২০ নভেম্বর ২০১৯, বুধবার
Choose Language:

সর্বশেষ
চলতি বিষয়াবলি
এক প্রকল্পে ১৩৮ পরামর্শক , খরচ হবে মোট ব্যয়ের ৮৫ ভাগ
৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, শনিবার,
বিদেশী সাহায্যপুষ্ট প্রকল্প মানেই একগাদা পরামর্শক ও বিদেশ সফর। আর প্রকল্পের একটা বড় অংশ চলে যাচ্ছে এই দুই-অনুন্নয়ন খাতে। বিদ্যুৎ খাতের একটি কারিগরি প্রকল্পে দেশী ও বিদেশী মিলে মোট ১৩৮ জন পরামর্শককে নিয়োগের প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। যাদের পেছনে ব্যয় হবে ১২৪ কোটি ৩০ লাখ টাকা বা প্রকল্প ব্যয়ের ৮৫.৬২ শতাংশ। আর দেশ-বিদেশে প্রশক্ষিণ নেবে ৫০০ জন। সম্প্রতি পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো প্রকল্প প্রস্তাব থেকে এই তথ্য জানা গেছে।
বিদ্যুৎ বিভাগের প্রস্তাব অনুযায়ী, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) ঋণ সহায়তায় বিদ্যুৎ উৎপাদন, সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থার মাধ্যমে বিদ্যুতের সরবরাহ ও গ্রাহক সেবার গুণগতমান উন্নয়ন এবং এই খাতে সুশাসন প্রয়োগ করতে প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছে। মোট ১৪৫ কোটি ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ের মধ্যে এডিবির ঋণ সহায়তা হলো ১২০ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। আর বাংলাদেশ সরকারকে অর্থায়ন করতে হবে ২৪ কোটি ৫১ লাখ টাকা। প্রকল্পের নাম রাখা হয়েছে টেকনিক্যাল অ্যাসিসট্যান্স ফর বাংলাদেশ পাওয়ার সেক্টর ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড ক্যাপাসিটি বিল্ডিং। প্রকল্পের মেয়াদ ২০১৭ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২০ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রস্তাব করা হয়েছে। 
প্রকল্প বিশ্লেষণে দেখা যায়, বায়ু ও সৌর বিদ্যুৎ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, এলএনজির ব্যবহার, ট্যারিফ, সাব-মেরিন ক্যাবেলের মাধ্যমে বিদ্যুতায়ন, সুশাসন প্রভৃতি বিষয়ে ১৪টি গবেষণা সম্পাদন করা হবে এই প্রকল্পের মাধ্যমে। ওই চৌদ্দটি গবেষণা সম্পাদনের জন্য ১২৪ জন স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক পরামর্শকের সংস্থাসহ ১২টি পরামর্শক ফার্ম বা প্রতিষ্ঠানকে নিয়োগ দেয়া হবে। পাশাপাশি প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য নিয়োগ দেয়া হবে আরো ১৪ জন পরামর্শক। এক প্রকল্পের জন্য এত পরামর্শক বাংলাদেশের ইতিহাসে নেই। ১৩৮ জন পরামর্শকের মধ্যে ৬২ জন আন্তর্জাতিক পরামর্শক। এদের মধ্যে ১৪ গবেষণায় থাকছে ১৩ জন টিম ডিলার। আর বাকি ৪৯ জন আন্তর্জাতিক সাধারণ পরামর্শক। অন্য দিকে স্থানীয় পরামর্শক থাকছে ৬৬ জন। 
ব্যয় বিভাজনে দেখা যায়, পল্লী বিদ্যুতের (আরইবি) ১০ পবিসের জিআইএস ভিত্তিক ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি প্রবর্তনের গবেষণার জন্য তিন বছরে ১৪ জন পরামর্শক নেবে ৩৪ কোটি ৪৯ লাখ ৬০ হাজার টাকা। সৌর বিদ্যুতের জন্য সম্ভাব্যতা যাচাই ও নতুন ব্যবসার জন্য গবেষণায় এক বছরে ১১ পরামর্শকের পেছনে ব্যয় হবে ২৪ কোটি ৩৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা। আর ট্রান্সমিশন পরিকল্পনা, পিজিসিবির প্রকল্প প্রণয়ন গবেষণায় এক বছরে ১৫ জন পরামর্শক নেবে ১২ কোটি ৮৪ লাখ ২০ হাজার টাকা। তবে প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য যে ১৪ জন ব্যক্তি পরামর্শক নিয়োগ দেয়া হবে তাদের জন্য ব্যয় কত হবে সেটি প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়নি। আর ৫০০ জনবলের প্রশিক্ষণে যাবে চার কোটি ৮০ লাখ টাকা। সুশাসনের নামে যে খাতটি রাখা হয়েছে তাতে ব্যয় ধরা হয়েছে তিন কোটি ৮৫ লাখ টাকা। 
এ দিকে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক বিদ্যুৎ খাতের দক্ষতা বাড়াতে ১০৫ কোটি ৭৫ লাখ ডলার একটি আম্ব্রেলা প্রকল্পের আওতায় ঋণ সহায়তা দেবে। উক্ত প্রকল্পের আওতায় এক কোটি ৬০ লাখ ডলার ব্যয়ে বিদ্যুৎ বিভাগের আওতাধীন বিভিন্ন সংস্থার সমীক্ষা ও কারিগরি কাজে সহায়তা দেবে। 
খোঁজ নিয়ে দেখা যায় পরিকল্পনা কমিশন এসব ব্যয়ের খাতে আপত্তি প্রকাশ করেছে। অন্যান্য পরামর্শক আন্তর্জাতিকের স্থলে স্থানীয় রাখা হলে এ খাতে ব্যয় কমে আসবে। কোনো কোনো গবেষণায় ১৪ থেকে ১৬ জন পরামর্শক রাখা হয়েছে। এখানে পরামর্শক কমানো হলে আরো বেশি গবেষণা করা সম্ভব বলে কমিশন মনে করছে। কমিশন পরামর্শক কমিয়ে গবেষণা বাড়ানোর জন্য সুপারিশ করেছে। প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য যে ১৪ জন পরামর্শক রাখা হয়েছে তাদের নিয়োগ সংক্রান্ত তথ্য ক্রয় পরিকল্পনায় উল্লেখ করা হয়নি। তাদের মেয়াদ ও প্রাক্কলিত ব্যয়ও প্রকাশ করা হয়নি। এ ছাড়া ৪৩০টি দেশীয় এবং ৭০টি বৈদেশিক প্রশিক্ষণের কথা বলা হয়েছে। ৭০টি বৈদেশিক প্রশিক্ষণের মধ্যে পরিকল্পনা কমিশন, ইআরডি, আইএমইডির জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৯টি।
http://www.dailynayadiganta.com/detail/news/192987