১৭ নভেম্বর ২০১৯, রবিবার
Choose Language:

সর্বশেষ
চলতি বিষয়াবলি
শাহজাদপুরে মেয়রের গুলিতে আহত সাংবাদিকের মৃত্যু, খবর শুনে মারা গেলেন নানি
৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, শনিবার,
সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর পৌরসভার মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হালিমুল হক মীরুর ছোড়া গুলিতে আহত সাংবাদিক আবদুল হাকিম শিমুল (৪২) শুক্রবার মারা গেছেন। বগুড়া থেকে ঢাকায় নেয়ার পথে দুপুরে টাঙ্গাইলে মারা যান তিনি। শিমুলের মৃত্যু সংবাদ শুনে শোকে ও হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে সন্ধ্যায় তার নানি রোকেয়া বেগম (৭০) মারা যান। ছোট থেকেই মাদলা গ্রামে নানির কাছে থাকতেন শিমুল।
 
শিমুলের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর শাহজাদপুরে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পৌরশহরে দাঙ্গা দমন পুলিশসহ অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। এরই মধ্যে বিকালে স্থানীয় সাংবাদিক ও এলাকাবাসী বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেন। বিক্ষোভ হয়েছে ময়মনসিংহের গৌরীপুরসহ কয়েক স্থানেও। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, এ ঘটনায় পৌর মেয়রের বিরুদ্ধে দলীয় ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।
 
শাহজাদপুর থানার ওসি মো. রেজাউল হক বলেন, বৃহস্পতিবার রাতেই পৌর মেয়র হালিমুল হক মীরু, তার ছোট ভাই হাকিমুল হক পিন্টু ও হাবিবুল হক মিন্টুসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে শাহজাদপুর থানায় মামলা হয়েছে। শাহজাদপুর সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি বিজয় মাহমুদের চাচা এরশাদ আলী ওই মামলা করেন। শুক্রবার ভোরে মেয়রের ছোট ভাই মিন্টুকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর আগে বৃহস্পতিবার গ্রেফতার করা হয় আরেক ছোট ভাই পিন্টুকে। অন্যদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।
 
শিমুলের স্ত্রী মোছা. নূরুন নাহার বাদী হয়ে শুক্রবার রাতে থানায় হত্যা মামলা করেছেন। এতে আসামি হিসেবে মেয়র মীরু, তার ভাই পিন্টুসহ ১৮ জনের নাম উল্লেখ করেছেন তিনি। এছাড়াও ২০-২৫ অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।
 
বিজয়ের ওপর হামলার প্রতিবাদে আজ শাহজাদপুরে হরতাল ডেকেছে ছাত্রলীগ। এতে সমর্থন জানিয়েছে উপজেলা আওয়ামী লীগ। শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আলিমুন রাজিব এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, আইনশৃংখলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
 
শিমুলের মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। শুক্রবার এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের দলীয় কোন্দল ও আধিপত্য বিস্তারের লড়াইয়ের কারণেই এক নির্ভীক কলম সৈনিককে জীবন দিতে হল। এর নিন্দা জানানোর ভাষা জানা নেই। হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার ও বিচার দাবি করেন সাবেক এই রাষ্ট্রপতি। শিমুলের মৃত্যুতে আরও শোক জানিয়েছে রুরাল জার্নালিস্ট ফোরাম (আরজেএফ)। সংগঠনের চেয়ারম্যান এসএম জহিরুল ইসলাম ও মহাসচিব মাহফুজুল হকসহ নেতারা দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। তারা আজ বেলা ১১টা থেকে ১ ঘণ্টা কর্মবিরতি পালনের ঘোষণা দিয়েছেন।
 
আবদুল হাকিম শিমুল শাহজাদপুর উপজেলার মাদলা গ্রামের রহমত উল্লাহর ছেলে। তিনি দৈনিক সমকালের শাহজাদপুর উপজেলা প্রতিনিধি ছিলেন। আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দ্বন্দ্ব ও পূর্বশত্রুতার জের ধরে বৃহস্পতিবার পিন্টু বিজয়কে তুলে মেয়রের বাড়িতে এনে বেধড়ক মারপিট করে। এতে বিজয়ের একটি হাত ও একটি পা ভেঙে যায়। এ ঘটনায় বিজয়ের সমর্থকরা ও ছাত্রলীগ বিক্ষোভ মিছিল বের করে। মিছিলটি মীরুর বাড়ির কাছে পৌঁছলে মেয়রের বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় পৌর মেয়র তার শটগান দিয়ে গুলি করেন। এতে শিমুল, রং মিস্ত্রি সরোয়ার হোসেন ও পথচারী ডুবার আলী গুলিবিদ্ধ হন।
 
মুখ ও মাথায় গুলিবিদ্ধ শিমুলকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালের নিউরো সার্জারি বিভাগে নেয়া হয়। তাকে আইসিইউতে রেখে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছিল। রাতে নিউরো সার্জারি বিভাগের প্রধান সহযোগী অধ্যাপক ডা. সুশান্ত কুমার সরকার জানান, শিমুলের মাথায় গুলির অংশ (ছোট প্লেট) আছে। ব্রেনে আঘাত ও রক্তক্ষরণ হয়েছে। তিনি অচেতন আছেন। এ অবস্থায় তার অপারেশন করা সম্ভব নয়। জীবন বাঁচাতে সর্বোচ্চ চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।
 
শুক্রবার বিকালে ডা. সুশান্ত কুমার সরকার জানান, শিমুল শ্বাস-প্রশ্বাস নিচ্ছিলেন। তার চিকিৎসার জন্য গঠিত মেডিকেল বোর্ড শুক্রবার সকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের সঙ্গে আলোচনা করেন। মন্ত্রীর পরামর্শে তাকে একটি গাড়িতে দু’জন চিকিৎসক, নার্স ও আইসিইউ’র ব্যবস্থাসহ ঢাকার ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব নিউরো সায়েন্স অ্যান্ড হসপিটালে পাঠানো হচ্ছিল। পথে টাঙ্গাইলে আচমকা তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। কৃত্রিম শ্বাস দেয়ার সুযোগ হয়নি।
 
বিকাল ৩টার দিকে শিমুলের ভাই মকবুল হোসেন জানান, ঢাকায় যাওয়ার পথে বেলা ১টার দিকে টাঙ্গাইলে শিমুলের মৃত্যু হয়। লাশ শাহজাদপুর থানায় আছে। পুলিশ সেখান থেকে সিরাজগঞ্জ মর্গে পাঠাবে। মকবুল দাবি করেন, গুলিবর্ষণের ছবি তোলার কারণেই শিমুলের মাথায় গুলি করা হয়।
 
বিকালে শাহজাদপুর থানায় শিমুলের লাশ আনার পর সেখানে স্বজন ও সহকর্মীদের কান্নায় হৃদয়বিদারক পরিবেশের সৃষ্টি হয়। এদিকে আহত বিজয়কে পাবনার বেড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বৃহস্পতিবার রাতেই ঢাকায় নেয়া হয়েছে। তিনি পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।
 
গৌরীপুরে বিক্ষোভ : যুগান্তরের গৌরীপুর (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি জানান, শিমুল হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবিতে শুক্রবার বিকালে গৌরীপুর প্রেস ক্লাব শহরে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ হয়েছে। প্রেস ক্লাবের সভাপতি বেগ ফারুক আহাম্মেদের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেন সাবেক সভাপতি ম নূরুল ইসলাম, কমল সরকার, ইকবাল হোসেন জুয়েল, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. রইছ উদ্দিন, আলী হায়দার রবিন, প্রেস ক্লাবের সহসভাপতি আজম জহিরুল ইসলাম, যুগ্মসম্পাদক সাজ্জাতুল ইসলাম, যুগান্তর স্বজন সমাবেশের শামছুজ্জামান আরিফ, মো. রাসেল আহাম্মেদ শুভ্র, রিপোর্টার্স ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জহিরুল হুদা লিটন প্রমুখ।
http://www.jugantor.com/last-page/2017/02/04/98394/%E0%A6%B6%E0%A6%BE%E0%A6%B9%E0%A6%9C%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A6%AA%E0%A7%81%E0%A6%B0%E0%A7%87-%E0%A6%AE%E0%A7%87%E0%A7%9F%E0%A6%B0%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%97%E0%A7%81%E0%A6%B2%E0%A6%BF%E0%A6%A4%E0%A7%87-%E0%A6%86%E0%A6%B9%E0%A6%A4-%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%82%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A6%BF%E0%A6%95%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%AE%E0%A7%83%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A7%81