২০ নভেম্বর ২০১৯, বুধবার
Choose Language:

সর্বশেষ
চলতি বিষয়াবলি
যুবলীগ-ছাত্রলীগের চাপে সর্বনিম্ন দরপত্র প্রত্যাহার
১ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, বুধবার,
সাতক্ষীরায় পাসপোর্ট অফিস নির্মাণ সংক্রান্ত পাঁচ কোটি টাকার টেন্ডারে ঘাপলার অভিযোগ উঠেছে। যুবলীগ ও ছাত্রলীগ নেতাদের চাপের মুখে অনেক ঠিকাদার সিডিউল কিনেও তা ড্রপ করতে পারেননি। অপর দিকে সর্বনি¤œ দরদাতার সিডিউল প্রত্যাহার করে নিতে বাধ্য করা হয়েছে। এর ফলে সরকারকে অতিরিক্ত প্রায় ৬৭ লাখ টাকা গুনতে হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। 
তবে এ বিষয়ে গতকাল সকালে কথা বললেও বিকেলে সর্বশেষ কথা বলার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা গণপূর্ত বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো: হেলালউদ্দিনকে পাওয়া যায়নি। তিনি তার টেলিফোন বন্ধ রেখেছেন। সকালে তিনি জানান, গণপূর্ত বিভাগ সাতক্ষীরা জেলায় পাসপোর্ট অফিস নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করে। সিডিউল ক্রয়ের শেষ দিন ছিল রোববার। গত সোমবার দুপুর ১২ টার মধ্যে তা ড্রপ করার নির্দেশ ছিল। গণপূর্ত অফিস, জেলা প্রশাসকের অফিস, পুলিশ সুপারের অফিস ও খুলনায় বিভাগীয় গণপূর্ত অফিসে তা ড্রপ করার কথা। তিনি জানান, পুলিশ সুপার অফিসে একটি ও গণপূর্ত অফিসে চারটিসহ মোট পাঁচটি দরপত্র পাওয়া গেছে। 
কয়েকজন ঠিকাদার অভিযোগ করেন, তারা জেলা যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাদের চাপের মুখে পড়ে নির্ধারিত সময়ে টেন্ডার জমা দিতে পারেননি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন ঠিকাদার বলেন, তিনি সিন্ডিকেটের বাইরে থেকে পুলিশ সুপারের অফিসে থাকা বাক্সে একটি টেন্ডার ড্রপ করে আসতেই শহরের মধ্যে তাকে সরকার দলীয় সদস্যরা ঘিরে ফেলেন। এ সময় তারা তার কাছে টাকা দাবি করেন। সেখান থেকে তিনি সরে যাওয়ার পর তারা তার বাড়িতেও যান। এমনকি তাকে খুঁজে পেতে তারা সাতক্ষীরা প্রেস ক্লাবে এসেও ধরনা দেন। 
এ দিকে বিকেল ৩টায় টেন্ডার বাক্স ওপেন করা হলে মাত্র পাঁচটি দরপত্র পাওয়া যায়। ওই মুহূর্তে সেখানে উপস্থিত এস এম বিল্ডার্সের প্রতিনিধি সিন্ডিকেটের চাপের মুখে লিখিতভাবে তার সর্বনি¤œ দর তিন কোটি ২০ লাখ ২৬ হাজার টাকার টেন্ডারটি প্রত্যাহার করে নিতে বাধ্য হয়েছেন। অবশিষ্ট চারটির মধ্যে সর্বনি¤œ ৩ কোটি ৮৭ লাখ ৯৮ হাজার টাকার টেন্ডার জমাদানকারী সনেক্স ইন্টারন্যাশনাল কার্যাদেশ পেয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। এর ফলে সরকারকে বাড়তি প্রায় ৬৭ লাখ টাকা গুনতে হবে বলে ধারণা করা যাচ্ছে। 
তবে দরপত্র জমাদানে বাধা দেয়ার কথা অস্বীকার করেন জেলা যুবলীগ আহ্বায়ক আবদুল মান্নান ও জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি তানভির রহমান সুজন। তারা বলেন, এ সম্পর্কে আমরা কিছুই জানি না।
http://www.dailynayadiganta.com/detail/news/192133