২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, শনিবার
Choose Language:

সর্বশেষ
চলতি বিষয়াবলি
চেষ্টা করেও বিশ্বব্যাংকের বাজেট সহায়তা ঋণ পাওয়া গেল না: ঘাটতি পূরণে ব্যাংক ও সঞ্চয়পত্রই ভরসা
২২ জানুয়ারি ২০১৭, রবিবার,
চলতি অর্থবছরেও বিশ্বব্যাংকের কাছ থেকে বাজেট সহায়তা খাতে কোনো অর্থ পাওয়া গেল না। ফলে বাজেট ঘাটতি পূরণের জন্য ব্যাংক ও সঞ্চয়পত্র থেকে ঋণ নেয়ার ওপরই বেশি ভরসা করতে হচ্ছে। এরই মধ্যে সঞ্চয়পত্র থেকে সরকারের ঋণ নেয়ার পরিমাণ বাজেট লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। জুন-নভেম্বর সময়কালে এ খাত থেকে ঋণের পরিমাণ ২০ হাজার কোটি টাকা অতিক্রম করেছে। অর্থবছর শেষে তা ৩০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে। এতে সরকারের সুদের ব্যয় অনেক বেড়ে যাবে, যা কিনা বাজেট ব্যবস্থাপনায় ভারসাম্যহীনতার সৃষ্টি করতে পারে বলে শঙ্কা ব্যক্ত করা হয়েছে। অর্থ বিভাগ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। 
সূত্র জানায়, অর্থবছরের শুরুতে আশা করা গিয়েছিল, বাজেটে সহায়তা খাতে বিশ্বব্যাংকের কাছ থেকে ঋণ পাওয়া যেতে পারে। এই ঋণের পরিমাণ হতে পারে ৩০ কোটি থেকে ৫০ কোটি ডলার। কিন্তু অর্থবছরের ছয় মাস পেরিয়ে যাওয়ার পর এখন দেখা যাচ্ছে বাজেট সহায়তার জন্য ঋণের জন্য বিশ্বব্যাংক কোনো সাড়াই দিচ্ছে না। তবে ঋণটি যাতে পাওয়া যায় তার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে ‘চেষ্টা তদবির’-এর কোনো কমতি ছিল না। গেল বছরে ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সভায় অর্থমন্ত্রী স্বয়ং এই ঋণ যাতে বাংলাদেশকে দেয়া হয় তার জন্য সংস্থাটির প্রতি অনুরোধ জানিয়েছিলেন। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। পাওয়া যায়নি বিশ্বব্যাংকের কাছ থেকে এই ঋণ। ফলে অর্থমন্ত্রী গত সপ্তাহে বলেছেন, বিশ্বব্যাংকের কাছ থেকে বাজেট সহায়তা পাচ্ছি না আমরা। কেন এই অর্থ পাওয়া যাচ্ছে না, তার কোনো ব্যাখ্যাও তিনি দেননি। 
অর্থ বিভাগের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নব্বইয়ের দশকের শেষ দিক থেকে বাজেট সহায়তা হিসেবে বিশ্বব্যাংেকের কাছ থেকে আমরা ঋণ পেয়ে আসছিলাম। প্রায় প্রতি বছর সংস্থার কাছ থেকে ৩০০ মিলিয়ন (৩০ কোটি) থেকে ৫০০ মিলিয়ন (৫০ কোটি) মার্কিন ডলার সহায়তা পাওয়া যেত। এই ঋণের সুদের হার ছিল খুবই কম, মাত্র শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ থেকে ৭৫ শতাংশ। শুধু তা-ই নয়, ১০ বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ ঋণ শোধ করার জন্য সময় পাওয়া যেত ৩০ বছর। এই সহায়তার বিনিময়ে আর্থিক খাতে আমাদের কিছু সংস্কারকাজ করতে হতো। এ মধ্যে ব্যাংকিং খাতের সংস্কারকাজ ছিল অন্যতম। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতা আসার পর কোনো বারই এই সহায়তা বিশ্বব্যাংকের কাছ থেকে পাওয়া যায়নি। পদ্মা সেতু নিয়ে এই সংস্থার সাথে মনোমালিন্যের জন্য মূলত প্রথম দিকে এই সহায়তা পাওয়া যায়নি। আর এখন কেন পাওয়া যাচ্ছে না, তা নিয়ে প্রশ্নের কারণ থাকতেই পারে। 
এ দিকে বাজেট সহায়তার মতো অতি স্বল্প সুদে ঋণ না পেয়ে সরকার এখন এই সংস্থার কাছ থেকেই চড়া সুদে ঋণ নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে। এমন একটি ঋণ নেয়ার কর্মসূচির নাম হচ্ছে স্কেল আপ ফ্যাসিলিটি বা এসইউএফ। বিশ্বব্যাংকের এই কর্মসূচির আওতায় ঋণ নেয়া হবে ৩০ কোটি মার্কিন ডলার, বাংলাদেশী মুদ্রায় যা প্রায় দুই হাজার ৪০০ কোটি টাকা। গত বছর থেকে চালু হওয়া ‘এসইউএফ’ ঋণের সুদের হার হবে প্রায় আড়াই শতাংশ। এই ঋণের গ্রেস পিরিয়ড হবে কম। শুধু তা-ই নয়, ঋণচুক্তি কার্যকর হওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে ‘ফ্রন্ট-এন্ড ফি’ নামে মোট ঋণের শূন্য দশমিক ২৫ ভাগ অর্থ বিশ্বব্যাংককে পরিশোধ করতে হবে, যা আগে বিশ্বব্যাংকের কোনো ঋণের ক্ষেত্রে ঘটেনি বলে জানা গেছে। 
এসইউএফ কর্মসূচির আওতায় যে তিন প্রকল্পে ঋণ নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে, সেগুলো হলোÑ ডেভেলপমেন্ট হাই পটেনশিয়াল সেক্টরস এক্সপোর্টস, বাংলাদেশ পাওয়ার সিস্টেম রিলাইবিলিটি অ্যান্ড অ্যানার্জি এফিসিয়েন্সি ইম্প্রুফমেন্ট প্রজেক্ট এবং ইনভেস্টমেন্ট প্রমোশন অ্যান্ড ফাইনেন্সিং ফ্যাসিলিটি প্রজেক্ট। প্রতিটি প্রকল্পের বিপরীতে ১০ কোটি মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ ঋণ নেয়া হবে। 
 অর্থমন্ত্রী বলেছেন, এসইউএফ নিয়ে অনেক সমালোচনা রয়েছে, তার পর এই ঋণ আমরা নিচ্ছি।
http://www.dailynayadiganta.com/detail/news/189457