১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, সোমবার
Choose Language:

সর্বশেষ
চলতি বিষয়াবলি
সোনামসজিদ বন্দর থেকে কোটি টাকার পণ্য উধাও: উদ্দেশ্য রাজস্ব ফাঁকি
৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, শুক্রবার,
চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ স্থলবন্দর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান পানামা পোর্ট লিংকের গোডাউন থেকে প্রায় কোটি টাকা মূল্যের আমদানি করা কসমেটিক্স পণ্য উধাও হয়ে গেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে রাজশাহী বিভাগীয় কাস্টমস ও ভ্যাট এক্সাসাইজের যুগ্ম-কমিশনার মানস কুমার বর্মণ গত ৩১ জানুয়ারি বন্দর পরিদর্শন করে গোডাউনটি সিলগালা করে দিয়েছেন। সংরক্ষিত এলাকা থেকে বিপুল পরিমাণ আমদানি পণ্য কিভাবে উধাও হয়ে গেল, তা নিয়ে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার জন্য একে অপরকে দুষছেন বন্দর সংশ্লিষ্টরা।
সোনামসজিদ স্থলবন্দর সূত্রে জানা গেছে, গত ৩ জানুয়ারি পানামা ইয়ার্ডের ৫নং গোডাউন থেকে ভারতীয় আমদানি করা ৫ কার্টন কসমেটিক্স পণ্য উধাও হয়ে যায়। এ ঘটনায় শিবগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করে বন্দর কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই একই গোডাউন থেকে এবার ভারত থেকে আমদানি করা প্রায় কোটি টাকা মূল্যের ৪৮০ কার্টন কসমেটিক্স পণ্য উধাও হয়ে গেল। তবে বিষয়টি নিয়ে মুখে কুলুপ এঁটেছেন সংশ্লিষ্ট আমদানিকারক, সিএন্ডএফ এজেন্ট ও বন্দর পরিচালনার দায়িত্বে থাকা পানামা পোর্ট লিংক লিমিটেডের কর্মকর্তারা। প্রায় কোটি টাকা মূল্যের পণ্য উধাও হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ করেনি হারিয়ে যাওয়া কসমেটিক্স পণ্য আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান মেসার্স সিনরানী এন্টারপ্রাইজ।
অভিযোগ উঠেছে, আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ও এর সিএন্ডএফ এজেন্ট মেসার্স রবিন এন্টারপ্রাইজ প্রায় ৭০ লাখ টাকার রাজস্ব ফাঁকি দিতে বন্দর কাস্টমস ও পানামা কর্তৃপক্ষকে ম্যানেজ করেই এ বিপুল পরিমাণ পণ্য অন্যত্র সরিয়ে ফেলেছে। সোনামসজিদ স্থলবন্দর থেকে বিপুল পরিমাণ এ মালামাল উধাও হওয়ার পর খবর পেয়ে কাস্টমস ও ভ্যাট এক্সাসাইজ রাজশাহী বিভাগীয় যুগ্মকমিশনার মানস কুমার বর্মণ গত ৩১ জানুয়ারি বন্দরের ওই গোডাউন পরিদর্শন করেন। এ সময় ঘটনার সত্যতা পাওয়ায় তিনি গোডাউনটি সিলগালা করে দেন। এ ব্যাপারে নিজেই তদন্ত করছেন তিনি।
এদিকে পানামা ইয়ার্ড থেকে পণ্য উধাও হওয়ার ঘটনায় একে অপরকে দুষছেন সংশ্লিষ্টরা। আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান মেসার্স সিনরানী এন্টারপ্রাইজের মালিক রুবেল হোসেন বন্দর থেকে তার মালামাল উধাও হওয়ার কথা নিশ্চিত করেছেন। কিন্তু হারিয়ে যাওয়া পণ্যের প্রকৃত পরিমাণ জানাননি। তিনি মালামাল উধাও হওয়ার সঙ্গে নিজের সংশ্লিষ্টতা অস্বীকার করে বলেন, এটা পানামার বিষয়।
অন্যদিকে সংশ্লিষ্ট সিএন্ডএফ এজেন্ট মেসার্স রবিন এন্টারপ্রাইজের মালিক মোস্তাক হোসেন জানান, পানামা ইয়ার্ড থেকে মালামাল চুরি হয়ে যাওয়ার ঘটনায় এর আমদানিকারক আইনি ব্যবস্থা নেবেন। এ ঘটনার দায়দায়িত্ব পানামা পোর্ট লিংক লিমিটেডকেই নিতে হবে। এর দায় সিএন্ডএফ এজেন্টের নয়।
এ ব্যাপারে পানামা-সোনামসজিদ পোর্ট লিংক লিমিটেডের কর্মকর্তা মাইনুল ইসলাম জানান, কাস্টমস কর্মকর্তাদের নির্দেশেই ইয়ার্ড খোলা ও বন্ধ করা হয়। তাই গোডাউন থেকে কোনো মালামাল উধাও হওয়ার বিষয়ে শুধু কাস্টমস কর্তৃপক্ষই সদুত্তর দিতে পারবেন। এখানে পানামা শুধু পণ্য সংরক্ষণ করে থাকে।
সোনামসজিদ স্থলবন্দর কাস্টমসের সহকারী কমিশনার সোলাইমান হোসেন বলেন, আমি এখানে নতুন; কোনো মন্তব্য করতে পারব না।
কাস্টমস ও ভ্যাট এক্সাসাইজের রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার মোয়াজ্জেম হোসেনের মালামাল উধাও হওয়ার বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তবে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি। তদন্ত শেষে গণমাধ্যমকে বিষয়টি জানানো হবে বলে তিনি জানান।
http://www.jugantor.com/last-page/2017/02/03/98276/%E0%A6%B8%E0%A7%8B%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A6%B8%E0%A6%9C%E0%A6%BF%E0%A6%A6-%E0%A6%AC%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A6%E0%A6%B0-%E0%A6%A5%E0%A7%87%E0%A6%95%E0%A7%87-%E0%A6%95%E0%A7%8B%E0%A6%9F%E0%A6%BF-%E0%A6%9F%E0%A6%BE%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%AA%E0%A6%A3%E0%A7%8D%E0%A6%AF-%E0%A6%89%E0%A6%A7%E0%A6%BE%E0%A6%93