১৭ নভেম্বর ২০১৯, রবিবার
Choose Language:

সর্বশেষ
চলতি বিষয়াবলি
অফিস পরিবর্তনে তাড়াহুড়ার জের: অব্যবস্থাপনায় অস্বস্তি ইসি কর্মকর্তাদের
২৬ জানুয়ারি ২০১৭, বৃহস্পতিবার,
নতুন ভবনে নির্বাচন কমিশন স্থানান্তর করা হলেও এখনো অগোছাল। ইনসেটে নিজস্ব ভবন : নয়া দিগন্ত
নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নিজস্ব ভবন নির্মাণ প্রকল্প শেষ হওয়ার ছয় মাস আগেই অফিস স্থানান্তর হয়েছে নতুন ভবনে। আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি শেষ হচ্ছে চলমান কমিশনের মেয়াদ। তাই নিজস্ব ভবনে কমিশনারদের অফিস করার ইচ্ছে পূরণেই তাড়াহুড়ো করে স্থানান্তর করা হয়। এতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি না থাকায় অব্যবস্থাপনার মধ্যে অস্বস্তিতে অফিস করছেন ইসি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
গতকাল সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, ১১তলা ভবনটিতে সাতটি লিফটের মধ্যে মাত্র একটি সংযোজন করা হয়েছে, এখনো লাগানো হয়নি ইন্টারনেটসহ টেলিফোন লাইন। নবনির্মিত নির্বাচন ভবনটি এখনো অফিস করার উপযুক্ত নয়। কর্মকর্তাদের টেবিল-চেয়ারসহ অফিস সহায়ক সরঞ্জামের বেশির ভাগ জিনিসই সরবরাহ করা হয়নি। এখনো বস্তাবন্দী অবস্থায় রয়েছে পুরনো ভবন থেকে আনা ফাইলপত্র। বেশির ভাগ রুমের দরজা-জানালাও লাগানো হয়নি। ক্যান্টিন ও মিডিয়া সেন্টারের জায়গা ঠিক হয়নি। এ ছাড়া পর্যাপ্তসংখ্যক সুইপার নিয়োগ দেয়া হয়নি। যার কারণে ধুলোবালি আর চেয়ার টেবিল ছাড়াই অস্বস্তিতে অফিস করছে কমিশনের কর্মকর্তারা।
ইসি কর্মকর্তারা জানান, ইসির নিজস্ব ভবন প্রকল্পের মেয়াদ রয়েছে আরো ছয় মাস। নতুন ভবনের সব কাজ পরিপূর্ণভাবে শেষ হওয়ার আগেই কমিশনারদের বাসনা পূরণে নিজস্ব ভবনে অফিস স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেয় ইসি সচিবালয়। নতুন ভবনের প্রথম ডিজাইনে ছিল কেন্দ্রীয় শীতাতপ ব্যবস্থা। কিন্তু কমিশন এটি বাদ দিয়ে দেয়। ফলে ভবনে বাতাস ঢোকার কোনো ব্যবস্থা না থাকায় প্রতিটি ফোর দ্রুত গরম হয়ে যাচ্ছে। বিঘিœত হচ্ছে স্বাভাবিক কাজকর্ম।
কাজী রকীবউদ্দিন আহমদের নেতৃত্বাধীন কমিশন গত ২২ জানুয়ারি থেকে নতুন ভবনে অফিস করছে। এর আগেই ইসি সচিবালয় ও নির্বাচন কমিশনের সব ধরনের সামগ্রী ‘নির্বাচন ভবনে’ স্থানান্তর করা হয়েছে। কিন্তু নতুন ভবনে গিয়ে দেখা যায়, নির্দিষ্ট কোনো রুম না থাকায় বেশির ভাগ সেকশনের মালামাল ফাঁকা ফোরে স্তুপ করে রাখা হয়েছে।
বর্তমান কমিশনের তাড়াহুড়ার মধ্যেই গত ৩১ ডিসেম্বর নতুন বহুতল ভবনটির উদ্বোধন করেন রাষ্ট্রপতি মো: আব্দুল হামিদ। সে সময় কমিশনারদের কর্মকাণ্ড নিয়ে রাষ্ট্রপ্রতিও ােভ প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন। 
ইসি কার্যালয় স্থানান্তর ইস্যুতে বিতর্কিত হয়েই বিদায় নিচ্ছে কাজী রকিব উদ্দিন কমিশন। এ কমিশনের আমলে জনগণের আশা-আকাক্সক্ষার কোনো প্রতিফলনই ঘটেনি। অনেকগুলো নির্বাচন আয়োজন নিয়ে রয়েছে ব্যাপক বিতর্ক। এর মধ্যেই বিদায় বেলায় সাফল্যের খাতায় নিজেদের নাম লিখে রাখতে অসম্পূর্ণ ভবনে নির্ধারিত সময়ের ছয় মাস আগেই কমিশনের নতুন ভবনটি উদ্বোধন করা হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিøষ্টরা।
ইসি কর্মকর্তারা বলছেন, অসমাপ্ত ভবনে ইসির মতো একটি বড় প্রতিষ্ঠনের কাজ চালানো সম্ভব হচ্ছে না। কয়েকজন কমিশনার ছাড়া আর কেউ অসমাপ্ত ভবনে এত বড় প্রতিষ্ঠানের কাজ করার পে না। ভবনের কাজ শেষ না হতেই শুধু কমিশনারদের কয়েকটা রুম ঠিক করে নতুন ভবনে অফিসিয়াল কার্যক্রম শুরু করেছে। ফাঁকা ফোরে বসে আমরা অফিসের কাজ করছি। ভবনের কাজ সম্পূর্ণ করতে আরো ছয় থেকে সাত মাস সময় লাগবে। কমিশনের হঠকারিতার কারণেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
উপসচিবদের জন্য বরাদ্দকৃত কগুলোতেও রয়েছে অব্যবস্থাপনা। নির্বাচন কমিশন সচিবালয় অন্তত ১০টি শাখা নিয়ে কাজ করে। এক শাখার উপসচিব ক পেয়েছেন এক ফোরে, কিন্তু তার শাখার অন্যরা ভিন্ন ফোরে। যেমন আইন শাখা ষষ্ঠ তলায়, কিন্তু যুগ্ম সচিব ও উপসচিব বসবেন চতুর্থ তলায়।
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন সচিব এম আব্দুল্লাহ বলেন, কারিগরি কাজে কিছু সমস্যা রয়েছে। তবে সব সমস্যা খুব তাড়াতাড়িই সমাধান হবে।
প্রকল্প পরিচালক এস এম আশফাক হোসেন বলেন, এ প্রকল্প সম্পন্ন হওয়ার কথা আগামী জুনের মধ্যে। এ েেত্র ঠিকাদাররা শেষ কিস্তির বিল পাবেন আগামী এপ্রিলে। তার প্রায় চার মাস আগেই শেষ করতে হয়েছে কাজ। বাংলাদেশে সাধারণত বেশির ভাগ প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও কাজ বাকি থাকে। কিন্তু নির্বাচন ভবনের কাজ মেয়াদ শেষ হওয়ার ছয় মাস আগেই সম্পন্ন হলো।
পাকিস্তান আমলে সেন্ট্রাল ইলেকশন কমিশনারের অফিস ছিল ইসলামাবাদে এবং তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের প্রভিনশিয়াল ইলেকশন কমিশনের অফিস ছিল ঢাকার মোমেনবাগে। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে মুক্তিযোদ্ধারা প্রভিনশিয়াল ইলেকশন কমিশনের অফিস বোমা মেরে উড়িয়ে দেন। এরপর তা সচিবালয়ে স্থানান্তরিত হয়। ১৯৭৩ সালের শেষ দিকে পরিকল্পনা কমিশনের ৫ ও ৬ নম্বর ব্লকে কাজ শুরু করে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন। স্বাধীনতা অর্জনের ৪৫ বছর পার হলেও এতদিন নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব কোনো ভবন ছিল না।
২১৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নতুন ভবন তৈরির কাজ শুরু হয় ২০১১ সালে। একটি প্রকল্পের আওতায় নির্মিত হয় দুইটি বেজমেন্ট ও ১২ তলাবিশিষ্ট ১.২২ লাখ বর্গফুট আয়তনের ইটিআই ভবন। এ ছাড়া দুইটি বেজমেন্ট ও ১১ তলাবিশিষ্ট ২.৫৮ লাখ বর্গফুট আয়তনের ‘নির্বাচন ভবন’ নির্মাণ করা হয়েছে।
http://www.dailynayadiganta.com/detail/news/190510