১৭ নভেম্বর ২০১৯, রবিবার
Choose Language:

সর্বশেষ
চলতি বিষয়াবলি
ভারতের কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের বাতাসে বিষ ॥ অকার্যকারিতা প্রমাণিত দেশে দেশে
২৮ জানুয়ারি ২০১৭, শনিবার,
“ভরা মওসুমেও গতবার রূপালী মাছের তেমন দেখা মেলেনি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব মেদিনীপুরের কোলাঘাটে। কোলাঘাট তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র সংলগ্ন এলাকায় বাতাসে যেন বিষ। মানুষ, জীবজন্তু, গাছপালা, চাষের ফসল, কোনও কিছুরই নিস্তার নেই। তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের চিমনি থেকে বাতাসে ভাসতে থাকা ছাইয়ের আস্তরণ পড়ছে কোলাঘাটের প্রধান অর্থকরী ফসল, ফুল ও পানের আবাদে। এর ফলে উৎপাদন কমার সঙ্গে সঙ্গে ওই ফসলগুলোর গুণমানও নামছে।”- বাংলাদেশে বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবন সংলগ্ন রামপালে ভারতের সাথে যৌথ বিনিয়োগে নেয়া কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ প্রকল্পের পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যগত ক্ষতির আশংকায় যখন পরিবেশবাদীরাসহ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মহল উক্ত প্রকল্পের বিরোধিতায় সোচ্চার তখনই এমন খবর দিয়েছে কলকাতার গণমাধ্যম ‘এই সময়’। গত বছর ১৬ অক্টোবর ‘পূর্ব মেদিনীপুরের কোলাঘাট তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের বাতাসে বিষ, বৃষ্টির পানিতেও শুকোয় পাতা’ শীর্ষক এ প্রতিবেদনে কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পের ভয়ংকর ক্ষতির দিক তুলে ধরা হয়।
 
অনুসন্ধানে জানা যায়, কেবল ভারতেই নয়, জার্মানি, মালয়েশিয়া, ভিয়েতনাম, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও তাইওয়ানসহ পৃথিবীর বহু দেশে অকার্যকার হয়ে পড়েছে কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ প্রকল্প তত্ত্ব। অনেক দেশ চলমান প্রকল্পও বন্ধ করে দিচ্ছে।
 
রামপাল প্রকল্পের প্রস্তুতি পর্বেই সুন্দরবনের যে বিপদ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। মূল কেন্দ্র নির্মাণের আগে মাটি ভরাট ড্রেজিং ইত্যাদি প্রস্তুতিমূলক কাজে খুব বেশি পরিবেশ দূষণ হওয়ার কথা না। কিন্তু এই প্রস্তুতিমূলক কাজের ফলে সৃষ্ট পরিবেশ দূষণটুকুও নিয়ন্ত্রণ করা হয়নি বলে খোদ সরকারি মনিটরিং রিপোর্টেই স্বীকার করা হয়েছে। মাটি ভরাটের সময় বাতাসে ধুলোর পরিমাণ নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখার জন্য পানি ছিটানো এবং ভরাটের স্থান ঘিরে রাখা, ড্রেজিং এর সময় শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণের জন্য কর্মদক্ষ ড্রেজার ব্যাবহার, ইফিশিয়ান্ট যন্ত্রপাতি ব্যবহার করার মাধ্যমে জেনারেটর, ড্রেজার ও বালু বহন কারী জলযানের সালফার ও নাইট্রোজেনের বিষাক্ত অক্সাইড নিয়ন্ত্রণ করার কথা ছিল। কিন্তু এসবের কোনো কিছুই করা হয়নি বলে স্পষ্ট স্বীকার করা হয়েছে সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্টাল এন্ড জিওগ্রাফিক ইনফরমেশন সার্ভিসেস (সিইজিআইএস) এর ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে তৈরি রিপোর্টে। 
 
বর্জ্য ব্যাবস্থাপনার মাধ্যমে নদীতে অপরিশোধিত বর্জ্য ফেলার বন্ধ করার কথা থাকলেও প্রকল্প এলাকায় সেরকম কোন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা দেখা যায় নি, শ্রমিকরা খোলা টয়লেট ব্যবহার করছেন এবং টয়লেট থেকে বর্জ্য উপচে পানিতে মিশছে বলে উল্লেখ হয়েছে ঐ রিপোর্টে। নদী থেকে বালু উত্তোলন ও মাটি ভরাটের সময় মৎস সম্পদের উপর ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রজনন মওসুমে কাজ বন্ধ রাখা, উপযুক্ত নিষ্কাশন নালা নির্মাণ, দেয়াল নির্মাণ ও দুর্ঘটনা ঘটলে যন্ত্রপাতি থেকে তেল ছড়িয়ে পড়া ঠেকানোর ব্যাবস্থা থাকার কথা ছিল। কিন্তু এগুলো কোনটাই সম্পূর্ণভাবে পালন করা হয়নি। এই দূষণগুলোর জন্য হয়তো সুন্দরবন ধ্বংস হয়ে যাবে না, কিন্তু এগুলো বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালু হলে সুন্দরবনের কি ঘটবে তার পূর্বাভাস।
 
বিষের খনি ভারতের কোলাঘাট কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র : কোলাঘাট কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি তো স্থানীয় জনগোষ্ঠী ও পরিবেশবাদীদের কাছে রীতিমতো বিষের খনি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। গত বছর ১৬ অক্টোবর কলকাতার গণমাধ্যম ‘পূর্ব মেদিনীপুরের কোলাঘাট তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের বাতাসে বিষ, বৃষ্টির পানিতেও শুকোয় পাতা’ শীর্ষক একটি প্রতিবেদনে উক্ত কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পের ভয়ংকর ক্ষতির দিকগুলো তুলে ধরে।
 
উইকিপিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, কোলাঘাট কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র পশ্চিমবঙ্গের একটি বড় তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র। এটি কলকাতা থেকে ৫৫ কিলোমিটার দূরে পূর্ব মেদিনীপুরের মেছেদায় অবস্থিত। পশ্চিমবঙ্গ বিদ্যুৎ উন্নয়ন নিগম লিমিটেড এটি পরিচালনা করে। এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রে ২১০ মেগাওয়াটের ৬টি ইউনিট আছে। এটি ১৯৮৪ থেকে ১৯৯৫ সালের মধ্যে তৈরি। 
 
কলকাতার গণমাধ্যম ‘এই সময়’ এর প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, “তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ছাইয়ের দূষণ সর্বনাশ করেছে রূপনারায়ন নদীর। দূষিত পানিতে আসা বন্ধ করে দিয়েছে ইলিশের ঝাঁক। শুধু নদী নয়, কোলাঘাটে চাষের জমি, গাছ, খাল-বিল কিছুরই রেহাই নেই দূষণ থেকে। বাতাসে ভেসে থাকা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ছাই বৃষ্টির পানিতে মিশে এসিড বৃষ্টি হয়ে ঝলসে দিয়েছে গাছের পাতা। এক সময় কোলাঘাটে প্রচুর ইলিশের দেখা মিলত। আর দূষণের কারণে ইলিশরা ডিম পাড়ার জন্যও আর কোলাঘাটমুখো হচ্ছে না। এছাড়া ছাই দূষণে এখন ‘ভরা ছাই, নাই মাঠ/এই নিয়ে কোলাঘাট’ এই স্লোগানই পথে- প্রান্তরে। লাগাতার ছাই দূষণে অতিষ্ঠ কোলাঘাটবাসী। চাষের জমি, খেলার মাঠ, রাস্তায় কেবল ফ্লাই অ্যাশ।”
 
এদিকে ২০১৫ সালের প্রথম দিকে হলুদ রঙের বৃষ্টি দেখে চমকে ওঠেছিল পূর্ব মেদিনীপুরের কোলাঘাট তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র উপনগরীর পাশের গ্রাম মেশেড়ার মানুষ। ওইদিন সকালে আচমকা এই হলুদ রঙের বৃষ্টির ফোঁটা দেখে চাঞ্চল্য ছড়ায় গ্রামময়। পুরো ৭ মিনিট ধরে ঝরে হলুদ রঙের বৃষ্টি। বৃষ্টির জেরে গাছের পাতা, বাড়ির উঠোন, ছাদে হলুদ রঙের ছোপ পড়ে যায়। কোলাঘাটের মতো বক্রেশ্বর ও কসবা কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র এলাকায়ও অনুরূপ সমস্যা দেখা দিচ্ছে। সেখানে মধ্যপ্রদেশ ও তামিলনাড়ুর কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ হয়ে গেছে পরিবেশগত কারণেই। কৃষি ও পরিবেশজনিত বিবিধ ক্ষতিকর প্রভাবের কারণেই ভারত সরকার মধ্যপ্রদেশে কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ প্রকল্পের অনুমতি দেয়নি, যেটি বর্তমানে বাংলাদেশের রামপালে সুন্দরবন সংলগ্স এলাকায় বিভিন্ন মহলের প্রতিবাদের পরও সরকারের অতিমাত্রায় ভারতপ্রীতির কারণে বাস্তবায়নে তোড়জোড় চলছে।
 
অন্যান্য দেশের উদাহরণ : বিভিন্ন দেশে কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ছাইয়ের পুকুর থেকে পরিবেশ দূষণ ঘটার বহু উদাহরণ রয়েছে। ২০০৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের টেনিসিতে কিয়স্টোন বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ছাই স্লারি এমোরি ও ক্লিনচ নদীতে বাহিত হয়ে মারাত্মক দূষণ ঘটায়। ২০১২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ডিউক এনাজির ছাইয়ের পুকুর থেকে ৫০ হাজার থেকে ৮২ হাজার টন ছাই ও ২ কোটি ৭০ লাখ গ্যালন ছাই দূষিত পানি ড্যান নদীতে বাহিত হয়ে যে বিপর্যয় ঘটায় তার রেশ এখনও ঐ অঞ্চলে রয়ে গেছে।
 
গত শতকের নব্বই দশকে নির্মিত থাইল্যান্ডের ‘মাই মো’ কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কারণে হাজার হাজার মানুষ ফুসফুসের অসুখে ভুগেছে, চারপাশের কৃষি অঞ্চলে ফসলের ফলন ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। জলাভূমিতে আর্সেনিক, ক্রোমিয়াম ও ম্যাংগানিজের দূষণ ঘটেছে। ভিয়েতনামের ‘কোয়াং নিন’ কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে বন্যা ও জলোচ্ছাসের সময় বিপুল পরিমাণ কয়লা দিয়েন ভং নদীতে ভেসে গেছে, ব্যাপক নদী দূষণ ঘটেছে। এই বিদ্যুৎ কেন্দ্র সহ আরো কিছু কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কারণে ইউনেস্কো ঘোষিত বিশ্ব ঐতিহ্য ‘হা লং বে’ও মারাত্মক দূষণের শিকার হয়েছে। শহরে বিদ্যুৎ কেন্দ্র থাকলে আশপাশে কি ধরণের সমস্যা হতে পারে তার নজির কোয়াং নিন প্রদেশে যথেষ্টই রয়েছে। মালয়েশিয়ার উপকূলীয় এলাকার জাইমাহ কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বিরুদ্ধেও জনমত রয়েছে। তাইওয়ানের টাইচুং কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রকে দুনিয়ার অন্যতম দূষণকারী কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র বলা হয়। এই কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কারণে তাইওয়ানের মধ্য ও দক্ষিণ অঞ্চলে বায়ু দূষণ এত বেড়েছে যে এক পর্যায়ে আন্দোলনের মুখে বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির উৎপাদন কমিয়ে ফেলতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ। যুক্তরাজ্যে ‘ডিডক্ট’ নামের একটি কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মিত হয় ১৯৭০ সালে যখন কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের দূষণ নিয়ে সচেতনতা আজকের পর্যায়ে ছিল না। কিন্তু কয়লা বিদ্যুতের দূষণ বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি ও আন্দোলনের কারণে অক্সফোর্ডের এই বিদ্যুৎ কেন্দ্র ২০১৩ সালের মার্চ মাসে বন্ধ করে দেয়া হয়। 
 
এনটিপিসির ভয়াবহ ট্র্যাক রেকডর্ : এদিকে, যে ভারতীয় এনটিপিসি’র সাথে যৌথ উদ্যোগে রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মিত ও পরিচালিত হতে যাচ্ছে, সেই এনটিপিসি ভারতের সবচেয়ে দূষণকারী একটি কোম্পানি বলে চিহ্নিত হয়েছে ভারতের একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর সায়েন্স এন্ড এনভায়রেন্ট (সিএসই) এর দ্বারা। সিএসই’র ২০১৫ সালে প্রকাশিত গবেষণা রিপোর্ট অনুসারে, এনটিপিসি’র বদরপুর প্ল্যান্টটি ভারতের সবচেয়ে দূষণকারি বিদ্যুৎকেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।সিএসিই যে ৪২টি কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র নিয়ে গবেষণা করেছে তার মধ্যে ৬টি ছিল এনটিপিসি এবং এই ৬টিরই পারফরেমেন্স খুব খারাপ, এগুলোর রেটিং ১৬ থেকে ২৮ এর মধ্যে যেখানে তুলনামূলক ভাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র ৮০ পর্যন্ত রেটিং পেতে পারে।
রিপোর্ট থেকে দেখা গেছে, এনটিপিসি’র সিপাত প্ল্যান্ট থেকে লাইলাগর নদী দূষিত হচ্ছে, নির্ধারিত সীমার চেয়ে বেশি সালফার সমৃদ্ধ কয়লা ব্যবহার করছে এনটিপিসি,সালফার ডাই অক্সাইডের উদগীরণ নির্ধারিত সীমার চেয়ে বেশি হচ্ছে ইত্যাদি।
 
রামপাল প্রকল্প নিয়ে শুভঙ্করের ফাঁকি ও বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতা : রামপাল তাপবিদ্যুৎ প্রকল্পের পক্ষে নানা ধরণের অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। এর মধ্যে কিন্তু বেশ কিছু শুভঙ্করের ফাঁকি লুকিয়ে আছে। পরিবেশবাদী ও বিশেষজ্ঞরা যখন দাবি করলো যে কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র বন ও পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর, তখন সরকারের পক্ষ থেকে বলা হলো বিশ্বের ২৬% বিদ্যুৎ উৎপাদন হয় কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে। প্রকৃত তথ্য হলো, গত ৬ বছরে কয়লা বিদ্যুৎ উৎপাদন ৫ শতাংশ কমেছে। বিশ্বব্যাংকের গবেষণা থেকে জানা যাচ্ছে বিশ্বের বেশীরভাগ দেশেই বিদ্যুৎ উৎপাদনে কয়লার শতকরা হার দিন দিন কমছে। ডিউক ইউনিভার্সিাটর গবেষণা অনুসারে দেখা যাচ্ছে ২০০৯ সালে আমেরিকায় কয়লা থেকে ৪৪ শতাংশ বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়েছে। এটা ১৯৯০ সালের তুলনায় ৮ শতাংশ কম। কারণ পরিবেশগত কারণে তারা ধীরে ধীরে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কমিয়ে দিচ্ছে। আর ২০১১ সালে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ৩০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম হয়েছে। একটি কোয়ালিশনের গবেষণা অনুসারে দেখা যাচ্ছে, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র হলো আমেরিকার পানি দুষণের সবচেয়ে বড় কারণ। আমেরিকায় প্রতিবছর ২৪০০০ মানুষ মারা যায় শুধুমাত্র কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দুষণের কারণেই। এমনকি আমেরিকাতে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুতকেন্দ্রের বিরুদ্ধে আন্দোলনও হচ্ছে। আমেরিকার টেক্সাসে প্রস্তাবিত ৮ টি কোল প্ল্যান্ট বাতিল হয়ে গেছে। 
 
জাপানেও বিদ্যুৎ উৎপাদনে কয়লার ব্যবহার যে ধীরে ধীরে কমছে। রাশিয়ায় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ ১৯ শতাংশ। জার্মানিতে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুতের শতকরা হার ৪৬ দশমিক ৭ শতাংশ। ২০১১ সালে লিগনাইট ও হার্ড কোল মিলিয়ে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ এর শতকরা হার হয় ৪৩ শতাংশ, যা ২০০৫ থেকে ৩ দশমিক ৭ শতাংশ কম। পরিবেশগত ঝুঁকি এড়াতে ২০২৫ সালের মধ্যে কয়লাভিত্তিক বিদুৎকেন্দ্র বন্ধের পরিকল্পনা করেছে যুক্তরাজ্য। সম্প্রতি দেশটির জ্বালানি সচিব অ্যাম্বার রুড এ কথা জানিয়েছেন। এজন্য ২০২৩ সালের মধ্যেই এসব কারখানায় বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ করা হবে বলেও জানানো হয়েছে। কয়লাভিত্তিক কেন্দ্র বন্ধের পর বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদনের হার বাড়ানো হবে যুক্তরাজ্যে।
https://goo.gl/i0HWTp