২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, রবিবার
Choose Language:

সর্বশেষ
চলতি বিষয়াবলি
যেমন চলছে সিলেট ছাত্রলীগ
১ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, বুধবার,
সিলেটে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে ছাত্রলীগ। নেতাকর্মীদের বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে বিব্রত হয়ে পড়েছেন কিছু নেতাকর্মী। ক্যাম্পাসে অস্ত্রের মহড়া, পুলিশের ওপর হামলা, সংঘাত-সংঘর্ষের ঘটনায় উত্তাপ ছড়াচ্ছে নগরীতে। এতে করে দেখা দিয়েছে আতঙ্কও। সর্বশেষ গত সোমবার রাতে নগরীর টিলাগড়ে চোরাগোপ্তা হামলা হয়েছে। এ হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন ছাত্রলীগের এক সাবেক নেতা। এর আগে এমসি কলেজ ক্যাম্পাসে সশস্ত্র মহড়া দিয়েছে ছাত্রলীগ। আর পুলিশের ওপর হামলা চালাতে গিয়ে গ্রেপ্তার হয়েছেন ছাত্রলীগের ১১ নেতাকর্মী। এরমধ্যে ৫ জন ছাত্রলীগের কমিটিতেও আছেন। হঠাৎ করে ছাত্রলীগের এই কর্মকাণ্ডের ঘটনায় সিনিয়র নেতারা বিব্রত। এর কারণ বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের কারণেই গেল কয়েক মাস ধরে সিলেট জেলা ছাত্রলীগের কমিটি স্থগিত ছিল। এর মধ্যে ডিসেম্বরের শেষদিকে যখন ছাত্রলীগের কমিটির ওপর থেকে স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করা হয় তখন থেকে গোটা জেলায়ই কমিটি সাজানোর প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছিল। কিন্তু বিতর্কিত কর্মকাণ্ড কমিটি গঠনের প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন নেতারা। রোববার ভোররাতে ছাত্রলীগের কর্মীরা নগরীর কুমারপাড়া এলাকায় পুলিশের ওপর হামলা চালায়। এ ঘটনায় পুলিশ ঝরনারপাড় এলাকার মৃত যতিলাল দাসের ছেলে ইমন দাস (২৫), কালিবাড়ী এলাকার (মূলবাড়ি রংপুরের গঙ্গাচড়া থানার সয়রাবাড়ী) আবদুল হাকিমের ছেলে মনিরুল ইসলাম (২৪), কালিবাড়ী এলাকার মৃত আবদুস সালামের ছেলে কামরুল ইসলাম (২৬), একই এলাকার সূফি মিয়ার ছেলে সুজেল আহমদ তালুকদার (৩৩), সজীব আহমদ তালুকদার (২১) ও সৌরভ তালুকদার (১৯), চৌকিদেখি এলাকার সমশের মিয়ার ছেলে সাহেদ আহমদ (২৮), কালিবাড়ী ভাটপাড়া এলাকার মৃত কবির উদ্দিন খানের ছেলে জুবায়ের খান (৩০), চৌকিদেখী এলাকার ইয়াকুব আলীর ছেলে মাসুদ আহমদ (২৩), মজুমদারী এলাকার আবদুল ওহাবের ছেলে শামসুজ্জামান (২৬) ও কালিবাড়ী সবুজ বাগিচা এলাকার অনিল চন্দ্র পালের ছেলে সুমন পাল (৩২)কে গ্রেপ্তার করে। পরবর্তীকালে তাদের কারাগারে পাঠিয়ে দেয়া হয়।
মামলার এজাহারে এসআই হাবিবুর রহমান উল্লেখ করেছেন, রোববার রাত ৩টা ৪০ মিনিটে ঝরনারপাড় এলাকায় প্রবেশমুখে চেকপোস্টে ডিউটি করছিলেন কয়েকজন পুলিশ সদস্য। এসময় একটি প্রাইভেটকার (ঢাকা মেট্রো-গ-১৪-৮৬৪০) আসতে দেখে সেটিকে থামানো হয়। গাড়িতে থাকা ৪ ব্যক্তির আচরণ ‘সন্দেহজনক’ হওয়ায় এক্স-করোলা মডেলের গাড়িটি তল্লাশি করা হয়। এসময় পেছনের সিটে বসা ইমন দাস ও তানভীরের মাঝ থেকে সাদা রঙয়ের একটি প্লাস্টিকের ব্যাগে তল্লাশি চালিয়ে ৪৩ বোতল ফেনসিডিল পাওয়া যায়। এ ঘটনায় ফেনসিডিল ও প্রাইভেটকারসহ জব্দ তালিকা তৈরি করে সোবহানীঘাট পুলিশ ফাঁড়িতে জিডি দায়ের করে (নং-৪৯৯) পুলিশ। পরে প্রাইভেটকারে থাকা ৪ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের সময় একজন তাদের পূর্বপরিচিত কয়েকজনকে ফোন দেয়। ৬-৭টি মোটরসাইকেলে করে কয়েকজন দেশে তৈরি অস্ত্র নিয়ে রাত ৩টা ৫০ মিনিটে ঘটনাস্থলে এসে পুলিশের ওপর হামলা করে। তারা ইটপাটকেলও নিক্ষেপ করে।
এভাবে সিলেটের এমসি কলেজে ছাত্রলীগের মহড়া আলোচিত হয়েছে। গত ৬ মাস ধরে এমসি কলেজের ক্যাম্পাস ছিল শান্ত। সোমবার সকাল ১০টার দিকে কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক বদরুল আজাদ রানা ও সদস্য সচিব দেলোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে সরকারি কলেজের হোস্টেলের সামনে থেকে মিছিল বের করা হয়। ছাত্রদল কর্মীরা মিছিল নিয়ে ফটকের সামনে আসামাত্র এমসি কলেজ ছাত্রলীগ নেতা দেলোয়ার হোসেন ও হুসেইন আহমদের নেতৃত্বে ছাত্রলীগ কর্মীরা তাদের বাধা প্রদান করে। এ সময় শুরু হয় উভয়পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া। একপর্যায়ে পুলিশ এগিয়ে এলে ছাত্রদল কর্মীরা ব্যানার রেখেই পালিয়ে যায়। এ সময় ছাত্রলীগের কর্মীরা হাতে রামদা, দা ও লাঠিসোটা নিয়ে মহড়া দেয়। তারা টিলাগড় পয়েন্ট পর্যন্ত ছাত্রদলকে ধাওয়া করে। পরে পুলিশ অবশ্য পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এদিকে ছাত্রদল কর্মীরা ধাওয়া খেয়ে চলে যাওয়ার পর এমসি কলেজের ফটকেই তাদের ব্যানারে আগুন ধরিয়ে দেয় ছাত্রলীগের কর্মীরা। সিলেট নগরীর টিলাগড়ে মুখোশধারীদের চোরাগোপ্তা হামলায় সাবেক ছাত্রলীগ নেতা রাজন চৌধুরী আহত হয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার ভোররাতে এ ঘটনা ঘটে। গ্রুপিং- কোন্দলের জের ধরে এ ঘটনা ঘটেছে। ছাত্রলীগ ও ছাত্রদলের ক্যাডাররা মিলে এ হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছেন আহত সাবেক ছাত্রলীগ নেতা রাজন চৌধুরীর ভাই সাজন চৌধুরী। এ ঘটনায় আহত অন্য দুজনকে বর্তমানে সিলেট এমএজি ওসমানী হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি আলী হোসেন নগরীর  সোবহানীঘাট এলাকায় নিজ দখলে রেখেছিলেন এক প্রবাসীর বাসা। পরবর্তীকালে ওই প্রবাসী সিলেটের কোতোয়ালি ও শাহপরান থানায় দুটি মামলা করেছিলেন। ওই মামলার প্রেক্ষিতে পরে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। এ ঘটনা কেন্দ্রীয় কমিটির নজরে আসার পর আলী হোসেনকে ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি শাহরিয়ার আলম সামাদ মানবজমিনকে জানিয়েছেন, সিলেটে ছাত্রলীগ পরিচ্ছন্ন রাজনীতি করে। কিন্তু ছাত্রলীগ নামধারীরা দলের ভেতরে ঢুকে বিশৃঙ্খল অবস্থার সৃষ্টি করছে। যারা বহিরাগত রয়েছে তাদের চিহ্নিত করা হবে। এ ব্যাপারে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের সঙ্গে তার কথা বার্তা হচ্ছে বলে জানান। অচিরেই ছাত্রলীগ বহিরাগতদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থায় যাবে। তিনি বলেন, বহিরাগতদের বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের কারণে সিলেট জেলা ছাত্রলীগের কমিটি স্থগিত করা হয়েছিল। এরপর যখন স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারের পর সিলেটে ছাত্রলীগকে ঢেলে সাজানোর কাজ শুরু করা হয় তখন একটি মহল পরিকল্পিতভাবে বিতর্কের জন্ম দিচ্ছে। এজন্য সিলেট জেলা ও মহানগর ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতাদের সতর্ক থাকার আহবান জানান তিনি।
http://www.mzamin.com/article.php?mzamin=51640&cat=2/%E0%A6%AF%E0%A7%87%E0%A6%AE%E0%A6%A8-%E0%A6%9A%E0%A6%B2%E0%A6%9B%E0%A7%87-%E0%A6%B8%E0%A6%BF%E0%A6%B2%E0%A7%87%E0%A6%9F-%E0%A6%9B%E0%A6%BE%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%B2%E0%A7%80%E0%A6%97