১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, মঙ্গলবার
Choose Language:

সর্বশেষ
চলতি বিষয়াবলি
প্রাথমিকে পুরো সেট বই পায়নি শিশুরা
২৩ জানুয়ারি ২০১৭, সোমবার,
নতুন শিক্ষাবর্ষের ২৩ দিন অতিবাহিত হতে যাচ্ছে। ক্লাস শুরু হয়ে গেছে সর্বত্র। কিন্তু এখন পর্যন্ত রাজধানীর কিছু এলাকায় প্রাথমিকের বিনামূল্যে পাঠ্যবইয়ের পুরো সেট শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছেনি। বিদেশী ছাপা বইয়ের পুরো আদেশের চালান এখনো দেশে পৌঁছেনি। দেশে ছাপা কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানও গতকাল পর্যন্ত বিনামূল্যে বই জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) কাছে হস্তান্তর করেনি বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রথমবারের মতো চাকমা, মারমা, সাদ্রী, ত্রিপুরা ও গারো ভাষায় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর শিশুদের প্রাক-প্রাথমিকের বই দেয়ার কথা থাকলেও পাহাড়ে বসবাসরত ১৪ নৃ-গোষ্ঠীর শিশুরা বই পায়নি বলে জানা গেছে।
বাংলা ইংরেজি ও গণিত ছাড়া অন্য কোনো বই প্রাথমিকের শিক্ষার্থীরা পায়নি। তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণীর ছয়টি বইয়ের মধ্যে মাত্র তিনটি বই দেয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়, নৈতিক শিক্ষা, প্রাথমিক বিজ্ঞানের বই এখনো পায়নি প্রাথমিকের শিক্ষার্থীরা। এ চিত্র শুধু রাজধানীর বাইরের নয়। রাজধানীর প্রত্যন্ত অঞ্চলের এবং শহরতলীর বেশির ভাগ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মাত্র তিনটি করে বই সরবরাহ করা হয়েছে। 
রাজধানী ও চট্টগ্রাম শহর বাদে প্রত্যন্ত উপজেলাগুলোতে এবং লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালী জেলার প্রতিটি উপজেলায় (১৯টি উপজেলা) বেশির ভাগ স্কুলে এখনো পাঠ্যবই পৌঁছেনি। ওই জেলাগুলোতে কোথাও একটি কোথাও দু’টি কোথাও তিনটি করে বই শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছেছে। কোথাও পূর্ণাঙ্গ সেট পৌঁছেনি। ওইসব জেলার উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসাররা গতকাল সন্ধ্যায় নয়া দিগন্তকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। নোয়াখালীর ৯ উপজেলায় এক হাজার ৬০০ সরকারি প্রাথমিক স্কুলে এই পরিস্থিতির কথা স্বীকার করেছেন লক্ষ্মীপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবদুল আজিজ ও নোয়াখালী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন সিদ্দিকী। তারা উভয় নয়া দিগন্তকে বলেছেন, কিছু বই এসেছে, সেগুলো দু-একদিনের মধ্যেই বিতরণ করা হবে। 
এনসিটিবি সূত্রে বলা হয়েছে, ওই জেলাগুলোতে ভারতে ছাপানো বই সরবরাহের জন্য নির্ধারিত ছিল। ভারতে ‘শীর্ষাসাই’ নামের প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশের বিনামূল্যে পাঠ্যবইয়ের ছাপার যে আদেশ পেয়েছে, তার পুরোটা গতকাল পর্যন্ত বাংলাদেশে পৌঁছাতে পারেনি। তাদের ৩৩ লাখের মতো বই এখনো পথে রয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। 
চলতি শিক্ষাবর্ষে চার কোটি ২৬ লাখ ৩৫ হাজার ৯২৯ শিক্ষার্থীর জন্য প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে বিতরণের জন্য মোট ৩৬ কোটি ২১ লাখ ৮২ হাজার ২৪৫টি বই ছাপানোর টেন্ডার করে এনসিটিবি। এর মধ্যে মাধ্যমিক স্তরের পাঠ্যবই ছাপিয়েছেন দেশীয় মুদ্রাকরেরা। আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে দেশে-বিদেশে প্রাথমিক স্তরের ১১ কোটি ৫৫ লাখ ২৬ হাজার ৯৫২টি বই ছাপানো হয়েছে। তাই দেশের পাশাপাশি এবার ভারত ও চীনে প্রাথমিক স্তরের বই ছাপানো হয়েছে। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) থেকে জানা গেছে, চলতি বছর প্রাথমিক স্তরের পাঠ্যবইয়ের ৯৮ লটের মধ্যে ১৬ লটে এক কোটি ৮০ লাখ বই ছাপার কাজ পায় ভারতীয় তিনটি প্রতিষ্ঠান। বাকি বই দেশে ছাপা হয়। জানুয়ারি মাস শেষ হতে চললেও ভারতে ছাপা হয়ে দেশে পৌঁছেনি প্রাথমিক স্তরের ৩৩ লাখ পাঠ্যবই। চলতি শিক্ষাবর্ষে ৫৯ লাখ পাঠ্যবই মুদ্রণের কাজ পাওয়া ভারতের মুম্বাইয়ের মুদ্রণ প্রতিষ্ঠান শীর্ষাসাই সময়মতো পাঠ্যবই ছেপে সরবরাহ করতে ব্যর্থ হয়েছে। এখনো এই প্রতিষ্ঠানের ৩৩ লাখ বই ভারতে আটকে আছে। এতে চট্টগ্রাম ও নোয়াখালী অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের কাছে বই উৎসবের আনন্দ ম্লান হয়ে গেছে। 
রাজধানীর যাত্রাবাড়ী, মীরপুর, উত্তরা এলাকার বেশির ভাগ স্কুলের শিক্ষার্থীরা প্রাথমিকের পুরো সেট বই এখনো পায়নি। মিরপুরের একটি স্কুলের তৃতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থীর একজন অভিভাবক জানান, জানুয়ারির প্রথম দিন স্কুলে উৎসব করে বাংলা, গণিত ও ইংরেজি বই দেয়া হয়েছে। মাস শেষ হয়ে এলেও এখনো অবিশষ্ট পাঠ্যবই দেয়নি। 
অন্য দিকে প্রথমবারের মতো পাঁচটি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর শিশুরা নিজের মাতৃভাষা লেখা প্রাক-প্রাথমিকের পাঠ্যবই পাবে। কিন্তু চাকমা, মারমা, সাদ্রী, ত্রিপুরা ও গারো ভাষায় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর শিশুরা এখনো পাঠ্যবই পায়নি। 
এ ব্যাপারে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক নারায়ণ চন্দ্র সাহা গতকাল সন্ধ্যায় নয়া দিগন্তকে বলেন, কোন জেলায় কী পরিমাণ বই পৌঁছেছে এবং কী
পরিমাণ বাকি রয়েছে তার সঠিক তথ্য এ মুহূর্তে আমার কাছে নেই। তিনি এ ব্যাপারে উৎপাদন নিয়ন্ত্রক আবদুল মজিদের সাথে যোগাযোগ করার পরামর্শ দিয়ে আরো বলেন, তিনি তো এখন অফিসে নেই। আজ সোমবার তিনি যোগাযোগ করার কথা বলেন। বিদেশে ছাপা বইয়ের শেষ চালান চট্টগ্রাম বন্দরে রয়েছে বলে জানিয়ে তিনি বলেন, এগুলো বন্দর থেকে ছাড় হয়ে কয়েকদিনের মধ্যে স্কুলে পৌঁছে যাবে।
http://www.dailynayadiganta.com/detail/news/189709