১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, মঙ্গলবার
Choose Language:

সর্বশেষ
চলতি বিষয়াবলি
টিআইবির প্রতিবেদন: আশ্রয়কেন্দ্র প্রকল্পের ৩০ ভাগ টাকা ভাগাভাগি; ত্রাণের তালিকা প্রণয়নে রাজনৈতিক প্রভাব ছিল
২ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, বৃহস্পতিবার,
বিভিন্ন সরকারের আমলে নির্মিত বেশির ভাগ ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র নি¤œমানের সামগ্রী দিয়ে তৈরি করা হয়েছে। ফলে এসব আশ্রয়কেন্দ্র ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে বলে ট্রান্সপারেসি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) সম্প্রতি গবেষণায় বেরিয়ে এসেছে। টিআইবি বলছে, আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের ৩০ শতাংশ অর্থ বিভিন্ন পর্যায়ে ভাগবাটোয়ারা হয়। এ ছাড়া ঘূর্ণিঝড় রোয়ানুর সময় আগে থেকে জনগণকে সতর্কবার্তা দেয়া হয়নি। এবং সেই ঘূর্ণিঝড় পরবর্তী ত্রাণসামগ্রী বিতরণ ও তালিকা প্রণয়নে রাজনৈতিক বিবেচনা প্রাধান্য পেয়েছে। দুর্যোগ মোকাবেলায় সম্ভাব্য ঝুঁকিগুলো চিহ্নিত করে ত্রাণ বরাদ্দ ও বিতরণে স্বচ্ছতা, ন্যায্য বণ্টন এবং কার্যকর জবাবদিহিতার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি। 
ট্রান্সপারেসি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) আয়োজিত ঘূর্ণিঝড় রোয়ানু : দুর্যোগ মোকাবেলায় সুশাসনের চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায় নিয়ে এক প্রতিবেদনে গতকাল এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে টিআইবির এই প্রতিবেদনটি তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন টিআইবির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল ও নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান। প্রতিবেদন তুলে ধরেন এম জাকির হোসেন খান, নিহার রঞ্জন রায় ও নাহিদ শারমীন। ২০১৬ সালের মে মাস থেকে শুরু করে ২০১৭ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত এ গবেষণার তথ্য সংগ্রহ, বিশ্লেষণ এবং প্রতিবেদন প্রণয়নের কাজ করা হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘূর্ণিঝড় রোয়ানুর আগে ১০টি ইউনিয়নে কোনো কোনো েেত্র প্রাতিষ্ঠানিকভাবে ঝুঁঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধ, পোল্ডার, আশ্রয়কেন্দ্র চিহ্নিত না করা ও ওসব কেন্দ্র সংস্কারের অভাব রয়েছে। উপকারভোগী নির্বাচনের েেত্র স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের প্রভাব সবসময়ই কাজ করে, যা ঘূর্ণিঝড় রোয়ানু-পরবর্তী সময়েও হয়েছে। তাদের পছন্দের লোকদের মধ্যেই সরকারিভাবে ত্রাণ বিতরণের জন্য তারা প্রভাব বিস্তার করেন। জেলা প্রশাসককে এ সমস্যা জানালে তিনি সরকারিভাবে ৫৫ ভাগ এবং রাজনৈতিক বিবেচনায় ৪৫ ভাগ উপকারভোগী নির্বাচন করতে পরামর্শ দেন। 
বলা হয়েছে, স্বচ্ছতার ক্ষেত্রে দুর্গম এলাকায় ঘূর্ণিঝড়ের সতর্কবার্তা প্রচারে, ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি সংক্রান্ত তথ্য, আশ্রয়কেন্দ্রের রক্ষণাবেক্ষণ সংক্রান্ত তথ্য, ঘূর্ণিঝড়-পরবর্তী জরুরি সাড়াদানে উপকারভোগী নির্বাচন ও ত্রাণের চাহিদা নিরূপণ প্রক্রিয়া সংক্রান্ত তথ্য এবং ত্রাণ বরাদ্দ ও বিতরণ সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশে ঘাটতি অন্যতম। এ ছাড়া ত্রাণ বরাদ্দ ও বিতরণে রাজনৈতিক প্রভাব দেখা গেছে। জবাবদিহিতার ক্ষেত্রে প্রধান চ্যালেঞ্জগুলো হলোÑ ঘূর্ণিঝড়ের আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান কর্তৃক দুর্যোগের ঝুঁকি যথাযথভাবে চিহ্নিত না করা, আশ্রয়কেন্দ্রে দুর্গতদের নেয়ার ক্ষেত্রে উদ্যোগ ও প্রয়োজনীয় যানবহনের ঘাটতি রয়েছে। 
ঘূর্ণিঝড় রোয়ানু পূর্ববর্তী সময়ে কিছু কিছু ক্ষেত্রে আশ্রয়কেন্দ্র প্রভাবশালীদের ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার, প্রভাবশালীদের প্রভাবে আশ্রয়কেন্দ্র যথাস্থানে নির্মাণ না করা, নির্মাণে অনিয়ম, ঘূর্ণিঝড়-পরবর্তী কার্যক্রমে কোনো কোনো ক্ষেত্রে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের ইচ্ছামাফিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করার তথ্য পাওয়া গেছে। এ ছাড়া প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকাভুক্তিতে ও ত্রাণ বিতরণে ক্ষতিগ্রস্তের প্রয়োজনের তুলনায় রাজনৈতিক সমর্থককে বেশি গুরুত্ব প্রদান এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে ত্রাণ আত্মসাৎ অন্যতম চ্যালেঞ্জ ছিল। 
গবেষণার তথ্য অনুয়ায়ী, সুশাসনের ঘাটতির কারণ হিসেবে সতর্ক সঙ্কেত প্রচারে সমন্বয়হীনতার ফলে দুর্গম এলাকায় ঘূর্ণিঝড়ের সতর্ক সঙ্কেত না পৌঁছানো, রক্ষণাবেক্ষণে ঘাটতির কারণে দুর্যোগকালীন সময়ে আশ্রয়কেন্দ্র ব্যবহারের উপযোগী না থাকা, ত্রাণ বিতরণে ন্যায্যতা না থাকায় কোনো কোনো ক্ষেত্রে উপকারভোগী বাছাইয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার, পক্ষপাতিত্ব ও স্বজনপ্রীতি পরিলক্ষিত হয়। ফলে ত্রাণ বিতরণে ক্ষতিগ্রস্তের প্রয়োজনের তুলনায় রাজনৈতিক সমর্থককে বেশি গুরুত্ব প্রদান করা হয়। এ ছাড়া উপকারভোগীর ত্রুটিপূর্ণ তালিকা তৈরি; প্রয়োজন অনুসারে ত্রাণ না দেয়া, ত্রাণ আত্মসাৎ এবং ত্রাণ প্রাপ্তিতে কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তরা বঞ্চিত হয়।
ড. ইফতেখারুজ্জামন বলেন, দুর্যোগ মোকাবেলায় সক্ষমতাকে এমন পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব যে ঘূর্ণিঝড় রোয়ানুর মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগে একজন ব্যক্তিরও মৃত্যু ঘটবে না। তবে এ জন্য সঠিক ঝুঁকি নিরূপণ ও ঝুঁকি মোকাবেলার জন্য গৃহীত সব পর্যায়ে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও জন অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা অপরিহার্য।
http://www.dailynayadiganta.com/detail/news/192414