২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, রবিবার
Choose Language:

সর্বশেষ
চলতি বিষয়াবলি
প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের বই নিয়ে অনিয়ম: সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন
২৪ জানুয়ারি ২০১৭, মঙ্গলবার,
বছরের প্রথম মাস শেষ হতে চলেছে। দেশের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ক্লাস শুরু হয়েছে। কিন্তু শিশুদের হাতে এখনো সব বই পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের বই সরকারিভাবে বিতরণ করা হয়। দেশে এখন সব কিছুতে উৎসবের আমেজ সৃষ্টি করা হয়েছে। শিশুদের হাতে বই তুলে দেয়াকে শিক্ষামন্ত্রীর নেতৃত্বে বই উৎসব হিসেবে পালন করা হয়। এবারো বই উৎসব পালন করা হয়েছে। কিন্তু শিশুদের হাতে সব বই পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। অনেক বিদ্যালয়ে দু’টি বা তিনটি করে বই দেয়া হয়েছে। বাকি বই কবে দেয়া হবে কেউ জানে না। দেখা যাচ্ছে বাংলা বা অঙ্ক ক্লাস হচ্ছে। বই না থাকায় অন্য বিষয়গুলোর ক্লাস নেয়া সম্ভব হচ্ছে না। 
বই নিয়ে এই সঙ্কটের মূলে রয়েছে বিদেশ থেকে বই ছাপানোর উদ্যোগ। নয়া দিগন্তের এক রিপোর্টে বলা হয়েছে, ভারতের মুম্বাইকেন্দ্রিক একটি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান ৩৩ লাখ বই ছাপানোর কাজ পেলেও এই প্রতিষ্ঠানের কোনো বই এখনো এসে পৌঁছেনি। কবে আসবে তা এখনো নিশ্চিত নয়। পাঠ্যপুস্তক ও শিক্ষাবোর্ডের কর্মকর্তারা বলেছেন চট্টগ্রাম বন্দরে কিছু বই খালাসের অপেক্ষায় আছে। অর্থাৎ দ্রুত এসব বই পাঠকের হাতে পৌঁছবে এমন কোনো আশা নেই। এ ছাড়া ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শিশুদের জন্য আলাদা বই দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। কিন্তু পাহাড়ি অঞ্চলে এই বই এখনো পৌঁছেনি। অর্থাৎ বই ছাপা ও বিতরণের ক্ষেত্রে অনিয়মের কারণে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। 
শিশুদের হাতে যাতে বছরের শুরুতে নির্দিষ্ট সময়ে বই পৌঁছে তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব শুধু পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের নয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়েরও। শিক্ষা নিয়ে এখন নানা ধরনের বাণিজ্য হচ্ছে। শিক্ষামন্ত্রী ব্যস্ত থাকছেন নিজের প্রচারণায়, উৎসবের আমেজের মধ্যে। অথচ এর আগেও বই ছাপা নিয়ে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে ভারতীয় প্রতিষ্ঠানগুলো বই ছাপা ও নির্দিষ্ট সময়ে পাঠানোর ক্ষেত্রে গাফিলতির পরিচয় দিয়েছে। এবারো একই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। আমরা মনে করি, টেন্ডারে অংশ নিয়ে নির্দিষ্ট সময়ে কেন দেশী-বিদেশী প্রতিষ্ঠানগুলো বই সরবরাহ করতে পারছে না তার সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া উচিত। অযোগ্য এবং চুক্তিমতো বই সরবরাহ করতে ব্যর্থ প্রতিষ্ঠান যাতে ভবিষ্যতে বই ছাপার কাজ না পায় তা নিশ্চিত করতে হবে। একই সাথে চট্টগ্রাম বন্দরসহ স্থলবন্দরে আটকে থাকা বই খালাস করে দ্রুত শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করতে হবে।
http://www.dailynayadiganta.com/detail/news/189825