২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, শনিবার
Choose Language:

সর্বশেষ
চলতি বিষয়াবলি
মালয়েশিয়ার অর্থায়নে উত্তরায় ফ্ল্যাট প্রকল্পে কাটছে জটিলতা: মাস্টার এগ্রিমেন্টের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে || জিটুজি ভিত্তিতে নির্মাণ হবে ৮ হাজার ৪০০ ফ্ল্যাট
২১ জানুয়ারি ২০১৭, শনিবার,
মালয়েশিয়ার অর্থায়নে রাজধানীর উত্তরায় ৮ হাজার ৪০০টি ফ্ল্যাট নির্মাণ প্রকল্পে সৃষ্ট জটিলতা ধীরে ধীরে কেটে যাচ্ছে। শিগগিরই মাস্টার এগ্রিমেন্টের সংশোধন প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করা হবে। এরপরই উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) সংশোধনের জন্য পাঠানো হবে পরিকল্পনা কমিশনে। এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘ দিন ঝুলে থাকা এ প্রকল্পটি বাস্তবায়নে আরও কয়েক ধাপ এগিয়ে যাবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
 
এ প্রসঙ্গে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত সচিব শহিদ উল্লাহ খন্দকার মঙ্গলবার যুগান্তরকে জানান, আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং শেষে রাজউক মালয়েশিয়ার সঙ্গে আলাপ-আলোচনা শেষ করেছে। প্রকল্পটি এখন একটা পর্যায়ে এসেছে। শিগগিরই আমরা এটি পরিকল্পনা কমিশনে পাঠাব। পরবর্তী সিদ্ধান্ত সেখান থেকেই হবে।
 
সূত্র জানায়, বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া সরকারের জিটুজি (সরকার টু সরকার) পদ্ধতিতে ফ্ল্যাটগুলো নির্মাণ করা হবে। এ নিয়ে বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখছে কর্মাশিয়াল নেগোশিয়েশন কমিটি। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে- খসড়া মাস্টার এগ্রিমেন্ট সংশোধন, কিস্তি পরিশোধের প্রক্রিয়া, নিরাপত্তা জামানত, বিভিন্ন চুক্তি সংশোধন ও উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) সংশোধন ইত্যাদি। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত কমিটির ১৫তম সভার কার্যবিবরণী সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। এর আগে অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি প্রকল্পটি বাস্তবায়নে পানি সরবরাহ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ, কার্বন দূষণ ব্যবস্থাপনা এবং নাগরিকদের সব সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার বিষয়গুলো সমঝোতা স্মারকে অন্তর্ভুক্ত করার তাগিদ দিয়েছে। এছাড়া বুয়েট ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে শক্তিশালী এবং দক্ষ কারিগরি টিম গঠন করে প্রকল্প বাস্তবায়নের সব পর্যায়ে আর্থিক ও কারিগরি দিক মূল্যায়ন এবং তদারকি নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।
 
সূত্র আরও জানায়, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) চেয়ারম্যান এম বজলুল করিম চৌধুরীর সভাপতিত্বে ১৯ ডিসেম্বর উত্তরা অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পের বিওসি ব্লকে মালয়েশিয়া সরকারের মাধ্যমে জিটুজি ভিত্তিতে ৮ হাজার ৪০০ ফ্ল্যাট নির্মাণের জন্য গঠিত কর্মাশিয়াল নেগোশিয়েশন কমিটির ১৫তম এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। পরে ৮ জানুয়ারি কার্যবিবরণী জারি করে সংস্থাটি। সম্প্রতি বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে পরিকল্পা কমিশনকে। কার্য বিবরণীতে বলা হয়, সভায় উত্তরা অ্যাপার্টমেন্টের প্রকল্প পরিচালক জানান, রাজউকের উত্তরা অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পে বিওসি ব্লকে কম-বেশি ১০০টি ১৬ তলা অ্যাপার্টমেন্ট ভবনে মোট ৮ হাজার ৪০০টি ফ্ল্যাট নির্মাণ কাজ জিটুজি ভিত্তিতে তৈরি করা হবে। এর মধ্যে ৫২টি ভবনে নেট ১ হাজার ২৫০ বর্গফুটের ৪ হাজার ৩৬৮টি এবং ৪৮টি ভবনে নেট ১ হাজার ৫০ বর্গফুটের ৪ হাজার ৩২টি ফ্ল্যাট তৈরি করা হবে। জিটুজি চুক্তির ভিত্তিতে মালয়েশিয়া সরকারের কারিগরি ও আর্থিক সহায়তায় ডিজাইন-বিল্ড-ট্রান্সফার পদ্ধতি অনুসরণ করে ইন্ডাস্ট্রিয়ালাইজড বিল্ডিং সিস্টেম (আইবিএস) প্রযুক্তিতে বাস্তবায়নের প্রস্তাব ইতিমধ্যেই নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটি (সিসিইএ)। এরপর বুয়েট ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি নিয়ে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় নোটিফিকেশনের মাধ্যমে একটি টেকনিক্যাল ও কমার্শিয়াল নেগোশিয়েশন কমিটি গঠন করেছে।
 
এ প্রসঙ্গে রাজউক চেয়ারম্যান এম বজলুল করিম জানান, খসড়া মাস্টার এগ্রিমেন্টে বেশ কিছু অবজারভেশন রয়েছে। এগুলো চূড়ান্ত হয়ে গেলে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) সংশোধনের জন্য পাঠানো হবে পরিকল্পনা কমিশনে।
 
সূত্র জানায়, এই কমিটি মালয়েশিয়া সরকারের প্রাইম মিনিস্টারস ডিপার্টমেন্টের অফিস অব দ্য স্পেশাল এনভয় টু ইন্ডিয়া অ্যান্ড সাউথ এশিয়া অন ইনফ্রাস্ট্রাকচারের প্রতিনিধির উপস্থিতিতে খসড়া মাস্টার এগ্রিমেন্ট প্রণয়ন করে। এক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ভেটিং ও কার্যার্থে গত বছরের জানুয়ারি মাসে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে পাঠায়। এ পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের ৮ আগস্ট আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় বিভিন্ন পরামর্শ দেয়। এসব পরামর্শ মালয়েশিয়া সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগে পাঠানো হলে গত নভেম্বর মাসে মালয়েশিয়া এসব বিষয়ে মতামত পাঠায়। পরে ওই মাসেই টেকনিক্যাল কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। এসব বিষয়ে লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগের পরামর্শ, মালয়েশিয়া সরকারের মতামত, টেকনিক্যাল কমিটির সুপারিশ, রাজউকের অর্থ ও হিসাব শাখার আর্থিক বিশ্লেষণী ও রাজউকের প্যানেলভুক্ত আইনজীবীর মতামতসহ বিবরণী তৈরি করা হয়েছে।
 
লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগ থেকে বলা হয়েছে, প্রতিটি কিস্তির বিল থেকে ৫ শতাংশ নিরাপত্তা জামানত কর্তনের বিধান মাস্টার এগ্রিমেন্টে যুক্ত করতে হবে। এছাড়া এর আগে তৈরি করা একটি সারসংক্ষেপের দফা ১৬ থেকে দেখা যায়, অ্যাপার্টমেন্ট নির্মাণের পর রাজউক পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে আবেদনকারীদের কাছে অ্যাপার্টমেন্ট বিক্রি করবে এবং সেই টাকায় রাজউক মালয়েশিয়ার কোম্পানির পাওনা পরিশোধ করবে। কিন্তু খসড়া মাস্টার এগ্রিমেন্টে দেখা যায়, নির্মাণ কাজ সমাপ্ত হওয়ার পর চারটি কিস্তিতে এক বছরের মধ্যে রাজউককে ওই পাওনা পরিশোধ করতে হবে- যা এর আগে দেয়া সারসংক্ষেপে উল্লিখিত বিষয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এজন্য পাওনা পরিশোধসংক্রান্ত বিধান এবং এ সংশ্লিষ্ট সিডিউল সংশোধন করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। কিন্তু মালয়েশিয়া সরকারসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এ বিষয়টি আগেই নিষ্পত্তি হয়েছে। সুতরাং পরিশোধের সময় সংশোধন বা পরিবর্তনের সুযোগ নেই। এ পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি বিকল্প ব্যবস্থায় নিষ্পত্তির সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
 
এছাড়া প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বিরোধ নিষ্পত্তি পক্ষগণ তাদের নিজস্ব বিধি-বিধান অনুসরণ করবে, নাকি আন্তর্জাতিক আইন অনুসরণ করবে তা নিয়ে সমস্যা দেখা দেয়। অবশেষে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করার সিদ্দান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। এছাড়া আরও বেশ কিছু আইন-কানুন সংশ্লিষ্ট বিষয় সমাধানের পথ খুঁজে বের করা হয়েছে। ফলে প্রকল্পটি ঘিরে যে জটিলতার সৃষ্টি হয়েছিল তার জট খুলতে শুরু করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
 
সূত্র জানায়, ২০১১ সালে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া সরকারের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। সে সময় প্রকল্পটি বাস্তবায়নে প্রায় সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দেয় মালয়েশিয়া। তারপর থেকে বিভিন্ন প্রক্রিয়াগত সমস্যার কারণে প্রকল্পটির গতি ধীর হয়ে যায়।
http://www.jugantor.com/last-page/2017/01/21/94874/%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A7%9F%E0%A7%87%E0%A6%B6%E0%A6%BF%E0%A7%9F%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%85%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%A5%E0%A6%BE%E0%A7%9F%E0%A6%A8%E0%A7%87-%E0%A6%89%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A7%9F-%E0%A6%AB%E0%A7%8D%E0%A6%B2%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%BE%E0%A6%9F-%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%95%E0%A6%B2%E0%A7%8D%E0%A6%AA%E0%A7%87-%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%9F%E0%A6%9B%E0%A7%87-%E0%A6%9C%E0%A6%9F%E0%A6%BF%E0%A6%B2%E0%A6%A4%E0%A6%BE