১৯ নভেম্বর ২০১৯, মঙ্গলবার
Choose Language:

সর্বশেষ
চলতি বিষয়াবলি
ঢাকা দ. সিটি কর্পোরেশন: জনবল কাঠামোতে পদ নেই, তবুও পদোন্নতি
২১ জানুয়ারি ২০১৭, শনিবার,
জনবল কাঠামোতে পদ নেই, তবুও দেয়া হয়েছে পদোন্নতি। এরপর পদ সৃষ্টির আবেদন পাঠানো হয়েছে মন্ত্রণালয়ে। এমন ঘটনা ঘটেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে (ডিএসসিসি)। জানা গেছে, এই প্রতিষ্ঠানে চারজন জ্যেষ্ঠকে ডিঙ্গিয়ে একজনকে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে পদোন্নতি দেয়া হয়েছে। এ নিয়ে কর্পোরেশনের অন্য প্রকৌশলীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। কিন্তু চাকরি হারানোর ভয়ে কেউই মুখ খুলছেন না।
অভিযোগ উঠেছে, বড় ধরনের আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে আইন ও বিধিপরিপন্থী এই পদোন্নতি দেয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে প্রেষণে দায়িত্বপ্রাপ্ত কয়েক কর্মকর্তা মেয়র সাঈদ খোকনকে ম্যানেজ করতে বিশেষ ভূমিকা পালন করেছেন।
জানা যায়, গত ২৬ অক্টোবর ডিএসসিসির অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী নুরুল আমিন অবসরে যান। এরপর জ্যেষ্ঠতা অনুযায়ী ওই পদের দায়িত্ব পাওয়ার যোগ্য ছিলেন প্রেষণে নিয়োজিত স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মুনিবুর রহমান। এ ছাড়া আরও ছিলেন ডিএসসিসির জ্যেষ্ঠ প্রকৌশলী জাফর আহমেদ, সেহাব উল্লাহ ও আবু সালেহ মো. মাঈন উদ্দিন। এর মধ্যে সেহাব উল্লাহ ও মাঈন উদ্দিনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় কিছু বিষয়ে অভিযোগ থাকলেও ক্লিন ছিলেন জাফর আহমেদ। কিন্তু সবাইকে ডিঙ্গিয়ে ওই পদের চলতি দায়িত্ব দেয়া হয় তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. আসাদুজ্জামানকে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ ও হতাশ হন মুনিবুর রহমানসহ অন্য প্রকৌশলীরা। ঘটনার পর মুনিবুর রহমান নিজ প্রতিষ্ঠান স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরে ফিরে গেছেন। মুখ বুজে আছেন সেহাব উল্লাহ ও মাঈন উদ্দিন। তবে প্রকৌশলী জাফর আহমেদ মেয়র, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এবং সচিবকে রাজি করিয়ে পদ ছাড়াই পদোন্নতি নিয়ে নিয়েছেন। গত ১২ ডিসেম্বর তাকে সংস্থার বিদ্যুৎ বিভাগের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীর দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। পদোন্নতির আদেশ দেয়ার পর ওই পদ সৃষ্টির জন্য মন্ত্রণালয়ে আবেদন জানিয়েছে ডিএসসিসি কর্তৃপক্ষ। এখনও ওই প্রস্তাবের অনুমোদন মেলেনি। যদিও তিনি বেশ আগেই অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীর নেমপ্লেট টাঙ্গিয়ে যথারীতি কার্যক্রম শুরু করেছেন।
এ প্রসঙ্গে ডিএসসিসি সচিব খান মো. রেজাউল করিম যুগান্তরকে জানান, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে আমি অফিস আদেশ জারি করেছি। দু’জনের পদোন্নতির ক্ষেত্রে আইনের কোনো ব্যত্যয় হয়েছে বলে মনে করি না।
তিনি আরও জানান, আইন ও বিধিতে এ বিষয়ে পরিষ্কার কিছু বলা না থাকলেও ডিএসসিসিতে এর নজির রয়েছে। তবে এ ক্ষেত্রে আর্থিক লেনদেনের কোনো ঘটনা ঘটেনি।
এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (নগর উন্নয়ন) মেজবাহ উদ্দিন যুগান্তরকে বলেন, পদ সৃষ্টি না করে কাউকে ওই পদের অতিরিক্ত বা চলতি দায়িত্ব দেয়া আইনবহির্ভূত কাজ। ডিএসসিসি কর্তৃপক্ষ এ ধরনের কোনো কিছু করে থাকলে সেটা ঠিক করেনি।
তিনি আরও বলেন, ‘পদ সৃষ্টির আবেদন করলেই সেটা হয়ে যায় না। এটা এলজিআরডি মন্ত্রীর অনুমোদন হয়ে জনপ্রশাসন এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের প্রয়োজন রয়েছে। এটা হতেও পারে আবার নাও হতে পারে। যদি অনুমোদন না হয়, তাহলে পদোন্নতিপ্রাপ্ত ব্যক্তির কী হবে?’
এ প্রসঙ্গে ডিএসসিসি মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন বলেন, পদোন্নতির ক্ষেত্রে আইন ও বিধির কোনো ব্যত্যয় হয়েছে কিনা, সেটা ফাইলপত্র দেখে বলতে হবে। এমন কিছু ঘটে থাকলে ব্যবস্থা নেব।
http://www.jugantor.com/first-page/2017/01/21/94873/%E0%A6%9C%E0%A6%A8%E0%A6%AC%E0%A6%B2-%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%A0%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A7%8B%E0%A6%A4%E0%A7%87-%E0%A6%AA%E0%A6%A6-%E0%A6%A8%E0%A7%87%E0%A6%87,-%E0%A6%A4%E0%A6%AC%E0%A7%81%E0%A6%93-%E0%A6%AA%E0%A6%A6%E0%A7%8B%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A8%E0%A6%A4%E0%A6%BF