২০ নভেম্বর ২০১৯, বুধবার
Choose Language:

সর্বশেষ
চলতি বিষয়াবলি
উপেক্ষিত এক ‘ঐতিহাসিক’ দিবস
২১ জানুয়ারি ২০১৭, শনিবার,
|| আশিকুল হামিদ || শিরোনাম দেখে পাঠকরা বিভ্রান্ত হতে পারেন। সত্যি ‘ঐতিহাসিক’ হলে কোনো দিবস আবার উপেক্ষিত হয় কিভাবে? উত্তর হলো, বাংলাদেশে সবই সম্ভব। বিশেষ করে বিষয়টির সঙ্গে যদি রাজনীতি জড়িত থাকে এবং জনগণ যদি দিবসটিকে গ্রহণ বা সমর্থন না করে। তেমন একটি দিবস ২৫ জানুয়ারি। কিন্তু ‘ঐতিহাসিক’ হলেও বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে দিবসটি ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ হিসেবে চিহ্নিত হয়ে রয়েছে। ১৯৭৫ সালের এই দিনে সংসদের মাত্র ১১ মিনিট স্থায়ী অধিবেশনে স্বাধীনতার স্থপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমানের ইচ্ছা ও নির্দেশে সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনী পাস করা হয়েছিল। সংশোধনীর আগে পর্যন্ত শেখ মুজিব প্রধানমন্ত্রী ছিলেন, সংশোধনী পাস করার সঙ্গে সঙ্গে তিনি রাষ্ট্রপতি হয়েছিলেন। সে ছিল এক বিচিত্র অবস্থা। চতুর্থ সংশোধনীর ফলে প্রচলিত সংসদীয় পদ্ধতি বাতিল হয়ে যায়, রাষ্ট্রপতি পদ্ধতি প্রবর্তিত হয় এবং সকল রাজনৈতিক দল বিলুপ্ত করে দেশে একটি মাত্র দল প্রতিষ্ঠা করা হয়। এই সংশোধনীর ভিত্তিতে রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিব ২৪ ফেব্রুয়ারি একমাত্র দল বাকশাল গঠন করেন। তার নির্দেশে তাকেই চেয়ারম্যান করে বাকশালের ১১৫ সদস্য বিশিষ্ট কেন্দ্রীয় কমিটি গঠিত হয় ৬ জুন। রাষ্ট্রপতি এবং বাকশালের চেয়ারম্যান শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশে সরকার নিয়ন্ত্রিত চারটি দৈনিক ছাড়া দেশের সকল সংবাদপত্র নিষিদ্ধ হয়ে যায় ১৬ জুন।
বাকশাল গঠনের পক্ষে বিভিন্ন সময়ে অনেক যুক্তিই দেখানো হয়েছে। বলা হয়েছে, ‘বিশেষ পরিস্থিতিতে’ শেখ মুজিব নাকি ‘মহৎ উদ্দেশ্য’ নিয়ে ‘জাতীয় প্ল্যাটফর্ম’ হিসেবে বাকশাল গঠন করেছিলেন! এ কথাও বলা হয়েছে যে, বাকশাল গঠনের প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছিল জাতীয় সংসদে। অন্যদিকে বস্তুনিষ্ঠ ইতিহাস কিন্তু এসব যুক্তিকে সমর্থন করে না। যে ‘বিশেষ পরিস্থিতি’র যুক্তি দেখানো হয় তার জন্য দায়ী ছিল স্বাধীনতা পরবর্তী প্রথম আওয়ামী লীগ সরকারের সর্বব্যাপী দুর্নীতি, কালোবাজারি ও চোরাচালানসহ প্রশাসনিক ব্যর্থতা ও অযোগ্যতা, রাজনৈতিক নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ড এবং সবশেষে ১৯৭৪ সালের ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ। বাকশাল প্রতিষ্ঠা উপলক্ষে ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি সংসদে দেয়া প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবের ভাষণেও এ সম্পর্কে বিস্তারিত উল্লেখ রয়েছে। পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে দরকার যখন ছিল ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া এবং আওয়ামী লীগ সরকারের পদত্যাগ ও নতুন সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠান কিংবা জরুরি ভিত্তিতে একটি সর্বদলীয় সরকার গঠন করা, প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিব তখন উল্টো রাজনৈতিক আন্দোলন ও সরকার বিরোধিতার পথ বন্ধ করে দেয়ার পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। এ লক্ষ্যে তিনি প্রথমে ১৯৭৪ সালের ২৮ ডিসেম্বর জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছিলেন। তারপর পর্যায়ক্রমে এগিয়েছিলেন বাকশালের একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠার পথে। 
সমগ্র এই প্রক্রিয়া ও কর্মকা-ের একমাত্র উদ্যোক্তা, নির্দেশদাতা, নিয়ন্ত্রক ও লাভবান ব্যক্তি ছিলেন শেখ মুজিব। সর্বময় ক্ষমতাও তার হাতেই কেন্দ্রীভূত হয়েছিল। ‘জাতীয় প্ল্যাটফর্ম’ বলা হলেও বাকশাল বাস্তবে আওয়ামী লীগেরই নামান্তর মাত্র ছিল। কারণ, বাকশাল বলতে ‘বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ’ বোঝানো হয়েছিল, ‘আওয়ামী লীগ’ নামটিকে বাদ দেয়া হয়নি। অন্য অনেক কিছুর সঙ্গে এ বিষয়ে প্রমাণ পাওয়া যাবে যদি আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত দুটি দল ন্যাপ (মোজাফফর) এবং সিপিবির শোচনীয় পরিণতির উল্লেখ করা হয়। স্বাধীনতার পর প্রাথমিক দিনগুলো থেকেই দল দুটি সরকারের লেজুড়বৃত্তি করে এসেছে, ১৯৭৩ সালের সেপ্টেম্বরে দল দুটিকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিব ‘ত্রিদলীয় ঐক্যজোট’ও গঠন করেছিলেন। কিন্তু বাকশালের ১১৫ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটিতে নেতৃত্বের অবস্থান পাননি এমনকি কমরেড মনি সিংহ এবং অধ্যাপক মোজাফফর আহমদের মতো দলীয় প্রধানরাও। এই দু’জনকেসহ দুই দলের মাত্র ছয়জনকে কেন্দ্রীয় কমিটিতে নেয়া হয়েছিল। তাদের ক্রমিক সংখ্যা ছিল ৭০-এর ঘরে। ওদিকে স্বাধীনতা সংগ্রামী জাতীয় নেতা মওলানা ভাসানীসহ অন্য কোনো নেতাকে বাকশালে যোগ দেয়ার সুযোগই দেয়া হয়নি। মওলানা ভাসানীকে ১৯৭৪ সালের জুন থেকে সন্তোষে গৃহবন্দী রাখা হয়েছিল। আওয়ামী লীগ বিরোধী অন্য নেতারা ‘আ-ারগ্রাউ-ে’ যেতে বাধ্য হয়েছিলেন, কয়েকজন পালিয়ে বিদেশেও চলে গিয়েছিলেন। (এ ব্যাপারে জানার জন্য আগ্রহী পাঠকরা বর্তমানে মন্ত্রী রাশেদ খান মেননের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। কারণ, কাজী জাফর আহমদ প্রমুখের মতো তাকেও সে সময় পালিয়ে বেড়াতে হয়েছিল!) এসব কারণেই ‘জাতীয় প্ল্যাটফর্ম’ গঠনের যুক্তিকে রাজনৈতিক অসততা ছাড়া আর কিছু বলা যায় না। 
‘সাময়িক কালের’ জন্য গঠন করা হয়েছিল ধরনের যুক্তিও গ্রহণযোগ্য হতে পারেনি। কারণ, সে ধরনের কোনো বিধান চতুর্থ সংশোধনীর কোথাও কিংবা বাকশালের গঠনতন্ত্রে ছিল না। গঠনতন্ত্রের বিভিন্ন ধারা-উপধারা বরং এ কথাই প্রমাণ করেছে, রাষ্ট্রীয় সকল ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবের একক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার প্রধান উদ্দেশ্য নিয়েই বাকশাল গঠন করা হয়েছিল। কেন্দ্রীয় ও কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন এবং সংসদ সদস্যদের মনোনয়ন দেয়া থেকে বাকশাল, রাষ্ট্র ও সরকারের প্রতিটি বিষয়ে সর্বময় ক্ষমতা ছিল শুধু শেখ মুজিবের। 
তিনি এমন একজন চেয়ারম্যান ও রাষ্ট্রপতি ছিলেন, যাকে নির্বাচিত করার কোনো পন্থা বা বিধানেরই উল্লেখ ছিল না বাকশালের গঠনতন্ত্রে। ছিল না সংবিধানেও। অর্থাৎ পরোক্ষভাবে একথাই ঘোষণা করা হয়েছিল, শেখ মুজিব আজীবন রাষ্ট্রপতি এবং বাকশালের চেয়ারম্যান থাকবেন। মানুষ শেখ মুজিবের কখনও মৃত্যু ঘটতে পারে কিংবা তার অনুপস্থিতিতে অন্য কাউকে দলের চেয়ারম্যান বা রাষ্ট্রপতি বানানোর প্রয়োজন দেখা দিতে পারে- এমন চিন্তা বা অনুমানও বাকশাল গঠনকালে করা হয়নি। 
একথা অবশ্য ঠিক যে, চতুর্থ সংশোধনী জাতীয় সংসদে পাস করা হয়েছিল। কিন্তু অনস্বীকার্য সত্য হলো, ১৯৭৩ সালের মার্চে অনুষ্ঠিত বিতর্কিত নির্বাচনের মধ্য দিয়ে গঠিত সংসদের পক্ষ থেকে একদলীয় রাষ্ট্র ব্যবস্থা প্রবর্তনের জন্য জনগণের ম্যান্ডেট চাওয়া হয়নি। নির্বাচনী প্রচারণা চালানোর সময় জনগণকে জানানো হয়নি যে, ক্ষমতায় গেলে আওয়ামী লীগ এত মৌলিক ধরনের ব্যাপক কোনো পরিবর্তন ঘটাবে। সংবিধানের সংশোধনী পাস করার পরও গণভোটের আয়োজন করা হয়নি। অথচ এ ধরনের মৌলিক ও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলোতে জনমত যাচাই এবং গণভোট অনুষ্ঠান করা গণতন্ত্রে একটি অবশ্যপালনীয় কর্তব্য- যেমনটি পরবর্তীকালে করেছে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার। ১৯৯১ সালের ৬ আগস্ট সংসদে শেখ মুজিব প্রবর্তিত প্রেসিডেন্ট পদ্ধতি বাতিল করে সংসদীয় পদ্ধতি প্রবর্তন করার উদ্দেশ্যে দ্বাদশ সংশোধনী পাস করা হয়েছে। সর্বসম্মতিক্রমে পাস করা সত্ত্বেও এ প্রশ্নে গণভোট আয়োজন করা হয়েছিল। কিন্তু বাকশাল গঠন এবং চতুর্থ সংশোধনী পাস করার সময় এ ধরনের গণতন্ত্রসম্মত চিন্তাই করা হয়নি। 
প্রসঙ্গক্রমে এখানে পঞ্চম সংসদের সেই অধিবেশনের কথা স্মরণ করা যেতে পারে, যে অধিবেশনে শেখ মুজিবের চতুর্থ সংশোধনীকে বাতিল করে তার পরিবর্তে দ্বাদশ সংশোধনী পাস করা হয়েছিল। দ্বাদশ সংশোধনীর অর্থ প্রকৃতপক্ষে ছিল শেখ মুজিবের আরো একটি পরাজয়। কিন্তু তারপরও সংসদে উপস্থিত আওয়ামী লীগের এমপিরা আনন্দে উল্লসিত হয়েছেন, একজন অন্যজনকে জড়িয়ে ধরে নৃত্য করেছেন। শেখ হাসিনাও আওয়ামী এমপিদের সঙ্গে অংশ নিয়েছিলেন। টিভি ক্যামেরার সামনে হাসি মুখে দাঁড়িয়েছেন তিনি, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী উইনস্টন চার্চিলের স্টাইলে দুই আঙ্গুলে ইংরেজি অক্ষর ‘ভি’ বানিয়ে বিজয়ের বার্তা জানিয়েছেন জনগণকে। দেশবাসীর প্রত্যাশা ও আকাংক্ষার পরিপ্রেক্ষিতে এই আনন্দ-উল্লাস স্বাভাবিক হলেও মরহুম নেতা শেখ মুজিবের মনোভাব ও চিন্তাধারার দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করলে কিন্তু মানতেই হবে যে, বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মতো মুজিব বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে মিলিতভাবে দ্বাদশ সংশোধনী পাস করার জন্য আওয়ামী লীগের অন্তত এত বেশি উল্লসিত হওয়ার কোনো যুক্তি থাকতে পারে না। কেননা, দ্বাদশ সংশোধনীর মাধ্যমে বাস্তবে শেখ মুজিবের সর্বশেষ ‘কীর্তি’কেই প্রত্যাখ্যান ও বাতিল করা হয়েছিল।
এটা আওয়ামী লীগের পরাজয়বরণ করে নেয়ার গণতন্ত্রসম্মত কৌশল হতে পারে। কিন্তু এভাবেই তারা একের পর এক মরহুম নেতার ‘কীর্তি’ ও চিন্তাধারাকে প্রত্যাখ্যান ও বাতিল করে এসেছেন। এই প্রক্রিয়ায় বাকশাল, একদলীয় রাষ্ট্র ব্যবস্থা এবং সমাজতন্ত্রের মতো মৌলিক বিষয়গুলো পর্যায়ক্রমে প্রত্যাখ্যাত ও পরিত্যক্ত হয়েছে। জনগণকে এমন সময়ও পেরিয়ে আসতে হয়েছে (১৯৯৬-২০০১) যখন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত থেকেছে, কিন্তু বাকশাল প্রতিষ্ঠার ‘ঐতিহাসিক’ দিন ২৫ জানুয়ারিকে নিয়ে সামান্য উচ্চবাচ্য করা সঙ্গত মনে করেননি। দিনটিকে সুকৌশলে পার করে দেয়ার মধ্য দিয়ে বরং একথারই স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে যে, বাকশাল গঠনের পদক্ষেপ ছিল অন্যায়, গণতন্ত্র বিরোধী এবং চরম ধরনের স্বৈরতান্ত্রিক। 
এ ব্যাপারে সবচেয়ে ভালো বলতে পারবেন সাজেদা চৌধুরী ও তোফায়েল আহমদের মতো নেতা ও এমপিরা- যারা বাকশাল গঠন করার সময় যেমন, দ্বাদশ সংশোধনী পাস করার সময়ও তেমনি জাতীয় সংসদে উপস্থিত থেকেছেন এবং প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছেন। মরহুম নেতার সম্মান বাঁচানোর জন্য এখন তারা অনেক কথাই বলতে চাইতে পারেন, কিন্তু একথা নিশ্চয়ই অস্বীকার করবেন না যে, ১৯৯১ সালের পঞ্চম সংসদের মতো ১৯৭৩-৭৫ সালের সংসদে তারা আনন্দে উল্লসিত হয়ে উঠতে পারেননি। পারেননি অন্যজনদের জড়িয়ে ধরে নৃত্য করতেও। কারণ, পরিবেশ তখন এত খোলামেলা ছিল না। পরিস্থিতি বরং ছিল বিশেষ রকমের এবং বদ্ধ ওই সংসদে বিনা বাক্য ব্যয়ে রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবের হুকুম পালন করা ছাড়া কারো কোনো উপায়ই ছিল না। জেনারেল এম এ জি ওসমানী এবং ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন অবশ্য ব্যতিক্রম ঘটিয়েছিলেন। একদলীয় শাসন ব্যবস্থা প্রবর্তনের প্রতিবাদে দু’জনই সংসদ এবং দল থেকে পদত্যাগ করেছিলেন। 
বাকশাল গঠনের সিদ্ধান্ত ভুল ও অন্যায় ছিল বলেই মুজিব-উত্তর কোনো বছর ২৫ জানুয়ারির মতো ‘ঐতিহাসিক’ একটি দিবসকে আওয়ামী লীগ কখনো যথাযথ ভাবগাম্ভীর্য ও সম্মানের সঙ্গে পালন বা উদযাপন করেনি। দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক দলগুলো দিনটিকে ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে, অন্যদিকে আওয়ামী লীগ দিনটিকে পার করেছে নীরবে। দিনটি স্মরণে দলটি প্রকাশ্যে কখনো কোনো অনুষ্ঠান করেনি, এমনকি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও কোনো বছর একটি বিবৃতি দেননি। এবারও তার নীরব থাকার সম্ভাবনাই বেশি। মাঝেমধ্যে দু’চারজন নেতাকে অবশ্য খুবই দুর্বল কণ্ঠে বাকশালের পক্ষে কৈফিয়ৎ দিতে বা ‘জাতীয় প্ল্যাটফর্ম’ ধরনের যুক্তি তুলে ধরার কসরত করতে দেখা গেছে। কিন্তু কারো পক্ষেই শেখ মুজিবের সর্বশেষ ‘কীর্তি’ বাকশালকে গ্রহণযোগ্য করে তোলা সম্ভব হয়নি। এটা আসলে হওয়ারও কথা নয়। 
একই কারণে ‘ঐতিহাসিক’ হলেও দিনটি বরং ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ হিসেবে চিহ্নিত ও প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এখানে একটি কথা বলে রাখা দরকার। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তুলনায় অনেক বেশি জনপ্রিয় ও ক্ষমতাধর নেতা ছিলেন তার পিতা শেখ মুজিবুর রহমান। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির মতো ভোটারবিহীন কোনো নির্বাচনের মাধ্যমে নয়, ১৯৭৩ সালে ‘অ্যানালগ’ পদ্ধতিতেই তিনি সকল কম্ম সম্পন্ন করেছিলেন। ‘ওরে জিতাইয়া দে’, ‘ওরে হারাইয়া দে’ ধরনের নির্দেশ ও ধমকের জোরে ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৭টি আসনেই জিতেছিল আওয়ামী লীগ। ওই সংসদেই সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে জাতির ঘাড়ে বাকশালের একদলীয় শাসন ব্যবস্থা চাপানো হয়েছিল। সেটা টেকেনি। না টেকার কারণ, জনগণ বাকশালকে গ্রহণই করেনি, প্রত্যাখ্যান করেছিল। এরই দায়ভার টানতে হয়েছে আওয়ামী লীগকে। এখনো সে টানাটানির শেষ হয়নি। সুতরাং ইতিহাস স্মরণে রাখলে আওয়ামী লীগই কম ক্ষতিগ্রস্ত হবে। শেখ মুজিবুর রহমানের মতো এককালের প্রচ- জনপ্রিয় নেতাকে আবারও জনগণের মোটামুটি কাছাকাছি নিয়ে আসতে কতটা বছর লেগেছেÑ সে হিসাবও মাথায় রাখা দরকার।
http://www.dailysangram.com/post/268403-%E0%A6%89%E0%A6%AA%E0%A7%87%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%B7%E0%A6%BF%E0%A6%A4-%E0%A6%8F%E0%A6%95-%E0%A6%90%E0%A6%A4%E0%A6%BF%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%B8%E0%A6%BF%E0%A6%95-%E0%A6%A6%E0%A6%BF%E0%A6%AC%E0%A6%B8