১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, সোমবার
Choose Language:

সর্বশেষ
চলতি বিষয়াবলি
সময় মতো রান্না না হওয়ায় দুর্ভোগ
২ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, বৃহস্পতিবার,
বাসায় বাজার আছে কিন্তু রান্না করা যাচ্ছে না সময় মতো। কারণ একটাই। সময় মতো গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না চুলায়। এটা এখন রাজধানীবাসী অনেক এলাকার মানুষের নিত্যদিনের ব্যাপার। যখন পাওয়া যাচ্ছে তখন আর পরিবারের সদস্যরা বাসায় নেই। না খেয়েই চলে যেতে হয়েছে চাকরি কিংবা কর্মস্থলে। দিনের পর দিন অবস্থা আরও নাজুক আকার ধারণ করছে ঢাকায় অবস্থানরত মানুষের। মাঝেমধ্যে খানিকটা গ্যাস এলেও একঘণ্টা পর উধাও। এভাবে আর কত দিন চলতে হবে সে প্রশ্ন ভুক্তভোগীদের। বিশেষ করে গ্যাস সংকটের কারণে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তি হচ্ছে রাজধানীতে বসবাসরত নি¤œ আয়ের মানুষ। 
প্রায়ই না খেয়ে পোশাক কারখানায় চাকরি করতে যান রাজধানীর মান্ডায় বসবাসকারী নাজমা বানু। অনেক সময় উপোস পার করে দেন সারাদিন। তিনি বলেন, সময় মতো রান্না করতে পারছি না। ‘ হোডেলে খাইতে খাইতে গ্যাস্টিক অইয়া গেছে। এহন মোর দিনে একটা কইরা বড়ি খাইতে অয়।’
শীতকাল আসার পর অবস্থাতো আরও খারাপ। সারাদিনের রান্না ভোররাতেই শেষ করেন অনেক গৃহিণী। অনেকটা ক্ষোভ নিয়ে এমন দুর্বিষহ অবস্থার কথা জানালেন রাজধানীর বাসাবো এলাকার বাসিন্দা সানজিদা বেগম। বললেন,‘ শহরের মানুষেরে কষ্ট দিতাছে। অনেক সময় ঘুম নষ্ট কইরা ভোর ৪টায় রান্না বসাতে হয়। খুব খারাপ লাগে। ভোরে রান্নার পর সারাদিনটা অনেক কষ্টে যায়। কয়দিন পর পরই অসুস্থ হই। সব গ্যাস সরকার বেইচা খাইছে।’
খিলগাঁওয়ের বাসিন্দা লাকি আক্তার বলেন, রান্নার রুটিন এলোমেলো হয়ে গেছে। আগের দিন রাতে পরের দিনের রান্না করে রাখতে হয়। কিন্তু এভাবে কয়দিন চলে?
যাত্রাবাড়ীর ইদ্রিস আলী বলেন, গ্যাস সংকটের কারণে অধিকাংশ দিন সকালে নাস্তা না খেয়েই অফিসে যেতে হয়। ছেলে-মেয়েরা না খেয়ে অনেক সময় কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে যায়। সারাদিন গ্যাস থাকে না বললেই চলে।
তিনি মনে করেন, মানুষ শীতের সময় গ্যাস বেশি ব্যবহার করে। চুলা জ্বালিয়ে জামা-কাপড় শুকায়। তাছাড়া সিএনজি ও বড় বড় শিল্প কল-কারখানা এর জন্য দায়ী। সরকার এবং জনগণকে এ ব্যাপারে আরও সচেতন হওয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি। 
গ্যাস সংকট বিষয়ে কথা বলেন তিতাস গ্যাসের ডিজিএম মো. রুহুল আমিন। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ অনেক কম এমনটি উল্লেখ করে তিনি বলেন, শীতের সময় গ্যাসের ব্যবহার বাড়ে। শীতের মওসুমে শিল্প, কল-কারখানায় গ্যাসের বাড়তি ব্যবহার হয়। তাছাড়া জনগণের অসাবধানতার কারণও রয়েছে।
পেট্রোবাংলা থেকে প্রাপ্ত তথ্য বলছে, তিতাস কূপ-১ ছাড়াও আরও কয়েকটি কূপ সংস্কারের কারণে সারা দেশে প্রতিদিন গড়ে ২০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস কম উৎপাদন হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বহুজাতিক কোম্পানি শেভরনের হাতে থাকা বিবিয়ানা গ্যাস ক্ষেত্রে সংস্কার কাজ চলছে। ফলে গ্যাস ক্ষেত্রের একাধিক কূপ কয়েক দিন ধরে বন্ধ আছে। এতে ২০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদন কমে গেছে।
ভুক্তভোগীরা জানান, রাজধানীর যাত্রাবাড়ী, মোহাম্মদপুর, মিরপুর, বনশ্রী, রামপুরা, পল্লবীসহ পুরনো ঢাকার কোনো কোনো এলাকায় গ্যাস সংকট প্রকট। এছাড়া রায়েরবাজার, শাহীনবাগ, শ্যামলী, হাজারীবাগ, মুগদা, বাড্ডা, কাওলা, উত্তরা, শাহজাহানপুর, খিলগাঁও, টিকাটুলি, দক্ষিণ মৌসুন্দী, লালমোহন সাহা, লালবাগ, ধানমন্ডি জিগাতলা এলাকায়, রামপুরা, বনশ্রী, নন্দীপাড়া, খিলগাঁও, মালিবাগ, মগবাজার, শান্তিনগর, সিদ্ধেশরী, মাদারটেক, বাসাবো, গুলশান, বনানী, বারিধারা, নিকুঞ্জ, বসুন্ধরা, নিকেতন, কাফরুল, ইব্রাহিমপুর, পীরেরবাগ, মনিপুর, মিরপুর, নারিন্দা, গোপীবাগ, ধোলাইরপাড়, কাজলা, নারিন্দা ফুলবাড়িয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় বর্তমানে গ্যাস সংকট চলছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সারা দেশে গত এক সপ্তাহে প্রতিদিন কমবেশি ২৩৪ কোটি ১৮ লাখ ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হয়েছিল। এই সময় চাহিদা ছিল দুই হাজার ৫০০ ঘনফুটের বেশি। বর্তমানে মোট গ্যাসের ৬০ শতাংশই বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহার হয়। আবাসিকে মাত্র ১০ শতাংশ গ্যাস ব্যবহার হচ্ছে। সরকার আস্তে আস্তে এই গ্যাসের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে সিলিন্ডার গ্যাসে উদ্বুদ্ধ করছে জনসাধারণকে। নতুন বাসা-বাড়িতে আর গ্যাসের সংযোগ দেয়া হচ্ছে না।
http://www.dailysangram.com/post/270118-%E0%A6%B8%E0%A6%AE%E0%A7%9F-%E0%A6%AE%E0%A6%A4%E0%A7%8B-%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A8%E0%A6%BE-%E0%A6%A8%E0%A6%BE-%E0%A6%B9%E0%A6%93%E0%A7%9F%E0%A6%BE%E0%A7%9F-%E0%A6%A6%E0%A7%81%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AD%E0%A7%87%E0%A6%BE%E0%A6%97