১৭ নভেম্বর ২০১৯, রবিবার
Choose Language:

সর্বশেষ
চলতি বিষয়াবলি
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিভাজনে সেবা ও সমন্বয়হীনতার আশঙ্কা
২২ জানুয়ারি ২০১৭, রবিবার,
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পর গত সপ্তাহে বিভাজন করা হয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এবার বিভক্ত করা হবে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়কেও। আগামী কিছু দিনের মধ্যেই এ ব্যাপারে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে। আরো কয়েকটি মন্ত্রণালয়কে বিভাজনের সিদ্ধান্ত থাকলেও শিগগিরই সেগুলো হচ্ছে না বলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্র জানান। 
স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ এবং স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ নামে দুই ভাগ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত কোন সংস্থা কোন বিভাগের অধীনে থাকবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অনুশাসনে তার উল্লেখ থাকলেও মন্ত্রণালয় এ ব্যাপারে সিদ্ধান্তহীনতায় ছিল। বিভাজন নিয়ে এ পর্যন্ত দফায় দফায় বৈঠক করেছেন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা। পরে শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অনুশাসনের আলোকেই বিভাজন সম্পন্ন করা হবে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রস্তাবিত বিভাজনে সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়হীনতার সৃষ্টি হতে পারে। মাঠ পর্যায়ে বিরূপ প্রতিক্রিয়ারও আশঙ্কা রযেছে। কারণ স্বাস্থ্য কেন্দ্রের ডাক্তাররা স্বাস্থ্য বিভাগের অধীনে থাকলে, পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রিক সেবা কেন্দ্রগুলোর ডাক্তাররা কোন বিভাগের অধীনে থাকবেন? আবার যে প্রক্রিয়ায় করা হচ্ছে, তাতে প্রশাসনিক কার্যক্রমে সমন্বয়হীনতার সৃষ্টি হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিরা। মেডিক্যাল কলেজগুলোর শিক্ষাকার্যক্রম এবং হাসপাতালগুলোর সেবা কার্যক্রম দুু’টি পৃথক বিভাগের আওতায় গেলে উন্নত চিকিৎসাসেবা ও চিকিৎসা কার্যক্রম দু-ই ব্যাহত হতে পারে। সৃষ্টি হতে পারে সমন্বয়হীনতা ও বিশৃঙ্খলা। 
এ ছাড়াও হাসপাতাল পরিচালনা, ওষুধ-পথ্য সরবরাহ, হাসপাতাল কেন্দ্রিক শিক্ষাকার্যক্রম পরিচালনা সমন্বি^তভাবে পরস্পর পরস্পরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করে। বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডারের সব চিকিৎসকের নিয়ন্ত্রণ, বদলি, পদায়ন ও পদোন্নতি এক বিভাগ থেকে সম্পন্ন হয়ে থাকে। এখন বিভাজনের মধ্যে পড়লে বিরূপ পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। এ ছাড়াও আর্থিক সম্পদ ও মানবসম্পদ ব্যবহারে দ্বৈততা আসতে পারে। এ অবস্থায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে স্বাস্থ্য বিভাগ এবং জনসংখ্যা, নার্সিং ও ওষুধ বিভাগ নামে পৃথক দু’টি বিভাগে পুনর্গঠনের সুপারিশ করা হয়। এরূপ নানা জটিলতার কথা তুলে ধরা হয়েছে মন্ত্রণালয়ের একাধিক বৈঠকে। পরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অনুশাসনের আলোকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভার সিদ্ধান্ত হয়, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়কে পুনর্গঠন করে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ এবং স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের রূপান্তর করা হবে। এতে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের আওতায় স্বাস্থ্য অধিদফতর, স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতর, বিশেষায়িত চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান, নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদফতর, ওষুধ প্রশাসন অধিদফতর, স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিট, ইডিসিএল, নিমিউ অ্যান্ড টিসি, টোমো। 
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের আওতায় মেডিক্যাল কলেজ ও মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়, নার্সিং কলেজ ও নার্সিং ইনস্টিটিউট, ম্যাটস ও আইএইচটি, পরিবার পরিকল্পনা অধিদফতর, জাতীয় জনসংখ্যা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান, মেডিক্যাল ও ডেন্টাল কাউন্সিল, ইউনানি, আয়ুর্বেদিক, হোমিওপ্যাথিক কলেজ ও বোর্ড, নিমিউ অ্যান্ড টিসি, টোমোকে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব গৃহীত হয়। 
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা নয়া দিগন্তকে বলেন, যে প্রক্রিয়ায় সংস্থাগুলোর বিভাজনের পরিকল্পনা ও সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে, তাতে প্রশাসনিক কার্যক্রমে সমন্ব^য়হীতার সৃষ্টি হতে পারে। এ জন্য বৃহৎ এই মন্ত্রণালয়কে পুনর্গঠনের বিষয়ে আরো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার প্রয়োজন ছিল। এর ব্যতিক্রম হলে প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনায় জটিলতা সৃষ্টি হবে। জনগণ স্বাস্থ্য সেবা পেতে জটিলতার মুখোমুখি হবে। প্রশাসনিক উন্নয়ন সংক্রান্ত সচিব কমিটির সভায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় পুনর্গঠন সংক্রান্ত সার-সংক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হয়। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সার-সংক্ষেপে সমস্যাও তুলে ধরা হয়। সমস্যার ব্যাপারে আলোচনা হলেও কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই ওই সভা শেষ হয় এবং পরে মন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে অনুশাসনের আলোকে বিভাজনের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে বলে সূত্র জানান।
http://www.dailynayadiganta.com/detail/news/189456