১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, সোমবার
Choose Language:

সর্বশেষ
চলতি বিষয়াবলি
লিটনের বোনের অনেক প্রশ্ন
২৬ জানুয়ারি ২০১৭, বৃহস্পতিবার,
•বাড়ির মত নিরাপদ জায়গা হত্যার জন্যে বিবেচিত হলো কেন?
•পরিচয় না দিয়ে খুনিরা কি করে বৈঠকখানায় ঢুকল?
•লিটনের শেফার্ড কুকুর কোথায় ছিল?
•পাঁচটি গুলির পরও কেউ এলো না কেন?
•পরীক্ষিত সহযোদ্ধারা দূরে সরে গিয়েছিল?
•এক ঘণ্টা জীবিত থাকলেও লিটন খুনি সম্পর্কে কিছু বলেনি?
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে সংসদ সদস্য মনজুরুল ইসলাম লিটনের খুনিদের অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবিতে আজ বুধবার বেলা সাড়ে ১১টায় সংবাদ সম্মেলন করেন তার বড় বোন আফরুজা বারী। বক্তব্যে অনেক প্রশ্ন রাখেন তিনি।
গাইবান্ধা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত সম্মেলনে আফরুজা বারী লিখিত বক্তব্যে বলেন, ‘আমার ভাইকে হত্যার ২৫ দিন অতিবাহিত হয়ে গেল, এখন পর্যন্ত হত্যাকাণ্ডের পেছনের কুশীলব ধরাছোঁয়ার বাইরে। তদন্তের উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি নেই। আমাদের ধারণা, পরিকল্পিতভাবে ভাড়াটে খুনি দ্বারা এই হতাকাণ্ড সংঘটিত করা হয়। এর পেছনের মদদদাতা, পৃষ্ঠপোষক, পরিকল্পনাকারী, অর্থের জোগানদাতারা কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, দল বা কোনো আদর্শিক অপশক্তি হতে পারে।’ প্রথম আলো।
আফরুজা বারী প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘নিজ বাড়িতে মানুষ সবচেয়ে নিরাপদ। অথচ খুনিরা এই নিরাপদ জায়গাকে বেছে নিয়েছে খুনের জন্য। এই বাড়ি খুনিদের জন্য বিবেচিত হলো কেন? কীভাবে খুনিরা পরিচয় না দিয়েই বৈঠকখানায় ঢুকে গেল? লিটনের অতন্দ্রপ্রহরী জার্মান শেফার্ড কুকুর দুটো ওই সময় কোথায় ছিল? হানাদাররা পাঁচটি গুলী করার পরও কেন কেউ লিটনের কাছে এল না? কেন লিটন গুলীবিদ্ধ হওয়ার পর কাউকে কাছে না পেয়ে বাড়ির ভেতরে আঙিনার দিকে দৌড় দিল? তার ঘনিষ্ঠ দলীয় পরীক্ষিত সহযোদ্ধারা কেউই তার পাশে ছিল না কেন? তারা কি দূরে সরে গিয়েছিল? আমার ভাই গুলীবিদ্ধ হওয়ার পর এক ঘণ্টা জীবিত ছিল, তখন কেন খুনিদের পরিচয়ের বিষয়ে কোনো প্রশ্ন উঠল না, তখন লিটন সচেতন ও সজ্ঞানে ছিল।’
লিটনের বোন বলেন, ‘এই হত্যাকাণ্ডের আগে ও পরে কিছু ঘটনাক্রম আমাদের বিচলিত করছে। এসব প্রশ্নের উত্তর আমাদের আশ্বস্ত করবে।’
তদন্তের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি না হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করে সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদ্ঘাটন করা হোক। আমার ভাইকে আমরা আর ফেরত পাব না। কিন্তু খুনিদের বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করালেই তার আত্মা শান্তি পাবে। কিন্তু তদন্তে অগ্রগতি না হওয়ায় আমরা হতাশ।’
এক প্রশ্নের জবাবে আফরুজা বারী বলেন, ‘মামলাটি সিআইডি পুলিশের কাছে দেব কি না, সে বিষয়ে কিছু ভাবিনি। তবে মামলাসহ সার্বিক বিষয়গুলো প্রধানমন্ত্রী পর্যবেক্ষণ করছেন, এ বিষয়ে তিনি সিদ্ধান্ত নেবেন।’ আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এই মুহূর্তে আমরা উপনির্বাচন নিয়ে ভাবছি না। আমরা চাই দ্রুত খুনিরা ধরা পড়ুক। তাদের শাস্তি হোক।’
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য মনজুরুল ইসলামের ছোট বোন ও মামলার বাদী ফাহমিদা বুলবুল, চাচাতো ভাই তৌফিকুর রহমান, ফুফাতো ভাই আনিছুর রহমান, ভাগনি মেহের নিগার ও চাচাতো বোন শিউলি আক্তার।
গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় সুন্দরগঞ্জ উপজেলার সর্বানন্দ ইউনিয়নের সাহাবাজ গ্রামে নিজ বাড়িতে দুর্বৃত্তদের গুলীতে সংসদ সদস্য মনজুরুল ইসলাম খুন হন।
http://www.dailysangram.com/post/269041-%E0%A6%B2%E0%A6%BF%E0%A6%9F%E0%A6%A8%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%AC%E0%A7%8B%E0%A6%A8%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%85%E0%A6%A8%E0%A7%87%E0%A6%95-%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%B6%E0%A7%8D%E0%A6%A8