২০ নভেম্বর ২০১৯, বুধবার
Choose Language:

সর্বশেষ
চলতি বিষয়াবলি
খেলাপি ঋণে কমে যাচ্ছে ব্যাংকের মুনাফা: পরিচালনের চার ভাগের এক ভাগে নেমে যাবে প্রকৃত মুনাফা
২৬ জানুয়ারি ২০১৭, বৃহস্পতিবার,
খেলাপি ঋণে ক্ষয় হয়ে যাচ্ছে ব্যাংকের মুনাফা। বছর শেষে যে পরিমাণ পরিচালন মুনাফা দেখানো হচ্ছে খেলাপি ঋণের প্রভিশন সংরক্ষণ ও করপোরেট ট্যাক্স পরিশোধে তার তিন-চতুর্থাংশই চলে যাচ্ছে। ডিভিডেন্ড দেয়ার মতো প্রকৃত মুনাফা থাকছে চার ভাগের এক ভাগ। ব্যাংকগুলো থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
এ বিষয়ে দেশের তৃতীয় প্রজন্মের একটি ব্যাংকের এমডি জানিয়েছেন, সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের আকৃষ্ট করতে ব্যাংকগুলো অনেকটা ঘটা করে তাদের পরিচালন মুনাফা প্রচার করে; কিন্তু খেলাপি ঋণের প্রভিশন সংরক্ষণ করতে গিয়ে কমে যায় তাদের মুনাফা। তিনি জানান, বেশির ভাগ ব্যাংকের প্রকৃত মুনাফা পরিচালন মুনাফার চার ভাগের এক ভাগের নিচে নেমে যাবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, দেশী-বিদেশী মিলে গত এক বছরে ব্যাংকগুলো নিট মুনাফা দেখিয়েছে ২৩ হাজার ১৪৩ কোটি টাকা। কিন্তু প্রকৃত মুনাফা ৫ হাজার ৭শ’ কোটি টাকায় নেমে যাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এক সূত্র জানিয়েছে, ইতোমধ্যে খেলাপি ঋণ বেশি এমন আট ব্যাংকের সাথে বৈঠক করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ওই আট ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহীদের সাথে বৈঠকে কিভাবে খেলাপি ঋণ কমিয়ে আনা যায় সে বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। ব্যাংকগুলোর মধ্যে তিনটিই সরকারি খাতেরÑ জনতা, অগ্রণী ও রূপালী ব্যাংক। আর বেসরকারি খাতের পাঁচ ব্যাংকের মধ্যে ছিল ডাচ্-বাংলা ব্যাংক, উত্তরা ব্যাংক ও এক্সিম ব্যাংক। বৈঠকে খেলাপি ঋণ কমিয়ে আনা, বিশেষ করে নগদ আদায়ের ওপর জোর দেয়ার জন্য ব্যাংকগুলোকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে বলে ওই সূত্র জানিয়েছে।
জানা গেছে, ব্যাংকগুলো নানা উপায়ে খেলাপি ঋণ গোপন করছে। একই সাথে আয় বেশি দেখাতে হিসাবের নানা কারসাজি করছে। আর এতেই প্রভাব পড়ছে পরিচালন মুনাফায়। কিন্তু প্রকৃত হিসেবে তা সমন্বয় করতে কমে যাচ্ছে প্রকৃত মুনাফা। 
দেশের প্রথম প্রজন্মের একটি ব্যাংকের এমডি জানিয়েছেন, ব্যাংকগুলো নানা উপায়ে হিসাবের কারসাজি করে থাকে। যেমন খেলাপি ঋণের বিপরীতে অর্জিত সুদ ব্যাংকগুলো আয় খাতে নিতে পারে না। এটি আলাদা হিসাবে রাখতে হয়। খেলাপি ঋণ আদায় হলে এর বিপরীতে আয় মুনাফা হিসাবে দেখাতে পারে। কিন্তু বেশির ভাগ ব্যাংকই বার্ষিক মুনাফার লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য খেলাপি ঋণের বিপরীতে স্থগিত আয় মুনাফা হিসাবে দেখায়। অপর দিকে মেয়াদি আমানতের বিপরীতে বার্ষিক সুদ বা মুনাফার অংশ ‘পেয়েবল’ হিসাবে প্রভিশন করতে হয়। কোনো কোনো ব্যাংক ওই পেয়েবল হিসাবে রাখা টাকাকে আয় খাতে প্রদর্শন করছে। এ ছাড়া ঋণের বিপরীতে সম্ভাব্য আয় নির্ধারণে ‘রিসিভেবল’ হিসাবে টাকা দেখানো হয়। ভবিষ্যতে আয় হতে পারে এমন একটি অঙ্ক রিসিভেবল আয় হিসাবে পণ্য হয়। কিন্তু ওই আয় প্রকৃতপে না হলেও তা আয় হিসাবে প্রদর্শন করছে ব্যাংকগুলো। এভাবে মুনাফা বেশি দেখাতে নানা কারসাজির আশ্রয় নিচ্ছে ব্যাংকগুলো। 
বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে খেলাপি ঋণ ও মুনাফার হিসাবে তদারকি করতে গেলে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই এসব গরমিল বেরিয়ে যাচ্ছে। ফলে গোপন করা আয় ও খেলাপি ঋণের একটি অংশ বের হয়ে যাচ্ছে। খেলাপি ঋণের বিপরীতে প্রভিশন সংরক্ষণ ও আয় সমন্বয় করতে গিয়ে কমে যাচ্ছে ব্যাংকের প্রকৃত আয়। ফলে সব মিলে বছর শেষে ব্যাংকগুলো যে পরিমাণ পরিচালন মুনাফা দেখাচ্ছে প্রকৃত মুনাফা তার চার ভাগের এক ভাগে নেমে যাচ্ছে। আর এভাবেই প্রতারিত হচ্ছে সাধারণ গ্রাহক। বিষয়টিকে ভালোভাবে নজরে নিয়ে ব্যাংকের মুনাফার জালিয়াতি বন্ধ করা প্রয়োজন বলে মনে করেন ব্যাংক বিশ্লেষকেরা। তাদের মতে, মুনাফার জালিয়াতি ঠেকাতে না পারলে ডিভিডেন্ডের মাধ্যমে ব্যাংকের মূলধন ক্ষয় হয়ে যাবে। আর এর প্রভাব শুধু ব্যাংকিং খাতেই নয় পুরো অর্থনীতিতে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
http://www.dailynayadiganta.com/detail/news/190511