১৭ নভেম্বর ২০১৯, রবিবার
Choose Language:

সর্বশেষ
চলতি বিষয়াবলি
বিদ্যুৎ উৎপাদনে ১২ বছরে ৫৮ হাজার কোটি ঘনফুট গ্যাসের অপচয়
১ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, বুধবার,
সরকারি গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের অদক্ষতার কারণে গ্যাসের অপচয় বাড়ছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে গিয়ে প্রতিবছর যে পরিমাণ গ্যাসের অপচয় হচ্ছে তা দিয়ে ১ হাজার ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র চালানো সম্ভব বলে জানিয়েছেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা। 
পরিসংখ্যান বলছে, গত ১২ বছরে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে গিয়ে প্রায় ৫৮হাজার কোটি ঘনফুট গ্যাসের অপচয় করছে। কারণ হিসেবে জানা গেছে, সরকারি গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে দক্ষ জনবলের অভাব রয়েছে। এছাড়া ১০৬টি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মধ্যে ৭৫টি অতি পুরোনো এবং সিম্পল সাইকেলের। আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা) সম্প্রতি বিদ্যুৎ খাতের মহাপরিকল্পনা ২০১৬’ শীর্ষক খসড়া মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছে। ওই খসড়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাস অপচয়ের এ চিত্র উঠে এসেছে।
সূত্র বলছে, ২০০৩-০৪ থেকে ২০১৪-১৫ অর্থবছর পর্যন্ত বিদ্যুৎ কেন্দ্রে গ্যাসের ব্যবহার ও অপচয় প্রায় ৫৮ হাজার কোটি ঘনফুট। বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০১৬-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০০৩-০৪ থেকে ২০১৪-১৫ অর্থবছর পর্যন্ত বিদ্যুৎ কেন্দ্রে গ্যাস ব্যবহার হয়েছে মোট ৩ লাখ ২২ হাজার ৬৬৮ কোটি ঘনফুট। আর জাইকার হিসাবে দক্ষতার ঘাটতি রয়েছে ৭ শতাংশ। এ কারণে গত এক যুগে শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাসের অপচয় হয়েছে ৫৭ হাজার ৮৬৩ কোটি ঘনফুট।
জাইকা বলছে, ২০১৩-১৪ অর্থবছর বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোয় গ্যাস ব্যবহার হয়েছে ৩৩ হাজার ৭৪০ কোটি ঘনফুট। ৮ হাজার ৩৪০ মেগাওয়াট ক্ষমতার বিদ্যুৎ কেন্দ্রে এ গ্যাস ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে ৪২ হাজার ২০০ গিগাওয়াট। তবে জ্বালানি দক্ষতা আন্তর্জাতিক মানে অর্থাৎ ৩৮ থেকে বাড়িয়ে ৪৫ শতাংশে উন্নীত করা গেলে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ওই অর্থবছর পিডিবির গ্যাসের প্রয়োজন হতো ২৮ হাজার ৫০০ কোটি ঘনফুট। এ হিসাবে ২০১৩-১৪ অর্থবছরে বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাসের অপচয় হয়েছে ৫ হাজার ২০০ কোটি ঘনফুট, যা দিয়ে ১ হাজার ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালানো সম্ভব।
প্রতিবেদনে দেখানো হয়, আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী, গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জ্বালানি দক্ষতা ৪৫ শতাংশ। কিন্তু বাংলাদেশে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর দক্ষতা অনেক কম, ৩৮ শতাংশ। আর দক্ষতা কম হওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাসের অপচয় হচ্ছে বছরে পাঁচ হাজার কোটি ঘনফুটের বেশি।
বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে সব মিলিয়ে দেশে বিদ্যুৎ কেন্দ্র রয়েছে ১০৬টি। এর মধ্যে ৭৫টিই গ্যাসভিত্তিক সিম্পল সাইকেলের। গ্যাসভিত্তিক এসব বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কয়েকটি অতি পুরনো। বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাস অপচয়ের প্রধান কারণ সিম্পল সাইকেলের এসব পুরনো বিদ্যুৎ কেন্দ্র।
পিডিবির সূত্রমতে, সবচেয়ে বেশী খরচে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মধ্যে রয়েছে ঘোড়াশাল ইউনিট ৫ ও ৬, হরিপুর ও আশুগঞ্জ। বর্তমানে বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর দীর্ঘমেয়াদি মেরামত চলছে। কম জ্বালানি দক্ষতার সিম্পল সাইকেলের পুরনো বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর মধ্যে আরো আছে বাঘাবাড়ী ১০০ মেগাওয়াট, শাহজিবাজার ৭০ মেগাওয়াট ও সিলেট ১৫০ মেগাওয়াট। গ্যাস টারবাইন প্রযুক্তির এসব বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জ্বালানি দক্ষতা ৩৫ শতাংশের নিচে। দক্ষতা বাড়াতে বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো কম্বাইন্ড সাইকেলে উন্নীত করা হচ্ছে।
পিডিবির তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ১৫ হাজার মেগাওয়াট। এ থেকে উৎপাদন হয় দৈনিক ৭ হাজার ৫০০ থেকে ৭ হাজার ৭০০ মেগাওয়াট। দেশে উৎপাদিত বিদ্যুতের প্রায় ৬২ শতাংশই আসে গ্যাস থেকে। এছাড়া ফার্নেস অয়েল থেকে উৎপাদন হয় ২১ শতাংশ ও ডিজেল থেকে ৮ দশমিক ৪৭ শতাংশ বিদ্যুৎ। আর কয়লা থেকে আসে উৎপাদিত বিদ্যুতের ২ শতাংশ ও জলবিদ্যুৎ থেকে ২ দশমিক ১০ শতাংশ।
জাইকার প্রতিবেদনে জানানো হয়, ২০০৩-০৪ থেকে ২০১৪-১৫ অর্থবছর পর্যন্ত ক্যাপটিভ পাওয়ারে গ্যাস ব্যবহার হয়েছে ১ লাখ ১৭ হাজার ২৫৯ কোটি ঘনফুট। ক্যাপটিভ পাওয়ারে জ্বালানি দক্ষতাও আন্তর্জাতিক মানের চেয়ে অনেক কম বলে জানা গেছে। সে হিসাবে বিপুল পরিমাণ গ্যাস অপচয় হয়েছে ক্যাপটিভ পাওয়ারেও।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. ম. তামিম বলেন, আমাদের দেশে জ্বালানি ব্যবহারের দক্ষতা খুবই শোচনীয়। সাধারণত বেইজ লোড হিসাব করলে গ্যাস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের হার হওয়ার কথা ৫০-৫২ শতাংশ। কিন্তু বাংলাদেশে সেটা ১০-১২ শতাংশ কম। এজন্য সরকারকে সিম্পল সাইকেল থেকে কম্বাইন্ড সাইকেলে যেতে হবে। উন্নত করতে হবে বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর ব্যবস্থাপনাও।
পিডিবির চেয়ারম্যান খালেদ মাহমুদ দাবি করেন, গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের দক্ষতা উন্নয়নের চেষ্টা চলছে । দুটি কারণে আমাদের বিদ্যুৎ উৎপাদনে দক্ষতা কম। এর একটি হচ্ছে অধিকাংশ বিদ্যুৎ কেন্দ্রই সিম্পল সাইকেলের। দ্বিতীয়টি ব্যবস্থাপনার অভাব। তবে গ্যাসের অপচয় কমিয়ে আনতে আমরা কম্বাইন্ড সাইকেল ও দ্বৈত জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র করার উদ্যোগ নিয়েছি। এরই মধ্যে গ্যাসভিত্তিক কয়েকটি পুরনো সিম্পল সাইকেল বিদ্যুৎ কেন্দ্র কম্বাইন্ড সাইকেলে রূপান্তরের কাজ চলছে।
http://www.dailysangram.com/post/269928-%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A7%81%E0%A7%8E-%E0%A6%89%E0%A7%8E%E0%A6%AA%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A6%A8%E0%A7%87-%E0%A7%A7%E0%A7%A8-%E0%A6%AC%E0%A6%9B%E0%A6%B0%E0%A7%87-%E0%A7%AB%E0%A7%AE-%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%9C%E0%A6%BE%E0%A6%B0%C2%A0%E0%A6%95%E0%A7%8B%E0%A6%9F%E0%A6%BF-%E0%A6%98%E0%A6%A8%E0%A6%AB%E0%A7%81%E0%A6%9F-%E0%A6%97%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%BE%E0%A6%B8%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%85%E0%A6%AA%E0%A6%9A%E0%A7%9F