১৪ অক্টোবর ২০১৯, সোমবার
Choose Language:

সর্বশেষ
চলতি বিষয়াবলি
আইয়ুব খানের প্রেতাত্মা কি ভর করেছে? চলতে ফিরতে দেখা
২২ জানুয়ারি ২০১৭, রবিবার,
|| ড. রেজোয়ান সিদ্দিকী ||
 
অনেকের প্রশ্ন এই সরকারের ওপর কি পাকিস্তানের সামরিক স্বৈরশাসক আইয়ুব খানের প্রেতাত্মা ভর করেছে? এই সরকারের ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির প্রহসনের নির্বাচন, ‘উন্নয়নের গণতন্ত্র’ আর ‘উন্নয়নমেলা’ সে কথাই আবার নতুন করে স্মরণ করিয়ে দিলো। আইয়ুব খানের স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে এ দেশের সর্বস্তরের মানুষ, ছাত্র-জনতা, কৃষক-শ্রমিক ১৯৬৮ সালে এক দুর্বার গণ-আন্দোলন গড়ে তুলেছিল, যার পরিণতিতে ১৯৬৯ সালে তিনি জেনারেল ইয়াহিয়া খানের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করে বিদায় নিতে বাধ্য হন। ইয়াহিয়া খান পাকিস্তানে সামরিক শাসন জারি করেন, যার পরের ইতিহাস প্রতারণা আর শঠতার ইতিহাস এবং তারই পরিণতিতে পূর্ব পাকিস্তানের মানুষ স্বাধীনতাযুদ্ধ করে স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করেন। আর এখন আমরা কি ফের পাকিস্তানের স্বৈরশাসক আইয়ুব খানের পদাঙ্ক অনুসরণ করতে শুরু করেছি!
আইয়ুব খান মেধাবী ছাত্র ও প্রশিক্ষণার্থী ছিলেন। ১৯২৮ সালে তিনি সেনাবাহিনীতে যোগদান করেন। তারপর তিনি দ্রুত পদোন্নতি লাভ করে এগিয়ে যেতে থাকেন। ১৯৫১ সালে মেজর জেনারেল ইফতেখার খান পাকিস্তান সেনাবাহিনীর প্রধান নিযুক্ত হন। কিন্তু লন্ডন থেকে ফেরার পথে এক বিমান দুর্ঘটনায় তার মৃত্যু হয়। সে সময় কমপক্ষে চারজন জেনারেলকে ডিঙিয়ে সবচেয়ে কনিষ্ঠ জেনারেল আইয়ুব খানকে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। ওই সময় নিয়োগের তালিকায় তার নামও ছিল না। তার নিয়োগের ব্যাপারে রাজি ছিলেন না প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলী খান। কিন্তু প্রতিরক্ষা সেক্রেটারি ইস্কান্দার মির্জার চাপাচাপিতে শেষ পর্যন্ত লিয়াকত আলী খান রাজি হন। আইয়ুব খান তদবির করেই ১৯৫৩ সালে নৌবাহিনীর প্রধান হিসেবে ভাইস অ্যাডমিরাল এম এস চৌধুরীকে নিয়োগের ব্যবস্থা করেন।
তবে চাকরির মেয়াদ শেষ হওয়ার মাত্র তিন মাস আগে জেনারেল আইয়ুব খান তারই নিয়োগকর্তা প্রেসিডেন্ট ইস্কান্দার মির্জাকে এক সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত করেন। আইয়ুবের চাপে ইস্কান্দার মির্জা পাকিস্তানে সামরিক আইন জারি করতে বাধ্য হন এবং আইয়ুব খানকে প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক নিযুক্ত করেন।
এ দিকে ১৯৫৪ সালে পাকিস্তানে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সে নির্বাচনে জয় লাভ করে আওয়ামী লীগের হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নিযুক্ত হন। তিনি ইস্কান্দার মির্জার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলেন। ১৯৫৪ সালেই জেনারেল আইয়ুব খানকে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী নিযুক্ত করা হয়। এর মধ্যে ১৯৫৬ সালে পাকিস্তানে একটি সংবিধান প্রণয়ন ও গৃহীত হয় এবং সংবিধান গৃহীত হওয়ার পর ইস্কান্দার মির্জাকে পাকিস্তানের প্রথম সাংবিধানিক প্রেসিডেন্ট হিসেবে মনোনীত করা হয়। ১৯৫৭ সালে ইস্কান্দার মির্জা জেনারেল আইয়ুব খানকে তার চাকরির মেয়াদ বাড়িয়ে দেন।
এ সময় অর্থনৈতিক বিষয়াদি নিয়ে সেনাবাহিনী ও নৌবাহিনীর সঙ্গে সরকারের মতবিরোধ দেখা দেয়। ১৯৫৭ সালের ১০ অক্টোবর প্রেসিডেন্ট ইস্কান্দার মির্জার বরখাস্তের হুমকির মুখে সোহরাওয়ার্দী পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেন। আই আই চুন্দিরাগর তার স্থলাভিষিক্ত হন। কিন্তু দুই মাসের মধ্যে চুন্দিরাগরকেও সংসদে সমর্থনের অভাবে পদত্যাগ করতে হয়। তার জায়গায় সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নিযুক্ত হন স্যার ফিরোজ নূন। ইস্কান্দার মির্জা চাইছিলেন নিয়ন্ত্রিত গণতন্ত্র; কিন্তু সোহরাওয়ার্দী ছিলেন তার ঘোর বিরোধী। তা ছাড়া গোটা পাকিস্তানকে তার এক ইউনিট বানানোর প্রচেষ্টাও ব্যাপক বিরাধিতার মুখে পড়ে। শেষ পর্যন্ত তিনি পার্লামেন্টে আস্থাভোটের দাবি করেছিলেন। কিন্তু মির্জা তা-ও বাতিল করে দেন।
দেশের পশ্চিমাঞ্চলে রিপাবলিকান পার্টি পূর্বাঞ্চলে আওয়ামী লীগ ফিরোজ নূনকে সমর্থন যুগিয়ে যাচ্ছিল। এতে ইস্কান্দার মির্জা ভয়ে ছিলেন। তিনি এটা পছন্দ করছিলেন না। সোহরাওয়ার্দী ও ফিরোজ নূন আশা করছিলেন যে, পরবর্তী নির্বাচনে তারাই হবেন প্রধানমন্ত্রী ও প্রেসিডেন্ট। পশ্চিম পাকিস্তানে মুসলিম লীগের প্রেসিডেন্ট আবদুল কাইয়ুম খানও আন্দোলনের হুমকি দিতে থাকেন।
এ রকম অস্থির অবস্থায় ইস্কান্দার মির্জা ১৯৫৮ সালের ৭ ও ৮ অক্টোবরের মধ্যরাতে সংবিধান ও সংসদ বাতিল করে সামরিক অভ্যুত্থান ঘটানোর জন্য সেনাবাহিনীকে নির্দেশ দেন। শুধু মার্কিন রাষ্ট্রদূত জেমস ল্যাংলি ছাড়া আর কাউকে এ খবর জানানো হয়নি। রাজনীতিবিদেরা সকালে ঘুম থেকে উঠে এই সামরিক অভ্যুত্থানের সংবাদ জানতে পারেন। মির্জা জেনারেল আইয়ুব খানকে প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক নিয়োগ করেন। তবে জনাব মির্জা শিগগিরই তার ভুল বুঝতে পারেন এবং সংবাদপত্রে সে কথা স্বীকারও করেন যে, আইয়ুব খানকে সিএমএলএ করা তার কত বড় ভুল হয়েছিল। তিনি বলেছিলেন, ‘আমি এটা করতে চাইনি। আমি চেয়েছিলাম গোলযোগপূর্ণ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্বল্প সময়ের জন্য এই সামরিক আইন জারি করতে।’ তিনি আইয়ুব খানকে প্রধানমন্ত্রীর পদ অফার করেছিলেন এবং একটি টেকনোক্র্যাট মন্ত্রিসভা গঠন করতে বলেছিলেন। আর সশস্ত্রবাহিনী থেকে আইয়ুব খানের ঘনিষ্ঠ লোকদের সরিয়ে দিচ্ছিলেন।
আইয়ুব খান এটা পছন্দ করেননি। তিনি ১৯৫৮ সালেরই ২৬-২৭ অক্টোবরের মধ্যরাতে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে তার সামরিক ইউনিট পাঠিয়ে মির্জাকে ক্ষমতাচ্যুত করে লন্ডনে নির্বাসনে পাঠিয়ে দেন। আইয়ুব খান নিজেকে অযৌক্তিকভাবে ফিল্ড মার্শাল পদে অভিষিক্ত করেন। তবে ইস্কান্দার মির্জার ক্ষমতার লোভের কারণে তখন পাকিস্তানের মানুষ ব্যাপকভাবে তার বিরুদ্ধে চলে গিয়েছিল। সেই কারণে ইস্কান্দার মির্জার প্রতি কারো কোনো সহানুভূতি ছিল না। 
আইয়ুব খান পরবর্তী দুই বছর সামরিক শাসনের মাধ্যমে দেশ পরিচালনা করতে শুরু করেন। তিনি ১৯৫৭ সালে একটি প্রহসনের গণভোটের আয়োজন করেন। সে গণভোটে প্রশ্ন ছিল ‘আপনার কি মোহাম্মদ আইয়ুব খানের প্রতি আস্থা আছে?’ এই গণভোটে সরকার দেখায় যে, তাতে ৯৫.৬ শতাংশ ভোট পড়েছে এবং তার মাধ্যমে তিনি পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট পদ্ধতির সরকার প্রবর্তন করেন। আর আইয়ুব খান নিজে পরবর্তী পাঁচ বছরের জন্য প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন বলে ঘোষণা করেন। এরপর তিনি পাকিস্তানের প্রধান বিচারপতি মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন ও অন্য বিচারপতিদের নিয়ে একটি সাংবিধানিক কমিশন গঠন করেন। ১৯৬১ সালে এই কমিশন কতগুলো সুপারিশ প্রণয়ন করে। কিন্তু জেনারেল আইয়ুব খানের সেসব সুপারিশ পছন্দ হয় না। তিনি তার সম্পূর্ণ বিপরীত অবস্থান নিয়ে সংবিধান সংশোধন করেন। তাতে তিনি উদার পন্থা দেখাতে রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহার নিষিদ্ধ করেন। তার পছন্দের ওই সংবিধান জারির পর তিনি দেশে রাজনৈতিক স্বাধীনতা ‘নিশ্চিত’ করেন। তার সংবিধানে ইসলামের প্রতি শ্রদ্ধা ছিল বটে, তবে তিনি ইসলামকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রধর্ম করেননি, যাতে ওই সংবিধানকে উদারনৈতিক মনে হয়। ওই সংবিধানে তিনি মৌলিক গণতন্ত্রের ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন। এই মৌলিক গণতন্ত্র হলো জনগণ নিজেরা প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন না। ভোট দেবে বিভিন্ন জেলা, থানা, ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত স্থানীয় সরকার প্রতিনিধিরা। কিন্তু সে ক্ষেত্রেও আইয়ুব খান এমন ব্যবস্থা করেন, যাতে তারা স্বাধীনভাবে ভোট দিতে না পারেন। 
আইয়ুব খানের সামরিকতন্ত্র এভাবেই জনগণের ভোটবিহীন অবস্থায় চলতে থাকে। তা সত্ত্বেও কিছু কিছু উন্নয়ন কর্মকাণ্ড গ্রহণের ফলে আইয়ুব খানের মনে এই ধারণা জন্মেছিল যে, জনগণের পূর্ণ সমর্থন তার প্রতি রয়েছে। তা ছাড়া বিরোধী দল ছিল বহুধাবিভক্ত। ফলে তিনি নিশ্চিত ছিলেন যে, ভবিষ্যতে যেকোনো নির্বাচনে তার জয় সুনিশ্চিত। আর সে কারণেই তিনি ১৯৬৫ সালে পাকিস্তানে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠানের ঘোষণা দেন। তিনি ছিলেন পাকিস্তান মুসলিম লীগের প্রার্থী। তার বিপরীতে সম্মিলিত বিরোধী দলের প্রার্থী মনোনীত হন কায়েদে আযম মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর বোন ফাতিমা জিন্নাহ। ফাতিমা জিন্নাহ পশ্চিম পাকিস্তানের করাচি, লাহোর ও অন্যান্য অংশের এবং পূর্ব পাকিস্তানের সমর্থন ছিল। ফাতিমা জিন্নাহ ভারতের সঙ্গে সিন্ধুর পানিচুক্তি, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আইয়ুব খানের অতিরিক্ত নির্ভরতা ও তার ছেলে কর্তৃক বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের হত্যার অভিযোগ তুলে অনেকখানি সুবিধাজনক অবস্থানে চলে যান। ফাতিমা জিন্নাহ ব্যাপক সাধারণ ভোট পেলেও মৌলিক গণতান্ত্রিক পদ্ধতির মাধ্যমে আইয়ুব খান নিজেকে বিজয়ী ঘোষণা করেন। তাকে জিতানোর জন্য পাকিস্তানের সামরিক গোয়েন্দা বিভাগ ব্যাপক অভিযান পরিচালনা করে। তারা বিরোধীদের টেলিফোনে আড়ি পাতাতে বেশির ভাগ সময় ব্যস্ত ছিল। পাকিস্তানের ১৮ বছরের ইতিহাসে ওই প্রথমবারই সামরিক গোয়েন্দারা জাতীয় রাজনীতিতে সরাসরি অংশগ্রহণ করে। এই নির্বাচনে বিশ্বব্যাপী ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ ওঠে। এটা ব্যাপকভাবে বিশ্বাস করা হতো যে, যদি জনগণের সরাসরি ভোটে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতো, তাহলে পাকিস্তানে ফাতিমা জিন্নাহই জয়ী হতেন। কিন্তু নির্বাচনে মাত্র ৮০ হাজার মৌলিক গণতন্ত্রী ভোট দিয়েছিলেন, যাদের প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খান ব্যাপকভাবে ঘুষ দিয়েছিলেন। তা সত্ত্বেও এই যাত্রায় তিনি ভোট পেয়েছিলেন ৬৪ শতাংশ। যারা ওই সময়ে নির্বাচন পর্যবেক্ষণে পাকিস্তান ছিলেন, সেসব সাংবাদিক জানিয়েছিলেন যে, নির্বাচন কোনো বিবেচনায়ই অবাধ ও সুষ্ঠু হয়নি। ফলে ১৯৬৫ সালের নির্বাচনের পর প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খান ব্যাপকভাবে জনধিকৃত হতে শুরু করেন।
ইতোমধ্যে আইয়ুব খানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পদ ছেড়ে জুলফিকার আলী ভুট্টো পাকিস্তান পিপলস পার্টি গঠন করেন। আর তিনিও গণতন্ত্রের জন্য আইয়ুববিরোধী আন্দোলন শুরু করেন। তখন পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের সব রাজনৈতিক দল একযোগে আইয়ুব খানের স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করে। সে সময় জনগণকে বিভ্রান্ত করার জন্য ১৯৬৮ সালে আইয়ুব খান তার শাসনকালকে উন্নয়নের রোল মডেল দেখানোর জন্য ‘উন্নয়ন দশক’ নামের এক প্রদর্শনীর আয়োজন করেন। সে আয়োজনের অংশ হিসেবে জেলায় জেলায় মেলার আয়োজন করা হয় জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে। আর বেশ কিছু ট্রাকে রঙিন কাগজের ঝালর লাগিয়ে ঢাক-ঢোল আর গান-বাজনার আয়োজন করে শহরে শহরে ঘুরে বেরিয়েছিল। কিন্তু পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের উভয় অংশে ছাত্ররা উন্নয়ন দশকের এই ট্রাক জ্বালিয়ে দিচ্ছিল। আমি তখন টাঙ্গাইলের সা’দত কলেজের প্রথম বর্ষে পড়ি। এই পথেই ঢাকা থেকে টাঙ্গাইলের দিকে রওনা হয়েছিল উন্নয়ন দশকের ঝালর দেয়া ট্রাকবহর। কলেজের সামনে আমরা সে ট্রাক জ্বালিয়ে দিয়ে রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছিলাম।
এই ছিল আইয়ুবের মৌলিক গণতন্ত্র আর উন্নয়ন দশকের কাহিনী। বাংলাদেশের বর্তমান সরকার আইয়ুব খানের জুতায় পা রেখে তার প্রেতাত্মাকে ফের আমাদের সমাজে ডেকে এনেছে। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির ভোটারবিহীন নির্বাচনের সময় থেকে পৌরসভা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বর্তমান সরকার পেশিশক্তির জোরে সব ভোটের ফলাফল কেড়ে নিয়েছে। যাকে খুশি তাকে ‘নির্বাচিত’ ঘোষণা করে দিয়েছে। চলেছে কেড়ে নেয়ার নির্বাচন। আর আইয়ুব খানের মতোই এ কাজে ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সব বাহিনীকে। আর সর্বশেষ সব লজ্জা-শরমের মাথা খেয়ে জেলা পরিষদ নির্বাচন করা হলো একেবারে আইয়ুব খানের মৌলিক গণতন্ত্রের ধাঁচে। এখানে ভোটার জনগণ নয়। ভোটার হলো আইয়ুবের আমলে যে স্থানীয় পরিষদ সদস্যরা ভোটার হয়েছিলেন, বাংলাদেশ আমলেও তেমন স্থানীয় সরকার প্রতিনিধিরা।
আবার জেলায় জেলায় দেখলাম, প্রশাসনের উদ্যোগে দরিদ্র জনগণের টাকায় আয়োজন করা হয়েছে আইয়ুব খানের আদলে উন্নয়নমেলা। সে মেলায় কোনো শ্রোতা নেই। কিন্তু একটা লোক মাইকে দাঁড়িয়ে একটি লম্বা ফর্দ দেখে বর্তমান সরকারের আমলে কী কী উন্নয়ন হয়েছে, তার একটি মুসাবিদা করা ফিরিস্তি বলে যাচ্ছেন। আর ছাত্রলীগের কিছু ছেলে মোটরসাইকেলে চেপে প্যান্ডেলের আশপাশে দ্রুত ছোটাছুটি করছে। শুধু আইয়ুবের আমলের মতো জ্বালিয়ে দেয়ার কেউ ছিল না।
লেখক : সাংবাদিক ও সাহিত্যিক
rezwansiddiqui@yahoo.com
http://www.dailynayadiganta.com/detail/news/189299