১৯ নভেম্বর ২০১৯, মঙ্গলবার
Choose Language:

সর্বশেষ
বিবৃতি
রামপালে কয়লা ভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ
২৫ জানুয়ারি ২০১৭, বুধবার,
খুলনা জেলার সুন্দরবনের নিকটবর্তী রামপালে কয়লা ভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারী জেনারেল ডাঃ শফিকুর রহমান আজ ২৫ জানুয়ারী প্রদত্ত এক বিবৃতিতে বলেন, “খুলনা জেলার সুন্দরবন সংলগ্ন রামপালে কয়লা ভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের ব্যাপারে সরকারের একগুঁয়েমী বাংলাদেশের জন্য আত্মঘাতি প্রমাণিত হবে। দেশের স্বার্থের কথা চিন্তা করে এ অদূরদর্শী পরিকল্পনা অবিলম্বে বন্ধ করা উচিত। 
 
বাংলাদেশের জন্য ম্যানগ্রোভ সুন্দরবন মহান আল্লাহ পাকের একটি বিশেষ নিয়ামত। বিশ্বের খুব কম দেশেই এ জাতীয় ম্যানগ্রোভ বন রয়েছে। এটি শুধু জীব বৈচিত্র্যই নয়, বাংলাদেশের জনগণের জীবনের অংশ। এর অস্তিত্ব ক্ষতিগ্রস্ত হলে বা বড় ধরনের হুমকির সম্মুখীন হলে মহান আল্লাহ তায়ালার এ নিয়ামত চিরতরে হারিয়ে যাবে। এ ধরনের কোন পদক্ষেপ নেয়া মোটেই ঠিক হবে না। এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের এ বিশাল সম্পদ হুমকি কিংবা দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে।
 
সরকার যখন থেকে ভারতের সহযোগিতায় সুন্দরবনের নিকটবর্তী রামপালে কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের আত্মঘাতি পরিকল্পনা শুরু করেছে তখন থেকেই বাংলাদেশের পরিবেশ বিজ্ঞানী, রাজনীতিবিদ, বুদ্ধিজীবী, সুশীল সমাজসহ দেশের আপামর জনগণ এবং বিশ্বের পরিবেশ বিজ্ঞানী ও পরিবেশ সংরক্ষণ স্বার্থ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো দফায় দফায় তাদের উদ্বেগ প্রকাশ করে এ অদূরদর্শী পরিকল্পনা বন্ধের আহ্বান জানিয়ে আসছে। কিন্তু সরকার জাতীয় স্বার্থ বিরোধী ঐ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য একগুঁয়েমী করেই যাচ্ছে। 
 
এই দেশ ও সভ্যতা আল্লাহ তায়ালার ইচ্ছায় যুগ যুগ ধরে টিকে থাকবে। কিন্তু কোন সরকারই চিরস্থায়ী হবে না। এক সরকার বদল হলে আর একটি সরকার আসবে। কিন্তু সুন্দর বনের মত এমন অমূল্য সম্পদ ধ্বংস হয়ে গেলে আমরা তা আর কোন দিন ফিরে পাব না। 
 
উল্লেখ্য যে, ভারতের ন্যাশনাল থারমাল পাওয়ার করপোরেশন (এনটিপিসি) তার নিজ দেশের মধ্যপ্রদেশে ১৩২০ মেগাওয়াটের একটি কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের প্রস্তাব দিয়ে প্রত্যাখাত হয়েছে। ২০০৭ সালে রাজীব গান্ধী ন্যাশনাল পার্ক থেকে ২০ কি:মি: দূরে ১ হাজার মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করার পরিকল্পনা করে। জনগণের তীব্র বিরোধিতার কারণে ২০০৮ সালে ভারত সরকার এ পরিকল্পনা বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে। যেখানে ভারত জনস্বার্থে কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে, সেখানে বাংলাদেশের রামপালে কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করার পরিকল্পনা করছে কার স্বার্থে? 
 
প্রস্তাবিত রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি সুন্দরবনের সন্নিকটে। সুন্দরবনের এত কাছাকাছি এলাকায় কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা কিছুতেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে প্রতিদিন প্রায় ১৪২ টন বিষাক্ত সালফার ডাই অক্সাইড (বছরে ৫১ হাজার ৮৩০ টন) এবং ৮৫ টন বিষাক্ত নাইট্রোজেন ডাই অক্সাইড (বছরে ৩১ হাজার ২৫ টন) নির্গত হবে। এ বিশাল পরিমাণ বিষাক্ত গ্যাস বাতাসে সালফারের পরিমাণ বাড়িয়ে দিবে। ফলে প্রাকৃতিক পরিবেশ ভয়ানক বিপর্যয়ের মধ্যে পড়বে এবং সুন্দরবন ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকায় জীব বৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হবে।
 
সুন্দরবন যদি ধ্বংস হয়ে যায় তাহলে বাংলাদেশের অপূরণীয় ক্ষতি হতে বাধ্য। সুন্দরবনের উপর বাংলাদেশের ৩৫/৪০ লক্ষ লোকের জীবন-জীবিকা নির্ভর করছে। সুন্দরবন প্রাকৃতিক দুর্যোগ, ঘূর্ণি ঝড়, আইলা ও সুনামি থেকে বাংলাদেশকে ঢালের মত রক্ষা করছে। রামপালে প্রস্তাবিত কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের বিরোধিতা করে ইউনেস্কোসহ সারা বিশ্বের পরিবেশবাদী সংস্থাগুলো এ পরিকল্পনা বন্ধ করার আহ্বান জানাচ্ছে। তা সত্ত্বেও সরকার একগুয়েমী করে রামপালে কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের আত্মঘাতি পথে এগিয়ে যাচ্ছে।  
 
অতএব, সুন্দর বন রক্ষার দাবিতে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন ও আন্দোলন কারা করছে তাকে বড় করে না দেখে বাস্তবতার নিরীখে এ দাবিকে আমলে নিয়ে সরকারকে সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকায় প্রস্তাবিত কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের এ প্রকল্প থেকে সরে আসার আহবান জানাচ্ছি। এ ন্যায্য দাবিতে দেশে-বিদেশে যারাই যুক্তি সংগত কর্মসূচি গ্রহণ করবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী তার নৈতিক অবস্থান থেকে এ ধরনের কর্মসূচির প্রতি নৈতিক সমর্থন অব্যাহত রাখবে।”