১৯ নভেম্বর ২০১৯, মঙ্গলবার
Choose Language:

সর্বশেষ
চলতি বিষয়াবলি
ভরা মওসুমেও দাম বাড়ছে : সিন্ডিকেটের কবলে সবজির বাজার
৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, শনিবার,
সিন্ডিকেটের কবলে পড়েছে সবজির বাজার। রাজধানীর সবজি বাজারগুলোতে শীতকালীন সবজি প্রচুর সরবরাহ থাকার পরও গত কয়েক সপ্তাহ আগের বাড়তি দামেই বিক্রি হচ্ছে সব ধরনের সবজি। শীতের সবজির ভরা মওসুমেও কমছে না দাম। অথচ রাজধানীর প্রায় সব কাঁচাবাজারের দোকানে দোকানে থরে থরে সাজানো রয়েছে নানা পদের সবজি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দাম না কমার কারণ সবজির বাজারে সিন্ডিকেটের থাবা। বিভিন্ন জেলা থেকে ঢাকায় ঢুকেই কয়েক হাত বদল হয়ে সবজির দাম বেড়ে যাচ্ছে কয়েক গুণ।
গতকাল রাজধানীর কাওরান বাজারে ঘুরে দেখা গেছে, নরসিংদী থেকে এক ট্রাক বেগুন এনেছেন সেখানকার তিন ব্যবসায়ী। তাদের একজন কবীর হোসেন। বেগুন কোথা থেকে এনেছেন এবং কত দামে কিনেছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা নরসিংদীর বিভিন্ন এলাকা থেকে সরাসরি কৃষকের মাঠ থেকে বেগুন কিনে ঢাকায় এনেছি। প্রতি কেজি বেগুন আমরা কৃষকের কাছ থেকে আট টাকা কেজি দরে কিনেছি। লভ্যাংশ ও গাড়িভাড়াসহ সব খরচ ধরে আমরা কাওরান বাজারে প্রতি কেজি বিক্রি করেছি ১০ টাকা দরে।’ 
অথচ মাত্র দুই হাত ঘুরেই সেই বেগুন ক্রেতাকে কিনতে হচ্ছে ৪০ টাকায়। মাঝের দুই হাতেই বেড়ে যাচ্ছে সবজির দাম। এই দুই হাত হচ্ছেÑ পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ী। ট্রাক থেকে কাওরান বাজারের ছোট ছোট মোকামে যাওয়া মাত্রই ১০ টাকার বেগুনের দাম হয়ে যাচ্ছে ২০ টাকা। অর্থাৎ এক হাতেই বেড়ে গেল কেজিতে ১০ টাকা। খুচরা ব্যবসায়ীরা পাইকারদের কাছ থেকে ২০ টাকায় কিনে খুচরায় বিক্রি করছেন ৪০ টাকায়। এখানেই দাম হয়ে গেল দ্বিগুণ।
কেবল বেগুন নয়, শিম, টমেটো, ফুলকপি, বাঁধাকপি, শালগম, মুলা থেকে শুরু করে গাজর প্রতিটি সবজির ক্ষেত্রেই চিত্র একই। উৎপাদন মূল্যের চেয়ে ভোক্তা মূল্যের ব্যবধান হয়ে যাচ্ছে পাঁচ গুণ। ফলে কৃষকও যেমন ভালো দামটি পাচ্ছেন না, তেমনি ভোক্তাও কম দামে সবজি কিনতে পারছেন না। মাঝ থেকে প্রচুর মুনাফা তুলে নিচ্ছে মধ্যস্বত্বভোগী ওই সিন্ডিকেট। 
গতকাল রাজধানীর কাওরান বাজার, শান্তিনগর, হাতিরপুলসহ কয়েকটি কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, গত কয়েক সপ্তাহ আগের বাড়তি দামেই বিক্রি হচ্ছে শীতকালীন সবজি। প্রায় সব পণ্যের সরবরাহ বাড়লেও কমেনি দাম। তবে কাঁচা মরিচের দাম কিছুটা কমেছে। সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচের দাম ১০ টাকা কমে বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা দরে।
খুচরা বাজারে গতকাল প্রতি কেজি বেগুন ৪০ থেকে ৬০ টাকা, শিম ৪০ থেকে ৫০ টাকা, টমেটো ৫০ থেকে ৫৫ টাকা, ঢেঁড়শ ৬০ থেকে ৭০ টাকা, করল্লা ৪০ থেকে ৫০ টাকা, শশা ৪০ থেকে ৪৫ টাকা, গাজর ৪০ থেকে ৪৫ টাকা, কচুরলতি ৬০ টাকা, পেঁপে ২৫ টাকা, মুলা ৩০ টাকা, শালগম ৩০ থেকে ৩৫ টাকা, পেঁয়াজের কালি ১৫ টাকা আঁটি, চালকুমড়া ২৫ থেকে ৩০ টাকা, লাউ ৩০ থেকে ৪০ টাকা, কাঁচকলার হালি ২০ থেকে ২৮ টাকায় বিক্রি হয়।
খুচরা বাজারে গতকাল প্রতি কেজি দেশী পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ২৫ টাকা, ভারতীয় পেঁয়াজ ২৩ থেকে ২৪ টাকা, ভোজ্যতেলের ১ লিটারের বোতল ১০৭ টাকা, ২ লিটার ২১২ টাকা ও ৫ লিটার ৫২০ টাকা, ভারতীয় রসুন ২০০ টাকা ও দেশী রসুন ১৩০ টাকা, গরুর গোশত ৪৫০ টাকা, খাসির গোশত ৭৫০ টাকা, ব্রয়লার মুরগি ১৫০ টাকা ও লেয়ার ১৮০ টাকা, দেশী মসুরের ডাল ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা, আমদানি করা ডাল বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকা দরে। আগের মতোই বাড়তি দামে বিক্রি হয় চাল ও মাছসহ বেশির ভাগ।
http://www.dailynayadiganta.com/detail/news/192965