১৯ নভেম্বর ২০১৯, মঙ্গলবার
Choose Language:

সর্বশেষ
চলতি বিষয়াবলি
এফবিসিসিআই সভাপতির প্রশ্ন: ‘বড় খেলাপিরা ঋণ পায় কিভাবে’
১ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, বুধবার,
দেশে কালো টাকা ও খেলাপি ঋণ অস্বাভাবিক বাড়ছে। একই সঙ্গে বিদেশে টাকা পাচারেরও তথ্য আসছে। কিন্তু এসব ব্যাপারে কেউ তেমন কোনো কথা বলছে না। দেশের অর্থনীতির স্বার্থে এসব বিষয়ে কঠোর সিদ্ধান্ত নেয়ার সময় এসেছে। এক সংবাদ সম্মেলনে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই সভাপতি আবদুল মাতলুব আহমাদ এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি প্রশ্ন তোলেন, বড় খেলাপিরা ঋণ পায় কিভাবে?
মঙ্গলবার হোটেল সোনারগাঁওয়ে দেশের ব্যবসায়িক পরিবেশ সহজকরণ বিষয়ে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে বিডার চেয়ারম্যান কাজী এম আমিনুল ইসলাম বলেন, ব্যবসায়ীদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতেই নতুন ব্যবসা করার ক্ষেত্রে সব ধরনের আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কাটিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। আজ বুধবার থেকে আবেদন করার ২৮ কার্যদিবসের মধ্যে শিল্প প্রতিষ্ঠানে নতুন বিদ্যুৎ সংযোগ পাওয়া যাবে। আগে যেখানে ৪০৪ দিন সময় লাগত।
এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, ব্যাংকে খেলাপি ঋণ বাড়ছে। শুনেছি কিছু দিন আগে এই ঋণের পরিমাণ ছিল ৬৩ হাজার কোটি টাকা। বর্তমানে তা ৭০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। কিন্তু কিভাবে এই ঋণ দেয়া হয়, কারা এই ঋণ নেয়, তা খতিয়ে দেখতে হবে। বড় খেলাপিরা কিভাবে ঋণ পায় প্রশ্ন তোলে মাতলুব আহমাদ বলেন, খেলাপি ঋণের ব্যাপারে কঠোর হতে হবে। ঋণ দেয়ার সময় সতর্ক না হলে পরবর্তীতে তা আদায় করা কঠিন হয়। বাংলাদেশ ব্যাংককে এ ব্যাপারে কঠোর হতে হবে। ‘আমি বিষয়টি গভর্নরকেও বলেছি’। তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতির উন্নয়নের জন্য তিনটি বিষয়ে জোর দেয়ার সময় এসেছে। এর মধ্যে প্রথম হল কালো টাকা। তার মতে, ভারতে ৬২ শতাংশ কালো টাকা রয়েছে। আর কালো টাকা মুক্ত করতে সম্প্রতি নোট বাতিলসহ তারা বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশে কালো টাকার পরিমাণ কত তার সুনির্দিষ্ট কোনো হিসাব নেই। তিনি বলেন, দেশে কালো টাকার পরিমাণ কত, মুদ্রানীতি ঘোষণার সময় তা উল্লেখ করা উচিত। আরও উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে, বিদেশে টাকা পাচারের তথ্য আসছে সংবাদমাধ্যমে। কিন্তু এ ব্যাপারে কেউ তেমন কোনো কথা বলছে না।
বিডার চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমরা সব মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলে ব্যবসা-বাণিজ্যে নিয়ম আরও সহজ করেছি। এ ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট বিষয়ের ওপর জোর দেয়া হয়েছে। বুধবার (আজ) থেকে তা কার্যকর হবে।’ এর মধ্যে প্রথমেই হল ব্যবসা শুরু করার পদ্ধতি। বর্তমানে ব্যবসা শুরু করতে ২০ দিন সময় লাগে। নতুন নিয়মে সাত দিনের মধ্যে শুরু করা যাবে। বিনিয়োগের দ্বিতীয় ধাপে রয়েছে রাজউক থেকে নির্মাণ কাজের অনুমতি। বর্তমানে একটি বিল্ডিংয়ের অনুমতি নিতে ২৭৮ দিন সময় লাগে। নতুন নিয়মে ৬০ দিনের মধ্যে রাজউক অনুমোদন দেবে।
তিনি বলেন, দেশের বিনিয়োগের অন্যতম একটি সমস্যা হল বিদ্যুতের অভাব। এ কারণে শিল্প প্রতিষ্ঠানে নতুন বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য আবেদন করলে সংযোগ পেতে ৪০৪ দিন সময় লাগে। এখন থেকে এটি ২৮ কার্যদিবসের মধ্যে পাওয়া যাবে। এটি বৈপ্লবিক পরিবর্তন। তিনি আরও বলেন, ব্যবসা শুরু করতে অন্যতম একটি সমস্যা হল পুঁজির অভাব। এ জন্য ব্যাংকের ঋণের দরকার হয়। কিন্তু দেশে সহজে ঋণ পাওয়া যায় না। এ ছাড়া সিআইবিতে (ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরো) ঋণ গৃহীতাদের পূর্ণাঙ্গ তথ্য নেই। তাই পূর্ণাঙ্গ তথ্য দেয়ার জন্য আমরা উদ্যোগ নিয়েছি। এ ছাড়াও জমির নিবন্ধন পদ্ধতি, ক্রস বর্ডার ট্রেডিং, শিল্পের চুক্তি বাস্তবায়ন এবং ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের স্বার্থরক্ষার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এসব বিষয়ের মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য হাইকোর্টে আলাদা একটি বেঞ্চ গঠনের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
জানা গেছে, বিশ্বের কোন দেশে কত সহজে ব্যবসা করা যায়, প্রতি বছর এ সংক্রান্ত রিপোর্ট প্রকাশ করে বিশ্বব্যাংক। ওই রিপোর্টকে ডুয়িং বিজনেস রিপোর্ট বলা হয়। আর বিশ্বব্যাংকের সর্বশেষ ডুয়িং বিজনেস রিপোর্টে দুই ধাপ পিছিয়েছে বাংলাদেশ। এর মূল কারণ সরকারের অস্থিরতা এবং কার্যকর সংস্কারের অভাব। এর ফলে দেশে বিনিয়োগ বাড়ছে না।
http://www.jugantor.com/first-page/2017/02/01/97970/%E2%80%98%E0%A6%AC%E0%A7%9C-%E0%A6%96%E0%A7%87%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%AA%E0%A6%BF%E0%A6%B0%E0%A6%BE-%E0%A6%8B%E0%A6%A3-%E0%A6%AA%E0%A6%BE%E0%A7%9F-%E0%A6%95%E0%A6%BF%E0%A6%AD%E0%A6%BE%E0%A6%AC%E0%A7%87%E2%80%99