১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, সোমবার
Choose Language:

সর্বশেষ
চলতি বিষয়াবলি
উত্তরাঞ্চলে ইরি-বোরো উৎপাদন নিয়ে শংকিত কৃষকরা
২১ জানুয়ারি ২০১৭, শনিবার,
সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার বাঘাবাড়ি নৌ-বন্দর ও বাফার গুদামের প্রায় সাড়ে ৫ হাজার টন ইউরিয়া সার জমাট বেঁধেছে। এ জমাট বাঁধা সারের অধিকাংশই গত বছর চীন থেকে আমদানি করা বলে জানা গেছে। জমাট বাঁধা এ সার নিতে ডিলাররা অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। ফলে বিসিআইসি কর্তৃপক্ষ জমাট বাঁধা এ সার কাঠের হ্যামার দিয়ে ভেঙ্গে গুড়ো করে পুনরায় নতুন বস্তায় রিপ্যাকিং করে সরবরাহ করছেন। রিপ্যাকিং করা এ সারে ভালো ফলন হবে কিনা তা নিয়ে উত্তরাঞ্চলের ১৬ জেলার কৃষকদের মধ্যে আশংকা দেখা দিয়েছে। এ ব্যাপারে শাহজাদপুর উপজেলার চিথুলিয়া গ্রামের কৃষক আসান সরকার, আব্দুর রউফ, আব্দুল হামিদ, উল্টাডাব গ্রামের সাধু সরকার, জামাল প্রামানিক, জয়পুরা গ্রামের আবু তালেব বলেন, বাঘাবাড়ি বাফার গুদাম ও বন্দর থেকে গত বছর চীন থেকে আমদানি করা জমাট বাঁধা ইউরিয়া সার গুড়ো করে নতুন বস্তায় তা সরবরাহ করা হলেও তার গুণগত মান আগের তুলনায় কমে গেছে। এ কারণে এ সার ব্যবহার করে আশানুরূপ ফলন পাওয়া যাবে কি না তা নিয়ে চরম উৎকণ্ঠায় শংকিত হয়ে পড়েছি। এ ব্যাপারে তারা কৃষি বিভাগের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। 
এ ব্যাপারে সার পরিবহন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বাল্ক এন্ট্রারপ্রাইজের প্রতিনিধি শাহানশাহ জানিয়েছেন, গত বছর চীন থেকে আমদানিকৃত সার জাহাজ যোগে বাঘাবাড়ি বন্দরে আনার পর গুদামে জায়গা না থাকার কারণে বাংলাদেশ ক্যামিক্যাল ইন্ডাসট্রিজ কর্পোরেশন (বিসিআইসি) এ সার বুঝে না নেয়ায় বন্দরের খোলা জায়গায় তা মজুদ করা হয়। এর পরিমাণ ১০ হাজার টনের বেশি হবে না। ৭টি পরিবহন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের এ সার গুলোর বেশ কিছু বস্তা সার জমাট বেঁধে গেছে। ফলে বিসিআইসি কর্তৃপক্ষ ওই সার গুড়ো করে রিপ্যাকিং করে দিতে বলেছে। তিনি আরো বলেন, সে নির্দেশ অনুযায়ী কাজ করা হচ্ছে।
স্থানীয় কৃষি বিভাগ, বাঘাবাড়ী বন্দর ও ডিলারদের অভিযোগ থেকে জানা গেছে, বাঘাবাড়ী বন্দরে অবস্থিত বিসিআইসির বাফার গুদামে প্রায় ২ হাজার ৬৫০ টন চীন থেকে আমদানি করা ইউরিয়া সার ও বন্দরে মজুদ রাখা পরিবহন ঠিকাদারদের হেফাজতে থাকা সারের প্রায় ৩ হাজার টন ইউরিয়া সারের বস্তা জমাট বেঁধে গেছে। এই জমাট বাধা সার গুড়ো করে সরবরাহ করায় শাহজাদপুর সহ রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের ১৬ জেলার কৃষকরা এ বছর ইরি-বোরো আবাদে আশানুরূপ ফলন না পাওয়ার আশংকায় আতংকিত হয়ে পড়েছেন। বিসিআইসির বগুড়া আঞ্চলিক অফিসের কর্মকর্তা মোঃ শামিম আক্তার জানান, উত্তরাঞ্চলের ১৪ টি বাফার গুদামে এ বছর প্রায় সাড়ে ৩ লাখ মেট্রিক টন সার মজুদ করা হয়েছে। এ বছর ইরি-বোরো আবাদে এ সারের চাহিদা ধরা হয়েছে ৩ লক্ষ ৮২ হাজার টন। ফলে সার সংকটের কোন সম্ভাবনা নেই বলে তিনি জানান। তিনি আরো বলেন, জমাট বাঁধা সারের নমুনা ঢাকার পরীক্ষাগারে পাঠিয়ে গুণগত মান ঠিক রয়েছে বলে নিশ্চিত হয়েই তা রিপ্যাকিং করে সরবরাহ করতে বলা হয়েছে। তিনি কৃষকদের এ ব্যাপারে আতংকিত না হওয়ারও পরামর্শ দিয়েছেন। 
এ দিকে জমাট বাঁধা সার উত্তোলনে অস্বীকৃতি জানিয়ে সিরাজগঞ্জ জেলার ডিলাররা নতুন আমদানী করা সার সরবরাহের দাবী জানিয়ে সিরাজগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের কর্মকর্তাদের কাছে পত্র দিয়েছেন। এ পত্র পাওয়ার পর সিরজগঞ্জ কৃষিসম্প্রসারণ বিভাগের উপ পরিচালকের কার্যালয় থেকে নতুন আমদানি করা সার সরবরাহের জন্য বাঘাবাড়ি বাফার গুদাম ইনচার্জকে নির্দেশ দিয়েছেন। সেই সাথে জমাট বাধা সারের বস্তা ক্র্যাসিংয়ের মাধ্যমে রিপ্যাকিং করে সরবরাহ করারও নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানা গেছে। 
এ ব্যাপারে সিরাজগঞ্জ জেলা সার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মোঃ ওয়াহেদুল ইসলাম বলেন, জমাট বাঁধা সার কৃষকরা নিতে অনীহা প্রকাশ করায় আমরা এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ব্যবস্থা নিতে বলেছি।
বাঘাবাড়ি বাফার গুদামের ইনচার্জ মোঃ সোলায়মান জানান, গুদামে যে জমাট বাঁধা সার রয়েছে, সেগুলো সরবরাহ করা হচ্ছে না। নতুন আমদানি করা সার সরবরাহ করা হচ্ছে। উত্তরবঙ্গের ১৪ টি বাফার গুদামে স্থান সংকুলান না থাকায় সার গুলো আপাতত বন্দরের খালি স্থানে মজুদ করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান গুলো। ঠিকাদারের হেফাজতে থাকা সার জমাট বেধে গেলে সেগুলোও গ্রহন করা হচ্ছে না। সেগুলো ক্র্যাশিং করে গুঁড়ো করার পর রিপ্যাকিং করা হলে তারপর গ্রহণ করা হবে।
সিরাজগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ পরিচালক মোঃ আরশেদ আলম জানান, ডিলারদের অভিযোগের ভিত্তিতে শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাসহ ৩ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটি বাঘাবাড়ি বাফার গুদাম পরিদর্শন করে সেখানে রক্ষিত ৯ হাজার টন সারের মধ্যে ২ হাজার ৬৫০ টন সার জমাট বাঁধা অবস্থায় পায়। পরীক্ষা করে এগুলোর গুণগত মান ভাল পাওয়া গেছে। তাই এ গুলো গুড়ো করে ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কাজ চলছে। আর ডিলারদের মাঝে এবছর নতুন আমদানিকৃত সার সরবরাহের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আলীমুন রাজীব বলেন, জমাটবাধা সারগুলো রিপ্যাকিং করে ব্যবহার উপযোগী করা হচ্ছে। সার গুলো জমাট বাধলেও এর গুণ গত মান এখনো সঠিক মাত্রায় বজায় রয়েছে। তাই এ সার গুলো রিপ্যাকিং করে সরবরাহ করতে বলা হয়েছে।
http://www.dailysangram.com/post/268460-%E0%A6%89%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%9E%E0%A7%8D%E0%A6%9A%E0%A6%B2%E0%A7%87-%E0%A6%87%E0%A6%B0%E0%A6%BF-%E0%A6%AC%E0%A7%8B%E0%A6%B0%E0%A7%8B-%E0%A6%89%E0%A7%8E%E0%A6%AA%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A6%A8-%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A7%9F%E0%A7%87-%E0%A6%B6%E0%A6%82%E0%A6%95%E0%A6%BF%E0%A6%A4-%E0%A6%95%E0%A7%83%E0%A6%B7%E0%A6%95%E0%A6%B0%E0%A6%BE