২১ নভেম্বর ২০১৯, বৃহস্পতিবার
Choose Language:

সর্বশেষ
চলতি বিষয়াবলি
দারিদ্র্য দূর করার ১২৫ কোটি টাকা পরামর্শকদের পেটে: পরামর্শক ব্যয়ের বিষয়টি বিতর্কিত : টিআইবি
২৫ জানুয়ারি ২০১৭, বুধবার,
সরকারের যেকোনো উন্নয়ন প্রকল্পে পরামর্শক ও শিক্ষা সফর খাত রাখা যেন জরুরি হয়ে পড়েছে। সেটা বিদ্যুৎ খাত, খাল কাটা কর্মসূচি বা দারিদ্র্য নিরসন প্রকল্পÑ যাই হোক না কেন। এসব খাত ও বরাদ্দ না থাকলে মন্ত্রণালয় থেকে প্রকল্প অনুমোদনও পাওয়া কষ্টকর। জাতীয় নগর দারিদ্র দূরীকরণ কর্মসূচির প্রায় ১২৫ কোটি টাকা যাচ্ছে পরামর্শকদের পেটে। দারিদ্র্য নিরসন প্রকল্পের একটা বড় অংশ যাচ্ছে আনুষঙ্গিক কাজে। শিক্ষা সফর ও কর্মশালায় যাবে ১১ কোটি ৭৮ লাখ টাকা। সম্প্রতি প্রকল্প প্রস্তাবনা থেকে এসব তথ্য পাওযা গেছে। প্রকল্পের বিভিন্ন ব্যয়ের খাত ও পরিমাণ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে মূল্যায়ন কমিটির সভায়। আর ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, পরামর্শক খাতের ব্যয়ের বিষয়টি দীর্ঘ দিন ধরে সমালোচিত ও বিতর্কিত। এটার ব্যয় অবশ্যই যৌক্তিক হওয়া উচিত।
সূত্রে জানা গেছে, দেশে দারিদ্র্য নিরসনের জন্য নেয়া প্রকল্প বাস্তবায়নে দেশী-বিদেশী পরামর্শক যেন অত্যাবশ্যক হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশে সুষম, টেকসই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিতকল্পে শহরে দারিদ্র্য নিরসনে কাজ করছে জাতীয় নগর দারিদ্র্য দূরীকরণ কর্মসূচি। ২০২২ সাল পর্যন্ত দুই পর্যায়ে সর্বোচ্চ ৩৬টি শহর বা নগরে বসবাসরত ৬০ লাখ অধিবাসীর দারিদ্র্য নিরসনে এ কর্মসূচি সহায়তা প্রদান করবে। প্রকল্পের উদ্দেশ্য হলো দারিদ্র্যবান্ধব নগর ব্যবস্থাপনা, নীতি ও পরিকল্পনা প্রণয়ন প্রক্রিয়া শক্তিশালী করা, নগর দরিদ্রদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক অবস্থার উন্নতিকরণ, নগরদরিদ্রদের অধিকতর নিরাপদ ভূমি ব্যবহার স্বত্ব এবং আবাসন খাতে সহজলভ্য অর্থায়ন সহায়তা এবং তাদের জন্য দুর্যোগ ও জলবায়ু সহনীয় ভৌত অবকাঠামো উন্নতকরণ। 
ওই প্রকল্পের ১৬ দশমিক ২২ শতাংশ অর্থ যাবে পরামর্শকদের পেটে; স্থানীয় পরামর্শক ৮৯ জন এবং বিদেশী পরামর্শক তিনজন। এ পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ রেখে প্রকল্প বাস্তবায়নের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পিইসি থেকে পরামর্শক খাতে ব্যয় কমিয়ে ১০ শতাংশ করার জন্য বলা হয়েছে। বাকি অর্থ প্রকল্পের মূল কার্যক্রমে যুক্ত করার জন্য পরামর্শ দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া প্রকল্পে রাজস্ব খাতে বেতনভাতাদি বাদে প্রায় ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা মোট প্রকল্প ব্যয়ের প্রায় ২৬ শতাংশ। এর মধ্যে সাধারণ ব্যবস্থাপনা ব্যয় ৪৮ কোটি ১৯ লাখ টাকা। সার্ভে বাবদ পাঁচ কোটি ৩৭ লাখ টাকা, পরামর্শক কন্টিনচেন্সি, স্টেশনারি, ফার্নিচার, যানবাহন রক্ষণাবেক্ষণ ইত্যাদিতে ১৭ কোটি ৯৫ লাখ টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে। আবশ্যক নয় এমন খাত ও ব্যয়কে বাদ দেয়ার জন্য পরিকল্পনা কমিশন থেকে বলা হয়েছে। অন্য দিকে, স্ট্যাডি ট্যুর, প্রশিক্ষণ ও কর্মশালার জন্য যে অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়েছে তার কোনো বিস্তারিত বর্ণনা প্রস্তাবনায় নেই। স্ট্যাডি ট্যুর কোথায় কোথায়, কাদের নিয়ে, কতটি ব্যাচে এবং কোন কোন বিষয়ে নেয়া হবে তার কোনো উল্লেখ নেই। 
জানা গেছে, বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনে বিশ্বের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর অন্যতম। বিশেষ করে দক্ষিণের উপকূলীয় শহরগুলো ব্যাপক ঝুঁকিতে থাকে। অনেক শহরের ড্রেনেজ সিস্টেমে লবণাক্ত পানি অনুপ্রবেশের ফলে নগরবাসীর জন্য বাড়তি সমস্যা তৈরি হয়েছে। পরিবেশগত সমস্যার জন্য মানুষ ইতোমধ্যে অভিবাসনের চিন্তা করছে। মওসুমি বন্যা এড়াতে তারা কাজের খোঁজে সেই সময়ে অন্য শহরে যাচ্ছে। ক্রমাগত জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে এ বিষয়গুলো অভিবাসনের প্রকৃতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এ প্রকল্পের মাধ্যমে প্রথম পর্যায়ে ১১টি শহর ও নগর এবং দ্বিতীয় পর্যায়ে ২৫টি শহর ও নগরকে আওতায় এনে ৬০ লাখ নগর দরিদ্র মানুষের জীবন-জীবিকার টেকসই উন্নয়নে কাজ করা হবে। 
প্রকল্পে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৭৭৫ কোটি ৪৪ লাখ টাকা, যার মধ্যে ডিএফআইডি ও ইউএনডিপি থেকে প্রকল্প সাহায্য খাতে বরাদ্দ ধরা হয়েছে ৬৫৮ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। বাকি ১১৭ কোটি ৯ লাখ টাকা সরকারি খাত থেকে অর্থায়নের প্রস্তাব দিয়েছে বাস্তবায়নকারী সংস্থা স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। এখানে সরকারি অর্থায়ন কমিয়ে আনার জন্য পরিকল্পনা কমিশন থেকে বলা হয়েছে। চলতি বছর প্রকল্পটি অনুমোদন পেলে ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে সমাপ্ত করা যাবে বলে প্রস্তাবনায় উল্লেখ করা হয়েছে। প্রকল্পটি চলতি ২০১৬-১৭ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) এলজিইডির আওতায় বৈদেশিক সাহায্যপুষ্ট নতুন প্রকল্পের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। 
প্রকল্পে পরামর্শক খাতে ব্যয়ের ব্যাপারে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামানের সাথে ফোনে মতামত জানতে চাওয়া হলে তিনি নয়া দিগন্তকে জানান, অন্যান্য উন্নয়ন প্রকল্পের সাথে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত প্রকল্পের ভিন্নতা রয়েছে। এখানে দারিদ্র্য দূরীকরণে যারা সুবিধাভোগী হবে তাদের জন্য বরাদ্দ বেশির ভাগ হওয়া উচিত। কারিগরি বিষয় থাকায় এখানে পরামর্শক খাতে ব্যয় বেশি হতেই পারে, তবে তা হতে হবে যৌক্তিক। তিনি বলেন, পরিকল্পনা কমিশনের এ ব্যাপারে একটা নীতিমালা আছে। তারা যদি সেটিকে কমিয়ে আনতে বলে থাকে তাহলে আমি পরিকল্পনা কমিশনকে সাধুবাদ জানাই।
http://www.dailynayadiganta.com/detail/news/190242