১৪ অক্টোবর ২০১৯, সোমবার
Choose Language:

সর্বশেষ
চলতি বিষয়াবলি
২০১০ সালের মতো বিনিয়োগের উৎসব: ঝুঁকি বাড়ছে শেয়ারবাজারে
২৪ জানুয়ারি ২০১৭, মঙ্গলবার,
আবারও অস্থির হয়ে উঠছে শেয়ারবাজার। বাঁধভাঙা জোয়ারের মতো আসছে টাকা। মৌলভিত্তি উপেক্ষা করে বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ারে হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন ব্যক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা। ২০১০ সালের মতো আবারও বিনিয়োগের উৎসব শুরু হয়েছে। এ কারণে প্রতিদিনই অস্বাভাবিকভাবে বাড়ছে বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ারের দাম। আর এর প্রভাব পড়ছে বাজারমূলধন ও মূল্যসূচকে। গত এক মাসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) বাজারমূলধন ৩৮ হাজার কোটি টাকা বেড়েছে। এর সুবাদে সোমবার ডিএসইর বাজারমূলধন ৩ লাখ ৭৫ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছেছে। যা অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, মানুষকে পথে বসানোর চক্রান্ত শুরু হয়েছে। এর নেপথ্যে রয়েছে পুরনো খেলোয়াড়রা।
জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ যুগান্তরকে বলেন, বাজারের এ উত্থানটি স্বাভাবিক নয়। আর বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ারের দাম যেভাবে বাড়ছে, তা ওই কোম্পানির মৌলভিত্তির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। মনে হচ্ছে, এ উত্থানের সঙ্গে পুরনো খেলোয়াড়রাই জড়িত। ফলে বিনিয়োগকারীদের সাবধান হতে হবে। দুর্বল কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগ করা যাবে না।
জানতে চাইলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক অর্থ উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, বাজারের ব্যাপারে তিনটি সুনির্দিষ্ট বিষয় রয়েছে। প্রথমত, যে গতিতে বাজার বাড়ছে তা অস্বাভাবিক। স্বাভাবিক বাজার হলে একটানা এভাবে বাড়তে পারে না। দ্বিতীয়ত, পৃথিবীর সব দেশেই কয়েকদিন বৃদ্ধির পর মূল্যসংশোধন হয়। কিন্তু বাংলাদেশে ব্যতিক্রম। তৃতীয়ত, দুর্বল কোম্পানির শেয়ারের দাম যেভাবে বাড়ছে, তা একেবারে অস্বাভাবিক এবং অযৌক্তিক। কারা এসব কোম্পানির শেয়ার কিনছে তা খতিয়ে দেখা দরকার।
ডিএসই সূত্রে জানা গেছে, ১৮ ডিসেম্বর ডিএসইর বাজারমূলধন ছিল ৩ লাখ ৩৭ হাজার কোটি টাকা। এরপর টানা উত্থান। সোমবার পর্যন্ত বাজারমূলধন ৩৮ হাজার কোটি টাকা বেড়েছে। সর্বশেষ বাজারমূলধন দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৭৫ হাজার কোটি টাকা। এর আগে
২০১০ সালের ৫ ডিসেম্বর মূলধন ৩ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছিল। এরপর অনেক পদক্ষেপ। কিন্তু সূচক আর ওই পর্যায়ে যেতে পারেনি। ২০১০ সালের সঙ্গে বর্তমান বাজারের অবশ্য মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। ওই সময়ে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিলেন। কারণ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি একটি সার্কুলারের মাধ্যমে বাধ্যতামূলক শেয়ার বিক্রি (ফোর্সড সেল) বন্ধ করেছিল। এর ফলে ওই সময়ে ব্রোকারেজ হাউস এবং মার্চেন্ট ব্যাংক সাধারণ বিনিয়োগকারীদের শেয়ার বিক্রি করতে পারেনি। কিন্তু বর্তমানে ফোসর্ড সেল চালু রয়েছে। ফলে কোনো বিনিয়োগকারীর ইক্যুইটি নেতিবাচক হওয়ার আগেই প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের শেয়ার বিক্রি করে দিতে পারবে।
এছাড়া গত এক মাসে ডিএসইর মূল্যসূচক ৪ হাজার ৫২৪ পয়েন্ট থেকে বেড়ে ৫ হাজার ৬৭০ পয়েন্টে উন্নীত হয়েছে। ফলে সূচক বেড়েছে ১ হাজার ১৪৬ পয়েন্ট। সবচেয়ে অস্বাভাবিক হল শেয়ার লেনদেন। সোমবার ডিএসইতে ৭০ কোটি ৩৪ লাখ শেয়ার লেনদেন হয়েছে। একদিনে ডিএসইতে এত শেয়ার আর কখনও হাতবদল হয়নি। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, দীর্ঘদিন শেয়ারবাজার নেতিবাচক ছিল। ফলে বাজারের ঊর্ধ্বগতি খারাপ নয়। তবে বিস্ময়কর বিষয় হল, অর্থনীতিতে হঠাৎ করে এমন কোনো মৌলিক পরিবর্তন হয়নি, যাতে শেয়ারবাজার এভাবে বাড়তে পারে।
জানতে চাইলে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সাবেক চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদ সিদ্দিকী যুগান্তরকে বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কিছু দুর্বল কোম্পানির শেয়ারের দাম বাড়ছে। এতে বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকি বাড়ছে। এসব কোম্পানি থেকে বিনিয়োগকারীদের সতর্ক হতে হবে। সূত্র জানায়, খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদের তদন্ত রিপোর্টের ভিত্তিতে শেয়ারবাজারে বিভিন্ন সংস্কার হলেও গত ৫ বছরে লেনদেনে গতি আনা যায়নি। এ সময়ে সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন প্রণোদনা দেয়া এবং স্টেকহোল্ডারদের পক্ষ থেকে তারল্য বাড়াতে বহুমুখী উদ্যোগ নেয়া হয়। এরপরও বিনিয়োগকারীরা বাজার থেকে মুখ ফিরিয়ে নেন। ফলে অনেকটাই নিস্তেজ হয়ে পড়েছিল শেয়ারবাজার। আর এর মূল্য দিতে হয়েছে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী এবং বিভিন্ন ব্রোকারেজ হাউসকে। এছাড়া অব্যাহত লোকসানে ব্রোকারেজ হাউসগুলো থেকে হাজারের বেশি কর্মচারী ছাঁটাই করা হয়েছে। তবে বর্তমানে সব ব্রোকারেজ হাউস তাদের নেতিবাচক ইক্যুইটি কাটিয়ে উঠেছে। এরা বাজার থেকে বের হয়ে গেলে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা বিপদে পড়বেন।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ডিএসইতে সোমবার ৩২৮টি প্রতিষ্ঠানের ৭০ কোটি ৩৪ লাখ শেয়ার লেনদেন হয়েছে। যার মোট মূল্য ২ হাজার ১৮০ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। যা গত ৬ বছর ২ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ রেকর্ড। এর আগে ২০১০ সালের ৬ ডিসেম্বর ডিএসইতে ২ হাজার ৭১০ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছিল। লেনদেন হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে সোমবার দাম বেড়েছে ১৫৯টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের, কমেছে ১৪২টি এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ২৭টির। ডিএসইর ব্রডসূচক আগের দিনের চেয়ে ৬৬ দশমিক ৯৫ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৬৬৯ পয়েন্টে উন্নীত হয়েছে। ডিএসই-৩০ মূল্যসূচক ১২ দশমিক ৯১ পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ২৪ দশমিক ৬৩ পয়েন্টে উন্নীত হয়েছে। ডিএসই শরিয়াহ সূচক ১১ দশমিক ১৯ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ২৯৭ দশমিক ৬০ পয়েন্টে উন্নীত হয়েছে। ডিএসইর বাজারমূলধন আগের দিনের চেয়ে বেড়ে ৩ লাখ ৭৫ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে।
শীর্ষ দশ কোম্পানি : সোমবার ডিএসইতে যে সব প্রতিষ্ঠানের শেয়ার বেশি লেনদেন হয়েছে সেগুলো হল- বেক্সিমকো লিমিটেড, বারাকা পাওয়ার, ইসলামী ব্যাংক, লংকা-বাংলা ফাইন্যান্স, লাফার্জ সুরমা সিমেন্ট, এবি ব্যাংক, সাইফ পাওয়ার, ইফাদ অটোস, সিটি ব্যাংক এবং ন্যাশনাল ব্যাংক।
ডিএসইতে সোমবার যেসব প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বেশি বেড়েছে সেগুলো হল- ফরচুন সুজ, ইসলামী ব্যাংক, ফিনিক্স ফাইন্যান্স, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক, প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল, পূবালী ব্যাংক, প্রিমিয়ার ব্যাংক, কাশেম টেক্সটাইল, সায়হাম টেক্সটাইল এবং সাউথ-ইস্ট ব্যাংক।
অন্যদিকে যেসব প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বেশি কমেছে সেগুলো হল- সিভিও পেট্রো কেমিক্যাল, সমতা লেদার, রহিমা ফুড, বিডি অটোকারস, বেক্সিমকো সিনথেটিকস, সোনারগাঁ টেক্সটাইল, ইস্টার্ন লুব্রিকেন্টস, কেডিএস, মিরাকল ইন্ডাস্ট্রিজ এবং বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন।
http://www.jugantor.com/last-page/2017/01/24/95750/%E0%A6%9D%E0%A7%81%E0%A6%81%E0%A6%95%E0%A6%BF-%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A7%9C%E0%A6%9B%E0%A7%87-%E0%A6%B6%E0%A7%87%E0%A7%9F%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%9C%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%87