১০ আগস্ট ২০২০, সোমবার
Choose Language:

সর্বশেষ
চলতি বিষয়াবলি
অস্থিরতা কাটছে না চালের বাজারে: বাজার দর
২১ জানুয়ারি ২০১৭, শনিবার,
চালের বাজারে অস্থিরতা কাটছেই না। এক সপ্তাহের ব্যবধানে আবার পাইকারি বাজারে বস্তাপ্রতি (৫০ কেজি) চালের দাম বেড়েছে ১০০ টাকা, আর খুচরা বাজারে কেজিপ্রতি দাম বেড়েছে ২ থেকে ৩ টাকা। চালের দাম আরো বাড়ায় বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ। গত সপ্তাহের তুলনায় বেশ কিছু সবজির দামও বেড়েছে। মুরগি, গরু ও খাসির গোশতের দামও ঊর্ধ্বমুখী। গতকাল রাজধানীর কয়েকটি পাইকারি ও খুচরা বাজার ঘুরে এ চিত্র দেখা যায়। 
বিক্রেতারা জানান, নতুন চাল বাজারে আসার পর চালের দাম কিছুটা কমেছিল। কিন্তু গত দুই সপ্তাহ ধরে চালের দাম আবারো বাড়তির দিকে। এর মধ্যে গত এক সপ্তাহেই বস্তাপ্রতি দাম বেড়েছে ১০০ টাকা। পাইকারি বাজারে নিম্ন মানের নাজিরশাইল চালের বস্তা ২৩৫০ টাকা থেকে বেড়ে ২৪৫০ টাকা হয়েছে। আর খুচরা বাজারে ৫০ টাকার নি¤œমানের নাজিরশাইল বিক্রি হচ্ছে ৫২ টাকায়। এ ছাড়া স্বর্ণা চাল ৪২ টাকা, পারিজা ৪২ থেকে ৪৪ টাকা, উন্নতমানের মিনিকেট ৫২ থেকে ৫৪ টাকা, বিআর-২৮ চাল ৪২ থেকে ৪৪ টাকা, উন্নতমানের নাজিরশাইল ৫৩ থেকে ৫৬ টাকা, হাস্কি নাজির ৪২ টাকা, বাসমতী ৫৬ থেকে ৫৮ টাকা, কাটারিভোগ ৭৪ থেকে ৭৬ টাকা এবং পোলাওর চাল ৭০ থেকে ১০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
এ দিকে বেশ কিছু দিন ধরে রাজধানীর বাজারগুলো শীতকালীন সবজিতে ভরপুর। গত কয়েক সপ্তাহে প্রায় সব ধরনের সবজির দাম স্থিতিশীল ছিল। কিন্তু গতকালের বাজারে প্রায় সব ধরনের সবজির দাম কেজিপ্রতি ৫ থেকে ১৫ টাকা বেড়েছে। সরবরাহ ভালো থাকলেও বেড়েছে সবজির দাম। এতে অসন্তোষ প্রকাশ করছেন ক্রেতারা। বরাবরের মতোই সরবরাহ কমে যাওয়ায় দাম বাড়ছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ নিত্যপণ্যের দাম কেজি প্রতি ৫ থেকে ১০ টাকা করে বেড়েছে। সবজি ব্যবসায়ী সোহাগ বলেন, বাজারে শীতকালিন সবজির সরবরাহ কমতে শুরু করেছে। মাঠপর্যায়ে উৎপাদন ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে। ফলে সবজির দাম বাড়ছে। ক্রেতারা বলছেন, বাজারে পণ্যের দাম উঠবে-নামবে এটাই স্বাভাবিক। তবে অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে মনিটরিংয়ের দরকার।
শান্তিনগর বাজারে সবজি কিনতে আসা হাবিবুর রহমান বলেন, শীত মওসুম আসার পর প্রথম দিকে সবজির দাম কিছুটা বাড়তি ছিল। এরপর মধ্যখানে দাম কমেছিল। এখন আবার দাম বাড়ছে। অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ঠেকাতে বাজার মনিটরিং অত্যন্ত প্রয়োজন।
বাজার পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি কেজি কাঁচামরিচের দাম ১০ টাকা বেড়ে ৫০ টাকায়, কালো বেগুনের দাম ৫ টাকা বেড়ে ৪৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া সাদা বেগুন ৫০ টাকায়, প্রতি কেজি শিম ৪০ থেকে ৫০ টাকা, টমেটো (ইন্ডিয়ান এলসি) ৩৫ টাকা, গাজর ৪০ টাকা, ঢেঁড়স ৭০ টাকা, ঝিঙ্গা ৮০ টাকা, করলা ৫৫ থেকে ৬০ টাকা, কাঁকরোল ৫০ টাকা, শসা ৪০ থেকে ৫০ টাকা, কচুরমুখি ৬০ টাকা, আলু ২৫ টাকা প্রতি কেজি মূলা ৩০ টাকা এবং পেঁপে ১৫ টাকা থেকে ২৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
অন্য দিকে কচুর লতি ৬০ টাকা, পেঁয়াজের কলি ১৫ টাকা, পটোল ৪০ টাকা, শালগম ৩০ থেকে ৩৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর প্রতিটি ফুলকপি ৪০ টাকা, বাঁধাকপি ৩০ থেকে ৩৫ টাকা, লেবু হালিপ্রতি ১৫ থেকে ২৫ টাকা, আঁটি প্রতি পালংশাক ১৫ টাকা, লালশাক ১৫ টাকা, পুঁইশাক ২০ টাকা এবং লাউশাক ২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এ দিকে নিত্যপ্রয়োজনীয় মুদি পণ্যের দামে তেমন কোনো পরিবর্তন নেই। কেজি প্রতি দেশী মসুর ডাল ১১৫ টাকা, ভারতীয় মসুর ডাল ১০০ টাকা, মুগ ডাল ১১০ টাকা, ভারতীয় মুগ ডাল ৯৫ টাকা, মাসকলাই ১৩০ টাকা এবং ছোলা ৯০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। বোতলজাত সয়াবিন তেল প্রতি লিটার ৯৫ থেকে ১০২ টাকা এবং খোলা সয়াবিন তেল কেজি প্রতি ৮০-৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মানভেদে দেশী পেঁয়াজ কেজি প্রতি ২৮ টাকা, ভারতীয় পেঁয়াজ ২২ টাকা, দেশী রসুন ২০০ টাকা, ভারতীয় রসুন ২১০ টাকা এবং চীনা রসুন ১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দেশী আদা ১৫০ টাকা, চীনের আদা ৮০ টাকা, ক্যারালা ১০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
মুরগির বাজারে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৬০ টাকা, লেয়ার মুরগি ১৮০ টাকা, দেশী মুরগি প্রতি কেজি ৪০০ টাকা, পাকিস্তানি লাল মুরগি কেজি প্রতি ২৫০ থেকে ২৮০ টাকা দরে বিক্রি করতে দেখা যায়। প্রতি কেজি গরুর গোশত ৪৫০ টাকা এবং খাসির গোশত ৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
মাছের বাজারে আকার ভেদে প্রতি কেজি রুই মাছ ২৫০ টাকা থেকে ৩৫০ টাকা, সরপুঁটি ৩৫০ টাকা থেকে ৪৫০ টাকা, কাতলা ৩৫০ টাকা থেকে ৪০০ টাকা, তেলাপিয়া ১৪০ টাকা ১৮০ টাকা, সিলভার কার্প ১৫০ টাকা থেকে ২০০ টাকা, চাষের কৈ ২০০ টাকা থেকে ২৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। পাঙ্গাস প্রতি কেজি ১৩০ থেকে ১৮০ টাকা, টেংরা ৬০০ টাকা, মাগুর ৬০০ টাকা থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রকার ভেদে চিংড়ি ৪০০ টাকা থেকে ৮০০ টাকায়, ইলিশ কেজি প্রতি (মাঝারি) ১৪০০ টাকা এবং দেড় কেজি ওজনের প্রতিটি বিক্রি হচ্ছে ২২০০ টাকা থেকে ২৫০০ টাকা।
http://www.dailynayadiganta.com/detail/news/189159