২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, রবিবার
Choose Language:

সর্বশেষ
চলতি বিষয়াবলি
অথচ দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে জনবল নিচ্ছে ডিএসসিসি
২৮ জানুয়ারি ২০১৭, শনিবার,
প্রায় দেড় বছর আগে ২০১৫ সালের অক্টোবরে ৫টি পদে ৯৫ জনকে নিয়োগ দিতে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছিল ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি)। এরপর ২০১৬ সালের এপ্রিলে হয় চাকরি প্রার্থীদের লিখিত পরীক্ষা। এতে উত্তীর্ণদের একই বছরের মে মাসে মৌখিক ও ব্যবহারিক পরীক্ষাও নেয়া হয়। তারপর কেটে গেছে প্রায় আট মাস। এখনও ওই পরীক্ষার চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হয়নি। 

 
এদিকে, ওই নিয়োগ প্রক্রিয়া চুড়ান্ত না করেই দফায় দফায় অতি গোপনে চলছে দৈনিক হাজিরার ভিত্তিতে (মাস্টাররোলে) নিয়োগ। ইতোমধ্যে কয়েক ধাপে ৩২ জনকে নিয়োগ দিয়েছে ডিএসসিসি। এসব নিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো প্রকার বিজ্ঞপ্তিও প্রকাশ করা হয়নি। সংস্থার শীর্ষ পর্যায়ের তদারকীতেই এ নিয়োগ চলছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
 
জানা যায়- মাস্টাররোলে নিয়োগকৃতরা ক্লিনার পদে নিয়োগ পেয়ে কাজ করছেন বিভিন্ন আঞ্চলিক কার্যালয়ে। ইতোপূর্বেও এ পদে নিয়োগ পেয়ে তারা ড্রাইভার, কম্পিউটার অপারেটর, পিয়নসহ বিভিন্ন পদে কাজ করছেন।
 
নিয়োগ দেয়া ব্যক্তিদের সিটি কর্পোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধীনে মৃত্যুজনিত কারণে শূন্যপদে নিয়োগ দেয়া হলেও পরবর্তীতে আঞ্চলিক অফিসের রাজস্ব, প্রশাসন, হিসাব, পরিবহনসহ বিভিন্ন শাখায় নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। অথচ বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের কর্মকর্তারা এ বিষয়ে কিছুই জানেন না। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তারা।
 
এদিকে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা শেষ করার পরেও কর্পোরেশনের ৫টি পদের বিপরীতে ৯৫ জন জনবল নিয়োগের চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা না করায় অপেক্ষারত চাকরিপ্রার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। ফলাফলের খবর জানতে প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে এসে নিয়োগের বিষয়ে খোঁজখবর জানার চেষ্টা করছেন তারা। কিন্তু ডিএসসিসি কর্তৃপক্ষ ওই নিয়োগের কোনো খবরই দিতে পারছে না। 
 
সূত্র জানায়- ২০১৫ সালের অক্টোবরে ৫টি পদের বিপরীতে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে ডিএসসিসি। এতে ওয়ার্ড সচিব পদে ৩২, অফিস সহকারী কাম-মুদ্রাক্ষরিক পদে ১৭, হিসাব সহকারী ২২, কেয়ারটেকার ৯ ও পরিচ্ছন্ন পরিদর্শক পদে ১৫ জনসহ মোট ৯৫ জনকে নিয়োগ দেয়ার কথা ছিল। এসব পদের বিপরীতে প্রায় ২০ হাজার আবেদনপত্র জমা পড়ে। এর মধ্যে ১১ হাজার ৩৫৫ জনের আবেদনপত্র চূড়ান্ত করে পরীক্ষা নেয়া হয়। 
 
গত বছরের এপ্রিলে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের মে মাসে মৌখিক ও ব্যবহারিক পরীক্ষা নেয়া হয়। লিখিত পরীক্ষার সময়ও বিপুল সংখ্যক পরীক্ষার্থী প্রবেশপত্র পাননি বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। মৌখিক পরীক্ষার পর কয়েক হাজার চাকরিপ্রার্থী নিয়োগের অপেক্ষায়। কিন্তু গত আট মাসেও এসব পদে নিয়োগ দেয়নি ডিএসসিসি। 
 
ডিএসসিসির সচিব খান মো. রেজাউল করিম বলেন, ‘নিয়োগের জন্য যে মেয়াদ দেয়া ছিল তা শেষ হয়ে গেছে। এ কারণে ওইসব পদে নিয়োগ দেয়া যাচ্ছে না। নতুন করে মেয়াদ বাড়ানোর জন্য মন্ত্রণালয়ে ফাইল পাঠানো হবে। অনুমোদনের পর মেয়াদ বাড়লে তখন এসব পদে উত্তীর্ণদের নিয়োগ দেয়া হবে।’
 
অপর একটি সূত্রে জানা যায়, এ ৫টি পদে ৯৫ জনের নিয়োগের জন্য মন্ত্রণালয় থেকে ডিএসসিসিকে গত বছরের অক্টোবর পর্যন্ত সময় বেধে দেয়া হয়েছিল। কিন্তু ওই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ডিএসসিসি নিয়োগ প্রক্রিয়া অজ্ঞাত কারনে চুড়ান্ত করতে পারে নি।
 
অথচ পরীক্ষার মাধ্যমে এসব চাকরিপ্রার্থীর নিয়োগ দেয়া বন্ধ থাকলেও পরীক্ষা ছাড়াই মাস্টাররোলে একের পর এক নিয়োগ দেয়া অব্যাহত রেখেছে সিটি কর্পোরেশন। গত অক্টোবর ও নভেম্বরে দুই দফায় ১৭ জনকে নিয়োগ দেয় ডিএসসিসি। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের মৃত্যুজনিত শূন্য পদে এসব নিয়োগ দেয়া হলেও তাদেরকে বিভিন্ন আঞ্চলিক অফিসের বিভিন্ন শাখায় পদায়ন করা হয়। এরপর গত ১ ডিসেম্বর আবারও ১৫ জনকে মাস্টাররোলে নিয়োগ দেয় ডিএসসিসি। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধীনে দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে (মাস্টাররোল) তাদের নিয়োগ দেয়া হয়। ৪, ৫ ও ৬ ডিসেম্বর এসব কর্মচারী কাজে যোগদান করে। ২১ ডিসেম্বর তাদেরকে ৪টি আঞ্চলিক অফিসের রাজস্ব, প্রশাসন, হিসাব, পরিবহন, সংস্থাপন ও সমাজকল্যাণ শাখায় পদায়ন করা হয়। 
 
জানতে চাইলে ডিএসসিসির সচিব খান মো. রেজাউল করিম বলেন, ‘সিটি কর্পোরেশনে অনেক শূন্য পদ রয়েছে। আমরা সেসব পদে মাস্টাররোলে নিয়োগ দিচ্ছি। এ ধরনের নিয়োগে পরীক্ষার প্রয়োজন হয় না। যে দফতরের অধীনে নিয়োগ দেয়া হচ্ছে সে বিভাগকেও জানানোর প্রয়োজন নেই।’
https://goo.gl/6vXUkh