১৭ নভেম্বর ২০১৯, রবিবার
Choose Language:

সর্বশেষ
চলতি বিষয়াবলি
ফের উচ্চমূল্যে ১০ হাজার প্রিপেইড মিটার কিনছে আরইবি
২২ জানুয়ারি ২০১৭, রবিবার,
আবারও উচ্চমূল্যে প্রিপেইড মিটার কিনছে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (আরইবি)। গত ১৭ জানুয়ারি বোর্ডের ৫৬১তম সভায় ১০ হাজার প্রিপেইড মিটার কেনার সিদ্ধান্ত হয়েছে। গাজীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিতে ৫ হাজার এবং নারায়ণগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিতে ৫ হাজার প্রিপেইড মিটার দেয়া হবে। এ জন্য ১০ হাজার প্রিপেইড মিটার কেনা হচ্ছে।
জানা গেছে, গাজীপুরের জন্য প্রতিটি সিঙ্গেল ফেজ মিটার ৩ হাজার ২২৪ টাকা আর নারায়ণগঞ্জ সমিতির জন্য প্রতিটি সিঙ্গেল ফেজ প্রিপেইড মিটার ৪ হাজার ২৫০ টাকায় ক্রয় করবে। এছাড়া গাজীপুরে প্রতিটি থ্রি ফেজ প্রিপেইড মিটার ২১ হাজার ১৮৬ টাকায় এবং নারায়ণগঞ্জ সমিতি প্রতিটি থ্রি ফেজ প্রিপেইড মিটার ক্রয় করবে ২৬ হাজার টাকায়। উল্লেখ্য, এর আগেও আরইবি’র বিরুদ্ধে উচ্চমূল্যে নিুমানের ইলেকট্রনিক মিটার কেনায় সংস্থার ক্রয় নীতিমালা ও পিপিআর ২০০৮ অনুসরণ না করার অভিযোগ আছে। এ কারণে বিপুল অংকের টাকা গচ্চা গেছে সরকারের।
এ প্রসঙ্গে আরইবির প্রেস কনসালটেন্ট তালুকদার রুমী যুগান্তরকে বলেন, তার জানামতে এই মিটারগুলো ক্রয়ের বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। এই ক্ষেত্রে আরইবির ক্রয় নীতিমালা ও পিপিআর অনুসরণ করে সব ধরনের সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, যে দুটি কোম্পানি প্রিপেইড মিটার কেনার কার্যাদেশ পাচ্ছে তারা কেউ বৈদ্যুতিক মিটার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান নয়। এমনকি প্রতিষ্ঠান দুটির প্রস্তুতকৃত মিটারের কোনো টাইপ টেস্ট রিপোর্টও নেই। ইউনিফাইড টেকনিক্যাল স্পেসিফিকেশন এর ৭.৪৯ এর ৩ ধারা অনুযায়ী, এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কোম্পানি তাদের সব ধরনের টাইপ টেস্ট রিপোর্ট জমা দেয়ার বাধ্যবাধকতা থাকলেও কেউ সেটা দিতে পারেনি। তারপরও অভিযোগ আরইবি কর্তৃপক্ষ সংস্থা দুটির কাছ থেকে ১০ হাজার প্রিপেইড মিটার ক্রয় করছে। খোদ আরইবির একটি সূত্রে জানা গেছে, খোলা দরপত্রের মাধ্যমে এই মিটার ক্রয় করা হলে দাম পড়ত অর্ধেক। আরইবি সূত্রে আরও জানা গেছে, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের কাছ থেকে রাজশাহী, কুমিল্লা এবং রংপুর অঞ্চলে সরবরাহ, স্থাপন ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য তিনটি টার্নকি চুক্তির অধীনে ৪ লাখ ৫০ হাজার মিটার ক্রয় করা হয়। যেখানে প্রতিটি সিঙ্গেল ফেজ প্রিপেইড মিটারের ক্রয়মূল্য ছিল ২৮০০ টাকা এবং থ্রি ফেজ প্রিপেইড মিটারের একক ক্রয়মূল্য ছিল ১৯ হাজার ৬০০ টাকা। অথচ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে রহস্যজনক কারণে প্রতিটি সিঙ্গেল ফেজ মিটারের মূল্য ৫শ’ থেকে ১৫শ’ টাকা এবং প্রতিটি থ্রি ফেজ মিটারের দাম ২ হাজার থেকে ৭ হাজার টাকার বেশি দিয়ে কেনার অভিযোগ উঠেছে।
এর আগেও গত ৬ নভেম্বর আরইবি উচ্চমূল্যে ঢাকা পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি-১ এর জন্য ৫ হাজার কি-প্যাড প্রিপেইড মিটার ক্রয় করে। সেখানে প্রতিটি মিটারের ক্রয়মূল্য ছিল ৩ হাজার ২৪০ টাকা। অভিযোগ আছে আন্তর্জাতিক বাজারে কি-প্যাড মিটার সরবরাহ করার কোনো অভিজ্ঞতা নাই এমন একটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ওই মিটার ক্রয় করা হয়েছিল। তারও আগে গত ২৪ নভেম্বর যশোর পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির জন্য ২ লাখ ৩৮ হাজার ২০০টি মিটার ক্রয়ের দরপত্র আহ্বান করে। দরপত্র ৩টি প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করে। অভিযোগ সর্বনিু দরদাতা তাদের দরপত্রে চায়না থেকে প্রস্তুতকৃত মিটার সরবরাহের প্রস্তাব করে। পরবর্তীতে স্যাম্পল টেস্টে ওই কোম্পানির দেয়া স্যাম্পল কারিগরি টেস্টে উত্তীর্ণ হতে পারেনি। নিয়ম অনুযায়ী এই ক্ষেত্রে সর্বনিু দরদাতার এই কারিগরি প্রস্তাব বাতিল করার কথা থাকলেও অভিযোগ যশোর পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি পুনরায় ওই কোম্পানির কাছ থেকে স্যাম্পল নিয়ে টেস্ট করে তাদেরকেই কার্যাদেশ দেয়ার সুপারিশ পাঠিয়েছে আরইবির কাছে। এই ক্ষেত্রে দ্বিতীয় ও তৃতীয় সর্বনিু দারদাতাদের কারও সঙ্গে ওই সমিতি কোনো ধরনের নেগোসিয়েশন করেনি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে আরইবির একজন শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, গত দুই তিন বছরে ইউরোপ, আমেরিকাসহ স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানের মিটার পরীক্ষণ এবং ননরেসপন্সিভ হওয়া বিষয়ে আরইবি বোর্ড কখনই তাদের নীতিমালা শিথিল করেনি। কিন্তু সম্প্রতি টেন্ডার জমা দেয়ার পর আবার স্যাম্পল নিয়ে পরীক্ষণের ঘটনা ঘটেছে।
http://www.jugantor.com/last-page/2017/01/22/95161/%E0%A6%AB%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%89%E0%A6%9A%E0%A7%8D%E0%A6%9A%E0%A6%AE%E0%A7%82%E0%A6%B2%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A7%87-%E0%A7%A7%E0%A7%A6-%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%9C%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%BF%E0%A6%AA%E0%A7%87%E0%A6%87%E0%A6%A1-%E0%A6%AE%E0%A6%BF%E0%A6%9F%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%95%E0%A6%BF%E0%A6%A8%E0%A6%9B%E0%A7%87-%E0%A6%86%E0%A6%B0%E0%A6%87%E0%A6%AC%E0%A6%BF