২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, রবিবার
Choose Language:

সর্বশেষ
চলতি বিষয়াবলি
আদালতের রায় না মেনে রিমান্ডে চলে নির্যাতন
২৯ জানুয়ারি ২০১৭, রবিবার,
জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে (রিমান্ড) নিয়ে আসামি বা সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে নির্যাতন করা যাবে না। ২০০৩ সালে হাইকোর্ট হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদসংক্রান্ত ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৭ ধারা সংশোধনের নির্দেশনা দিয়ে এ রায় দিয়েছিলেন। গত বছর মে মাসে আপিল বিভাগ হাইকোর্টের রায় বহাল রেখে আরো কিছু নির্দেশনা দিয়েছেন। তবে উচ্চ আদালতের সে রায় মানছে না পুলিশ। সারা দেশে জিজ্ঞাসাবাদের নামে হেফাজতে নিয়ে হরহামেশা আসামিদের নির্যাতনের অভিযোগ উঠছে পুলিশের বিরুদ্ধে। এমনকি নির্যাতনের ফলে অনেক সময় আটক ব্যক্তির মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।
আইনজীবীরা বলছেন, হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের পদ্ধতিসংক্রান্ত সংশ্লিষ্ট আইনের ধারা সংশোধন হলেই নির্যাতন বন্ধ হবে। তবে আইন সংশোধন হওয়ার আগ পর্যন্ত সর্বোচ্চ আদালতের রায় মানা বাধ্যতামূলক। না মানলে সে ক্ষেত্রে আদালত অবমাননা হবে। আটক ব্যক্তিকে নির্যাতন না করে কৌশলে জিজ্ঞাসাবাদ করতে হবে।
পুলিশ হেফাজতে মৃত্যুর কথা উঠলেই সেই রুবেলের প্রসঙ্গ আসে। ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটির ছাত্র শামীম রেজা রুবেলকে ১৯৯৮ সালের ২৩ জুলাই রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরী থেকে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার করে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। ওই দিন মিন্টো রোডে ডিবির (পুলিশের গোয়েন্দা শাখা) হেফাজতে তাঁর মৃত্যু হয়। প্রায় একই সময়ে চট্টগ্রামের রাউজানে সীমা চৌধুরী নামের এক তরুণী পুলিশ হেফাজতে ধর্ষণের শিকার হয়ে মারা যান। অরুণ চক্রবর্তী নামের আরেক যুবক রাজধানীর রমনা থানায় পুলিশ হেফাজতে মারা যান। রিমান্ডে নির্যাতনের অভিযোগে পুলিশের বিরুদ্ধে মামলাও হয়েছে। হেফাজতে নির্যাতন ও আসামির মৃত্যুর ঘটনার যেসব অভিযোগ রয়েছে এর মধ্যে মিরপুর থানায় সুজন ও বরিশালে কালাম হাওলাদারের মৃত্যু এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র আবদুল কাদেরকে নির্যাতনের ঘটনা উল্লেখযোগ্য। বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক দলের নেতারাও দাবি করেছেন, গ্রেপ্তারের পর রিমান্ডে তাঁদের ওপর নির্যাতন করা হয়েছে। মুক্তি পাওয়ার পর সংবাদমাধ্যমের সামনে তাঁরা এসব দাবি করেছেন।  
সম্প্রতি পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে গ্রেপ্তার হয়েছেন সাভারের সাংবাদিক নাজমূল হুদা। গত ২৩ ডিসেম্বর পুলিশ তাঁকে আশুলিয়া থানায় ডেকে নেয়। পরদিন তাঁর বিরুদ্ধে তথ্য-প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় মামলা হয়। মামলায় অভিযোগ করা হয়, প্রতিবেদনে মিথ্যা তথ্য দিয়ে তিনি পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলন উসকে দিয়েছেন।
নাজমূল বাংলাদেশ প্রতিদিনের সাভার প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেন। একুশে টেলিভিশনেরও প্রতিনিধি তিনি। উল্লিখিত সংবাদমাধ্যম দুটি তাদের প্রকাশিত ও প্রচারিত খবরে দাবি করেছে, নাজমূল হুদার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ মামলার এজাহারে বর্ণনা করা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। তা সত্ত্বেও ২৮ ডিসেম্বর তাঁকে দুই দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। রিমান্ডে আশুলিয়া থানায় তাঁকে বেদম মারধর করা হয়।
নাজমূলের আইনজীবী শাহজামান হাওলাদার কালের কণ্ঠ’র কাছে দাবি করেন, হেফাজতে নেওয়ার পর পুলিশি নির্যাতনের কারণে নাজমূল কানে শুনতে পাচ্ছেন না। তাঁর শরীরের অন্যান্য স্থানেও নির্যাতনের চিহ্ন রয়েছে।
গত ২৩ জানুয়ারি সাইবার ট্রাইব্যুনাল তথ্য-প্রযুক্তির মামলায় নাজমুলের জামিন মঞ্জুর করেছেন। তবে এখনই তিনি মুক্তি পাচ্ছেন না। ‘প্যান্ট চুরি’র মতো মামলাসহ আরো পাঁচটি মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
পুলিশ হেফাজতে রুবেলের মৃত্যুর পর তত্কালীন বিচারপতি হাবিবুর রহমান খানের নেতৃত্বে বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন গঠন করে সরকার। কমিশনের প্রতিবেদনে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ (বিনা পরোয়ানায় গ্রেপ্তার) ও ১৬৭ (রিমান্ড) ধারা সংশোধনে ১১ দফা সুপারিশ করা হয়। কিন্তু সরকার এসব সুপারিশ বাস্তবায়ন করেনি। পরে ৫৪ ও ১৬৭ ধারা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন করে মানবাধিকার সংগঠন বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট), আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক), সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন ও রমনা থানা হেফাজতে মারা যাওয়া অরুণ চক্রবর্তীর স্ত্রীসহ কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তি।
ওই রিট আবেদনের চূড়ান্ত শুনানি শেষে ২০০৩ সালের ৭ এপ্রিল বিচারপতি মো. হামিদুল হক ও বিচারপতি সালমা মাসুদ চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রায় দেন। তাতে ছয় মাসের মধ্যে ৫৪ ও ১৬৭ ধারা সংশোধনে সাত দফা সুপারিশ করা হয়। পাশাপাশি আইন সংশোধনের আগে ১৫ দফা নির্দেশনা মেনে চলতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হয়। এ রায়ের বিরুদ্ধে ২০০৪ সালে আপিল করে রাষ্ট্রপক্ষ। আপিল শুনানির জন্য আপিল বিভাগ গ্রহণ করলেও হাইকোর্টের রায় কখনো স্থগিত করেননি। তা সত্ত্বেও পুলিশ কখনোই হাইকোর্টের নির্দেশনা মানেনি।  
গত বছরের ২৪ মে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ রাষ্ট্রপক্ষের আপিল খারিজ করে হাইকোর্টের দেওয়া রায় বহাল রাখেন। আপিল বিভাগও বিনা পরোয়ানায় গ্রেপ্তার ও হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদসংক্রান্ত ৯ দফা নীতিমালা করে দেন। রায়ে বলা হয়, স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে হবে। কোনো প্রকার নির্যাতন করা যাবে না।
হাইকোর্টের নির্দেশনায় বলা হয়েছিল, রিমান্ডে নিয়ে আসামিকে নির্যাতন করা যাবে না। জেলগেটে কাচের দেয়াল ঘেরা কক্ষে আসামির আইনজীবীর উপস্থিতিতে জিজ্ঞাসাবাদ করতে হবে। জিজ্ঞাসাবাদের আগে ও পরে চিকিৎসককে দিয়ে আসামির শারীরিক পরীক্ষা করাতে হবে। চিকিৎসাসংক্রান্ত প্রতিবেদন আদালতে পাঠাতে হবে।
তা সত্ত্বেও রিমান্ডে পুলিশের বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ উঠছেই। সর্বোচ্চ আদালতের রায়ের পরও গত বছর অক্টোবরে একটি মোটরসাইকেল চুরির মামলায় সন্দেহভাজন হিসেবে ইমরুল হাসান ইমরান নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় নেওয়া হয়। অভিযোগ ওঠে, ইমরানকে রিমান্ডে নিয়ে চরম নির্যাতন করা হয়েছে। তাঁর জননাঙ্গে জ্বলন্ত সিগারেটের ছেঁকা দেওয়া হয়। গত বছর ২৯ অক্টোবর বিষয়টি আদালতের নজরে আনা হলে নারায়ণগঞ্জ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত সংশ্লিষ্ট থানার ওসি আসাদুজ্জামান ও এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আমীর হামজাকে তলব করে ব্যাখ্যা দেওয়ার নির্দেশ দেন।
গত ১৫ নভেম্বর প্রতারণার একটি মামলায় মো. রাসেল নামের এক যুবককে আটক করে কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর থানার পুলিশ। অভিযোগ রয়েছে, তাঁকে গ্রেপ্তারের পর শারীরিক নির্যাতন করা হয়। একপর্যায়ে বেশি নির্যাতন করা হবে না—এ কথা বলে রাসেলের স্বজনদের কাছ থেকে দেড় লাখ টাকা আদায় করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আমিরুল। স্বজনরা দাবি করে, রাসেলের ছোট ভাই সোহেলের মোবাইল ফোনে মামলার তদন্ত কর্মকর্তার কথোপকথন রেকর্ড করা আছে।
বরিশালের কোতোয়ালি থানায় দায়ের করা একটি মামলায় গত বছর ২৪ জুলাই শৈশব নামের এক আসামিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। হেফাজতে শৈশবকে নির্যাতন করে মোবাইল ফোনে তাঁর কণ্ঠ শোনানো হয় স্বজনদের। টাকাও দাবি করা হয়। এ ঘটনায় শৈশবের স্বজনরা অভিযোগ দিলে এসআই মান্নানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
জানা যায়, পুলিশ হেফাজতে নির্যাতন হলেও প্রতিকার মেলে না। পুলিশের বিরুদ্ধে করা মামলাও বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই বিচার হয় না। কারণ পুলিশের বিরুদ্ধে করা মামলার তদন্তভারও পুলিশকেই দেওয়া হয়। অনেক ক্ষেত্রে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল হলেও বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই অভিযুক্তদের বিচারের মুখোমুখি করা হয় না। কেবল অতি চাঞ্চল্যকর ঘটনার বেলায় কিছু ক্ষেত্রে পুলিশকে বিচারের মুখোমুখি করা হয়। যেমন—রুবেল ও সুজন হত্যা মামলায় এবং ইয়াসমিন ও সীমা ধর্ষণ-হত্যা মামলায় বিচারের মুখোমুখি করা হয়েছে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের।
বিচারপতি হাবিবুর রহমান খানের নেতৃত্বাধীন তদন্ত কমিশনের রিপোর্টে বলা হয়, জিজ্ঞাসাবাদের প্রকৃত উদ্দেশ্য সত্য উদ্ঘাটন। জিজ্ঞাসাবাদের পদ্ধতি ও পরিসীমা আইনের মাধ্যমে সুনির্দিষ্ট থাকলেও বাস্তব চিত্র অত্যন্ত দুঃখজনক। বিজ্ঞজন, আইনজ্ঞ, সাংবাদিকসহ সব স্তরের জনসাধারণের দৃঢ় ধারণা রিমান্ডের নামে পুলিশের প্রকৃত উদ্দেশ্য হচ্ছে নিপীড়ন-নির্যাতনের নামে টাকা-পয়সা আদায়ের ব্যবস্থা করা এবং অপরাধের স্বীকারোক্তি আদায়। স্বীকারোক্তি আদায় করতে পারলে তদন্তকাজ পরিচালনার কষ্ট ও ঝামেলা থেকে পুলিশ বেঁচে যায়। কমিশনের কাছে বেশ কয়েকজন হাজতভোগী ব্যক্তি স্বীকার করেন যে টাকা-পয়সা দেওয়ার ওপর নিপীড়ন-নির্যাতনের মাত্রা ওঠানামা করে। দৈহিক নিপীড়ন ও নিষ্ঠুর নির্যাতনের ফলে আসামি প্রাণভয়ে মিথ্যা বলতে বাধ্য হয়।  
হেফাজতে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন—এমন ব্যক্তিদের দাবি, রিমান্ডে নেওয়া আসামিদের যে ধরনের নির্যাতন করা হয় তার মধ্যে গিটা নির্যাতন, বাদুড় ধোলাই, ওয়াটার থেরাপি, উলঙ্গ করে নির্যাতন, সারা দিন না খাইয়ে রাখা, টানা নির্যাতন, বাতাস নির্যাতন, বোতল ও ডিম থেরাপি, ডিসকো ড্যান্স নির্যাতন, সেলাই নির্যাতন, ঝালমুড়ি নির্যাতন উল্লেখযোগ্য। আসামিদের হাত-পায়ের প্রতিটি জয়েন্টে লাঠিপেটা করার নাম গিটা নির্যাতন। এ নির্যাতনের ফলে হাড়-মাংস থেঁতলে যায়। তবে বাইরে থেকে কিছুই বোঝা যায় না। চিত করে মেঝেতে ফেলে হাত-পা বেঁধে মুখে গামছা বা কাপড় ঢুকিয়ে পানি ঢেলে মারধর করাকে বলা হয় ওয়াটার থেরাপি। নাকে-মুখে পানি দিতে থাকলে নিঃশ্বাস বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়। পরে আসামি তথ্য দিতে থাকে। দুটি উঁচু টেবিলের মাঝখানে দুই হাত বেঁধে ঝুলিয়ে পেটানোকে বলা হয় বাদুড় ধোলাই। এ রকমের নির্যাতন করলে আসামি জ্ঞান হারায়। গরম বা প্রচণ্ড  ঠাণ্ডা ডিম মলদ্বারে ঢুকিয়ে নির্যাতন করাকে বলা হয় ডিম থেরাপি। হাত-পায়ে অবিরাম ইলেকট্রিক শক দেওয়াকে বলা হয় ডিসকো ড্যান্স থেরাপি। হাত-পায়ের নখে মোটা সুই ঢুকানোকে বলা হয় সেলাই নির্যাতন। চোখ-মুখ ও নাকে শুকনো মরিচ লাগানোকে বলা হয় ঝালমুড়ি নির্যাতন। সিলিং ফ্যানে ঝুলিয়ে নির্যাতন করাকে বলা হয় বাতাস নির্যাতন।
অভিযোগ রয়েছে, পুলিশ মূলত এসব নির্যাতন করে বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে। গ্রেপ্তার আসামিদের স্বজনদের কাছ থেকে টাকা আদায়ের জন্য এভাবে নির্যাতন করা হয়। টাকার পরিমাণের ওপর নির্ভর করে নির্যাতনের ধরন। আবার প্রভাবশালীদের ইঙ্গিতে বা গ্রেপ্তার আসামির শত্রুপক্ষের ইশারা ও টাকার প্রভাবেও নির্যাতন করা হয়। ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটির ছাত্র রুবেলকে নির্যাতন করা হয়েছিল প্রতিবেশী এক মহিলার দ্বারা প্রভাবিত হয়ে। নিম্ন আদালতের রায়ে তাই-ই প্রমাণিত হয়েছিল। ওই নির্যাতনেই রুবেলের মৃত্যু হয়।
তবে হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদের নামে নির্যাতনের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) মাসুদুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, যথাযথ নিয়ম মেনেই রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সম্পাদক ও বার কাউন্সিলের সদস্য অ্যাডভোকেট শ ম রেজাউল করিম কালের কণ্ঠকে বলেন, দেশের সর্বোচ্চ আদালতের রায়ের নির্দেশনা না মেনে কোনো কাজ করলে আদালত অবমাননা হবে। হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদের সময় আটক ব্যক্তিকে নির্যাতন করা যাবে না, এটা অবশ্যই মানা উচিত। কখনো কখনো আসামিদের অমানবিক নির্যাতন করা হয় বলে গণমাধ্যমে খবর আসে। আসলে গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে কৌশলে জিজ্ঞাসাবাদ করলেই প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসে। এ জন্য জিজ্ঞাসাবাদকারীকে বিশেষ প্রশিক্ষণ দিতে হবে।
ঢাকা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি মো. বোরহান উদ্দিন বলেন, সুপ্রিম কোর্টের রায় মানতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বাধ্য। এটি সাংবিধানিক দায়িত্ব। সংবিধানেই বলা হয়েছে, উচ্চ আদালতের রায় মানতে হবে। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের ক্ষেত্রে নির্যাতন না করার যে নির্দেশনা আপিল বিভাগের রায়ে এসেছে তা পালন না করলে অবশ্যই আদালত অবমাননা হবে। আর সুপ্রিম কোর্ট গত বছর যে নির্দেশনা দিয়েছেন, সেই নির্দেশনা অনুযায়ী আইন করা জরুরি। ওই নির্দেশনা মেনে পুলিশ কাজ করলে সাধারণ ও নিরীহ মানুষ নির্যাতনের শিকার হবে না। তবে এ বিষয়ে মনিটরিং থাকতে হবে।
ফৌজদারি মামলা পরিচালনাকারী ঢাকার আদালতের আইনজীবী সৈয়দ আহমেদ গাজী বলেন, হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদের পর অনেকেই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়ে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। পরে আবার আদালতে এসে বলেন, তাঁকে নির্যাতনের মাধ্যমে জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে। এ কারণে ওই জবানবন্দি প্রত্যাহারের আবেদন করেন। বর্তমান জিজ্ঞাসাবাদের পদ্ধতি পরিবর্তন হলে ও সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে স্বীকারোক্তি প্রত্যাহারের সুযোগ থাকবে না। নির্যাতনের অভিযোগও উঠবে না।
মানবাধিকারকর্মী অ্যাডভোকেট মাহমুদা খাতুন বলেন, যেসব পদ্ধতিতে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় তা বহু পুরানো পদ্ধতি। নির্যাতন ছাড়া বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে জিজ্ঞাসাবাদ করতে হবে। উচ্চ আদালতের নির্দেশ না মানলে আদালত অবমাননা হবে।
http://www.kalerkantho.com/print-edition/first-page/2017/01/29/457530