১৯ নভেম্বর ২০১৯, মঙ্গলবার
Choose Language:

সর্বশেষ
চলতি বিষয়াবলি
ন্যায়কণ্ঠ: জনসভার অনুমতি প্রদানে বৈষম্য কেন?
২১ জানুয়ারি ২০১৭, শনিবার,
পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে রাজনৈতিক দলগুলো তাদের বক্তব্য জনগণের সামনে তুলে ধরার জন্য জনসভার আয়োজন করে থাকে। এসব জনসভায় যারা যোগদান করে তাদের অনেককে দেখা যায় শোভাযাত্রার মাধ্যমে জনসভাস্থলে উপস্থিত হয়। আমাদের দেশে যেভাবে শহরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত উন্মক্ত স্থান, উদ্যান বা সড়ক অবরোধ করে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল জনসভার আয়োজন করে, পৃথিবীর কোনো উন্নত দেশে এভাবে জনসভা অনুষ্ঠিত হয় না।
 
জনসভা বা সমাবেশের স্বাধীনতা দেশের নাগরিকদের মৌলিক অধিকার। এ মৌলিক অধিকারটি আমাদের সংবিধান দ্বারা স্বীকৃত। এ বিষয়ে আমাদের সংবিধানে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে- জনশৃংখলা বা জনস্বাস্থ্যের স্বার্থে আইনের দ্বারা আরোপিত যুক্তিসঙ্গত বাধা-নিষেধসাপেক্ষে শান্তিপূর্ণভাবে ও নিরস্ত্র অবস্থায় সমবেত হওয়ার এবং জনসভা ও শোভাযাত্রায় যোগদান করার অধিকার প্রত্যেক নাগরিকের থাকবে।
 
আমাদের দেশে যে কোনো শহরে কোনো রাজনৈতিক দল বা সংগঠন জনসভার আয়োজন করতে চাইলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ থেকে অনুমতি গ্রহণের আবশ্যকতা রয়েছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন সিটির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ হল মেট্রোপলিটন পুলিশ ও সিটি কর্পোরেশন। অপরাপর জেলা ও উপজেলার অন্তর্ভুক্ত স্থানের ক্ষেত্রে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ হল জেলা প্রশাসক বা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং এর পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সিটি কর্পোরেশন বা মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন।
 
পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের যে স্থানে জনসভা অনুষ্ঠিত হয় সে স্থানটিকে বলা হয় ‘পাবলিক প্লেস’। আমাদের বিভিন্ন আইনে পাবলিক প্লেসকে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে, যেমন- ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ অধ্যাদেশে বলা হয়েছে- ‘পাবলিক প্লেস’ বলতে নদী বা খালের পাড়, জেটি, পাবলিক বিল্ডিং বা সৌধ এবং তদসংলগ্ন স্থান এবং পানির ব্যবহার অথবা বিনোদনের নিমিত্তে জনসাধারণের প্রবেশাধিকার রয়েছে এমন সব স্থানকে বোঝাবে।
 
ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইনেও ‘পাবলিক প্লেসের’ সংজ্ঞা দেয়া হয়েছে। ওই আইনটি বাংলায় প্রণীত হলেও আইনটিতে ইংরেজি ‘পাবলিক প্লেস’ শব্দটি বাংলায় অনূদিত না হয়ে ‘পাবলিক প্লেস’ হিসেবেই উল্লিখিত হয়েছে। এ আইনে বলা হয়েছে- ‘পাবলিক প্লেস’ অর্থ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি, আধা সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত অফিস, গ্রন্থাগার, লিফট, হাসপাতাল, ক্লিনিক ভবন, আদালত ভবন, বিমানবন্দর ভবন, সমুদ্রবন্দর ভবন, নৌবন্দর ভবন, রেলওয়ে স্টেশন ভবন, বাস টার্মিনাল ভবন, ফেরি, পেক্ষাগৃহ, আচ্ছাদিত প্রদর্শনী কেন্দ্র, থিয়েটার হল, বিপণি ভবন, পাবলিক টয়লেট, সরকারি বা বেসরকারিভাবে পরিচালনাধীন শিশুপার্ক এবং সরকার কর্তৃক, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, নির্ধারিত অন্য যে কোনো স্থান বা সব স্থান।
 
উভয় আইন পর্যালোচনায় প্রতীয়মান হয়, কোনো শহরের উন্মক্ত স্থান, উদ্যান, সড়ক, মিলনায়তন ইত্যাদি ‘পাবলিক প্লেসের’ অন্তর্ভুক্ত। এসব স্থানে কোনো রাজনৈতিক দল বা সংগঠন সভা বা সমাবেশ করতে চাইলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গির আলোকে প্রত্যাশী দল বা সংগঠনকে অনুমতি প্রদান করে থাকে। আমাদের দেশের ক্ষেত্রে বিগত কয়েক বছর ধরে দেখা যায়, অনুমতি প্রদানের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অবস্থান নিরপেক্ষ নয়। আমাদের সংবিধান অনুযায়ী আইনের দৃষ্টিতে সব নাগরিক সমান এবং আইনের সমান আশ্রয় লাভের অধিকারী হলেও দেখা যায় জনসভা বা সমাবেশ করার অনুমতি প্রদানের ক্ষেত্রে সরকারি দল ও বিরোধী দলের প্রতি কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিভঙ্গি সমরূপ নয়। সম্প্রতি দেখা গেছে, সরকারের তিন বছর পূর্তি উপলক্ষে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সরকারি দলকে শহরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত উদ্যানে জনসভা আয়োজন করার অনুমতি প্রদান করেছে এবং অনুমতিপ্রাপ্ত হওয়ার পর সরকারি দল যথারীতি ওই স্থানে জনসভার আয়োজন সম্পন্ন করেছে। একই সময়ে বিরোধী দলের পক্ষ থেকেও পাবলিক প্লেসে জনসভা বা সমাবেশ করার অনুমতি চাওয়া হয়েছিল; কিন্তু দেখা গেল বিরোধী দলকে উন্মক্ত স্থান বা মিলনায়তন কোথাও জনসভা বা সমাবেশ করার অনুমতি দেয়া হয়নি। কর্তৃপক্ষের অনুমতি না দেয়ার পেছনের সিদ্ধান্তটি যে সরকারি দলের পক্ষ থেকে এসেছিল এ বিষয়টি কারও অজানা নয়। আমাদের বিরোধী দলের প্রতি সরকারি দলের এমন আচরণ নতুন কিছু নয়। ইতিপূর্বে আমাদের বিরোধী দলগুলো যখন সরকার পরিচালনায় দায়িত্বরত ছিল তখন তাদের কাছ থেকেও তখনকার বিরোধী দলগুলো অনুরূপ আচরণ লাভ করেছিল।
 
যে কোনো কর্তৃপক্ষ সরকারের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলনে একই সময়ে বা দিনে যদি একটি দল বা সংগঠনকে উন্মক্ত স্থান বা মিলনায়তনে সমাবেশ করার অনুমতি দেয় এবং অপর দলকে না দেয় সে ক্ষেত্রে তা দেশের সর্বোচ্চ আইন সংবিধানের লংঘন। দেশের সাধারণ মানুষ আমাদের কোনো কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে এ ধরনের পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ প্রত্যাশা করে না।
 
ঢাকা শহরে যানজট প্রাত্যহিক সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে। স্বাভাবিক সময়ে ঢাকা শহরের এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে অথবা কেন্দ্রস্থলে আসতে ১ থেকে ৩ ঘণ্টা পর্যন্ত সময় ব্যয় হয়। কোনো রাজনৈতিক দল জনসভা বা সমাবেশ সংশ্লেষে শোভাযাত্রার মাধ্যমে জনউপস্থিতির আয়োজন করলে বিভিন্ন সড়ক দিয়ে যান চলাচল ব্যাহত হয় এবং অনেক সময় দেখা যায় সমাবেশ স্থলের সামনে বা পাশের সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। আবার এমনও দেখা যায়, সড়কের মধ্যেই সমাবেশের আয়োজন করা হয়। এরূপ ক্ষেত্রে সেই সড়ক দিয়ে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।
 
শহরের সড়কে যানে করে বা হেঁটে চলাচল সংবিধান প্রদত্ত চলাফেরার স্বাধীনতার অন্তর্ভ্ক্তু। কোনো রাজনৈতিক দল সড়কের মধ্যে সমাবেশের আয়োজন করে যান ও জনচলাচলে বিঘ্ন ঘটালে তাতে নাগরিক অধিকার ক্ষুণ্ণ হয়। রাজনৈতিক দলগুলো যে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে রাজনীতি করে তার একটি হল জনঅধিকার সমুন্নত রাখা। আর তাই স্বভাবতই প্রশ্ন দেখা দেয়, যে জনমানুষের অধিকার সমুন্নত রাখার জন্য রাজনীতি, তাদের অধিকার খর্ব করা হলে তা দলটির লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য পূরণে কতটুকু সহায়ক হয়?
 
বিগত কয়েক বছর ধরে দেখা গেছে, আমাদের রাজধানী শহরে যেদিন কোনো রাজনৈতিক দল বিশেষত সরকারি দল বা প্রধান বিরোধী দল শহরের কেন্দ্রস্থ উদ্যান বা সড়কে সমাবেশ বা জনসভার আয়োজন করে, সেদিন সমগ্র শহরবাসী দুঃসহ যানজটের মধ্যে পড়ে অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়। আমাদের দেশের মতো পৃথিবীর খুব কম দেশেই এভাবে জনমানুষের স্বাভাবিক চলাচলে বিঘ্ন ঘটিয়ে জনসভা বা সমাবেশের আয়োজন করা হয়। উন্নত দেশগুলোয় বর্তমানে কদাচিৎ উন্মক্ত উদ্যান বা সড়কে জনসভা বা সমাবেশের আয়োজন করা হয়। এসব দেশে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক দলের নির্বাচন সংশ্লেষে সভা বা সমাবেশ মিলনায়তনের মধ্যে আয়োজন করে তা বিভিন্ন টিভি চ্যানেল, বেতার ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেশব্যাপী সম্প্রচারের ব্যবস্থা করা হয়। এসব দেশের ক্ষেত্রে দেখা যায়, রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিরাই সমাবেশস্থলে উপস্থিত হয় এবং দেশের সাধারণ মানুষ সমাবেশস্থলে প্রদত্ত নেতাদের বক্তব্য টিভি চ্যানেল, বেতার ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শোনার ও দেখার সুযোগ পায়।
 
আমাদের দেশে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল কর্তৃক উদ্যান বা সড়কে আয়োজিত জনসভা বা সমাবেশের ক্ষেত্রে দেখা যায়, উপস্থিত জনমানুষের এক বিরাট অংশ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার অন্তর্ভুক্ত। এরা সরাসরি কোনো দলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়। এরা বিভিন্ন দলের রাজনৈতিক সমাবেশে উপস্থিত হয় এবং এর বিনিময়ে জনপ্রতি ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা পায়। রাজনৈতিক দল কর্তৃক ভাড়াটে মানুষ দিয়ে জনসভাস্থল পূর্ণ করে জনসমাবেশ দেখানোর যে প্রয়াস নেয়া হয়, সেই জনউপস্থিতিকে দলের নেতারা দলটির প্রতি জনমতের বহিঃপ্রকাশ বলে সাধারণ মানুষের চোখে ধুলা দিয়ে আত্মসন্তুষ্টি লাভে সচেষ্ট হয়। অথচ এ ধরনের জনসভায় উপস্থিত জনমানুষের একটি বড় অংশ যে ভাড়াটে হিসেবে অর্থের বিনিময়ে আসে এ সত্যটি আজ দেশের সব শ্রেণী-পেশার মানুষ অনুধাবন করতে সক্ষম। এভাবে অর্থের বিনিময়ে ভাড়াটে মানুষ দিয়ে জনসভাস্থলে জনসমাগম ঘটানো নৈতিকতা ও নীতিজ্ঞানের পরিপন্থী এবং দেশের সাধারণ মানুষ কখনও কোনো রাজনৈতিক দলের কাছ থেকে এমনটি প্রত্যাশা করে না।
 
আমাদের দেশে বর্তমানে ৩০টির বেশি টিভি চ্যানেল ও বেশ কয়েকটি বেতার মাধ্যম রয়েছে। রয়েছে বেশকিছু সংবাদপত্র ও অনলাইন গণমাধ্যম। আবার প্রায় প্রতিটি সংবাদপত্রেরই অনলাইন সংস্করণ রয়েছে। এগুলোর বাইরে বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক, টুইটার, ইউটিউব ইত্যাদি ব্যাপকভাবে সক্রিয়। সম্প্রতি দেখা গেছে, সরকারি দল কর্তৃক আয়োজিত যে কোনো গুরুত্বপূর্ণ জনসভা বা সমাবেশ সরাসরি বিভিন্ন টিভি চ্যানেল সম্প্রচার করে থাকে। বিভিন্ন টিভি চ্যানেল প্রধান বিরোধী দলের অনুরূপ সভা বা সমাবেশ সরাসরি সম্প্রচারে আগ্রহী হলেও অনেক সময় দেখা যায়, সরকারের অলিখিত নিষেধাজ্ঞার কারণে তা সম্ভব হয়ে ওঠে না। আমরা পৃথিবীর উন্নত রাষ্ট্রের মতো আমাদের রাজনৈতিক দলের গুরুত্বপূর্ণ জনসমাবেশের চিত্র এবং শীর্ষস্থানীয় নেতাদের বক্তব্য তাৎক্ষণিক দেখার ও শোনার সুযোগ পাওয়ায় এসব সমাবেশ উন্মক্ত স্থান বা সড়কের পরিবর্তে আবদ্ধ মিলনায়তনে করা হলে একদিকে যানজটের ভোগান্তিজনিত সমস্যার অবসান হবে; অপরদিকে অর্থের বিনিময়ে ভাড়াটে লোক দ্বারা সমাবেশস্থল পূর্ণ করার অপপ্রয়াস থেকে রাজনৈতিক দলগুলোর মুক্তি ঘটবে। এমনও দেখা যায়, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল কর্তৃক জনসভা আয়োজনের প্রাক্কালে জনসভার সম্ভাব্য ব্যয় নির্ধারণ করে দলীয় নেতাদের এ অর্থ জোগানের ব্যবস্থা করতে বলা হয়। দলীয় যেসব নেতা এ দায়িত্বটি পান, দলের অভ্যন্তরে জবাবদিহিতার অনুপস্থিতিতে তারা সভা সংশ্লেষে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান থেকে চাঁদা হিসেবে কী পরিমাণ অর্থ নেন এবং সে অর্থ থেকে কতটুকু সভা সংশ্লেষে ব্যয় করেন এ বিষয়টি প্রায়ই অজানা থেকে যায়। জনসভায় ভাড়াটে লোক আনা বন্ধ হলে তা একদিকে দলগুলোর বিপুল পরিমাণ অর্থের অপচয় কমবে, অপরদিকে চাঁদাবাজির হাত থেকে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলো পরিত্রাণ পাবে। তাছাড়া বিভিন্ন টিভি চ্যানেল ও বেতার মাধ্যমে এ ধরনের সমাবেশ সরাসরি সম্প্রচার করা হলে এর মাধ্যমে বিদেশী গণমাধ্যমের মতো আমাদের গণমাধ্যমগুলোরও বাড়তি আয়ের সুযোগ সৃষ্টি হবে, যা তাদের আর্থিক অবস্থানকে সুসংহত করবে।
 
সার্বিক বিবেচনায় বর্তমান প্রেক্ষাপটে নেপথ্য থেকে নির্দেশনার মাধ্যমে বিরোধী দলকে সমাবেশের অনুমতি না দেয়া যেমন অন্যায়, অনুরূপ উন্মক্ত স্থান ও সড়কে সমাবেশের আয়োজন করে যান ও জনচলাচলে বিঘ্ন ঘটানোও অনুচিত। আমরা এ দুটি বিষয় নিশ্চিত করতে পারলে তা একদিকে আমাদের দেশে আইনের সমপ্রয়োগ যেমন নিশ্চিত করবে, অপরদিকে দুঃসহ যানজটের যাতনা থেকে মানুষকে রেহাই দেবে।
 
ইকতেদার আহমেদ : সাবেক জজ; সংবিধান, রাজনীতি ও অর্থনীতি বিশ্লেষক
 
iktederahmed@yahoo.com
http://www.jugantor.com/window/2017/01/21/94925/%E0%A6%9C%E0%A6%A8%E0%A6%B8%E0%A6%AD%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%85%E0%A6%A8%E0%A7%81%E0%A6%AE%E0%A6%A4%E0%A6%BF-%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%A6%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A7%87-%E0%A6%AC%E0%A7%88%E0%A6%B7%E0%A6%AE%E0%A7%8D%E0%A6%AF-%E0%A6%95%E0%A7%87%E0%A6%A8?