২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, রবিবার
Choose Language:

সর্বশেষ
চলতি বিষয়াবলি
জাইকার ঋণের সুদ বাড়ছে ৬ গুণ: ঋণ পরিশোধের মেয়াদ কমছে, যোগ হচ্ছে নতুন শর্ত ; উন্নয়নের গুরুত্ব বিবেচনায় প্রস্তাব মেনে নিয়েছে সরকার
২২ জানুয়ারি ২০১৭, রবিবার,
দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়নে শীর্ষ সহযোগী জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা)। ঋণের জন্য এতদিন বার্ষিক সুদ হার ছিল মাত্র ০.০১ শতাংশ। ঋণ শোধ করতে হচ্ছে ৪০ বছরে। কিন্তু এবার ঋণের নতুন প্যাকেজে সুদ ও শর্ত বাড়াতে যাচ্ছে জাপান। এক্ষেত্রে সুদের হার বাড়ানো, ঋণ পরিশোধের সময় কমানো এবং নতুন করে চার্জ আরোপ করা হচ্ছে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে। এ বিষয়ে ইতিমধ্যেই একটি প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে সরকারের সঙ্গে। এজন্য জাইকার উচ্চপর্যায়ের একটি মিশন সম্প্রতি ঢাকা ঘুরে গেছে। তবে বিষয়টি নিয়ে অত্যন্ত গোপনীয়ভাবে কাজ করছে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি)।
 
 
এ প্রসঙ্গে দায়িত্বশীল কোনো কর্মকর্তাই মুখ খুলতে চাননি। তবে নির্ভরযোগ্য সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে, সরকার অবকাঠামো উন্নয়নের গুরুত্ব বিবেচনায় জাপানের প্রস্তাব নীতিগতভাবে মেনে নিয়েছে। যা কার্যকর হবে ৩৮তম ঋণ প্যাকেজের আওতায়। এ প্যাকেজে যেসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে তাতে সুদের হার ধরা হবে দশমিক শূন্য ৭০ শতাংশ। অর্থাৎ বর্তমানের চেয়ে ৬ গুণ বাড়ছে সুদ। এর সঙ্গে চার্জ হিসেবে যুক্ত হবে শূন্য দশমিক শূন্য ২ শতাংশ। কিন্তু বর্তমানে জাইকার কোনো প্যাকেজে এ ধরনের চার্জ নেই।
 
এছাড়া বর্তমানে ৩৭তম ঋণ প্যাকেজে ১০ বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ ৪০ বছরের মধ্যে পরিশোধের নিয়ম রয়েছে। অর্থাৎ ঋণ নেয়ার ১০ বছর পর থেকে মূল ঋণ পরিশোধ শুরু হবে। কিন্তু নতুন প্যাকেজের ক্ষেত্রে গ্রেস পিরিয়ড ঠিক থাকলেও ঋণ পরিশোধের সময় ১০ বছর কমিয়ে এনে ৩০ বছর করা হচ্ছে। ৯ থেকে ১৯ জানুয়ারি পর্যন্ত ৩৮তম ঋণ প্যাকেজ ঠিক করতে জাইকার একটি মিশন বাংলাদেশ সফর করেছে। সরকারের নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে বৈঠক করে মিশন এসব বিষয় চূড়ান্ত করেছে বলে জানা গেছে।
 
এ প্রসঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব কাজী শফিকুল আযম শনিবার যুগান্তরকে বলেন, আমাদের গ্র্যাজুয়েশন হচ্ছে এবং জাতীয় আয় স্থিতিশীল রয়েছে, তাই তারা সুদের হার বাড়াবে এটি আগেই বাংলাদেশকে জানিয়েছে। অর্থমন্ত্রী বিষয়টি জানেন এবং সরকারের পক্ষ থেকেও সম্মতি মিলেছে।
 
এ প্রসঙ্গে জাইকার ঢাকা অফিসের কোনো কর্মকর্তা প্রকাশ্যে কথা বলতে নারাজ। একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তারা এ নিয়ে কথা বলতে চাননি। তবে বিষয়টি অস্বীকারও করেননি। তবে জাইকার প্রশাসনিক বিভাগের (পাবলিক রিলেশন) দায়িত্বপ্রাপ্ত এক কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বন্ধের দিনে এ বিষয়ে কিছু বলার নেই। তাছাড়া মিডিয়ার সঙ্গে এখন কেউ কথা বলতে চান না। তবুও একটি ই-মেইল পাঠিয়ে দেন।
 
সুদ বাড়ানো প্রসঙ্গে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক অর্থ উপদেষ্টা মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, সুদের হার কিছুটা বাড়লেও খুব বেশি ঋণের বোঝা বাড়বে বলে মনে হয় না। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, ঋণের ব্যবহার নিয়ে। ঋণ নিয়ে যদি কার্যকর ব্যবহার করা না যায় তাহলে প্রকৃত উদ্দেশ্য ব্যাহত হবে।
 
সূত্র জানায়, বর্তমানে চলমান ৩৭তম ঋণ প্যাকেজের আওতায় এ যাবতকালের সর্বোচ্চ ঋণ দিচ্ছে জাইকা। দেশের অবকাঠামো খাতের বেশকিছু বড় প্রকল্পেও জাপানের বিনিয়োগ রয়েছে। এছাড়া সম্প্রতি নির্মাণ কাজ উদ্বোধন হওয়া মেট্রোরেল প্রকল্পের ৭০ শতাংশের বেশি অর্থায়ন করছে দেশটি। কক্সবাজারের মহেশখালীতে মাতারবাড়ী ১২০০ মেগাওয়াট কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে ৩৫ হাজার ৯৮৪ কোটি টাকার যে প্রকল্প নেয়া হয়েছে তার মধ্যে জাইকা দেবে ২৮ হাজার ৯৩৯ কোটি টাকা। পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় নির্মাণাধীন পায়রা গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণেও অর্থ দিচ্ছে সংস্থাটি। এর বাইরে স্যানিটেশন ও নিরাপদ পানি ব্যবস্থার উন্নয়নেও জাপান স্বল্প সুদে ঋণ দিচ্ছে। সম্প্রতি বাংলাদেশের ছয়টি প্রকল্পে প্রায় ১৩ হাজার কোটি টাকার ঋণ সহায়তা চুক্তি করেছে জাইকা। ঢাকা মাস র্যাপিড ট্রানজিট, যমুনা রেল সেতু নির্মাণ, আন্তঃসীমান্ত সড়ক যোগাযোগ উন্নয়ন, মাতারবাড়ি কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র, এনার্জি ইফিশিয়েন্সি অ্যান্ড কনজারভেশন প্রোমোশন ফাইন্যান্সিং ও ডিজাস্টার রিস্ক ম্যানেজমেন্ট এনহান্সমেন্ট প্রকল্পে এ অর্থ ব্যয় হওয়ার কথা রয়েছে। এ ছাড়া বিদ্যুৎ, যোগাযোগ ও দুর্যোগ প্রশমনসহ বিভিন্ন খাতের ছয় প্রকল্পে বাংলাদেশকে সহজ শর্তে ১২ হাজার ৮১৯ কোটি টাকা ঋণ চুক্তি স্বাক্ষর করে জাপান। টাকার অংকে বাংলাদেশের জন্য এটিই সবচেয়ে বড় জাপানি ঋণ। এ চুক্তি অনুযায়ী, জাপানের ৩৭তম ঋণ প্যাকেজের আওতায় ওই অর্থ পাবে বাংলাদেশ। ঋণের জন্য বার্ষিক সুদের হার হবে মাত্র ০.০১ শতাংশ। ঋণ শোধ করতে হবে ৪০ বছরে। সাধারণত এক বছরের জন্য ঋণ প্যাকেজ ঘোষণা করে জাইকা। গত বছরের জুনে এ বিষয়ে চুক্তি হয়েছে।
 
সূত্রমতে, ৩৮তম ঋণ প্যাকেজে মোট কত মিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ পাওয়া যাবে সেটি এখনও চূড়ান্ত হয়নি। তবে সংশ্লিষ্টদের ধারণা গত প্যাকেজের মতোই ঋণ সহায়তা পাওয়া যাবে। এক্ষেত্রে মেট্রোরেল প্রকল্পের বাকি অংশ, মাতারবাড়ি বিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য আরও অর্থায়নসহ নতুন প্রকল্প এ প্যাকেজে থাকতে পারে। এ বিষয়ে ইআরডির দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানায়, ঢাকায় সফর শেষে জাইকার মিশন দেশে ফিরে সহসাই ৩৮তম ঋণ প্যাকেজের জন্য প্রস্তাব পাঠাবে। ইআরডি জানায়, জাপান-বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক স্থাপিত হওয়ার পর থেকেই দু’দেশের সম্পর্ক উত্তরোত্তর শক্তিশালী হয়েছে। জাপান এ পর্যন্ত বাংলাদেশকে ১ লাখ কোটি ইয়েন ঋণ, ৫০ হাজার কোটি ইয়েন অনুদান এবং সাড়ে ৬ হাজার কোটি ইয়েন কারিগরি সহায়তা দিয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় এ ৩৮তম ঋণ প্যাকেজ দেয়ার কাজ শুরু করেছে দেশটি। তবে কি কারণে নতুন ঋণ প্যাকেজে শর্ত কঠোর করা হচ্ছে সে বিষয়ে জানতে চাইলেও ইআরডির কোনো কর্মকর্তাই কথা বলেননি।
http://www.jugantor.com/last-page/2017/01/22/95153/%E0%A6%9C%E0%A6%BE%E0%A6%87%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%8B%E0%A6%A3%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%B8%E0%A7%81%E0%A6%A6-%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A7%9C%E0%A6%9B%E0%A7%87-%E0%A7%AC-%E0%A6%97%E0%A7%81%E0%A6%A3