১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, মঙ্গলবার
Choose Language:

সর্বশেষ
চলতি বিষয়াবলি
কলিযুগের সন্তান বলেই কি এরা গ্যাংস্টার?
৩১ জানুয়ারি ২০১৭, মঙ্গলবার,
বাংলাদেশে যথেষ্ট বৈষয়িক উন্নতি হয়েছে। কিন্তু তার পাশাপাশি নীতি-নৈতিকতার অধঃপতন নিয়ে সমাজবিজ্ঞানীরা মহাদুশ্চিন্তায় আছেন। দেশে অপরাধপ্রবণতা বেড়েছে। শুধু তাই নয়, অপরাধের রকমফেরও বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে। আজ থেকে ৫০ বা ১০০ বছর আগে যেসব অপরাধের কথা ভাবা যেত না এখন তা নিত্যকার ঘটনায় পর্যবসিত। একসময় প্রাপ্তবয়স্ক কিংবা যৌবনের শারীরিক শক্তির অধিকারীরা অপরাধ করত। এখন শিশু-কিশোরদের মধ্যেও অকল্পনীয় অপরাধপ্রবণতা ছড়িয়ে পড়তে দেখা যাচ্ছে। অবশ্য কিশোর বয়সে মানুষ অপরাধ করত না, এমন নয়। কিশোর অপরাধীদের সুস্থ আচরণে ফিরিয়ে আনার জন্য বিশেষ আইন ও ব্যবস্থাও ছিল। এখনও আছে। কিশোর অপরাধীদের নিবর্তনমূলক ব্যবস্থাধীনে রাখার জন্য বোরস্টাল স্কুল নামে এক ধরনের শিক্ষা ব্যবস্থারও প্রচলন ছিল। ছোটবেলায় দুষ্টুমি করলে পিতা-মাতারা সন্তানদের জেল স্কুলে পাঠিয়ে দেয়ার ভয় দেখাতেন। ওইটুকু ভয় দেখানোই অধিকাংশ শিশু-কিশোরকে নিবৃত্ত করার জন্য যথেষ্ট ছিল। যদিও আমরা জানতাম না, জেল স্কুলের বাসিন্দাদের কী ধরনের নিয়ন্ত্রণ ও শাসনের মধ্যে রাখা হতো। সাম্প্রতিককালে সংবাদপত্রে ১৩-১৪ বছর বয়সী ছেলেদের ভয়াবহ অপরাধ ঘটানোর খবর বেরিয়েছে। এরা নানা জায়গায় সংঘবদ্ধ দল গঠন করে নানামাত্রিক অপরাধ করে বেড়াচ্ছে। এমনকি খুনাখুনিও করছে। বিভিন্ন সংঘবদ্ধ দলের মধ্যে রক্তাক্ত সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটছে। এ সামাজিক প্রবণতা মনোবিজ্ঞানীদের চিন্তিত করে তুলছে।
 
 
আমাদের সমাজের একটি মারাত্মক ব্যাধি হল, এখানে সদাচরণ এবং নীতি-নৈতিকতার চর্চা যে গতি যতটুকু হয়, তার তুলনায় অপরাধমূলক আচরণ এবং খারাপ কাজের চর্চা অনেক বেশি প্রাবল্য নিয়ে ঘটে। সুঅভ্যাস এবং সুআচরণ আত্মস্থ করতে যে মানসিক শক্তির প্রয়োজন হয় তার তুলনায় খারাপ দৃষ্টান্ত রপ্ত করার জন্য সে পরিমাণ মানসিক শক্তির প্রয়োজন হয় না। কী বস্তুগত অবস্থার মধ্যে মানসিক শক্তির নেতিবাচক প্রবণতা বৃদ্ধি পায়, তার জন্য অনুসন্ধানমূলক গভীর গবেষণার প্রয়োজন আছে। ভিক্টোরিয়ান যুগের শিক্ষা-দর্শনে Spare the rod spoil the child নীতির প্রচলন ছিল। তখন মনে করা হতো কঠোর অনুশাসনের মধ্যে না রাখলে শিশু-কিশোররা পথভ্রষ্ট হয়, পড়াশোনায় অমনোযোগী হয় এবং ভালো করে পাঠ আত্মস্থ করতে পারে না। ইংল্যান্ডের গ্রামার স্কুলগুলোতে এ ধরনের অনুশাসনের প্রচলন ছিল। কিন্তু সময়ের বিবর্তনে শিক্ষা সম্পর্কে এ ধরনের কঠোর চিন্তাভাবনা দূরীভূত হয়েছে। আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থায় শিক্ষককে Friend, philosopher and guide হিসেবে বিবেচনা করা হয়। শিক্ষক হবেন শিক্ষার্থীর পরম বন্ধু। শিক্ষা হবে আনন্দের উৎস। এখন বাংলাদেশেও আনন্দ স্কুলের ধারণা পরিলক্ষিত হচ্ছে। শিক্ষাকে আনন্দদায়ক করার জন্য খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড এবং ছবির মাধ্যমে শিশু-কিশোরদের মধ্যে ছড়িয়ে দেয়ার কথা বলেন শিক্ষাবিদরা। কোনো স্কুলে শিক্ষক যদি ছাত্রছাত্রীদের কোনোরকম দৈহিক কিংবা অমানবিক শাস্তি প্রদান করেন, তাহলে সেটি সংবাদপত্রের শিরোনাম দখল করে। শুধু তাই নয়, দায়ী শিক্ষকদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হয়। খোদ শিক্ষা মন্ত্রণালয় কোমলমতি ছাত্রছাত্রীদের দৈহিক শাস্তি প্রদানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। শিক্ষালাভ যাতে কোনোক্রমে ভীতিকর অভিজ্ঞতার জন্ম না দেয় তার জন্যই এসব ব্যবস্থা। শিক্ষাকে আনন্দদায়ক করতে হলে কৌতূহলকে জাগ্রত করতে হয়। শিক্ষার্থী যখন জ্ঞান অর্জনের জন্য সত্যিকার অর্থে কৌতূহলী হয়ে ওঠে, তখন আর শিক্ষকদের আদেশ-নির্দেশ এবং শাস্তিভীতির ওপর নির্ভর করতে হয় না। জানা ও জ্ঞানার্জনের ভেতর যে আনন্দ লুকিয়ে থাকে, শিক্ষার্থীকে সেই আনন্দে অবগাহন করতে অনুপ্রাণিত করতে পারলেই শিক্ষা হয়ে ওঠে অলৌকিক আনন্দের উৎস। রবীন্দ্রনাথ লিখেছিলেন, ‘অলৌকিক আনন্দের ভার বিধাতা যাহারে দেয়/ তার বক্ষে বেদনা অপার।’ এ বেদনা অনেক কিছুর সঙ্গেই সংশ্লিষ্ট থাকে। ‘কত কিছু জানার আছে, অথচ কতটুকুইবা জানি,’ এ বোধ জ্ঞানচর্চায় ব্রতী হতে প্রেরণা জোগায়। শিক্ষা নিয়ে সৃজনশীল ধ্যান-ধারণার কমতি নেই। তবুও যতই দিন যাচ্ছে ততই মনে হচ্ছে, শিক্ষাকে বিসর্জন দিয়ে অশিক্ষা কিংবা কুশিক্ষার পথে পরিচালিত হওয়ার কোথায় যেন একটা প্রণোদনা আছে। কিশোর বয়সী যে ছেলেগুলো গ্যাংস্টারিজমে জড়িয়ে পড়ছে তা নিয়ে এখন থেকে কিছু করা না হলে সামনে যে ঘোর অন্ধকার, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। গণমাধ্যম এসব ঘটনা তুলে ধরে আমাদের চেতনাকে শানিত করতে বড় ধরনের অবদান রাখছে। দেশের আনাচে-কানাচে কোথায় কোথায় এমন অশুভ প্রবণতা শেকড় গেড়ে বসছে সেসব সম্পর্কে অনেক বেশি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ হওয়া দরকার। তা না হলে চরম সামাজিক অবক্ষয় ঠেকিয়ে রাখা যাবে না।
 
মানুষের মনস্তাত্ত্বিক প্রবণতা এক গভীর রহস্য। শিশু-কিশোরদের বিচ্যুত হওয়ার জন্য অনেক সময় স্নেহের অভাবকে দায়ী করা হয়। আমরা যখন দেখি অপরাধপ্রবণতায় একটি বিশেষ পাড়া বা গ্রামের এক দল ছেলে জড়িয়ে পড়েছে, তখন একটি ভিন্ন প্রশ্নেরও সৃষ্টি হয়। প্রশ্নটি হল, ওই বিশেষ এলাকায় কেন একসঙ্গে এতগুলো ছেলে গ্যাংস্টারিজমে জড়িয়ে পড়ল? কেন কিছুসংখ্যক ছেলে একটি নির্দিষ্ট গ্যাংয়ে অন্তর্ভুক্ত হয়? জানা গেছে, এমন একটি গ্যাংয়ের নাম ‘সেভেন স্টার গ্রুপ’। তাহলে এর মধ্যে কি সাতটি তারকা আছে? কীভাবে তাদের মধ্যে সংহতি কিংবা দলবদ্ধতা সৃষ্টি হল? গ্যাংস্টারদের সদস্যরা কি দলীয় আনুগত্য পরিবর্তন করে? করলে কী কারণে করে? তাদের পিতা-মাতা ও পরিবারের সদস্যদের আর্থিক ও সামাজিক অবস্থার বৈশিষ্ট্যই বা কী? অতিরিক্ত ধনৈশ্বর্য অথবা অতিরিক্ত বঞ্চনা, কোনটি তাদের উচ্ছন্নে যেতে প্রভাবিত করেছে। তাদের মধ্যে যদি লোভের মানসিকতা প্রবল হয়ে থাকে সেটি কেন হয়েছে? তাদের সামাজিকায়নের প্রক্রিয়া সম্পর্কেও জানা প্রয়োজন। এসব জিজ্ঞাসার জাবাব না খুঁজে বিষয়টিকে নিছক আইনশৃংখলার সমস্যা হিসেবে দেখলে সমাধানের পথ খুঁজে পাওয়া যাবে না। তাদের কীভাবে সুপথে ফেরানো যায়, তাদের মধ্যে কীভাবে সুমতি জাগ্রত করা যায়, সে সম্পর্কেও ভাবতে হবে। এদের অপরাধমূলক আচরণের ওপর আমাদের সামগ্রিক রাজনীতির দূরবর্তী কোনো প্রভাব রয়েছে কিনা, সে সম্পর্কেও ভাবতে হবে। আমাদের রাজনীতি ভয়াবহ রকম সহিংস, প্রতিহিংসাপরায়ণতায় দুষ্ট এবং বিশ্রী বাক্য বিনিময়ে অসুস্থ। এগুলোর প্রভাবও অনুসন্ধানের বিষয়।
 
সময় ও কালের ইতিহাস একদিকে যেমন আধুনিক মহাবিশ্ববিদ্যা বিজ্ঞানের সঙ্গে সম্পর্কিত, অন্যদিকে প্রাচীন ভারতবর্ষে সময়কে চক্রাবর্ত হিসেবে বিবেচনা করা হতো। এক অর্থে প্রাচীন ভারতে সময়ের চক্রাবর্ত ধারণা ইতিহাসের অস্বীকৃতিতূল্য ছিল। কারণ ইতিহাসের সময় রৈখিক সময়। রেখার মতো ইতিহাস অতীত থেকে বর্তমান হয়ে ভবিষ্যতে এগিয়ে যায়। প্রাচীন ভারতে সময়ের চক্রাবর্ত ধারণা থেকে অনেকে অনুমান করেন, তখন ইতিহাসে ব্যবহৃত রৈখিক সময়ের ধারণা ছিল না। কিন্তু রমিলা থাপারের মতো ভারতের প্রাচীন ইতিহাসের বিশেষজ্ঞরা জোরালো তথ্য হাজির করে প্রমাণ করার চেষ্টা করেছেন, প্রাচীন ভারতেও ইতিহাসের রৈখিক সময়ের ধারণা প্রচলিত ছিল। সময়ের চক্রাবর্ত ধারণায় কাল প্রবাহকে চার ভাগে ভাগ করা হয়। এগুলো হল- সত্য যুগ, ত্রেতাযুগ, দাপরযুগ এবং কলিযুগ। এখন যে যুগ চলছে সেটা কলিযুগ হিসেবেই এ ধারণায় সন্নিবেশিত। কলিযুগে ব্রাহ্মণ্য ভাবধারার নীতি-নৈতিকতা বদলে যায়। ধর্ম নামক নৈতিকতার আদর্শ প্রত্যক্ষ এবং প্রতীকীভাবে অবলুপ্ত হয়। সত্যযুগ ছিল কল্পস্বর্গের যুগ। সে যুগে কোনো অধর্ম ছিল না। ধারণা করা হতো, সত্য যুগে মানুষ ৪০০ বছর আয়ু পেত। তাদের কোনো রোগ-শোক ও নিরাপত্তাহীনতা ছিল না। এর বিপরীতে কলিযুগে মানুষের আয়ু ১০০ বছরে নেমে আসে এবং শূদ্রবর্ণের লোকেরা উচ্চাসনে প্রতিষ্ঠিত হয়। মহাভারতের সূত্রানুযায়ী মানুষ ক্রীতযুগে যতদিন ইচ্ছা বাঁচতে পারত এবং বংশ বিস্তারের জন্য যৌন সম্পর্কের প্রয়োজন ছিল না। কিন্তু কলিযুগে নর-নারীর মধ্যে বৈবাহিক সম্পর্ক প্রয়োজনীয় হয়ে দাঁড়ায়। একটি ভিন্ন সূত্রানুযায়ী ত্রেতাযুগে মানুষের আয়ু ৩০ হাজার বছর থেকে কলিযুগে ১০০ বছরে নেমে আসে। কলিযুগ সম্পর্কে আরও বলা হয়েছে। এ যুগে বর্ণভেদ প্রথা ভেঙে পড়ে। ফলে সামাজিক কর্মকাণ্ডের বিভাজনে কোনো ভেদরেখা থাকে না। ম্লেচ্ছরা রাজা হয়ে যায়। পথভ্রষ্ট ব্রাহ্মণরা এবং হঠাৎ প্রতিষ্ঠিত শূদ্ররা ব্রাহ্মণের ভান করে এবং পুরোহিতের দায়িত্ব গ্রহণ করে। নারী অধস্তন অবস্থা থেকে উচ্চতর স্তরে আসন নেয় এবং নানা ধরনের স্বাধীনতা ভোগ করে। এককথায় কলিযুগ হল আদর্শ ব্রাহ্মণ্যবাদী সমাজের বিপরীত অর্থসূচক। বাস্তবতা হল আমরা কেউ কথিত সত্যযুগে ফিরে যেতে চাই না। আধুনিক সমাজে বর্ণভেদ প্রথার এবং নারীর অধস্তন পরিস্থিতির কোনো অবকাশ নেই। আমরা সমতাভিত্তিক আধুনিক আচার-আচরণভিত্তিক সমাজে বিশ্বাসী। মজার ব্যাপার হল, সমাজের অসঙ্গতিগুলো লক্ষ করে আমরা প্রায়ই মন্তব্য করি কলিযুগ কিনা, তাই এসব ঘটছে। অর্থাৎ অবচেতন মনে হলেও আমাদের মধ্যে সময়ের চক্রবৃত্তিক ধারণা কাজ করছে। অথবা অনেক সময় বলে থাকি, এগুলো কেয়ামতের লক্ষণ। আমাদের সমাজে চিন্তার মধ্যে ধর্মবোধসংক্রান্ত একটি আদর্শ চিন্তা ক্রিয়াশীল রয়েছে। কিন্তু এগুলো মূলত আধুনিকতার সঙ্গে পুরনো ধ্যান-ধারণার এক ধরনের সংঘাতময়তার বহিঃপ্রকাশ। ধর্মের অনেক ইতিবাচক প্রভাবের মধ্যে রয়েছে মানুষকে সৎপথে চলার জন্য অনুপ্রাণিত করা। সময়ের চক্রানুবর্তী ধারণার বিপরীতে ঐতিহাসিক সময়ের ধারণা সর্বোতভাবে উপলব্ধি করতে পারলে সমাজের অসঙ্গতিগুলোর একটা ব্যাখ্যা খুঁজে পাওয়া যাবে। সামাজিক ঐতিহাসিক পরিবর্তনের ধারায় এক শ্রেণীর ভূঁইফোড় গোষ্ঠী ক্ষমতা, অর্থবিত্ত এবং প্রভাব-প্রতিপত্তিতে সামনে চলে আসে। এমনই সময়ে সমাজে নানা ব্যাধি ছড়িয়ে পড়ে। তার একটি ভয়াবহ দৃষ্টান্ত হচ্ছে গ্যাংস্টারিজম। ভূঁইফোড়দের প্রভাব-প্রতিপত্তি হ্রাস করতে পারলে আমরা অনেক ধরনের সামাজিক অসঙ্গতি থেকে মুক্তি লাভ করব। এটি বোঝার জন্য সময়ের চক্রানুবর্তী ধারণার অনুসারী হওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে পৌরাণিক অতীতে মানুষের ধ্যান-ধারণা কেমন ছিল, তা জানার আগ্রহ থেকে সেই সম্পর্কে গবেষণা করতে পারি এবং তার অনুপুঙ্খ এবং যুগোপযুগী বিশ্লেষণ দিয়ে এ সময়টাকে কিছুটা হলেও বুঝতে পারি।
 
ড. মাহবুব উল্লাহ : অধ্যাপক ও অর্থনীতিবিদ
http://www.jugantor.com/window/2017/01/31/97723/%E0%A6%95%E0%A6%B2%E0%A6%BF%E0%A6%AF%E0%A7%81%E0%A6%97%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%B8%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%A8-%E0%A6%AC%E0%A6%B2%E0%A7%87%E0%A6%87-%E0%A6%95%E0%A6%BF-%E0%A6%8F%E0%A6%B0%E0%A6%BE-%E0%A6%97%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%BE%E0%A6%82%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%9F%E0%A6%BE%E0%A6%B0?