২০ নভেম্বর ২০১৯, বুধবার
Choose Language:

সর্বশেষ
চলতি বিষয়াবলি
নতুন ভোগান্তিতে নগরবাসী: ফ্লাইওভারের নিচে আবার খোঁড়াখুঁড়ি
২৫ জানুয়ারি ২০১৭, বুধবার,
রাজধানীর মগবাজার রাস্তায় চলছে খোঁড়াখুঁড়ি। ফলে যানজট লেগেই থাকছে। বাড়ছে জনদুর্ভোগ : নাসিম সিকদার
রাজধানীবাসীর ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’ হয়ে দেখা দিয়েছে মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভারের নিচে ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্্িরবিউশন কোম্পানির (ডিপিডিসি) রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি। দীর্ঘদিন ধরে চলা ফ্লাইওভার নির্মাণ কাজের কারণে এমনিতেই ভয়াবহ সমস্যায় রয়েছে নগরবাসী, তার ওপর নতুন করে রাস্তা খোঁড়ার কারণে রীতিমতো বিপর্যয় নেমে এসেছে। এ সড়ক ব্যবহারকারী লাখ লাখ নগরবাসীকে রাত-দিন দীর্ঘ যানজটের কবলে পড়তে হচ্ছে। নষ্ট হচ্ছে বিপুল পরিমাণ কর্মঘণ্টা। 
ডিপিডিসির একজন কর্মকর্তা জানান, মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভার নির্মাণের খোঁড়াখুঁড়ির সময় উলন-ধানমন্ডি ১৩২ কেভি উপকেন্দ্রের একটি ক্যাবল সার্কিট ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং অপর দু’টি ক্যাবল সার্কিটের ওপর পাইল ক্যাপ ও কলাম নির্মাণের কারণে ক্যাবলগুলো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। যেকোনো সময় ক্যাবলে ত্রুটি দেখা দিলে ধানমন্ডি ১৩২/৩৩ কেভি উপকেন্দ্রের আওতাধীন এলাকায় মারাত্মক বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের আশঙ্কা রয়েছে। এজন্য উলন-ধানমন্ডি ১৩২ কেভি ভূ-গর্ভস্থ ক্যাবল লাইন নুতনভাবে প্রতিস্থাপন করতে হচ্ছে। রমনা থানার সামনে থেকে শুরু হয়ে মগবাজার মোড় হয়ে মৌচাক পর্যন্ত এবং মৌচাক মোড় থেকে মালিবাগ চৌধুরীপাড়া আবুল হোটেল পর্যন্ত এ কেবল স্থাপন করা হবে। 
সরজমিনে পরিদর্শন করে দেখা গেছে, মগবাজার মোড় থেকে মৌচাক মোড় এবং মৌচাক থেকে মালিবাগ আবুল হোটেল পর্যন্ত সড়কের মাঝখান দিয়ে চার-পাঁচ ফুট চওড়া এবং দুই-তিন ফুট গভীর করে রাস্তা খোঁড়া হয়েছে। শ্রমিকেরা ক্যাবল প্রতিস্থাপনের কাজ করছেন। শ্রমিকেরা জানান, গত ১৭ ডিসেম্বর থেকে রাস্তা খোঁড়া হয়েছে। মোট ৯টি ক্যাবল স্থাপন করা হচ্ছে। রমনা থানার সামনে থেকে মগবাজার পর্যন্ত ৫৮০ ফুট এবং মগবাজার মোড় থেকে মৌচাক পর্যন্ত ৬১৫ ফুট ক্যাবল স্থাপন করা হবে। কাজ শেষ হতে আরো দেড় মাস লাগতে পারে বলে কর্তব্যরত শ্রমিকেরা জানান। 
মগবাজার অংশে দেখা যায় ফ্লাইওভারের নিচে রাস্তা কেটে পিচের টুকরা, মাটি ও বালু রাস্তার মাঝখানে রাখা হয়েছে। এ ছাড়া চার-পাঁচ ফুট চওড়া করে রাস্তা খোঁড়ার কারণে সরু হয়ে গেছে সড়ক। আড়ং মার্কেটের সামনে এক দিকে খোঁড়া হয়েছে, অন্য দিকে রয়েছে বৈদ্যুতিক খুঁটি, এতে মূল রাস্তা একেবারেই সরু হয়ে গেছে। ওয়্যারলেস মোড়ে রয়েছে সিটি করপোরেশনের ডাস্টবিন (কনটেইনার)। রাস্তার অর্ধেক অংশজুড়ে রাখা হয়েছে এ ডাস্টবিন। এতে সড়ক সরু হয়ে দিন-রাত সব সময় যানজট লেগেই থাকছে। এর সাথে বাড়তি হিসেবে রয়েছে ময়লার দুর্গন্ধ। ব্যাংক এশিয়ার সামনে খোঁড়া হয়েছে প্রায় মাঝপথে। এতে রাস্তা একেবারেই সরু হয়ে গেছে। এ ছাড়া রাস্তাজুড়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে ইটের টুকরা। গ্রামীণ চেকের সামনের রাস্তা এক দিকে খোঁড়া আর অন্য দিকে ভেঙে গেছে। ভাঙ্গা এ অংশে পানি জমে রয়েছে। এর মধ্যে অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে চলতে হচ্ছে যানবাহনকে। ডা: সিরাজুল ইসলাম হাসপাতালের পর থেকে রাস্তার পূর্ব-পশ্চিম দুই দিকেই খোঁড়া হয়েছে, আর মাটি রাখা হয়েছে রাস্তার মাঝখানে। এতে সরু রাস্তা দিয়ে অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে চলতে হচ্ছে সব গাড়িকে। 
মৌচাক মোড় থেকে মালিবাগ রেলগেট হয়ে আবুল হোটেল পর্যন্ত সড়কেও রাস্তার পশ্চিম লেন খোঁড়া হয়েছে। এ কারণে মৌচাক মোড় দিয়ে পশ্চিম লেন দিয়ে যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। পূর্ব লেন দিয়ে দুই দিকের যানবাহন চলতে গিয়ে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। এ ছাড়া মালিবাগ রেলগেট মোড় থেকে আবুল হোটেল পর্যন্ত রাস্তার দুই লেনের অবস্থাই দীর্ঘদিন থেকে খারাপ। এ কারণে খিলগাঁও ফ্লাইওভার দিক থেকে আসা বেশির ভাগ যানবাহন বাইপাস সড়ক ব্যবহার করে মালিবাগ চৌধুরীপাড়া আবুল হোটেলের সামনে গিয়ে উঠছে। তবে যাদের রেলগেট মোড় ব্যবহার করতে হয় তাদের ঝুঁকি নিয়ে চলতে হচ্ছে। 
মৌচাক মোড় থেকে মালিবাগ মোড় পর্যন্ত সড়কে ফ্লাইওভারের ওপরে কাজ চলছে। সে কারণে জনসাধারণের চলাচলে সতর্ক বার্তা লিখে রাখা হয়েছে। তারপরও এর মধ্য দিয়েই ঝুঁকি নিয়ে চলছে নগরবাসী। 
একইভাবে মালিবাগ মোড় থেকে রাজারবাগ পর্যন্ত ফ্লাইওভার নির্মাণ কাজের কারণে রাস্তা ভেঙে রয়েছে দীর্ঘদিন থেকেই। মালিবাগ-মৌচাক সড়ক মাঝেমাঝে ঠিক করলেও এ রাস্তা কখনোই ঠিক করা হয় না। এতে দুর্ভোগ পোহাতে হয় রাজধানীবাসীকে। 
রিমন খান নামে এক পথচারী বলেন, চার-পাঁচ বছর ধরে মগবাজার এলাকায় খোঁড়াখুঁড়ি চলছে। এর যেন কোনো শেষ নেই। একটার ভোগান্তি শেষ না হতেই আরেকটি শুরু হচ্ছে। এভাবে চলা যায় না। বিদ্যুৎ লাইন স্থাপনের জন্য রাস্তার মাঝখানে খোঁড়া হয়েছে। ফুটপাথও নষ্ট হয়ে গেছে। স্বাভাবিকভাবে চলা যাচ্ছে না। 
সোহেল নামে এক প্রাইভেট কার চালক বলেন, ক’দিন পরই পরই এ রাস্তা ভেঙে যায়। আবার রাস্তায় পানি জমে থাকে। এর মধ্য দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলতে হয়। অনেক সময় গাড়িও নষ্ট হয়ে যায়। এখন নতুন করে ডিপিডিসির খোঁড়াখুঁড়ির কারণে ভোগান্তির মাত্রা বেড়ে গেছে। 
ডিপিডিসির কর্তব্যরত প্রকৌশলী সিদ্দিকুর রহমান রাস্তা খোঁড়ার কারণে জনসাধারণের চলাচলে ভোগান্তির কথা স্বীকার করে এজন্য দুঃখ প্রকাশ করেন। নয়া দিগন্তকে তিনি বলেন, ফ্লাইওভার নির্মাণ কাজের সময় তিনটি ক্যাবল সার্কিট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এগুলো যদি দ্রুত প্রতিস্থাপন করা না হয় তাহলে যেকোনো সময় বিদ্যুৎ বিপর্যয় দেখা দিতে পারে। এ কারণে এগুলো নতুন করে প্রতিস্থাপন করতে হচ্ছে। সুষ্ঠু ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের স্বার্থে রাস্তা খোঁড়া হয়েছে। কাজ চলাকালে জনগণকে সাময়িক ভোগান্তি মেনে নেয়ার আহ্বান জানান তিনি।
http://www.dailynayadiganta.com/detail/news/190240