১৯ নভেম্বর ২০১৯, মঙ্গলবার
Choose Language:

সর্বশেষ
চলতি বিষয়াবলি
ইউপি ও পৌরসভার দক্ষতা বৃদ্ধি: সম্ভাব্যতা যাচাই ছাড়াই সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প
৩০ জানুয়ারি ২০১৭, সোমবার,
সরকারের উন্নয়ন প্রকল্প প্রণয়নে নীতিমালা পালন করা হচ্ছে না। প্রকল্প ব্যয় ২৫ কোটি টাকার বেশি হলে ওই প্রকল্প অবশ্যই সম্ভাব্যতা যাচাই করতে হবে। কিন্তু পাঁচ হাজার ৫৩৫ কোটি টাকা ব্যয়ের লোকাল গভর্ন্যান্স সাপোর্ট প্রজেক্ট-৩ প্রকল্পটি কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিক সম্ভাব্যতা যাচাই করা হয়নি। সম্ভাব্যতা যাচাই ছাড়াই প্রকল্প প্রণয়ন করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। আগামীকাল মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করার কথা রয়েছে।
সরকারি খাতে উন্নয়ন প্রকল্প প্রণয়ন, প্রক্রিয়াকরণ, অনুমোদন ও সংশোধন পদ্ধতি নিয়ে সরকারের জারিকৃত পরিপত্রের ৪.১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, ২৫ কোটি টাকার বেশি প্রাক্কলিত ব্যয়সম্পন্ন সব বিনিয়োগ প্রকল্প গ্রহণের আগে আবশ্যিকভাবে সম্ভাব্যতা যাচাই করতে হবে। পাঁচ কোটি টাকা পর্যন্ত প্রাক্কলিত ব্যয়ের জরিপ বা সম্ভাব্যতা সমীক্ষা প্রকল্প বিভাগীয় প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির সুপারিশক্রমে মন্ত্রণালয় বা বিভাগের দায়িত্বে নিয়োজিত মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী অনুমোদান করবেন। পাঁচ কোটি টাকার বেশি প্রাক্কলিত ব্যয় হলে তা প্রক্রিয়াগতভাবে পরিকল্পনা কমিশনের মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী অনুমোদন দেবেন। 
সূত্রে জানা গেছে, দেশের চার হাজার ৫৫০টি ইউনিয়ন পরিষদের অর্থ স্থানান্তর ব্যবস্থা প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ ও ইউপি এবং পৌরসভাগুলোর সদস্যদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে সরকার তৃতীয় দফায় লোকাল গভর্ন্যান্স সাপোর্ট প্রজেক্ট-৩ প্রকল্পটি অনুমোদন দিতে যাচ্ছে। স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা বাংলাদেশ সরকারের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কাঠামো। কিন্তু স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো খুব সীমিত নীতি ও প্রাতিষ্ঠানিক পরিবেশে কাজ করে। স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক স্বাধীনতা, রাজস্ব আহরণ, সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা অত্যন্ত সীমিত। স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো মোট জাতীয় ব্যয়ের মাত্র ৪ শতাংশ অর্থ ব্যয় করে থাকে। যদিও তাদের রাজস্ব আয় জাতীয় আয়ের মাত্র ২ শতাংশ। তবে স্থানীয় উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের সব সিদ্ধান্ত সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো কর্তৃক গ্রহণ করা হয়। ইতোমধ্যে এলজিএসপি-১ ও এলজিএসপি-২ প্রকল্প দু’টি বাস্তবায়ন করা হয়। এখন বিশ্বব্যাংকের দুই হাজার ৩৮২ কোটি টাকা অর্থায়নসহ পাঁচ হাজার ৫৩৫ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প অনুমোদন দিতে যাচ্ছে সরকার, যা আগামী ২০২১ সালের ডিসেম্বরে শেষ হবে। 
প্রকল্পের প্রধান কাজগুলো হলোÑ ইউনিয়ন পরিষদের অর্থ স্থানান্তর ব্যবস্থা প্রাতিষ্ঠানিকীকরণে মৌলিক থোক বরাদ্দ চার হাজার ২৮৭ কোটি ২৩ লাখ টাকা। আর দক্ষতাভিত্তিক বরাদ্দ ৮৬৬ কোটি ২৯ লাখ টাকা। এ ছাড়া অডিট ও পারফরম্যান্স মূল্যায়ন এবং মূল্যায়নব্যবস্থা প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ। পৌরসভার বর্ধিত ব্লক অনুদান পাইলটীকরণ এবং সদস্যদের দক্ষতা বৃদ্ধি করা। এ দিকে যাচাই না করার ব্যাপারে প্রস্তাবনায় কোনো ধরনের ব্যাখ্যা উল্লেখ করা হয়নি। বলা হয়েছে, প্রকল্পটি দেশব্যাপী ইউনিয়ন পরিষদ এবং ১৬টি পৌরসভার মধ্যে ছোট ছোট স্কিম আকারে বাস্তবায়ন করা হবে। পুরো প্রকল্পের আওতায় ছয় লাখ ৩৫ হাজার ৬৬৮ জনকে দক্ষতার প্রশিক্ষণ দেয়া হবে।
http://www.dailynayadiganta.com/detail/news/191596