১৯ নভেম্বর ২০১৯, মঙ্গলবার
Choose Language:

সর্বশেষ
চলতি বিষয়াবলি
সাংসদ মনজুরুল ইসলাম হত্যা: ভাড়াটে খুনি দিয়ে হত্যাকাণ্ড, দাবি ভাইবোনদের
২৬ জানুয়ারি ২০১৭, বৃহস্পতিবার,
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে সাংসদ মনজুরুল ইসলাম লিটনকে পরিকল্পিতভাবে ভাড়াটে খুনি দিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন তাঁর ভাইবোনেরা। গতকাল বুধবার গাইবান্ধায় এক সংবাদ সম্মেলনে তাঁরা এ দাবি করেন। একই সঙ্গে তদন্তের অগ্রগতি না হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেন তাঁরা।
সংবাদ সম্মেলনে হত্যাকাণ্ডের সময় সাংসদ মনজুরুলের আশপাশ কীভাবে ফাঁকা হয়ে গেল, তাঁর জার্মান শেফার্ড কুকুর দুটি কোথায় ছিল এমন অনেক প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
গতকাল বেলা ১১টায় গাইবান্ধা প্রেসক্লাবে ‘সাংসদ মনজুরুল হত্যার দ্রুত বিচার দাবি’তে আয়োজিত ওই সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সাংসদের বড় বোন আফরোজা বারী। উপস্থিত ছিলেন সাংসদের ছোট বোন ও হত্যার ঘটনায় করা মামলার বাদী ফাহমিদা বুলবুল, চাচাতো ভাই তৌফিকুর রহমান আইনি, ফুফাতো ভাই আনিছুর রহমান, ভাগনি মেহের নিগার ও চাচাতো বোন শিউলী আক্তার।
সংবাদ সম্মেলনে হত্যার সময় সাংসদের কাছাকাছি থাকা ব্যক্তিদের কর্মকাণ্ড নিয়ে পরোক্ষভাবে প্রশ্ন তোলা হয়। হত্যার সময় স্ত্রী খুরশীদা জাহান ও সম্বন্ধী বেদারুল আহসান সাংসদের খুব কাছে ছিলেন। হত্যাকাণ্ডের এক মিনিট আগে তাঁরা সাংসদের ঘর ছেড়ে পাশের ঘরে যান বলে তখন সংবাদমাধ্যমকে বলেছিলেন। তবে গতকালের সংবাদ সম্মেলনে সাংসদের স্ত্রী বা তাঁর পক্ষের কোনো আত্মীয় উপস্থিত ছিলেন না।
সম্মেলনে সাংসদের বড় বোন আফরোজা বারী বলেন, ‘আমার ভাইকে হত্যার ২৫ দিন অতিবাহিত হয়ে গেল, এখন পর্যন্ত হত্যাকাণ্ডের পেছনের কুশীলবরা ধরাছোঁয়ার বাইরে। তদন্তের উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি নেই। আমাদের ধারণা, পরিকল্পিতভাবে ভাড়াটে খুনি দ্বারা এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। এর পেছনের মদদদাতা, পৃষ্ঠপোষক, পরিকল্পনাকারী, অর্থের জোগানদাতারা কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, দল বা কোনো আদর্শিক অপশক্তি হতে পারে।’
আফরোজা বারী বলেন, ‘তবে এই হত্যাকাণ্ডের আগে ও পরে কিছু ঘটনাক্রম আমাদের বিচলিত করেছে। কিছু প্রশ্নের উদ্রেক হয়েছে। নিজ বাড়িতে মানুষ সবচেয়ে নিরাপদ। অথচ খুনিরা এই নিরাপদ জায়গাটিকে বেছে নিয়েছে খুনের জন্য। এই বাড়ি খুনিদের জন্য নিরাপদ বিবেচিত হলো কেন? কীভাবে খুনিরা পরিচয় না দিয়েই বৈঠকখানায় ঢুকে গেল? মনজুরুলের অতন্দ্র প্রহরী জার্মান শেফার্ড কুকুর দুটি ওই সময় কোথায় ছিল? খুনিরা পাঁচটি গুলি করার পরও কেন কেউ কাছে এল না? কেন মনজুরুল গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর কাউকে কাছে না পেয়ে বাড়ির ভেতরে আঙিনার দিকে দৌড় দিল? তার ঘনিষ্ঠ সহযোদ্ধারা কেউই তখন তার পাশে ছিল না কেন?’
আফরোজা বারী প্রশ্ন তোলেন, ‘আমার ভাই গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর এক ঘণ্টা জীবিত ছিল, তখন কেন খুনিদের পরিচয়ের বিষয়ে কেউ কোনো প্রশ্ন তুলল না? তখনো সে (মনজুরুল) সচেতন ও সজ্ঞানে ছিল।’ তিনি বলেন, ‘তবে এসব প্রশ্নের উত্তর আমাদের আশ্বস্ত করবে। কিন্তু তদন্তে অগ্রগতি না হওয়ায় আমরা হতাশ।’
এ ঘটনায় পরিবারের কাউকে সন্দেহ করেন কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে আফরোজা বারী বলেন, ‘সেটা তদন্তেই বের হয়ে আসবে। তদন্ত চলছে, এখন আমরা কিছু বলতে চাই না।’
আরেক প্রশ্নের জবাবে আফরোজা বারী বলেন, ‘মামলাটি সিআইডিতে দেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে আমরা কিছু ভাবিনি। তবে মামলাসহ সার্বিক বিষয়গুলো মাননীয় প্রধানমন্ত্রী পর্যবেক্ষণ করছেন, এ বিষয়ে তিনি সিদ্ধান্ত নেবেন।’
http://www.prothom-alo.com/bangladesh/article/1067485/%E0%A6%AD%E0%A6%BE%E0%A7%9C%E0%A6%BE%E0%A6%9F%E0%A7%87-%E0%A6%96%E0%A7%81%E0%A6%A8%E0%A6%BF-%E0%A6%A6%E0%A6%BF%E0%A7%9F%E0%A7%87-%E0%A6%B9%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%BE%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%A3%E0%A7%8D%E0%A6%A1-%E0%A6%A6%E0%A6%BE%E0%A6%AC%E0%A6%BF-%E0%A6%AD%E0%A6%BE%E0%A6%87%E0%A6%AC%E0%A7%87%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B0