২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, রবিবার
Choose Language:

সর্বশেষ
চলতি বিষয়াবলি
সিন্ডিকেটে'র কব্জায় শ্রমবাজার
২৯ জানুয়ারি ২০১৭, রবিবার,
শেষ পর্যন্ত \'সিন্ডিকেটে\'র হাতেই যাচ্ছে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর নিয়ন্ত্রণ। সরকার একাধিকবার নিশ্চয়তা দিলেও সব রিত্রুক্রটিং এজেন্সি এ সুযোগ পাবে না। প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয় ও জনশক্তি ব্যবসায়ীদের সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশের এক হাজার ৪৫টি এজেন্সির মধ্যে মাত্র ১০টিকে কর্মী পাঠানোর জন্য মনোনীত করেছে মালয়েশিয়া। এই ১০ এজেন্সিই সরকারি-বেসরকারি যৌথ ব্যবস্থাপনায় (জিটুজি প্লাস পদ্ধতি) কর্মী পাঠাবে। এদিকে এজেন্সি মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় দুর্নীতি ও অস্বচ্ছতার অভিযোগ এনেছে বঞ্চিতরা। মালয়েশিয়া এরই মধ্যে ১০ হাজার কর্মীর চাহিদাপত্র পাঠিয়েছে। আশা করা হচ্ছে, বনায়ন, উৎপাদন ও নির্মাণ- এ তিন খাতে কয়েক লাখ কর্মী দেশটিতে যাওয়ার সুযোগ পাবেন। তবে মাত্র ১০টি প্রতিষ্ঠান কর্মী পাঠানোর কাজ পাওয়ায় একচেটিয়া ব্যবসা করার সুযোগ সৃষ্টি হবে। ফলে কর্মীদের সরকার নির্ধারিত অভিবাসন ব্যয় ৩৭ হাজার টাকার কয়েক গুণ খরচ হবে মালয়েশিয়া যেতে। বাংলাদেশ দুই দফায় ৯৫৭টি এজেন্সির নাম পাঠালেও মালয়েশিয়া সরকার সেখান থেকে মাত্র ১০টিকে বেছে নেয়। মনোনীত প্রতিষ্ঠানগুলো হলো- আমিন ট্যুর অ্যান্ড ট্রাভেলস, ইউনিক ইস্টার্ন প্রাইভেট লিমিটেড, ক্যারিয়ার ওভারসিজ রিসোর্স, আইএসএমটি হিউম্যান রিসোর্স, শানজারি ইন্টারন্যাশনাল, রাবি্ব ইন্টারন্যাশনাল, ক্যাথারসিজ ইন্টারন্যাশনাল, প্যাসেজ অ্যাসোসিয়েটস, আল ইসলাম ওভারসিজ ও প্রান্তিক ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজম।
 
 
প্রান্তিক ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজমের ব্যবস্থাপনা পরিচালক গোলাম মোস্তফা এ তালিকার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, \'এখনও চিঠিপত্র পাইনি। মালয়েশিয়া থেকে নানাভাবে জেনেছি ১০টি রিত্রুক্রটিং এজেন্সি জিটুজি প্লাসের অধীনে কর্মী পাঠানোর কাজ পেয়েছে। এর মধ্যে আমাদের প্রতিষ্ঠানের নামও রয়েছে বলে শুনেছি।\'
 
 
জিটুজি প্লাসকে দুই দেশে সরকারি-বেসরকারি যৌথ ব্যবস্থাপনায় কর্মী পাঠানোর পদ্ধতি বলা হলেও এতে সরকারের ভূমিকা থাকছে নগণ্য। এ প্রক্রিয়ায় মালয়েশিয়ায় ফরেন ওয়ার্কার্স সেন্ট্রালাইজড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের (এফডবি্লউসিএমএস) কাছে নিয়োগকারীরা কর্মীর চাহিদা জানাবেন। এ পদ্ধতিটির ব্যবস্থাপনার কাজ পেয়েছে মালয়েশিয়ার উপপ্রধানমন্ত্রী আহমেদ জাহিদ হামিদির ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত বিতর্কিত প্রতিষ্ঠান \'সিনারফ্ল্যাক্স এসডিএন বিএইচডি\'। মালয়েশিয়ার মনোনীত রিত্রুক্রটিং এজেন্সিগুলো সেই চাহিদা অনুযায়ী প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ডাটাবেজে নিবন্ধিতদের মধ্য থেকে বাছাই করে কর্মী পাঠাবে।
 
 
এ প্রক্রিয়াকে অস্বচ্ছ বলেছেন অভিবাসনবিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান রামরুর সমন্বয়ক সি আর আবরার। তিনি বলেন, গুটিকয়েক প্রতিষ্ঠানকে কাজ দিলে দুর্নীতি অবধারিত। বায়রার মহাসচিব রুহুল আমিন স্বপন অবশ্য দাবি করেন, প্রথম পর্যায়ে ১০টি এজেন্সি এ সুযোগ পেলেও পরে এ সংখ্যা আরও বাড়বে।
 
 
মালয়েশিয়া নিয়ে একের পর এক নাটকীয়তার কারণে এ নিয়ে কথা বলতে রাজি নন প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি। তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর গত দেড় বছরে বেশ কয়েকবার বলেছেন, সব এজেন্সিই কর্মী পাঠানোর কাজ পাবে। সিন্ডিকেট করতে দেওয়া হবে না। কার্যত তা হচ্ছে না।
 
 
মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব জাবেদ আহমেদ বলেন, এখনও মালয়েশিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি। তাদের মনোনীত এজেন্সির তালিকা পাওয়ার পর এ বিষয়ে মন্তব্য করবেন তিনি।
 
 
কর্মী নিতে গত বছরের ১৮ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের সঙ্গে জিটুজি প্লাসের সমঝোতা স্মারক সই করে মালয়েশিয়া। তখন বলা হয়েছিল, এ পদ্ধতিতে তিন বছরে ১৫ লাখ কর্মী দেশটিতে যেতে পারবেন। পরে মালয়েশিয়ায় এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হয়। প্রতিবাদের মুখে সমঝোতা স্মারক সইয়ের পরদিনই প্রবাসী কর্মী নিয়োগে নিষেধাজ্ঞা জারি করে দেশটি। অনিশ্চয়তায় পড়ে জিটুজি প্লাসের ভবিষ্যৎ। তার পরও থেমে থাকেনি মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর কাজ কে পাবে তা নিয়ে রিত্রুক্রটিং এজেন্সিগুলোর দৌড়ঝাঁপ। এ নিয়ে হাইকোর্টে রিটও হয়। শেষ পর্যন্ত মালয়েশিয়ার শীর্ষ রাজনীতিকদের আশীর্বাদপুষ্টরাই এ কাজে মনোনীত হয়েছেন।
 
 
প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন, তাদের চেষ্টা ছিল মালয়েশিয়ায় পাঠানো ৯৫৭টি এজেন্সির মধ্যে অন্তত ২০০ এজেন্সি যেন কাজ পায়। কিন্তু তারা ১০-এর বেশিতে রাজি হয়নি। গত নভেম্বরে সে দেশের মানবসম্পদমন্ত্রী রিচার্ড রায়ট আনাক জায়েমের বাংলাদেশ সফরে সংখ্যাটি ১২-তে উন্নীত করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয় মন্ত্রণালয়।
 
 
বায়রার সাবেক মহাসচিব মনসুর আহমেদ বলেন, আদালতে একটি রিট বিচারাধীন থাকার পরও মন্ত্রণালয় ১০ এজেন্সিকে কাজ দিলে আইনিভাবেই এর মোকাবেলা করা হবে। তার দাবি, এজেন্সির সংখ্যা কম হওয়ায় একচেটিয়া ব্যবসা হবে। কর্মীরা বেশি টাকা দিতে বাধ্য হবেন।
 
 
তবে এ যুক্তির সঙ্গে একমত নন প্রান্তিকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। তিনি বলেন, সৌদি আরবের বাজার সব এজেন্সির জন্য খোলা রয়েছে। তার পরও একজন কর্মীও সরকার নির্ধারিত ব্যয় এক লাখ ৬৫ হাজার টাকায় যেতে পারেন না। সাত-আট লাখ টাকা খরচ হয়। তিনি বলেন, শৃঙ্খলা আনতে এজেন্সির সংখ্যা কমানোর বিকল্প ছিল না।
 
 
নানা অভিযোগ তুলে ২০০৯ সালে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেওয়া বন্ধ করে দেয় মালয়েশিয়া। এর পর তিন বছরের প্রচেষ্টায় সরকারি ব্যবস্থাপনায় (জিটুজি) কর্মী পাঠাতে ২০১২ সালের ২৬ নভেম্বর দেশটির সঙ্গে চুক্তি হয়। অভিবাসন ব্যয় নির্ধারণ করা হয় ৩৩ হাজার ৫০০ টাকা। চুক্তির পর প্রায় ১৫ লাখ কর্মী নিবন্ধন করলেও দেশটিতে যাওয়ার সুযোগ পায় মাত্র ১১ হাজার। ২০১৫ সালের জুনে মালয়েশিয়া বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ১৫ লাখ বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের ঘোষণা দেয়। ওই বছরের সেপ্টেম্বরে তাদের একটি প্রতিনিধি দলের সফরের ঘোষণা আসে বিটুবি নয়, জিটুজি প্লাস পদ্ধতিতে কর্মী যাবে।
- See more at: http://bangla.samakal.net/2017/01/29/266413#sthash.0kSAf05M.dpuf