২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, রবিবার
Choose Language:

সর্বশেষ
চলতি বিষয়াবলি
সরেজমিন: সড়ক নয় যেন চাষের জমি
১ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, বুধবার,
বর্ষার নয়, যাত্রাবাড়ী-ডেমরা সড়কের এই ছবিটি সাম্প্রতিক -সাজ্জাদ নয়ন
রাস্তার একপাশে এবড়োখেবড়ো হয়ে গেছে, অন্যপাশে পানি জমে আছে; এখানে-ওখানে ছোট-বড় গর্ত অনেক, সেসব স্থানেও পানি জমেছে। দেখলেই মনে হয়, বৃষ্টি হওয়ার পর কঠিন মাটি চাষ করা হয়েছে। যদিও বাস্তবে এটি যাত্রাবাড়ী চৌরাস্তা থেকে ডেমরা-শনির আখড়ার আওতাভুক্ত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক। এর কয়েক কিলোমিটার সড়কের অবস্থা বর্ণনাতীত খারাপ। এমন বেহাল সড়কের পাশে ফুটপাত দখল করে বসেছে অর্ধশতাধিক দোকানপাট। গাড়ি, তেলের ড্রাম, পাইপ, মুরগির খাঁচা, আসবাবসহ আরও অনেক কিছুই রাখা হয়েছে সড়কটি দখল করে। অবৈধ বাজার বসেছে ফ্লাইওভারের নিচে। রাস্তার ওপর বসেছে মাছের বাজার। এখানে-সেখানে রয়েছে ময়লা-আবর্জনার স্তূপ। এই এলাকার বাসিন্দা, পথচারী, গাড়ির চালক ও যাত্রীদের কী ভয়ানক সমস্যা ও দুর্ভোগ পোহাতে হয়, তা বোধকরি বলার আর প্রয়োজন পড়ে না। 
 
রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থেকে শনির আখড়া পর্যন্ত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে প্রতিদিন অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হয় চলাচলকারী প্রত্যেককে। এর শুরু উত্তর যাত্রাবাড়ীর ১ নম্বর বিবিরবাগিচা ফটক। মহাসড়ক হওয়ায় রাত-দিন ২৪ ঘণ্টাই সব ধরনের যানবাহন চলে এখানে। এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কের এমন অব্যবস্থাপনার কারণে প্রতিদিনই ঘটছে কোনো না কোনো দুর্ঘটনা। কাছেই যাত্রাবাড়ী পার্ক_ বেশ কয়েকটি চায়ের স্টল বসেছে এর ভেতরে। অভিযোগ রয়েছে, রাতে মাদকদ্রব্যের কেনাবেচাও চলে এখানে। আবার পার্কের এককোণেই রয়েছে ক্যারম খেলার নামে প্রকাশ্যে জুয়া খেলার আয়োজন। যাত্রাবাড়ী মহাসড়কের পাশেই রাজধানীর অন্যতম পাইকারি সবজি, ফল ও মাছের আড়ত। এতে প্রতিদিন 
 
ঝামেলা পোহান ঢাকার বাইরে থেকে আসা যানবাহনগুলোর চালকরা। 
 
এবড়োখেবড়ো রাস্তার ধকল সহ্য করতে না পেরে গত শনিবার বরযাত্রীবাহী একটি মাইক্রোবাসের চাকা ফেটে যায়। উত্তর যাত্রাবাড়ীর বিবিরবাগিচা ১ নম্বর গেটের সামনে এ দুর্ঘটনার পর বরসহ অন্য সবাই হেঁটে অদূরে গন্তব্যস্থলে পেঁৗছান। এ সময় কথা হয় বরের চাচা খন্দকার ইলিয়াছের সঙ্গে। তিনি বলেন, \'এত বড় একটা গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, অথচ এখানেই আমাদের বরযাত্রী দলকে বেকায়দায় পড়তে হলো!\'
 
ওদিকে উত্তর যাত্রাবাড়ী আবাসিক এলাকার ৪ নম্বর গেটের বিপরীতে টোল প্লাজার দক্ষিণ দিকের রাস্তায় পানি জমেছে। যানবাহনগুলোকে এগোতে হয় তিন-চার ফুট শুকনো জায়গা দিয়ে_ একটা একটা করে। ওভারব্রিজের দক্ষিণ পাশের মহাসড়ক পরিণত হয়েছে ট্রাক-টেম্পোস্ট্যান্ডে। 
 
দীর্ঘদিন ধরে উত্তর যাত্রাবাড়ী মহাসড়কের রাস্তার এই বেহাল অবস্থা। ৪৮ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোহাম্মদ আবুল কালাম অনুরও তা অজানা নয়। সমকালকে তিনি বলেন, \'অচিরেই রাস্তাটির সংস্কারকাজ পুরোদমে শুরু হবে। রাস্তাটি আরও বড় করা হবে। রাস্তা বাড়ানোর জন্য বেশ কিছু স্থাপনাও অপসারণ করা হবে। \' তিনি বলেন, \'১ নম্বর বিবিরবাগিচার বাইতুল ইজ্জত জামে মসজিদটি রাস্তা থেকে অন্য কোথাও সরিয়ে নেওয়া হবে। এ জন্য জায়গা খোঁজা হচ্ছে।\' 
 
মেয়র মোহাম্মদ হানিফ ফ্লাইওভারের নিচের রাস্তাটির দু\'পাশ ভাঙা, এবড়োখেবড়ো আর ছোট-বড় খানাখন্দে ভরা। রাজধানীতে প্রবেশ ও বহির্গমনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ যাত্রাবাড়ী চৌরাস্তা এলাকার এ সড়কটিতে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক হয়ে পূর্বাঞ্চলে এবং ঢাকা-মাওয়া মহাসড়ক হয়ে দক্ষিণাঞ্চলে যাতায়াতকারী অধিকাংশ যানবাহন ফ্লাইওভারের নিচের এ সড়ক ব্যবহার করে। রাজধানীর আশপাশের কয়েকটি জেলার যানবাহনও যাত্রাবাড়ীর এই চৌরাস্তা হয়ে যাতায়াত করে। আশপাশে ও বিভিন্ন স্থানীয় রুটে আড়াই শতাধিক টেম্পো চলাচল করে। 
 
চৌরাস্তা থেকে মেট্রো সিএনজি স্টেশন হয়ে দোলাইরপার এবং চৌরাস্তা থেকে টোল প্লাজা হয়ে কুতুবখালী পর্যন্ত সড়কে ফ্লাইওভারের নিচে ও বাইরের দু\'পাশের সড়কেও রয়েছে অসংখ্য খানাখন্দ। কোথাও কোথাও পানি জমেছে, বিশেষ করে টোল প্লাজা ও হাজি এ রহমান সিএনজি ফিলিং স্টেশনের সামনে দীর্ঘদিন ধরে ময়লা পানি জমে আছে। চট্টগ্রাম মহাসড়কের অনেক অংশের অবস্থাও তাই। সরেজমিন পরিদর্শনের সময় দেখা যায়, একটি টেম্পো (ঢাকা মেট্রো-খ-১১-২১১৩) জলাবদ্ধতার কারণে দুর্ঘটনায় পড়েছে। যাত্রীদের নামিয়ে দিচ্ছেন চালক লোকমান। 
 
আল্লাহ ভরসা, জিলানী, তুরাগসহ বেশ কয়েকটি গণপরিবহনের চালকরাও ক্ষুব্ধ কণ্ঠে বলেন, \'এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে গেলে মেজাজ খারাপ হয়। ভালো করে লেখেন_ তাড়াতাড়ি যেন রাস্তাটি ঠিক হয়ে যায়।\' ভাঙা সড়কের কারণে প্রায়ই গাড়ির যন্ত্রাংশ ভেঙে যাচ্ছে, চাকা ফাটছে। 
 
ফ্লাইওভারের নিচে যানজট ও দুর্ঘটনার জন্য বেহাল সড়ককে দায়ী করছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগও। ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (যাত্রাবাড়ী) তারিকুল ইসলাম সমকালকে বলেন, \'ভাঙা রাস্তার কারণে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে গলদঘর্ম হতে হয়। সড়কটির দুরবস্থার কথা স্বীকার করেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের অঞ্চল-৫-এর নির্বাহী প্রকৌশলী কাজী মোহাম্মদ বোরহান উদ্দিন। তিনি জানান, সংস্কারের কাজ শুরু হয়েছে। চলতি বছরের জুনের মধ্যে এর সংস্কার ও বর্ধিত কাজ শেষ হয়ে যাবে। পার্কের দুরবস্থার কথা স্বীকার করে ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবুল কালাম অনু। বলেন, পার্কটি খুব শিগগির সংস্কার করা হবে। পার্কের নতুন নাম প্রস্তাব করা হয়েছে \'মেয়র হানিফ যাত্রাবাড়ী পার্ক\'।
- See more at: http://bangla.samakal.net/2017/02/01/267077#sthash.gVn70dUk.dpuf