১৯ নভেম্বর ২০১৯, মঙ্গলবার
Choose Language:

সর্বশেষ
চলতি বিষয়াবলি
নির্বাচিত মেয়রকে সরিয়ে রাসিক চালানো হচ্ছে ওয়ার্ড কাউন্সিলর দিয়ে
২৪ জানুয়ারি ২০১৭, মঙ্গলবার,
নির্বাচিত মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল
রাজশাহী মহানগরীতে উন্নয়ন যেন নির্বাসনে গেছে। বর্তমান সময়ে এই নগরীতে কোন উল্লেখযোগ্য কর্মকাণ্ড বাস্তবায়িত হচ্ছে না। তবে বেড়েছে কেবল ট্যাক্সের বোঝা। জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত মেয়রকে সরিয়ে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন চালানো হচ্ছে একজন ওয়ার্ড কাউন্সিলরকে দায়িত্ব দিয়ে। দিনের পর দিন এই কৃত্রিম অবস্থা অব্যাহত রাখা হয়েছে। 
নগরবাসী মনে করছেন, রাজশাহীতে উন্নয়ন থমকে যাওয়ার পেছনে অন্যতম কারণ হলো নির্বাচিত মেয়র ক্ষমতায় না থাকা এবং সরকারদলীয় মেয়র নির্বাচিত না হওয়া। বুলবুল মেয়র নির্বাচিত হলেও ২০১৫ সালের ৫ জানুয়ারির পর থেকে নানান অভিযোগে দায়েরকৃত মামলা থেকে গ্রেফতার এড়াতে তিনি টানা প্রায় এক বছর আত্মগোপনে ছিলেন। এই সময়ে নির্বাচিত মেয়রকে ক্ষমতা থেকে সরানো এবং তাঁর স্থলে দায়িত্বভার দেয়া নিয়ে নানা নাটকীয়তার জন্ম দেয় সরকার। সেই নাটকের যেন কোন সমাপ্তি নেই। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের আদেশবলে তাঁকে ক্ষমতা থেকে সরানো হয়। তিনি এর বিরুদ্ধে রিট করে পক্ষে রায় পান। কিন্তু এর ৮/৯ মাসের বেশি সময় অতিবাহিত হলেও মন্ত্রণালয় কোন চিঠি ইস্যু না করায় তাঁর পক্ষে দায়িত্ব বুঝে নেয়া সম্ভব হচ্ছে না। সরকার বিষয়টি কোন সুরাহা না করে এবং জন সাধারণের ভোটের প্রতি কোন সম্মান না দেখিয়ে বিষয়টি ঝুলিয়ে রেখেছে। একজন ওয়ার্ড কাউন্সিলরকে মাসের পর মাস মেয়রের চেয়ারে বসিয়ে রাখা হয়েছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত মেয়রের পক্ষ থেকে নগরবাসী পেয়েছেন কেবল ট্যাক্সের বোঝা। তবে কোন প্রকার উন্নয়ন কর্মকাণ্ড থেকে বঞ্চিত থাকছেন নগরবাসী। 
রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত ২০১৩ সালের ১৫ জুন। এ নির্বাচনে ২০ দলীয় জোট প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল পেয়েছিলেন ১ লাখ ৩১ হাজার এবং মহাজোটের প্রার্থী ও সাবেক মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন পেয়েছিলেন ৮৩ হাজার ভোট। সবমিলিয়ে প্রায় অর্ধ লক্ষ ভোটের ব্যবধানে বুলবুল মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন। ২০১৩ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর মেয়রের দায়িত্বভার গ্রহণের পরে মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল নগরীর উন্নয়নে বিভিন্ন প্রকল্প হাতে নেন। এসবের মধ্যে ছিল ২০৬ কোটি ২৪ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ২ একর আয়তনের ১৭টি প্রাকৃতিক জলাধার ভূমি অধিগ্রহণের মাধ্যমে স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ প্রকল্প, ৪৬৯ কোটি ৯৬ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ১৪টি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্প। ১২৬ কোটি ৬০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ৯৬ একর ভূমি অধিগ্রহণ করে পদ্মাতীরকে পর্যটন কেন্দ্রের উন্নয়ন ও আদর্শ বিনোদন ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য ইকোপার্ক নির্মাণ প্রকল্প, ৬৬ কোটি ৪৫ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ৬৩টি সড়ক সংযোগস্থল প্রশস্তকরণ ও ৩০ কিলোমিটার ফুটপাথ নির্মাণ, সড়ক বিভক্তিকরণ এবং ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ প্রকল্প, ৮০ কোটি ৪৮ লক্ষ টাকা ব্যয়ে শিশুদের জন্য নগরীর বড় বনগ্রাম এলাকায় শহীদ জিয়া শিশু পার্ক নির্মাণ প্রকল্প, ৯০ কোটি টাকা ব্যয়ে নগরীর গ্রেটার রোড হতে নওদাপাড়া পর্যন্ত সড়কটির পাশে ১০ বিঘা এলাকা নিয়ে একটি ওয়াটার পার্ক নির্মাণ পরিকল্পনাও গ্রহণ করা হয়। কিন্তু গত সাড়ে তিন বছরে এসব প্রকল্পের একটিও আলোর মুখ দেখেনি বলে নিশ্চিত করেছে রাসিকের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো। তবে ২০১৪ সালে ১২৯ কোটি টাকা ব্যয়ে নগরীর কল্পনা সিনেমা হল থেকে তালাইমারী পর্যন্ত রাস্তা প্রশস্তকরণ কাজের একটি প্রকল্প পাশ হলেও এটিও নেয়া হয়েছিল অনেক আগে। নতুন করে কোনো প্রকল্প আলোর মুখ দেখেনি নির্বাচিত মেয়রবিহীন রাজশাহী নগরী। ২০১৫ সালের ৭ মে নির্বাচিত মেয়র বুলবুলকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করে তাঁর স্থলে ওই বছরের ৩১ মে দায়িত্ব দেয়া হয় ২১ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর নিযাম-উল আযীমকে। সিটি কর্পোরেশনের তিন তিনজন প্যানেল মেয়রকে উপেক্ষা করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে অবৈধভাবে দায়িত্ব দেয়া হয় একজন সাধারণ কাউন্সিলর নিযাম-উল-আযীমকে। এরপর নগরীর উন্নয়ন আরো থমকে পড়ে। এই সময়ে নগরীর রাস্তা-ঘাটগুলোও সংস্কার করার মতো কোনো প্রকল্প হাতে নিতে পারেননি নিযাম-উল-আযীম। 
একজন ব্যবসায়ী নেতা অভিযোগ করেন, ‘নগরীর উন্নয়ন থমকে যাওয়ার পাশাপাশি এখানকার ব্যবসা-বাণিজ্যেও ভাটা পড়েছে। কিন্তু সিটি কর্পোরেশন থেকে লাইনেন্স ফি ও সাইনবোর্ড ফি বর্ধিতকরণ করা হয়েছে কয়েকশ গুণ। এমনকি আগে যেখানে সাইনবোর্ডের কোনো ট্যাক্স দিতে হতো না, এখন সেখানে বছরে হাজার হাজার টাকা ট্যাক্স দিতে হচ্ছে নগরীর ব্যবসায়ীদের। এতে করে ক্ষোভ বেড়েছে মানুষের মাঝে। এ নিয়ে আন্দোলন হচ্ছে। হরতালও হয়েছে। কিন্তু তারপরেও সিটি কর্পোরেশন তাদের সিদ্ধান্তে অনড় থাকছে। রাজশাহী নাগরিক অধিকার সংরক্ষণ সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক বিশিষ্ট আইনজীবী এনামুল হক অভিযোগ করে বলেন, ‘ট্যাক্সের যন্ত্রণায় নগরবাসীর হাঁসফাঁস ধরে গেছে। তারা এ যন্ত্রণা থেকে মুক্তি চান। কিন্তু দিন দিন কোনো নাগরিক সুবিধা না বাড়িয়ে একের পর এক হোল্ডিং ট্যাক্স, ট্রেড লাইসেন্স ও সাইনবোর্ড ফি বেড়েই চলেছে। আমরা ট্যাক্স সহনীয় পর্যায়ে রাখতে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছি। কিন্তু কোনো লাভ হচ্ছে না। সিটি কর্পোরেশন তাদের সিদ্ধান্তে অটল। তবে আমরাও ছাড়ব না। এর শেষ দেখেই ছাড়ব। নগরীর উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও ব্যবসার পরিসর যতদিন বৃদ্ধি না হবে, ততোদিন আমরা কোনো বর্ধিত ট্যাক্স দিবো না।’ নগরীর উন্নয়ন থমকে যাওয়া প্রসঙ্গে সিটি কর্পোরেশনের একজন প্রকৌশলী স্বীকার করেন, ‘গত সাড়ে তিন বছরে রাজশাহী নগরীর জন্য নতুন কোনো প্রকল্প পাশ হয়নি। একটি প্রকল্প পাশ হলেও অনেক আগেই সেটির প্রস্তাবনা দেয়া ছিল মন্ত্রণালয়ে। ফলে এই সময়ে তেমন কোনো উন্নয়নও হয়নি। নতুন করে অর্থ বরাদ্দ না পাওয়ায় আমরা কোনো উন্নয়ন কাজও করতে পারছি না।’
http://www.dailysangram.com/post/268780-%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%9A%E0%A6%BF%E0%A6%A4-%E0%A6%AE%E0%A7%87%E0%A7%9F%E0%A6%B0%E0%A6%95%E0%A7%87-%E0%A6%B8%E0%A6%B0%E0%A6%BF%E0%A7%9F%E0%A7%87-%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%B8%E0%A6%BF%E0%A6%95-%E0%A6%9A%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A7%8B-%E0%A6%B9%E0%A6%9A%E0%A7%8D%E0%A6%9B%E0%A7%87-%E0%A6%93%E0%A7%9F%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%A1-%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%89%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%B8%E0%A6%BF%E0%A6%B2%E0%A6%B0-%E0%A6%A6%E0%A6%BF%E0%A7%9F%E0%A7%87