২১ নভেম্বর ২০১৯, বৃহস্পতিবার
Choose Language:

সর্বশেষ
চলতি বিষয়াবলি
এ বছর বাড়ল ২১ হাজার টাকা: নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে হজের ব্যয়
৩১ জানুয়ারি ২০১৭, মঙ্গলবার,
গত কয়েক বছরের ধারাবাহিকতায় এবারো হজের খরচ বাড়িয়েছে সরকার। গতকাল মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত খসড়া প্যাকেজে সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজে যাওয়ার খরচ গতবারের তুলনায় ১৪ থেকে ২১ হাজার টাকা বাড়ানো হয়েছে। বেসরকারি ব্যবস্থাপনায়ও একই হারে খরচ বাড়ানো হবে বলে হজ এজেন্সিগুলোর সংগঠন হাবের নেতারা জানিয়েছেন। এতে ফরজ ইবাদত পবিত্র হজ পালনের ব্যয় ক্রমেই সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে বলে মনে করছেন হজ সংশ্লিষ্টরা। 
সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকে গতকাল সোমবার ‘জাতীয় হজ ও ওমরাহ নীতি-২০১৭’ এবং ‘হজ প্যাকেজ-২০১৭’এর খসড়ায় অনুমোদন দেয়া হয়। সভা শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম জানান, সরকারি ব্যবস্থাপনায় প্যাকেজ-১এর আওতায় (কোরবানি ছাড়া) হজে যেতে এবার তিন লাখ ৮১ হাজার ৫০৮ টাকা এবং প্যাকেজ-২এর (কোরবানিসহ) আওতায় তিন লাখ ১৯ হাজার ৩৫৫ টাকা খরচ হবে। বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় এবার সর্বনি¤œ এক লাখ ৫৬ হাজার ৫৩৭ টাকা খরচ নির্ধারণ করে দিয়েছে সরকার; গত বছর যা ছিল এক লাখ ৫৫ হাজার ৪৪১ টাকা। এ হিসাবে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় এবার হজে যাওয়ার মৌলিক খরচ বেড়েছে এক হাজার ৯৬ টাকা। এ ‘মৌলিক’ খরচের সাথে সৌদি আরবে বাড়িভাড়া, খাওয়া-দাওয়া, কোরবানিসহ অন্যান্য খরচ হজ এজেন্সিগুলো যোগ করবে। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ অনুসারে বেসরকারি এজেন্সিগুলো সর্বনি¤œ তিন লাখ ১৯ হাজার ৩৫৫ টাকার নিচে নিতে পারবে না। এর ওপরে সুযোগ সুবিধা অনুসারে তারা ১৫ লাখ টাকা পর্যন্তও নিয়ে থাকে। এ দিকে মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানিয়েছেন, এ বছর নিট বিমান ভাড়া দেড় হাজার ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে; যা গত বছর ছিল ৪৫০ ডলার। এতে এ খাতে খরচ বেড়েছে ৫০ ডলার বা প্রায় চার হাজার টাকা। 
হজ সংশ্লিষ্টদের সূত্রে জানা যায়, ২০০৬ সালে হজের সর্বনি¤œ খরচ ছিল মাত্র ৯০ হাজার টাকা। পরের বছর থেকে প্রতিবারে ১০ থেকে ২০ হাজার টাকা করে খরচ বাড়ানো হয়েছে। ২০১৫ সালে প্যাকেজ-১এ তিন লাখ ৫৪ হাজার ৭৪৫ টাকা এবং প্যাকেজ-২এ দুই লাখ ৯৬ হাজার ২০৬ টাকা নির্ধারণ করে সরকার। আর গত বছর প্যাকেজ-১এ তিন লাখ ৬০ হাজার ২৮ টাকা এবং প্যাকেজ-২এ তিন লাখ চার হাজার ৯০৩ টাকা নির্ধারিত ছিল। চলতি ২০১৭ সালের প্যাকেজ-১এ গত বছরের থেকে ২১ হাজার ৪৮০ টাকা এবং প্যাকেজ-২এ ১৪ হাজার ৪৫২ টাকা বাড়ানো হয়েছে। 
২০১৭ সালের হজকে কেন্দ্র করে গত ১৫ থেকে ১৭ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে হজমেলা অনুষ্ঠিত হয়। ওই মেলায় বিভিন্ন হজ এজেন্সি তাদের সম্ভাব্য প্যাকেজ ঘোষণা করে। এতে সর্বনি¤œ তিন লাখ পাঁচ হাজার টাকা থেকে শুরু করে তিন লাখ ৬০ হাজার, চার লাখ ২৫ হাজার, সাত লাখ ৭৫ হাজার, ১১ লাখ ৫০ হাজার টাকাসহ বিভিন্ন প্যাকেজের কথা জানানো হয়।
হজ এজেন্সি সূত্রে জানা যায়, ভারত ও পাকিস্তানে বাংলাদেশের চেয়ে অনেক কম টাকায় হজ করেন সেখানকার নাগরিকেরা। ভারতে এক লাখ ৬০ থেকে ৮০ হাজার টাকায় হজ করা যায়। সে দেশের সরকার সংখ্যালঘু মুসলমানদের পবিত্র হজ পালনে ভর্তুকি দিয়ে থাকে।
খরচ বাড়ায় বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব শফিউল আলম বলেন, অনেকগুলো আইটেমের খরচ বেড়ে গেছে। সৌদি রিয়ালের দাম বেড়েছে, ডলারের দাম বেড়েছে, বাড়িভাড়াও একটু বেড়েছে; সব মিলিয়েই খরচ কিছুটা বেড়েছে।
এভাবে প্রতি বছর খরচ বাড়ার সমালোচনা করে আল কাসেম হজ গ্রুপের চেয়ারম্যান মুফতি মুহাম্মদ রবিউল ইসলাম কাসেমী নয়া দিগন্তকে বলেন, বিমান ভাড়া তিনগুণ নেয়ার কারণে হজের খরচ বেড়ে যাচ্ছে। তিনি জানান, সাধারণ যাত্রীরা সৌদি এয়ারলাইন্সে গেলে ৪০ থেকে ৪৮ হাজার টাকায় সৌদি আরব যেতে পারেন। ওমরায় যাতায়াত ভাড়া নেয়া হয় ৬০ হাজার টাকা। আর হজে এক লাখ ২০-৩০ হাজার টাকা নেয়া হয়। এটা কোন যুক্তিতে নেয়া হয় তা জানি না। বিমানভাড়া কম হলে হজের খরচ অনেক কমে যেত। হজ এজেন্সিস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ হাবের সভাপতি ইব্রাহিম বাহার নয়া দিগন্তকে বলেন, বিমান সারা বছর লোকসানে থাকে। তারা হজ দিয়ে সারা বছরের ক্ষতি পুষিয়ে নেয়। এ কারণে হজের খরচ বেড়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, ভারত সরকার হজে যাওয়ার ক্ষেত্রে মুসলমানদের ভর্তুকি দেয়, কিন্তু বাংলাদেশে তা দেয়া হয় না, বরং আরো বাড়ানো হয়। 
এ দিকে গতকাল মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, এবার এক লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন হজে যেতে পারবেন। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ১০ হাজার এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় এক লাখ ১৭ হাজার ১৯৮ জন। গত বছর সরকারিভাবে ১০ হাজার এবং বেসরকারিভাবে ৯১ হাজার ৭৫৮ জন হজে গিয়েছিলেন।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, এবার হজযাত্রীদের জন্য কিছু শর্তারোপ করা হয়েছে। এসব শর্তের মধ্যে রয়েছে সবাইকে এমআরপি পাসপোর্ট নিয়ে যেতে হবে। প্রত্যেক হজ এজেন্সিকে কমপক্ষে ১৫০ জন এবং সর্বোচ্চ ৩০০ জন হজযাত্রী প্রেরণের অনুমতি দেয়া হবে। একটি বিমান তিনটি হজ এজেন্সির হাজী এবং তিনজন মোয়াল্লেমকে পাঠাতে পারবে। হজযাত্রীদের কোরবানির অর্থ সৌদি আরবের ইসলামি ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের কুপন ক্রয়ের মাধ্যমে দিতে হবে। সরাসরি পশু কিনতে পারবে না। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ কোরবানি করে দেবে। সরকারি-বেসরকারি উভয় ক্ষেত্রে সৌদি সরকারের অনুমোদিত কম স্পেসসহ বাসস্থান ভাড়া করতে হবে এবং সৌদি সরকারের অনুমোদিত ক্যাটারিং কোম্পানির মাধ্যমে খাবার সরবরাহ করতে হবে। নিজেরা কেউ রান্না করতে পারবে না। বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় প্রত্যেক হজযাত্রীর জন্য ব্যাংক হিসাব খুলতে হবে। খাবার, বাসস্থান, হোটেল ও খাবারের মূল্য অনলাইনে পাঠাতে হবে। সরকারি-বেসরকারি হজযাত্রীর জন্য অতিরিক্ত ১ শতাংশ বেশি বাড়িভাড়া করতে হবে। হজযাত্রী প্রতি ৫০ সৌদি রিয়াল ব্যাংক গ্যারান্টি হিসেবে প্রদান করতে হবে। জেনারেল কার সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ১৮ রিয়াল প্রদান করতে হবে।
http://www.dailynayadiganta.com/detail/news/191884