১৯ নভেম্বর ২০১৯, মঙ্গলবার
Choose Language:

সর্বশেষ
চলতি বিষয়াবলি
ডিসেম্বর পর্যন্ত অগ্রগতি প্রতিবেদন: সড়কের ১৭ প্রকল্পে জটিলতা
২৬ জানুয়ারি ২০১৭, বৃহস্পতিবার,
|| কাক্সিক্ষত অগ্রগতি নেই ৫টিতে
 
 
|| ছয় মাসে ১২ প্রকল্পে এক টাকাও খরচ হয়নি
 
|| ‘জটিলতা নেই, প্রক্রিয়াগত কারণেই এমন হচ্ছে’
 
সড়ক ও জনপথ অধিদফতরের ১৭ প্রকল্প বাস্তবায়নে জটিলতা বিরাজ করছে। এর মধ্যে ১২টি প্রকল্পে চলতি অর্থবছর যে বরাদ্দ রয়েছে ছয় মাসে তার ১ টাকাও ব্যয় হয়নি। ১৭টি প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ২২ হাজার ২৩৬ কোটি ২২ লাখ টাকা। আবার এমনও হয়েছে- এ প্রকল্পগুলোর কোনোটির মেয়াদ শেষ হলেও কাক্সিক্ষত অগ্রগতি হয়নি। এ অবস্থায় প্রকল্পগুলো সময়মতো বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। গত ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত অধিদফতরের তৈরি করা এক অগ্রগতি প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এ চিত্র। প্রকল্পের এ অবস্থার পেছনে রয়েছে নানা কারণ। এর মধ্যে সময়মতো বরাদ্দ না পাওয়া, দরপত্রের জটিলতা, প্রক্রিয়াগত দীর্ঘসূত্রতা উল্লেখযোগ্য।
 
এ প্রসঙ্গে সড়ক ও জনপথ অধিদফতরের সচিব এমএএন ছিদ্দিক যুগান্তরকে বলেন, একেকটা প্রকল্পের সমস্যা একেক রকম। তারপরও আমরা মনে করি ওয়ার্ক প্ল্যান অনুযায়ী প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি খারাপ নয়। আর যেসব নতুন প্রকল্প নেয়া হয়েছে সেগুলোর বিভিন্ন প্রক্রিয়া থাকে। অর্থ বরাদ্দের ক্ষেত্রে এই প্রক্রিয়া করতে অনেক সময় চলে যায়। তাই প্রথম বছরে খুব বেশি কাজ করা যায় না। সেজন্য বরাদ্দও কম রাখা হয়। তিনি চলমান প্রত্যেকটি প্রকল্পের অগ্রগতির সমস্যা তুলে ধরেন এবং নতুন প্রকল্পের প্রক্রিয়ার ব্যাখা দেন।
 
ধীরগতির প্রকল্পের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ঢাকা-চট্টগ্রাম চার লেন প্রকল্প। এটি শুরু হয় ২০০৬ সালে। মেয়াদ বাড়িয়ে করা হয় ২০১৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। এতেও বাস্তবায়ন শেষ না হওয়ায় আরও ৬ মাস মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। প্রকল্পটির মোট ব্যয় ছিল ৩ হাজার ৮১৬ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। এর মধ্যে গত ডিসেম্বর পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে ৩ হাজার ২১০ কোটি ৪৯ লাখ টাকা। এখনও বাস্তবায়ন হার ৮৪ দশমিক ১১ শতাংশ। এ ছাড়া দ্বিতীয় কাঁচপুর, মেঘনা, গোমতী সেতু নির্মাণ এবং বিদ্যমান সেতুসমূহের পুনর্বাসন প্রকল্পটি ২০১৩ সালের এপ্রিলে বাস্তবায়ন শুরু হয়। ২০২১ সালের মধ্যে বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা ছিল। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয় ৮ হাজার ৪৮৬ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। ডিসেম্বর পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে ৯৬০ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। বাস্তবায়ন অগ্রগতি দাঁড়িয়েছে ১১ দশমিক ৩২ শতাংশ। একই অবস্থা গ্রেটার ঢাকা সাসটেইনেবল ট্রান্সপোর্ট প্রজেক্ট (বিআরটি) গাজীপুর-এয়ারপোর্ট প্রকল্পে। এটি ২০১২ সাল থেকে ২০১৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে বাস্তবায়নের কথা ছিল। মোট ব্যয় ধরা হয় ২ হাজার ৩৯ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। ডিসেম্বর পর্যন্ত ব্যয় মাত্র ৫৫ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। বাস্তবায়ন অগ্রগতি ৫ দশমিক ৬৩ শতাংশ। সাসেক রোড কানেকটিভিটি প্রজেক্ট ইমপ্র“ভমেন্ট অব জয়দেবপুর-চন্দ্রা-টাঙ্গাইল-এলেঙ্গা রোড (এন-৪) টু এ ফোর লেন হাইওয়ে শীর্ষক প্রকল্পটি ২০১৩ সালের এপ্রিলে শুরু হয়ে ২০১৮ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে বাস্তবায়নের কথা। বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৩৬৪ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। কিন্তু ডিসেম্বর পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে ১ হাজার ১৭৪ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। অগ্রগতি দাঁড়িয়েছে মাত্র ৩৪ দশমিক ৯১ শতাংশ। ওয়েস্টার্ন বাংলাদেশ ব্রিজ ইমপ্র“ভমেন্ট প্রকল্পটি ২০১৫ সালের অক্টোবর থেকে ২০২০ সালের জুনের মধ্যে বাস্তবায়নের লক্ষ্য রয়েছে। ব্যয় ধরা হয় ২ হাজার ৯১১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। ডিসেম্বর পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে ৫১ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। অগ্রগতি ১ দশমিক ৭৭ শতাংশ। এসব প্রকল্পের অগ্রগতি প্রসঙ্গে সড়ক ও জনপথ বিভাগের সচিব এমএএন ছিদ্দিক যুগান্তরকে বলেন, ঢাকা চিটাগাং চার লেন প্রকল্পের কাজ প্রায় শেষ বলা যায়। কিন্তু আমরা দুষ্ট একটি কোম্পানিকে বের করে দিয়েছি। ফলে ওই টাকাটা এখনও ব্যয় করা যায়নি। এখন সেটি ব্যয় করা সম্ভব হবে। কাঁচপুর-মেঘনা গোমতী সেতু নির্মাণ প্রকল্পের বিষয়ে তিনি বলেন, এটি ডিজাইন বিল্ড অনুমোদন করা হয়েছিল। শুরুতেই নানা প্রক্রিয়া পার করে যখন ওয়ার্ক প্ল্যান করা হয়েছে তখনকার সময় অনুযায়ী অগ্রগতি খারাপ নয়। এখন ২৪ ঘণ্টা কাজ চলছে, লক্ষ্যমাত্রার মধ্যেই আশা করছি এ প্রকল্প শেষ হবে। বিআরটি প্রকল্প প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ প্রকল্পে রাস্তা তৈরির সঙ্গে আরও অন্য কাজ রয়েছে। আমরা শুধু ডিপো ও রাস্তা করছি। সেতু কর্তৃপক্ষ ও এলজিইডি যুক্ত রয়েছে। তারা এখনও কাজ শুরু করেনি। আমাদের ডিপোর কাজ অনেক দূর এগিয়েছে। রাস্তার জন্য কন্ট্রাকটর নিয়োগ হয়েছে। যখন তিন সংস্থারই কাজ শুরু হবে তখন অগ্রগতি অনেক বেশি হবে। সাসেক রোড কানেক্টিভিটি প্রকল্পের অগ্রগতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ প্রকল্পে চারটি প্যাকেজ রয়েছে। তার মধ্যে তিনটির অগ্রগতি ভালো। একটির ক্ষেত্রে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন রাস্তার দু’দিকে ময়লা ফেলেছে। সেই ময়লাগুলো পরিষ্কার করতে সময় লাগছে।
 
অন্যদিকে চলতি অর্থবছরে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ রয়েছে। অথচ ছয় মাস (জুলাই-ডিসেম্বর) পেরিয়ে গেলেও এক টাকাও খরচ হয়নি এমন প্রকল্পগুলো হচ্ছে, জাতীয় মহাসড়ক (এন-৭) মাগুরা শহর অংশের রামগড় মোড় থেকে আবালপুর পর্যন্ত সড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্প। মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৯১ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। চলতি অর্থবছরে বরাদ্দ ৫ কোটি টাকা। কিন্তু ছয় মাসে এক টাকাও ব্যয় হয়নি। সাপোর্ট টু জয়দেবপুর দেবগ্রাম-ভুরতা-মদনপুর সড়ক (ঢাকা-বাইপাস) পিপিপি প্রকল্পের মোট ব্যয় ২৬৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা। এর মধ্যে চলতি অর্থবছরে বরাদ্দ রয়েছে ৫০ কোটি টাকা। কিন্তু ছয় মাসে এক টাকাও ব্যয় হয়নি। একই অবস্থা বিরাজ করছে সাদুল্লাপুর-পীরগঞ্জ-মাদারগঞ্জ সড়ক নির্মাণ প্রকল্পে। এ ছাড়া ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ৯২তম কিলোমিটারে ২১৯ দশমিক ৪৫ মিটার দীর্ঘ সেতু নির্মাণ, গাইবান্ধা-ফুলছড়ি-ভরতখালী-সাঘাটা সড়ক প্রকল্প, শিবালয়-নাগরকান্দি-বালনা-হরিরামপুর সড়ক উন্নয়ন, সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়ক উন্নয়ন,সরাইল-আলফাডাঙ্গা-কাশিয়ানি সড়ক উন্নয়নসহ ফরিদপুর বোয়ালমারী-ফরিদপুর সড়ক উন্নয়ন, ময়মনসিহ গফরগাঁও-টোক সড়কের ৭২তম কিলোমিটারে বানার নদীর ওপর ২৮২ দশমিক ৫৫ মিটার পিসি গার্ডার সেতু নির্মাণ, আন্তঃজেলা সীমান্ত সড়ক নির্মাণ, ফরিদপুর-সালথা-সোনাপুর-মুকসুদপুর ও নেত্রকোনা সড়ক উন্নয়ন এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে ইন্দ্রপুল থেকে চক্সশালা পর্যন্ত বাক সরলীকরণ প্রকল্প। এ প্রকল্পগুলোর এমন অবস্থা প্রসঙ্গে এমএএন ছিদ্দিক বলেন, প্রতিবছর আমরা ২৫-৩০টি নতুন প্রকল্প একনেকে অনুমোদন করিয়ে রাখি। তারপর একনেক থেকে আদেশ জারি হলে আমরাও একটি আদেশ জারি করি এবং অর্থ বিভাগে প্রকল্পের কোডের জন্য আবেদন করি। সেই কোড পেলে পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয় অর্থ বরাদ্দের জন্য। এ প্রক্রিয়া অনেক লম্বা। তাই প্রথম বছর খুব বেশি কাজ করার সুযোগ থাকে না। সূত্র জানায়, চলতি অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) সড়ক ও জনপথ অধিদফতরের আওতায় মোট প্রকল্প নেয়া হয় ১১৩টি। এর মধ্যে দেশীয় অর্থায়নে ১০২টি, বৈদেশিক সহায়তাপুষ্ট ৯টি ও কারিগরি সহায়তা প্রকল্প রয়েছে ২টি। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট বরাদ্দ ধরা হয়েছে ৫ হাজার ৫৬২ কোটি ৮ লাখ টাকা। এর মধ্যে গত ডিসেম্বর পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে ১ হাজার ৪১৫ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। বরাদ্দের বিপরীতে অগ্রগতির হার ২৫ দশমিক ৪৫ শতাংশ।
http://www.jugantor.com/last-page/2017/01/26/96273/%E0%A6%B8%E0%A7%9C%E0%A6%95%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A7%A7%E0%A7%AD-%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%95%E0%A6%B2%E0%A7%8D%E0%A6%AA%E0%A7%87-%E0%A6%9C%E0%A6%9F%E0%A6%BF%E0%A6%B2%E0%A6%A4%E0%A6%BE