্ত্বেও অনাদায়ী মার্জিন ঋণ এবং ২০১০ সালের ধসে বিনিয়োগে মূলধন ও সম্পদ আটকে যাওয়াকে লোকসানের প্রধান কারণ বলে জানিয়েছেন মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোর শীর্ষ কর্মকর্তারা। তাছাড়া ধসের পর আর্থিক ঝুঁকি বিবেচনায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে না পারার ব্যর্থতাও লোকসান হওয়ার কারণ বলে জানান তারা। গত বছরের শেষে মার্চেন্ট ব্যাংকগুলো বিতরণকৃত মার্জিন ঋণ ছিল ৬ হাজার ৪৭৮ কোটি টাকা।
 
প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০১৫ সালে ৫৪ মার্চেন্ট ব্যাংকের মধ্যে মুনাফা করেছিল ৩৩টি। যার পরিমাণ ১১৮ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। ১৭ মার্চেন্ট ব্যাংকের লোকসান ছিল ২২৪ কোটি ১৯ লাখ টাকা। ২০১৬ সালেও এ চিত্র প্রায় অভিন্ন থাকছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
 
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ৪২ কোটি টাকার মূলধনের বিপরীতে সর্বাধিক প্রায় ৭৪ কোটি টাকার লোকসান ছিল বিএমএসএল ইনভেস্টমেন্টের। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা লংকা-বাংলা ইনভেস্টমেন্টের ২০১৫ সালে লোকসান ছিল ৫২ কোটি টাকারও বেশি। যেখানে প্রতিষ্ঠানটির মূলধন ছিল ১৬৭ কোটি টাকা এবং সম্পদ প্রায় ৩২৬ কোটি টাকার। এর মধ্যে মার্জিন ঋণেই আটকে ছিল প্রায় ২৪৭ কোটি টাকা।
 
এর পরের অবস্থানে থাকা ব্র্যাক ইপিএলের লোকসান ছিল প্রায় ৩৪ কোটি টাকা। প্রতিষ্ঠানটির মূলধন ২৫৮ কোটি টাকা। এ ছাড়া আইসিবি ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্টের সোয়া ১৭ কোটি টাকা, সাউথইস্ট ব্যাংক ক্যাপিটাল সার্ভিসেসের সাড়ে ১০ কোটি টাকা এবং এক্সিম ইসলামী ইনভেস্টমেন্টের সোয়া ১০ কোটি টাকার লোকসান ছিল। এর মধ্যে সাউথইস্ট ব্যাংক ক্যাপিটালের সর্বাধিক মূলধন ছিল ৫৫০ কোটি টাকা।
 
সম্মিলিতভাবে লোকসান থাকলেও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান মুনাফাও করেছে। সর্বাধিক প্রায় ১৯ কোটি টাকার মুনাফা ছিল স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের মালিকানাধীন এসবিএল ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্টের। ১৫ কোটি টাকার মুনাফা নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল উত্তরা ফাইন্যান্স। মুনাফার দিক থেকে তৃতীয় থেকে পঞ্চম অবস্থানে থাকা ইসি সিকিউরিটিজ, আইডিএলসি ইনভেস্টমেন্ট এবং এবি ইনভেস্টমেন্টের মুনাফা ছিল যথাক্রমে সাড়ে ১৩ কোটি টাকা, ১২ কোটি টাকা এবং সাড়ে ১১ কোটি টাকা।
 
লোকসানের বিষয়ে লংকা-বাংলা ইনভেস্টমেন্টের সিইও খোন্দকার কায়েস হাসান জানান, তার প্রতিষ্ঠানের মূলধনের সিংহভাগই আটকে আছে মার্জিন ঋণে। যেখানে বড় ধরনের মূলধনী লোকসান রয়েছে এবং আয় নেই বললেই চলে। বিনিয়োগ তহবিলে সংকট থাকায় নিজস্ব পোর্টফোলিও হিসাবে বিনিয়োগও করতে পারেননি। 
 
উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মার্চেন্ট ব্যাংক আর্থিক সংকটে থাকলেও ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়ে পরিস্থিতি নিজেদের আয়ত্তে এনেছে কিছু প্রতিষ্ঠান। এর অন্যতম আইডিএলসি ইনভেস্টমেন্ট। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান জানান, আর্থিক ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার নীতি অনুসরণ করেই তার প্রতিষ্ঠান সংকট কাটিয়ে উঠেছে। তিনি বলেন, ২০১০ সালের জুনে গ্রাহকদের কাছে মার্জিন ঋণ বাবদ পাওনা ছিল প্রায় ৮০০ কোটি টাকা। ওই বছরের ডিসেম্বরে ধস নামার আগেই তা ৩০০ কোটি টাকায় নামিয়ে আনা হয়। ২০১২ সালে মূলধনী লোকসানে থাকা মার্জিন ঋণ হিসাবগুলো পরিষ্কার করার সিদ্ধান্ত হয়। তাতে ওই বছরই ২২ কোটি টাকার বেশি লোকসান হয়। মার্জিন ঋণ নামিয়ে আনা হয় ১০০ কোটিতে। এতে পরের বছরই মুনাফা হয়। ২০১৫ সালে আইডিএলসির নিট মুনাফা ছিল প্রায় ১২ কোটি টাকা। গত বছর তা ১৭ কোটি টাকা ছাড়াবে। গত ডিসেম্বরে সব মার্চেন্ট ব্যাংকের মধ্যে এ প্রতিষ্ঠানটির নিট বিনিয়োগ ছিল সর্বাধিক ১০ কোটি টাকা।
- See more at: http://bangla.samakal.net/2017/02/05/267906#sthash.zNZIFSw0.dpuf